Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জুন, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

গৌরবের ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দল

গৌরবের ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দল

একটি বিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু পাঠ্যপুস্তকের ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অর্জিত কৃতিত্বই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষিণ সুরমার মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে যে, তাদের বালিকা ফুটবল দল ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে বিদ্যালয়, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ একসময় খুব সীমিত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ফুটবল মাঠও এর ব্যতিক্রম নয়। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং অদম্য মনোবলের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালিকা দল একের পর এক সাফল্যের গল্প রচনা করেছে।

২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিদ্যালয়ের বালিকা দল উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। উপজেলার বিভিন্ন শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। শুধু উপজেলা পর্যায়েই নয়, পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলার কৃতিত্ব অর্জন করে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গর্বের এবং অনুপ্রেরণামূলক অর্জন।

তবে সেই সাফল্যেই থেমে থাকেনি বিদ্যালয়ের মেয়েরা। বরং ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তারা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা এবং জয়ের প্রত্যয় নিয়ে তারা নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। যার ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালে আবারও প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করে।

২০২৬ সালের এই সাফল্য ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তারা জেলা পর্যায়ে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। জেলা পর্যায়ের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর বিপক্ষে অসাধারণ দক্ষতা, সাহসিকতা এবং দলীয় সমন্বয়ের পরিচয় দিয়ে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মতো মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যুতে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো নিঃসন্দেহে বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক।

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে লড়াই করেছে। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তারা খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব, শৃঙ্খলা এবং দলগত চেতনার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

একটি বিদ্যালয়ের জন্য ধারাবাহিকভাবে দুইবার উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং জেলা পর্যায়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত বড় অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, বিদ্যালয়ে ক্রীড়া চর্চার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম।

আজকের এই অর্জন শুধু একটি ট্রফি বা কয়েকটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের গল্প। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস। বিদ্যালয়ের বর্তমান ও আগামী দিনের শিক্ষার্থীরা এই সাফল্য থেকে উৎসাহ পাবে এবং নিজেদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে আরও বেশি আগ্রহী হবে।

মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দলের এই গৌরবময় সাফল্যের জন্য সকল খেলোয়াড়, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতে এই দল আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং উপজেলা, জেলা এমনকি জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে।

গৌরবের এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক, সাফল্যের পতাকা আরও উঁচুতে উড়ুক—এই প্রত্যাশাই আমাদের সবার।

ধন্যবাদান্তে
মোঃ কয়েছ আহমদ
সহকারী শিক্ষক
মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

মন্তব্য করুন