ইসলামি চান্দ্রবর্ষের প্রথম মাস মহররম অত্যন্ত বরকতময় ও সম্মানিত। রমজানের পর নফল রোজার জন্য মহররম মাসের রোজাই সর্বোত্তম। এ মাসের ১০ তারিখ, যা 'আশুরা' নামে পরিচিত, তা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। এই দিনের রোজা পালনের মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়। [
1,
2,
3,
4,
5]
মহররম মাসের প্রধান ফজিলত ও তাৎপর্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আল্লাহর মাস ও সম্মানিত মাসমহররম আরবি বছরের চারটি সম্মানিত বা 'হারাম' (নিষিদ্ধ) মাসের একটি। আল্লাহ তাআলা এই মাসকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে 'শাহরুল্লাহ' বা 'আল্লাহর মাস' বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা এর বিশেষ মর্যাদাকেই নির্দেশ করে। [
1,
2,
3]
২. নফল রোজার অসীম সওয়াবহাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা"। পুরো মাস জুড়েই নফল রোজা রাখার সুযোগ ও সওয়াব রয়েছে
। [1, 2] ৩. আশুরার রোজার ফজিলতমহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। এই একটিমাত্র রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন। ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য না রাখার জন্য রাসুল (সা.) ৯ বা ১১ তারিখেও সাথে আরেকটি রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। [
1,
2,
3,
4,
5]
৪. ঐতিহাসিক গুরুত্বমহররম ও আশুরার দিনে অনেক ঐতিহাসিক ও মুক্তিপরায়ণ ঘটনা ঘটেছে। এই দিনেই আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং লোহিত সাগরে ফেরাউনের বাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। [
1,
2,
3,
4]
৫. কারবালার শোক ও আত্মত্যাগ
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবার নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে এই আত্মত্যাগ মুসলমানদের মনে ত্যাগের চেতনা ও ইসলামের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা জোগায়।
৫৩
৯২ মন্তব্য