সিনিয়র শিক্ষক
১৯ জুন, ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ণ
সব দোষ শিক্ষকের, আর হবে না কেন?
সব দোষ শিক্ষকের!
দৃশ্য ১: ক্লাসরুম (দিনের বেলা)
শিক্ষক: পিন্টু, বাড়ির কাজ করোনি কেন?
পিন্টু: (উদাসীনভাবে) স্যার, গতকাল তো স্কুলে আসিনি!
শিক্ষক: কেন আসোনি?
পিন্টু: এক জায়গায় গিয়েছিলাম, স্যার।
শিক্ষক: আচ্ছা, তা গত রাতে বাড়িতে কতোক্ষণ পড়াশোনা করেছ?
পিন্টু: পড়াশোনা তো করিনি স্যার। বড় ভাইয়ের সাথে রাতে বাইরে গিয়েছিলাম।
শিক্ষক: এই যে মাত্র যে পাঠটা বুঝিয়ে দিলাম, এটা এখন পারবে?
পিন্টু: না, স্যার।
শিক্ষক: কেন, বুঝোনি?
পিন্টু: স্যার, ভুলে গেছি।
শিক্ষক: আমি যদি আবার বুঝিয়ে দিই, তাহলে পারবে তো?
পিন্টু: (মাথা চুলকে) বলতে পারছি না স্যার। তাছাড়া আপনি নিজেই তো সপ্তাহে একদিন স্কুলে এলে বাকি তিনদিন আসেন না! (বড়দের মতো জ্ঞান দেওয়ার ভঙ্গিতে) এর কারণটা কী স্যার?
শিক্ষক: (ধৈর্য ধরে) আচ্ছা, তোমার বাবাকে যে স্কুলে আসতে বলেছিলাম, বলোনি?
পিন্টু: বলেছি। বাবা বলল, ওনার কোনো সময় নেই। সময় সুযোগ হলে নাকি একদিন আসবেন।
শিক্ষক: তাহলে আগামী দিন তোমার মাকে আসতে বলবে।
পিন্টু: মা অসুস্থ, আসতে পারবেন না।
দৃশ্য ২: টেস্ট পরীক্ষার পর (শিক্ষক মিলনায়তন)
(পিন্টুর বাবা এবং সাথে একদল লোক শিক্ষকের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালেন)
পিন্টুর বাবা: স্যার, ছেলেটার নির্বাচনী পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করাতে এসেছি।
শিক্ষক: (রেজাল্ট শিট দেখে) আপনার ছেলে তো ছয় বিষয়ে ফেল করেছে! এই অবস্থায় ওকে মূল পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া অসম্ভব।
জনৈক ব্যক্তি: (পাশ থেকে ফোঁড়ন কেটে) আরে স্যার, সমস্যা নেই। ফরম ফিলাপটা করিয়ে দিন। পরীক্ষা দিতে পারলেই পাস করে যাবে।
শিক্ষক: (বিরক্ত হয়ে) আপনি কে ভাই?
ব্যক্তি: (বুক ফুলিয়ে) আমি পিন্টুর মামা। আর এই যে ওনারা দেখছেন, ওনি হলেন পিন্টুর চাচা, আর ওনি আমাদের এলাকার মেম্বার সাহেব...
সবাই একসাথে: (চাপ দেওয়ার সুরে) স্যার, কথা না বাড়িয়ে ফরম ফিলাপটা করে দিন তো!
দৃশ্য ৩: ফরম ফিলাপ পরবর্তী অনুসন্ধান
শিক্ষক: (ক্লাসের অন্য ছাত্রদের উদ্দেশ্যে) আচ্ছা, পিন্টু যে কখনো স্কুল বা কোচিংয়ে আসে না, তোমরা কি কেউ ওর ব্যাপারে কিছু জানো? সে সারাদিন কী করে?
এক ছাত্র: স্যার, ওকে তো সারাদিন রাস্তায় ঘুরাঘুরি করতে দেখি। আর রাত হলে নাকি কোথায় যেন জুয়া বা মোবাইল গেম খেলে...
শিক্ষক: (বিস্মিত হয়ে পিন্টুর বাবাকে ফোন করলেন)... হ্যালো, পিন্টুর বাবা বলছেন?
পিন্টুর বাবা: (কর্কশ স্বরে) কে বলছেন?
শিক্ষক: আমি পিন্টুর স্কুলের শিক্ষক বলছি। আপনার ছেলে তো ঠিকমতো স্কুলে আসে না। ঘটনা কী?
পিন্টুর বাবা: (উদাসীনভাবে) ও আসে না? আমি তো জানি না। আচ্ছা, খোঁজ নিয়ে পরে আপনারে জানাবোনে।
দৃশ্য ৪: শিক্ষকের ‘হোম ভিজিট’ (রাত ১০টা)
(শিক্ষক চিন্তিত হয়ে পিন্টুদের বাড়িতে গেলেন)
শিক্ষক: ভাবি, পিন্টু কোথায়? এই সময়ে সে পড়ার টেবিলে নেই কেন?
পিন্টুর মা: (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) কী বলব স্যার, ছেলেটা তো আমার কোনো কথাই শোনে না। রাত ১১টার আগে কোনোদিন বাড়ি ফেরে না। ওর বাবার কথাও ও পাত্তা দেয় না। আমরা তো ছেড়েই দিয়েছি।
দৃশ্য ৫: চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর (প্রধান শিক্ষকের কক্ষ)
প্রধান শিক্ষক: (কড়া গলায়) শিক্ষক মহাশয়, আপনার বিষয়ের এই অবস্থা কেন? এত ছেলে ফেল করল কেন?
শিক্ষক: স্যার, আমি তো আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছেলেটি তো...
প্রধান শিক্ষক: (কথা কেড়ে নিয়ে) কোনো অজুহাত শুনব না। এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যর্থতা!
ম্যানেজিং কমিটি: (টেবিল চাপড়ে) যে শিক্ষকের বিষয়ে ছাত্ররা ফেল করেছে, ওনার আগামী মাসের বেতন বন্ধ করে দিন! জবাবদিহি না করা পর্যন্ত কোনো বেতন হবে না।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ: (স্কুল প্রাঙ্গণে হট্টগোল করে) স্যার, কয়জন পরীক্ষা দিয়ে কয়জন পাস করল? এই শিক্ষকেরা আমাদের স্কুলের মান-সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিল! এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না!
(সমাপ্ত)
Md Mohsin স্যারের পোস্ট। পুনর্লিখন করা।
৪
৪ মন্তব্য