সহকারী অধ্যাপক
২০ জুন, ২০২৬ ০৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
স্বামী-স্ত্রী : পরিবারতন্ত্রের পরিপূরক - মোঃ মুজিবুর রহমান
স্বামী-স্ত্রী : পরিবারতন্ত্রের পরিপূরক
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ গড়ে সংসারের ঘর,
ঘর গড়ে একটি পরিবার,
পরিবার মিলে সমাজ গড়ে,
সমাজে জাগে সভ্যতার দ্বার।
যত উন্নতি, যত অগ্রগতি,
যত ইতিহাসের দীপ্তি,
তারই পেছনে রয়েছে নীরব
একটি পরিবারের শক্তি।
পরিবার কোনো ইটের দেয়াল নয়,
নয় শুধু বসবাসের স্থান,
এটি ভালোবাসার বিদ্যালয়,
মানবতার প্রথম পাঠদান।
এই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে
দুটি প্রাণ পাশাপাশি রয়,
একজন স্বামী, একজন স্ত্রী—
সম্পর্কের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
তারা নয় প্রতিদ্বন্দ্বী কখনো,
নয় কেউ কারো প্রতিপক্ষ,
দুজন মিলে রচনা করে
জীবনের মহৎ আলোকরেখ।
একজন যদি আনে স্বপ্ন,
অন্যজন দেয় তার রূপ,
একজন যদি আনে পরিকল্পনা,
অন্যজন করে তা অনুপম।
একজন যদি ক্লান্ত হয়,
অন্যজন দেয় সাহসের হাত,
একজন যদি হারায় আশা,
অন্যজন জ্বালে আলোর প্রভাত।
স্বামী-স্ত্রী দুটি স্রোতধারা,
এক নদীতে মেশে এসে,
দুটি সুরের সম্মিলনে
গান ওঠে মধুর আবেশে।
একটি রথের দুটি চাকা,
দুটি ডানায় পাখির উড়ান,
একটি বীণার দুটি তারে
সৃষ্টি হয় সুরের সম্মান।
শুধু অধিকার নয় সম্পর্ক,
আছে দায়িত্বেরও ডাক,
ভালোবাসা তখনই পূর্ণ হয়
যখন থাকে ত্যাগের পাখা।
স্বামী যদি হন আশ্রয়ের বৃক্ষ,
স্ত্রী তার শীতল ছায়া,
ঝড়-বাদলে দুজনে মিলে
রক্ষা করে সুখের মায়া।
স্ত্রী যদি হন সংসারের প্রদীপ,
স্বামী তার জ্বালানো আলো,
দুজন ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়
পরিবারের রঙিন ভালো।
কত শত প্রতিকূল দিনে
অভাব আসে দুয়ারে,
দুজন মিলে হাসিমুখে
সংগ্রামের গান গায় স্বরে।
কখনো অর্থের সংকট নামে,
কখনো দুঃখের কালো মেঘ,
পরস্পরের হাত না ছাড়লে
ভেঙে যায় সব অশুভ রেখ।
জীবনের পথে সুখ যেমন আছে,
তেমনি আছে বেদনার ক্ষণ,
সহমর্মিতার স্পর্শে তখন
প্রশান্ত হয় অশান্ত মন।
দাম্পত্য মানে শুধু নয়
কয়েক দিনের উৎসবগান,
দাম্পত্য মানে দীর্ঘ যাত্রা,
আজীবনের পথের টান।
সন্তান যখন পৃথিবীতে আসে,
নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়,
মা-বাবার স্নেহের ছায়ায়
শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে রয়।
মায়ের কোলে প্রথম শিক্ষা,
বাবার হাতে সাহসের দান,
দুজন মিলে গড়ে তোলে
সুন্দর আগামী প্রজন্মের প্রাণ।
নৈতিকতা, শিষ্টাচার,
সত্য, সততা, ভালোবাসা,
পরিবার থেকেই শিশুর মনে
পায় প্রথম আশার ভাষা।
তাই যে পরিবার সুখী হয়,
সেই সমাজে শান্তি থাকে,
সেই সমাজের মানুষগুলো
সততার পথে চলতে শেখে।
স্বামী যদি সম্মান করেন,
স্ত্রী যদি মর্যাদা দেন,
পরিবারে ফুটে ওঠে তখন
শান্তির অমলিন ফুলবন।
অহংকার যখন দূরে সরে,
ক্ষমা যখন হৃদয়ে রয়,
ভুল বোঝাবুঝির কালো মেঘও
এক নিমেষে বিলীন হয়।
কঠোর বাক্য ক্ষত তৈরি করে,
মধুর কথা গড়ে সেতু,
ভালোবাসার একটি শব্দ
শত দুঃখের করে অবসান দ্রুত।
পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
সম্পর্কের মূল ভিত্তি,
এ ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই
টিকে থাকে জীবনের স্মৃতি।
নারী ও পুরুষ পরস্পরের
পরিপূরক এক সত্তা,
দুজন মিলে পূর্ণতা পায়
মানবজীবনের মহত্ত্ব।
কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়,
সবার রয়েছে সম্মান,
সহযোগিতার বন্ধনেই গড়ে
সুখী পরিবারের প্রাণ।
যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে
বিশ্বাস থাকে অটুট,
সেখানে সুখের বৃক্ষ জন্মে
সবুজ পত্রে অপরূপ।
যেখানে মমতা, যেখানে ধৈর্য,
যেখানে দায়িত্বের জয়,
সেই ঘরটিই পৃথিবীর বুকে
স্বর্গের মতো হয়ে রয়।
আজকের এই ব্যস্ত যুগে
যন্ত্রের ভিড়ে হারায় মন,
তবু পরিবারই শেখায় মানুষকে
মানবতার প্রকৃত পঠন।
তাই আসুন করি অঙ্গীকার,
সম্প্রীতির পথে চলব সবাই,
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক শ্রদ্ধায়
সুখের পৃথিবী গড়ব তাই।
হিংসা নয়, হোক সহমর্মিতা,
বিরোধ নয়, হোক ঐক্যগান,
পরিবার হোক শান্তির নীড়,
মানবতার পবিত্র স্থান।
স্বামী-স্ত্রী দুটি হৃদয়,
একটি জীবনের দুই দিশা,
একজন ছাড়া অন্যজনের
অসম্পূর্ণ থাকে প্রত্যাশা।
তারা মিলেই পরিবার গড়ে,
পরিবার গড়ে সমাজ,
সমাজ গড়ে সুন্দর দেশ,
দেশে জাগে উন্নতির সাজ।
তাই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ত্যাগে
হোক দাম্পত্যের মহিমান্বিত জয়,
স্বামী-স্ত্রী পরিবারতন্ত্রের
পরিপূরক সদস্য—চিরসত্য এই।
ঘরে ঘরে ফুটুক সে বাণী,
মানবতার হোক নব উদয়,
সুন্দর পরিবার, সুন্দর সমাজ,
সুন্দর পৃথিবীর হোক পরিচয়।
***
সৃষ্টির আদিলগ্ন হতে
চলেছে জীবনের ধারা,
নারী-পুরুষের মিলনগাঁথায়
ফুটেছে সংসারের তারা।
একাকী মানুষ অপূর্ণ থাকে,
পূর্ণতা খোঁজে আপনজন,
ভালোবাসার বন্ধন গড়ে
জাগে জীবনের স্পন্দন।
পরিবার শুধু একটি শব্দ নয়,
এ এক মহৎ প্রতিষ্ঠান,
এখানেই মানুষ প্রথম শেখে
শৃঙ্খলা, সেবা, সম্মান।
এখানেই শিশু প্রথম দেখে
মমতার নির্মল আলো,
এখানেই শেখে সত্যের পথে
কীভাবে চলতে ভালো।
একটি ঘরের প্রাণকেন্দ্রে
দুটি হৃদয় পাশাপাশি,
স্বামী-স্ত্রী মিলেই রচনা করে
সুখের পৃথিবী উদ্ভাসি।
তারা দুটি আলাদা সত্তা,
তবু লক্ষ্য একাকার,
একজন ছাড়া অন্যজনের
জীবন যেন অসম্পূর্ণ আর।
দায়িত্ব, ত্যাগ, সহযোগিতায়
গড়ে ওঠে সম্পর্কখানি,
যেখানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
সেখানে সুখের জয়গানই।
তাই যুগে যুগে জ্ঞানীজনেরা
এক বাণী করে ঘোষণা—
সুন্দর পরিবার গড়তে হলে
দুজনেরই চাই অবদান।
আজও পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে
শান্তির খোঁজে মানুষ ফেরে,
কেউ খোঁজে ধন, কেউ খোঁজে যশ,
কেউ খোঁজে সুখের নীড়ে।
কিন্তু সুখের প্রথম পাঠ
পরিবারেই লেখা হয়,
স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে
জীবনের সৌন্দর্য রয়।
যেখানে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,
সেখানে বিরোধ মুছে যায়,
যেখানে থাকে আন্তরিকতা,
সেখানে সুখের সূর্য ওঠে হায়।
স্বামী যদি দায়িত্ববান হয়,
স্ত্রী যদি হন প্রজ্ঞাময়ী,
দুজন মিলে গড়ে তুলতে পারে
সভ্যতার ভিত্তি অটলময়ী।
সন্তান পায় আদর্শ জীবন,
সমাজ পায় আলোর দিশা,
রাষ্ট্র পায় সৎ নাগরিক,
জাতি পায় উন্নতির আশা।
তাই আসুন আজ শপথ করি,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে সরাই,
সহযোগিতা ও ভালোবাসায়
মানবতার প্রদীপ জ্বালাই।
স্বামী-স্ত্রী দুটি নয় কেবল,
একটি স্বপ্নের দুই প্রহরী,
একজন রক্ষা করে ভিত্তিখানি,
অন্যজন গড়ে সুখের ভরি।
দুটি হৃদয়, একটি লক্ষ্য,
দুটি প্রাণ, একটি গান,
তাদের মিলনেই পৃথিবী জুড়ে
ফোটে জীবনের ফুলবাগান।
যতদিন থাকবে মানবসভ্যতা,
যতদিন থাকবে মানবধর্ম,
ততদিন অমলিন হয়ে থাকবে
দাম্পত্যের এই মহামর্ম।
ঘরে ঘরে জাগুক সে শিক্ষা,
হৃদয়ে হৃদয়ে উঠুক বাণী—
“স্বামী-স্ত্রী পরিপূরক সাথী,
সম্প্রীতিতেই জীবনের জয়গানখানি।”
ভালোবাসার সেতু গড়ে,
শ্রদ্ধা হোক তার ভিত্তি,
স্বামী-স্ত্রীর ঐক্যেই জাগে
পরিবারের মহাশক্তি।
পরিবার হতে সমাজ জাগে,
সমাজ হতে দেশের জয়,
সুন্দর পরিবার গড়ার মধ্যেই
সুন্দর ভবিষ্যতের পরিচয়।
তাই ঘরে ঘরে ফুটুক আবার
সম্প্রীতির শুভ আলোকরেখা,
স্বামী-স্ত্রীর পরিপূরক বন্ধন
মানবতার শ্রেষ্ঠ দেখা।
***
স্বামী-স্ত্রী : পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের পরিপূরক দুই প্রাণ
মানুষ একা নয় এ ধরায়,
বন্ধনেই তার পরিচয়,
ভালোবাসার স্নেহছায়ায়
জীবন খুঁজে মহাময়।
ঘর মানে শুধু চার দেয়াল নয়,
ঘর মানে হৃদয়ের টান,
ঘর থেকেই মানুষ শেখে
সত্য, প্রেম আর সম্মান।
পরিবার হলো সেই বিদ্যালয়,
যেখানে প্রথম শিক্ষা হয়,
মমতা, ত্যাগ আর দায়িত্বে
মানবতার বিকাশ রয়।
এই পরিবারের মূল স্তম্ভ দুটি—
দুটি হৃদয় পাশাপাশি,
স্বামী-স্ত্রী মিলেই গড়ে
সুখের ভুবন আলোকিত হাসি।
একজন স্বপ্ন বুনে মনে,
অন্যজন দেয় তার রূপ,
একজন আনে আশার আলো,
অন্যজন করে জীবন অনুপম।
তারা নয় কেউ কারো ছায়া,
নয় কারো চেয়ে কম,
দুজন মিলে পূর্ণতা পায়
জীবনের মহৎ সংগম।
একটি রথের দুটি চাকা,
একটি গানের দুটি সুর,
একটি পথের দুই সহযাত্রী—
দুজনেই জীবনের নূর।
যেখানে থাকে সম্মানবোধ,
সেখানে থাকে শান্তি,
যেখানে থাকে ভালোবাসা,
সেখানেই সুখের ভ্রান্তি কাটে।
স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন তাই
শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়,
এ এক মহৎ দায়িত্বের নাম,
যেখানে মানবতার জয়।
***
মানুষ একা নয় এ পৃথিবীতে,
বন্ধনেই তার পরিচয়,
স্নেহ-মমতার আলোকধারায়
জীবন খুঁজে নবময়।
ঘর শুধু নয় চার দেয়ালের
ইট-পাথরের আয়োজন,
ঘর হলো ভালোবাসার
একটি পবিত্র প্রাঙ্গণ।
পরিবার হলো প্রথম বিদ্যালয়,
প্রথম শেখার স্থান,
যেখানে মানুষ জানতে শেখে
কর্তব্য, প্রেম, সম্মান।
সেই ঘরের দুটি প্রদীপ
জ্বালে আলোর শিখা—
স্বামী-স্ত্রী মিলেই লেখে
জীবনের সুন্দর লেখা।
তারা নয় কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী,
নয় কেউ কারো পরাজয়,
দুজন মিলে সৃষ্টি করে
সুখের নির্মল পরিচয়।
একজন আনে স্বপ্নের বীজ,
অন্যজন দেয় জল,
দুজন মিলে ফুটিয়ে তোলে
আশার সুন্দর ফল।
একজন যখন ক্লান্ত পথে
হারিয়ে ফেলে আশা,
অন্যজন তখন পাশে এসে
দেয় সাহসের ভাষা।
একটি রথের দুটি চাকা,
একটি সুরের দুটি গান,
একটি জীবনের দুই সহযাত্রী—
দুজনেই সমান সম্মান।
দাম্পত্য শুধু আনন্দ নয়,
নয় শুধু উৎসবের দিন,
এটি ত্যাগ ও দায়িত্বে গড়া
আজীবনের বন্ধনচিহ্ন।
সুখের দিনে হাসি ভাগ করে,
দুঃখের দিনে দেয় হাত,
ঝড় এলেও একসাথে থাকে
অটুট বিশ্বাসের সাথে।
স্বামী যদি হন দায়িত্বের প্রতীক,
স্ত্রী হন মমতার আলো,
দুজন মিলে গড়ে তোলে
সংসারের রঙিন ভালো।
সন্তানের প্রথম শিক্ষক তাঁরা,
প্রথম আদর্শের নাম,
তাঁদের আচরণেই শেখে শিশু
জীবনের সত্য ধাম।
মায়ের স্নেহ, বাবার প্রেরণা,
দুই মিলে গড়ে মন,
পরিবার থেকেই জন্ম নেয়
ভবিষ্যতের সুনাগরিক জীবন।
যেখানে থাকে সম্মানবোধ,
সেখানে শান্তির বাস,
যেখানে থাকে ভালোবাসা,
সেখানেই সুখের প্রকাশ।
অহংকার যদি দূরে থাকে,
ক্ষমা যদি হয় সঙ্গী,
তবে ছোট ভুলও হারিয়ে যায়,
ফুটে ওঠে প্রেমরঙী।
নারী-পুরুষ দুই আলাদা সত্তা,
তবু লক্ষ্য এক মহান,
সহযোগিতার বন্ধনেই গড়ে
সভ্যতার নতুন গান।
তাই ঘরে ঘরে উঠুক ধ্বনি,
সম্প্রীতির হোক জয়—
স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর বন্ধনে
পরিবার পাক মহিমাময়।
পরিবার থেকে সমাজ গড়ে,
সমাজ থেকে দেশ,
সুন্দর ঘরের আলোতেই
পৃথিবী পায় নব রূপের বেশ।
দুটি হৃদয়, একটি পথ,
দুটি প্রাণ, একটি আশা,
স্বামী-স্ত্রীর ঐক্যেই থাকে
জীবনের পূর্ণ ভাষা।
তাই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ত্যাগে
গড়ে উঠুক প্রতিটি ঘর,
স্বামী-স্ত্রী হোক পরিপূরক সাথী—
মানবতার চিরন্তন স্বর।
৫৩
৯২ মন্তব্য