সহকারী অধ্যাপক
২০ জুন, ২০২৬ ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। প্রতি বছর বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। বন্যা যেমন ফসল, ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষতি করে, তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই বন্যার সময় স্বাস্থ্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন্যার ফলে পানিবাহিত রোগ, খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যা দেখা দেয়। এতে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বন্যার সময় সরাসরি নদী বা পুকুরের পানি পান করা উচিত নয়। পানি ফুটিয়ে বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পান করতে হবে।
খাবার সবসময় ঢেকে রাখতে হবে এবং বাসি বা দূষিত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
হাত সাবান দিয়ে নিয়মিত ধোয়া জরুরি, বিশেষ করে খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর।
টয়লেট পরিষ্কার রাখা এবং খোলা জায়গায় মলত্যাগ না করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বন্যার পানি জমে থাকলে সেখানে মশা জন্মাতে পারে, যা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রাথমিক চিকিৎসার কিট, ORS, প্যারাসিটামল ইত্যাদি প্রস্তুত রাখা উচিত।
সরকারি বা নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।
শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাই তাদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে।
সরকারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা এবং ত্রাণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের মানুষকে একে অপরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে হবে।
বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও সঠিক সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বন্যার সময়ও সুস্থ থাকা যায়। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।
৫৩
৯২ মন্তব্য