Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জুন, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

★ শ্রেণীকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে কোনো শিক্ষককে বিব্রত করা বা প্রকাশ্যে জবাবদিহির মুখোমুখি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

★ শ্রেণীকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে কোনো শিক্ষককে বিব্রত করা বা প্রকাশ্যে জবাবদিহির মুখোমুখি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?


একজন শিক্ষক যখন শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করছেন, তখন শিক্ষার্থীদের সামনে তাকে ধমক দেওয়া, অপমান করা বা বিচারকের আসনে বসে জিজ্ঞাসাবাদ করা কোনোভাবেই পেশাদার আচরণের মধ্যে পড়ে না। শিক্ষার পরিবেশ সম্মান, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সেই পরিবেশ নষ্ট হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা।


একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে রিডিং পড়তে না পারার দায় কি শুধু একজন শিক্ষকের? শিক্ষাব্যবস্থার নানা স্তরে দীর্ঘদিনের যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তার দায়ও কি বিবেচনায় নেওয়া উচিত নয়?


পাঠ্যক্রম কারা তৈরি করে? শিক্ষার্থীদের ওপর বারবার পরীক্ষামূলক পরিবর্তন চালায় কারা? পরীক্ষা পদ্ধতির মানহানি ঘটিয়েছে কারা? কেন এমন শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠে যায়, যে মৌলিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারেনি? শিক্ষক নিয়োগে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুযোগ পায় কীভাবে? শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সংকুচিত করেছে কারা? শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছে কারা?


যে শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সামনে অপমান করা হলো, তিনি পরবর্তীতে কীভাবে সেই শিক্ষার্থীদের সামনে নিজের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বজায় রাখবেন? এই বাস্তবতাটুকু বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


কোনো শিক্ষকের কাজে ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই সংশোধনের সুযোগ থাকতে হবে। তবে সেটি হওয়া উচিত ভদ্র, পেশাদার ও সম্মানজনক উপায়ে। প্রয়োজন হলে আলাদা কক্ষে ডেকে আলোচনা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের সামনে কাউকে হেয় করা কখনোই সমাধান নয়।


একজন শিক্ষক যদি তার দায়িত্বে ব্যর্থ হন, তবে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে। কিন্তু উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত কেউ যদি একজন শিক্ষকের সঙ্গে ন্যূনতম পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে না পারেন, সেটিও সমানভাবে প্রশ্নের উদ্রেক করে।


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যম ও ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ, শিক্ষকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সেটিকে প্রচারের উপকরণে পরিণত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো প্রদর্শনীর মঞ্চ নয়। এখানে শিক্ষার পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট সবার মর্যাদা রক্ষা করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।


★ সরকারের প্রতি আবেদন—


শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি যারা মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদেরকেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরাসরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি আরও সমৃদ্ধ হবে।

#শিক্ষক #শিক্ষার্থী

মন্তব্য করুন