Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জুন, ২০২৬ ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ

বাস্তুহারা মানুষের অধিকার ও মানবতার জাগরণ: বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ভাবনা

পৃথিবীর বুকে প্রতিটি মানুষেরই জন্ম একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা নিয়ে, এক টুকরো নিজস্ব আকাশের নিচে। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা আর সময়ের নির্মম পরিহাসে অনেককেই সেই আপন আকাশ, প্রিয় মাতৃভূমি আর স্মৃতির উঠোন ছেড়ে রাতারাতি হয়ে যেতে হয় ঠিকানাহীন। যুদ্ধ, সংঘাত, রাজনৈতিক নিপীড়ন কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র থাবায় যারা নিজের চেনা ঘর হারিয়ে অচেনা কোনো প্রান্তরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাদেরই জীবনসংগ্রাম, অদম্য সাহস আর কান্নার গল্পকে স্মরণ করার দিন আজ। ২০ জুন, বিশ্ব শরণার্থী দিবস। এ দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি তারিখ নয়, এটি বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করার এক তীব্র আহ্বান।

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরছাড়া এই মানুষগুলোর জীবন কাটে অনিশ্চয়তার এক দোলাচলে। নিজ দেশে তারা পরবাসী, আর পরদেশে তারা উদ্বাস্তু। এক বুক আশা আর হাজারো শঙ্কা নিয়ে তারা পাড়ি দেন দুর্গম পথ, কখনো উত্তাল সাগর কিংবা কখনো কাঁটাতারের সীমানা। তাদের এই দীর্ঘযাত্রার পেছনে লুকিয়ে থাকে আপনজন হারানোর বেদনা আর ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর আকুতি। শরণার্থী শিবিরের চার দেয়ালের মাঝে আটকে থাকা শৈশব কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে থাকা প্রবীণের চোখ—সবখানেই এক নীরব হাহাকার প্রতিধ্বনিত হয়।

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এই মানবিক সংকটের এক অনন্য উদাহরণ। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে লাখো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, তা চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। তবে আশ্রয় দেওয়াটাই শেষ কথা নয়, তাদের টেকসই, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনвенশনের পঁচাত্তরতম বার্ষিকীর এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যতক্ষণ না পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের অধিকার পাচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের সম্মিলিত মানবিকতার দায়িত্ব শেষ হয় না।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস আমাদের শেখায় যে, কেউ স্বেচ্ছায় রিফিউজি বা শরণার্থী হয় না। তারা আমাদের মতোই মানুষ, যাদের স্বপ্ন ছিল, পরিবার ছিল এবং ছিল একটি স্বাধীন জীবনের আকাঙ্ক্ষা। আসুন, আজ এই দিনে আমরা শুধু তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ না করে, তাদের অধিকার আদায়ে আরও বেশি সোচ্চার হই। কাঁটাতারের সীমানা পেরিয়ে মানবতার জয়গান গাওয়াই হোক এই দিবসের মূল অঙ্গীকার। পৃথিবীর সব মানুষ ফিরে পাক তার নিজস্ব ঠিকানা, প্রতিটি শিশুর চোখ জুড়ে আসুক শান্তির ঘুম।

মন্তব্য করুন