Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জুন, ২০২৬ ০৮:১৮ অপরাহ্ণ

ধনী-গরিব - মোঃ মুজিবুর রহমান



ধনী-গরিব

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষে মানুষে গড়ে ওঠে
সমাজ নামের ঘর,
নানা রঙের, নানা ঢঙের
কত বিচিত্র স্বর।

কেউ আছে ধনে সমৃদ্ধ,
কেউ বা শ্রমের দীপ,
সবার মিলেই জ্বলে ওঠে
সভ্যতার প্রদীপ।

ধনী যদি হয় পুঁজি-ভাণ্ডার,
স্বপ্ন বোনার কারিগর,
গরিব তবে শ্রমের নদী,
অবিরাম কর্মঘর।

একজন আনে পরিকল্পনা,
একজন দেয় প্রাণ,
দুজন মিলে গড়ে তোলে
উন্নয়নের গান।

প্রাসাদ গড়ে শ্রমিক হাতে,
সেতু ওঠে কবে?
কৃষকের ঘামে শস্য ফলে
মানুষ বাঁচে তবে।

কারখানার চাকা ঘোরে
হাজার শ্রমিক সনে,
উদ্যোক্তার সাহস মেশে
তাদের শ্রমের বনে।

ধনীর ঘরে অন্ন থাকে,
গরিব আনে ফল,
গরিব ছাড়া ধনীর জীবন
হতো কত বিকল।

আবার যদি পুঁজি না থাকে,
কোথায় কর্মস্থান?
কোথায় হবে উৎপাদনের
সমৃদ্ধ আয়োজন?

তাই তো তারা মুখোমুখি নয়,
নয়কো প্রতিদ্বন্দ্বী,
একই সুরের দুটি তারে
জীবন বাজায় বন্দী।

সূর্য যেমন আলো বিলায়,
মেঘ আনে বর্ষাধারা,
দুয়ের মিলেই প্রকৃতি সাজে
অপরূপ রূপে সারা।

ধনী-গরিব তেমনি যেন
সমাজরথের চাকা,
একটি ভাঙলে থেমে যাবে
অগ্রগতির ফাঁকা।

শ্রমের মর্যাদা যেখানে,
সেখানে সুখের দেশ,
ন্যায়ের আলো জ্বালতে পারে
মানবতার রেশ।

ধন যদি হয় দায়িত্বশীল,
করুণা থাকে প্রাণে,
অভাবীদের পাশে দাঁড়ায়
নিঃস্বার্থ সম্মানে।

গরিব যদি সততা নিয়ে
শ্রমে রাখে মন,
তবে সমাজ পায় নতুন করে
উন্নয়নের ক্ষণ।

বিদ্বেষ নয়, প্রয়োজন আজ
সহমর্মী দৃষ্টি,
মানবতার বন্ধন গড়ে
সুন্দর হোক সৃষ্টি।

ধনী যেন না ভোলে কখন
সম্পদের এ মান,
এও তো স্রষ্টার অর্পিত
একটি পরীক্ষা জ্ঞান।

গরিব যেন না হারায় আশা
দুঃখের আঁধার মাঝে,
পরিশ্রমের দীপ জ্বালিয়ে
ভবিষ্যৎ নিজের সাজে।

যেখানে ধনীর অহংকার নেই,
গরিবের নেই হাহাকার,
সেই সমাজে ফুটে ওঠে
শান্তির অপরূপ হার।

সেখানে শিশু হাসে প্রাণে,
বৃদ্ধ পায় সম্মান,
নারী-পুরুষ সবার মাঝে
সমঅধিকারের গান।

সেখানে শিক্ষা সবার তরে,
স্বাস্থ্য সবার দ্বার,
ন্যায়ের পথে চলে রাষ্ট্র,
জাগে উন্নয়নধারা।

ধনী তখন সমাজসেবার
এক উজ্জ্বল নাম,
গরিব তখন শ্রমের গৌরব,
সম্মানের অবিরাম।

দুজন মিলে গড়ে তোলে
জাতির শক্তি-ভিত,
একজন ছাড়া অন্যজনের
সফলতা হয় ক্ষীণ।

ইতিহাসের প্রতিটি যুগে
এই সত্য অমলিন,
পারস্পরিক নির্ভরতাই
সভ্যতার ভিত্তিভূমি।

শ্রম আর পুঁজি, জ্ঞান ও ঘাম,
হাতে হাত রাখে,
সাফল্যের সুবর্ণ ফসল
মানবজীবনে আঁকে।

তাই এসো আজ করি শপথ,
ভাঙি বিভেদের দেয়াল,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
রচে ভালোবাসার জাল।

ধনী-গরিব ভেদ নয় শুধু,
সবার আগে মানুষ,
মানবতার মহাসাগরে
মুছে যাক সকল ফাঁস।

ন্যায়, মমতা, সহযোগিতায়
হোক সমাজ আলোকিত,
পারস্পরিক সম্মানবোধে
হোক ভবিষ্যৎ সুসজ্জিত।

যেদিন ধনী গরিব উভয়েই
বুঝবে এ মহান বাণী,
"
একজন ছাড়া অন্যজনের
অসম্পূর্ণ জীবনখানি"—

সেদিন হবে সত্যিকারের
কল্যাণময় সমাজ,
শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়নের
খুলবে স্বর্ণদ্বার আজ।

ধনী ও গরিব তখন হবে
একই মালার ফুল,
পারস্পরিক নির্ভরতায়
গড়বে পৃথিবী কূল।

মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ে
ভালোবাসার নীড়,
সামাজিক ভারসাম্যের পথে
এগিয়ে যাবে ধীর।

এই হোক আজ মানবজাতির
চিরন্তন অঙ্গীকার—
ধনী-গরিব হাতে হাত রেখে
গড়ুক সুখের সংসার।

***

মানুষ একা বাঁচতে পারে না,

পারে না গড়তে সভ্যতা;

হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলে

মানবতার মহাযাত্রা।

কেউ জ্ঞানে বড়, কেউ ধনে বড়,

কেউ শ্রমে অদ্বিতীয়,

কেউ নেতৃত্বে, কেউ সেবায়,

কেউ কর্মে অনন্যীয়।

বৈচিত্র্যের এই মহামিলন

সৃষ্টির অপার রীতি,

পরস্পরের সহযোগিতায়

বেঁচে থাকে মানবভূমি।

ধনী আছে, গরিবও আছে,

আছে নানা স্তর,

তবু সবাই একই সমাজের

একই নৌকার যাত্রী ঘর।

প্রকৃতি যেমন ভিন্ন ভিন্ন

রঙে সাজায় ধরা,

তেমনি মানুষ নানা অবস্থায়

গড়ে তোলে বিশ্বসারা।

তাই ধনী-গরিব বিভেদ নয়,

নয় সংঘাতের ভাষা,

পরস্পরের প্রয়োজনেই

বেঁচে থাকার আশা।

শ্রম ও পুঁজির যুগলবন্দী

ধনীর কাছে পুঁজি আছে,

আছে উদ্যোগ, পরিকল্পনা,

গরিবের আছে শ্রমের শক্তি,

পরিশ্রমের অমূল্য গাথা।

পুঁজি ছাড়া শিল্প থেমে যায়,

স্বপ্ন থাকে অপূর্ণ,

শ্রম ছাড়া সেই পুঁজি আবার

হয়ে পড়ে মূল্যহীন।

কারখানার বিশাল প্রাঙ্গণ,

উঁচু দালান, সেতু,

শ্রমিকের ঘামে দাঁড়িয়ে থাকে

সভ্যতার অগণিত ক্ষেত্র।

কৃষকের হাতে শস্য ফলে,

মৎস্যজীবী ধরে মাছ,

তাঁতির হাতে বস্ত্র বোনা,

শ্রমে জাগে জীবনের আশ।

চিকিৎসকের জ্ঞান যেমন

মানুষকে দেয় প্রাণ,

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর শ্রমও

সমান গুরুত্বপূর্ণ দান।

যে সমাজ শ্রমকে সম্মান করে,

সেই সমাজ হয় মহান,

সেখানে প্রতিটি কর্মজীবী

পায় মর্যাদার স্থান।

পারস্পরিক নির্ভরতার অনন্ত সেতু

ধনী কি পারে কৃষক ছাড়া

একটি দিনও বাঁচতে?

শ্রমিক ছাড়া কারখানার চাকা

পারে কি আর ঘুরতে?

আবার উদ্যোক্তা না থাকলে

কোথায় হবে কাজ?

কোথায় খুলবে জীবিকার পথ,

কোথায় উন্নয়নের সাজ?

শিক্ষক শেখান জ্ঞানের আলো,

শিক্ষার্থী নেয় তা,

রোগী ছাড়া চিকিৎসকেরও

পূর্ণ হয় না ব্যাখ্যা।

ক্রেতা ছাড়া বিক্রেতা নেই,

নেই বাজারের প্রাণ,

দাতা ছাড়া গ্রহীতা যেমন,

গ্রহীতা ছাড়া কোথা দান?

সাগর যেমন নদী চায়,

নদী চায় বর্ষাধারা,

তেমনি মানুষ মানুষ ছাড়া

অসম্পূর্ণ সংসার সারা।

বৈষম্যের দেয়াল নয়, ন্যায়ের সেতুবন্ধ

ধন সম্পদ নিজে দোষ নয়,

দোষ তার অপব্যবহার,

অহংকারের অন্ধ আগুন

করতে পারে ছারখার।

অভাব নিজেও লজ্জা নয়,

লজ্জা অন্যায় পথে চলা,

সততার ঘামে অর্জিত রুটি

শ্রেষ্ঠ জীবনের বলা।

যেখানে ধনী দায়িত্ব নেবে,

করবে মানবসেবা,

সেখানে সমাজ শান্তি পাবে,

মুছবে দুঃখ-ভেবা।

যেখানে গরিব সুযোগ পাবে

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান,

সেখানে জাগবে সম্ভাবনার

উজ্জ্বল নতুন গান।

ন্যায়বিচারের ভিত্তির উপর

গড়তে হবে দেশ,

যেখানে সবার অধিকার থাকবে,

সবার সম্মান রেশ।

দান, যাকাত ও মানবকল্যাণ

মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন

শুধু অর্থের বিষয় নয়,

এতে জড়িয়ে মানবতার

চিরন্তন পরিচয়।

অসহায়ের মুখে হাসি ফোটে

এক মুঠো সাহায্যে,

অনাথ শিশু আশ্রয় পায়

মমতার মহিমায়।

যাকাত, সদকা, দান ও সেবা,

সহযোগিতার হাত,

হৃদয় হতে হৃদয়ে গড়ে

সম্প্রীতির প্রভাত।

যে ধন মানুষের উপকারে

ব্যয় হয় অবিরাম,

সেই ধনই হয় কল্যাণময়,

সেই ধন পায় সম্মান।

সামাজিক সম্প্রীতির স্বপ্ন

আমি দেখি এমন এক দেশ,

যেখানে নেই ঘৃণা,

ধনী-গরিব সবাই মিলে

রচনা করে বীণা।

যেখানে শ্রমিক সম্মান পায়,

কৃষক পায় মর্যাদা,

উদ্যোক্তাও পায় স্বীকৃতি,

শিক্ষক পায় শ্রদ্ধা।

যেখানে শিশু স্বপ্ন দেখে,

বৃদ্ধ পায় নিরাপত্তা,

নারী-পুরুষ পাশাপাশি চলে

সমতার সৌন্দর্যতা।

যেখানে মানুষ মানুষকে দেখে

ভালোবাসার চোখে,

স্বার্থপরতার দেয়াল ভেঙে

সম্প্রীতির আলোকলোকে।

উপসংহার : মানবতার জয়গান

ধনী ও গরিব—দুই নয় শত্রু,

দুই নয় প্রতিপক্ষ,

একই সমাজের দুটি শক্তি,

একই জীবনের রক্ষক।

একজন আনে পুঁজি ও স্বপ্ন,

একজন আনে শ্রম,

দুজন মিলে গড়ে তোলে

সভ্যতার মহাধর্ম।

তাই এসো আজ শপথ করি,

ভাঙি বিভেদের কারা,

মানুষ হয়ে মানুষের তরে

ভালোবাসি বিশ্বসারা।

সামাজিক ভারসাম্যের পথে

হোক আমাদের যাত্রা,

পারস্পরিক নির্ভরতাতেই

লুকিয়ে আছে মুক্তিধারা।

ধনী-গরিব হাতে হাত রেখে

গড়ুক আগামীর ভোর,

ন্যায়, মমতা, সহযোগিতায়

আলোকিত হোক বিশ্বঘর।

মানুষ হোক মানুষের আপন,

এই হোক চূড়ান্ত বাণী—

পারস্পরিক নির্ভরতার মাঝে

লুকিয়ে আছে জীবনের জ্ঞানি।

***

ধনী-গরিব : পারস্পরিক নির্ভরতার মহাগান

প্রস্তাবনা : সৃষ্টির ভারসাম্যের অমোঘ বিধান

এই বিশ্ব এক মহাসম্মেলন,

বৈচিত্র্যের মহামেলা,

কোথাও সূর্যের দীপ্ত জ্যোতি,

কোথাও চাঁদের স্নিগ্ধ খেলা।

কোথাও পর্বত আকাশ ছোঁয়,

কোথাও নদী নতশির,

কোথাও সাগর সীমাহীন,

কোথাও শিশির অতি ক্ষীর।

তবু কি কেউ একা পূর্ণ?

তবু কি কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ?

পর্বত চায় নদীর স্রোত,

নদী চায় সাগরের গুণ।

বন চায় বৃষ্টি, মেঘ চায় সাগর,

ফুল চায় ভ্রমরের গান,

প্রকৃতির প্রতিটি কণায় লেখা—

পারস্পরিক নির্ভরতার বিধান।

মানবসমাজও তেমনই এক

অদৃশ্য সেতুর দেশ,

যেখানে সবাই সবার আপন,

সবার জীবনে সবার রেশ।

কেউ আনে জ্ঞানের আলোকশিখা,

কেউ আনে শ্রমের জয়,

কেউ আনে পুঁজির সম্ভাবনা,

কেউ কর্মে ভবিষ্যৎ গড়ে রয়।

ধনী ও গরিব—দুটি নাম মাত্র,

দুটি নয় ভিন্ন প্রাণ,

একই সমাজ-দেহের তারা

দুটি অপরিহার্য অঙ্গসমান।

একজন যদি স্বপ্নের স্থপতি,

অন্যজন তার নির্মাতা,

একজন যদি বীজ বপন করে,

অন্যজন ফসলের বার্তাবাহকতা।

তাই তাদের মাঝে বিভেদের দেয়াল

মানবতার নয় পরিচয়,

সহযোগিতা, সহমর্মিতা,

সম্প্রীতিই তাদের সত্যময়।

শ্রমের ঘামে ভেজা কপালে

সভ্যতার সূর্য ওঠে,

শ্রমিকের হাতের স্পর্শে

নিষ্প্রাণ পাথর প্রাণ পেতে।

কৃষকের বুকে সোনার ধান,

তাঁতির হাতে বস্ত্র,

জেলের জালে জীবনের রসদ,

কারিগরের হাতে শাস্ত্র।

যে অট্টালিকা আকাশ ছোঁয়,

যে সেতু নদী পেরোয়,

যে পথ ধরে সভ্যতা চলে—

সবই শ্রমের মহাকাব্য হয়ে রয়।

তাই শ্রম কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়,

নয় কোনো অবহেলার নাম,

শ্রমই পৃথিবীর চলার শক্তি,

শ্রমই উন্নয়নের অবিরাম ধ্বনি ও দাম।

পুঁজিও এক মহান শক্তি,

যদি থাকে ন্যায়ের পথে,

হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

জন্ম নেয় তারই রথে।

উদ্যোগ যদি সাহস পায়,

জাগে শিল্পের জয়,

অসংখ্য ঘরে অন্নের হাসি

নতুন প্রভাত বয়ে রয়।

ধন তখন আশীর্বাদ হয়,

যখন তা জনকল্যাণে ঝরে,

নয়তো অহংকারের অগ্নিশিখা

নিজেকেই ভস্ম করে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ