Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ জুন, ২০২৬ ০৪:১১ পূর্বাহ্ণ

সুন্দর নামসমূহ তাঁরই - মোঃ মুজিবুর রহমান

সুন্দর নামসমূহ তাঁরই

(সূরা ত্ব-হা --এর ভাবধারায়)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

নামল কুরআন দুঃখ দিতে নয়,
নয় কোনো ভারী বোঝা,
নামল সে আলো হয়ে,
অন্ধকারে পথের খোঁজা।

নামল সে হৃদয়ের মাঝে
শান্তির নির্মল সুর,
নামল সে মানুষকে দিতে
সত্যের চিরন্তন নূর।

যে হৃদয়ে আছে ভয়,
প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধা ভরা,
কুরআনের প্রতিটি বাণী
তার জন্য পথের ধারা।

কিতাব নয় ক্লান্তির কারণ,
নয় হতাশার গান,
কিতাব জীবনের মাঝে
জাগায় ঈমানের প্রাণ।

যিনি সৃষ্টি করেছেন ধরিত্রী,
সুদূর আকাশমালা,
যাঁর আদেশে নক্ষত্র জ্বলে,
সূর্য ছড়ায় আলোর জ্বালা।

যিনি পাহাড় স্থাপন করেন,
সাগরে তোলেন ঢেউ,
যাঁর ইশারায় বসন্ত আসে,
শুষ্ক বনে ফোটে ফুলের ঢেউ।

যিনি সৃষ্টি করেন মানুষের প্রাণ,
দেন জ্ঞান অনুভব,
তাঁর মহিমা ভাষায় ধরা
কখনো কি হয় সম্ভব?

আকাশের উচ্চ মিনারে
যত নক্ষত্র দীপ্যমান,
সবাই যেন বলে উঠে
"
মহান তুমি, হে রহমান।"

মরুভূমির বালুকণাতে,
শিশিরবিন্দুর মাঝে,
তাঁরই কুদরত কথা বলে
নীরবতারও সাজে।

পরম করুণাময় তিনি,
মহিমান্বিত তাঁর শান,
আরশের মহান অধিপতি,
অতুলনীয় তাঁর সম্মান।

কেমন তাঁর আরশ, কেমন তাঁর সত্তা,
জানে না কোনো প্রাণ,
তিনি যেমন নিজেকে বলেছেন,
সেই বিশ্বাসেই ঈমান।

মানববুদ্ধির সীমার বাইরে
তাঁর মহিমার দেশ,
তাঁর তুলনা নেই কোথাও,
তিনি অনন্ত, অশেষ।

সকল ক্ষমতা তাঁর হাতে,
সকল রাজ্য তাঁর,
সকল যুগের সকল শাসক
তাঁরই সামনে অসহায় আর।

আকাশজুড়ে যা কিছু আছে,
পৃথিবীর বুকে যত,
মাঝখানের সব সৃষ্টি তাঁর,
গণনা করা অসম্ভব কত।

মাটির নিচের গুপ্ত ধন,
সাগরের গভীর তল,
বাতাসের অদৃশ্য স্রোত,
পাহাড়ের নিঃশব্দ চল।

পাখির উড়ে যাওয়া পথে,
মাছের সাঁতারের রেখা,
রাত্রির নিভৃত নির্জনতায়
সবই তাঁর দেখা।

বনের পাতার ঝরে পড়া,
বৃষ্টিধারার গান,
সবই তাঁর ইচ্ছার মাঝে,
সবই তাঁর বিধান।

কোনো কণা নেই জগতে
তাঁর জ্ঞানের বাইরে,
তাঁর আদেশেই বিশ্বজগৎ
চলে নিয়মের ধারে।

তুমি যদি উচ্চস্বরে বলো,
তবুও তিনি শোনেন,
তুমি যদি নীরব থাকো,
তবুও সবই জানেন।

অন্তরের যে গোপন কথা
ঠোঁটেও আসেনি যার,
সেটিও জানা আছে তাঁর,
নেই কিছু অজানার।

রাত্রির গভীর আঁধারে
চোখের অশ্রুবিন্দু,
মানুষ দেখে না, কিন্তু
তিনি জানেন সিন্ধু।

হৃদয়ের গোপন ব্যথা,
অকথিত আর্তনাদ,
নিঃশব্দ প্রার্থনার সুরও
পৌঁছে যায় তাঁর কাছে সদা।

কত আশা, কত স্বপ্ন,
কত না গোপন ভয়,
সবকিছুর খবর রাখেন
যিনি সবার হৃদয়ময়।

আল্লাহ!
কী মধুর সে নাম,
কী মহিমান্বিত ধ্বনি,
যার স্মরণে প্রশান্ত হয়
অস্থির মানবমনি।

তিনি ছাড়া সত্য কোনো
উপাস্য নেই আর,
তাঁরই কাছে নত হয়
বিশ্বজগতের সংসার।

ক্ষমতায় তিনি অতুলনীয়,
মহিমায় অনন্ত মহান,
তাঁরই হাতে জীবন-মৃত্যু,
তাঁরই হাতে জগতপ্রাণ।

তাঁর দয়া ছাড়া কারো নেই
মুক্তির কোনো পথ,
তাঁরই অনুগ্রহে মানুষ পায়
সফলতার রথ।

সুন্দর নামসমূহ তাঁরই,
মহিমাময় পরিচয়,
প্রতিটি নামে জ্বলে ওঠে
অসীম গুণের আলোছায়।

তিনি রহমান
সকল সৃষ্টির প্রতি দয়াময়,
তিনি রহীম
বিশেষ করুণায় ভরপুর অক্ষয়।

তিনি মালিক
সকল রাজ্যের অধিপতি,
তিনি কুদ্দুস
সকল ত্রুটির ঊর্ধ্বগতি।

তিনি সালাম
শান্তির উৎসধারা,
তিনি মুমিন
নিরাপত্তার সাগর সারা।

তিনি আযীয
মহাপরাক্রমশালী,
তিনি হাকীম
প্রজ্ঞায় অতুলনীয় নিরালি।

তিনি গফ্ফার
ক্ষমাশীল অপরিসীম,
তিনি ওয়াদুদ
ভালোবাসার মহান প্রতিম।

তিনি রাযযাক
রিজিকদাতা মহান,
তিনি নূর
আলোকিত করেন প্রাণ।

তিনি সামী‘—
সব শোনেন সদা,
তিনি বাসীর
সব দেখেন নিরবধি সুধা।

তিনি আলীম
জানেন সবকিছু,
তিনি লতীফ
সূক্ষ্ম রহস্যের পিছু।

প্রতিটি নাম এক একটি
রহমতের দরজা,
প্রতিটি নাম মানুষকে শেখায়
সত্যের সঠিক খোঁজা।

হে আমাদের প্রতিপালক,
তোমার সুন্দর নাম ধরে,
আমরা ডাকি বিনম্র প্রাণে,
চোখের অশ্রু ঝরে।

কুরআনকে করো হৃদয়ের বসন্ত,
আত্মার শান্তির নূর,
অশান্ত মনকে করো প্রশান্ত,
দূর করো সব সুরসুর।

দুঃখের মেঘ সরিয়ে দাও,
উৎকণ্ঠা করো দূর,
সত্যের পথে অবিচল রাখো,
দাও হেদায়েতের নূর।

ভুলে গেলে স্মরণ দিও,
পথ হারালে ডাকো,
অন্ধকারে আলো হয়ে
আমাদের সাথে থাকো।

যদি তিনি একক উপাস্য,
তবে কেন অন্য ভয়?
তাঁরই দিকে ফিরুক হৃদয়,
তাঁরই পথে পরিচয়।

তাঁকেই ভালোবাসতে হবে,
তাঁকেই করতে মান,
তাঁরই বিধান মেনে চলাই
মুমিনের সম্মান।

তাঁরই কাছে চাইতে হবে,
তাঁরই উপর ভরসা,
তাঁরই স্মরণে জীবনের সব
ঝড় পায় নতুন আশা।

ক্ষমতা, ধন আর সম্মান
ক্ষণস্থায়ী সবই,
আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া
স্থায়ী নয় কিছুই।

একদিন থেমে যাবে জীবন,
নিভে যাবে দিনের আলো,
রয়ে যাবে শুধু আমল,
রয়ে যাবে সত্য ভালো।

সেদিন যখন রবের ডাকে
ফিরবে মানবজাতি,
সফল হবে সেই জন,
যার ছিল ঈমান সাথি।

যে চিনেছে তাঁর রবকে,
ভালোবেসেছে প্রাণভরে,
যে ডেকেছে সুন্দর নামসমূহ
অশ্রুসজল অন্তরে।

হে আল্লাহ!
তুমি ছাড়া সত্য কোনো
উপাস্য নেই আর,
সুন্দর নামসমূহ তোমারই,
তুমি মহান অপরিসীম দয়ার।

কুরআনের আলোয় আলোকিত কর
আমাদের প্রতিটি ক্ষণ,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক
জীবনের চূড়ান্ত অর্জন।

তোমার রহমতের ছায়াতলে
শেষ হোক জীবনের পথ,
আরশের অধিপতি মহান রব,
তোমারই দিকে চূড়ান্ত গন্তব্য।

***

নাম শুধু কোনো পরিচয় নয়,
নয় কেবল সম্বোধন,
নামের মাঝে লুকিয়ে থাকে
স্বভাব, গৌরব, জীবন।

মানুষের নাম সীমিত গুণের,
সীমিত তার পরিচয়,
কালের স্রোতে মুছে যায় কত,
হারিয়ে ফেলে আশ্রয়।

কিন্তু রবের প্রতিটি নাম
অনন্ত গুণের ভাণ্ডার,
যত ভাবি ততই দেখি
অপার মহিমা তাঁর।

তিনি রহমানকরুণাধারা,
সৃষ্টি যাঁর দয়ার ছায়ায়,
তিনি রহীমবিশেষ অনুগ্রহ
মুমিন হৃদয় পায়।

তিনি আলীমসবকিছুর জ্ঞাতা,
অদৃশ্য-দৃশ্য সমান,
তিনি খবীরঅন্তর্যামী,
জানেন হৃদয়ের গান।

তিনি সামী‘—সব শোনেন,
কাঁদা কিংবা হাসির সুর,
তিনি বাসীরসবই দেখেন,
অন্ধকারেও তাঁর নূর।

তিনি হাকীমপ্রজ্ঞার আধার,
ভুল নেই তাঁর কোনো কাজে,
তিনি লতীফসূক্ষ্ম রহস্য
সযত্নে রাখেন সাজে।

সমুদ্র বলেতিনি মহান,
তাঁরই আদেশে জোয়ার,
পর্বত বলেতিনি মহান,
তাঁরই কুদরতে স্থির আমার।

সূর্য বলেআমি জ্বলি
তাঁরই দেওয়া আলোয়,
চন্দ্র বলেআমি ভাসি
তাঁরই নির্ধারিত কালোয়।

পাখি বলেআকাশ জুড়ে
তাঁরই মহিমা গাই,
বনানী বলেতাঁর রহমতে
সবুজ হয়ে যাই।

শিশিরবিন্দু ভোরের বুকে
তাঁরই প্রশংসা করে,
নদীর স্রোতও যিকির গায়
অবিরাম অন্তরে।

বাতাস বয় তাঁর নির্দেশে,
মেঘ ভেসে চলে দূর,
বজ্রের গর্জন ঘোষণা করে
মহান তিনি, মহা-নূর।

মানুষ যখন একাকী বসে
রাত্রির গভীর ক্ষণে,
অজানা কত প্রশ্ন জাগে
নিভৃত হৃদয়-কোণে।

কে শুনছে তার দীর্ঘশ্বাস?
কে জানে তার ব্যথা?
কে বোঝে তার নিঃশব্দ কান্না,
অকথিত মনের কথা?

সেই মহান রব জানেন সব,
জানেন মনের ভাষা,
অশ্রুবিন্দুর প্রতিটি কণা,
প্রতিটি গোপন আশা।

মানুষ যেখানে থেমে যায়,
তাঁর জ্ঞান সেখানেও,
মানুষ যেখানে হারিয়ে ফেলে,
তিনি আছেন সেখানেও।

কুরআন এলো মরুপ্রাণে
বসন্তের সুবাস হয়ে,
অন্ধকারের বন্দী মানুষ
মুক্তির আশ্বাস পেয়ে।

এলো সে জ্ঞান, এলো সে নূর,
এলো চিরসত্য বাণী,
এলো সে মানুষকে শেখাতে
রবের পথে চলার টানি।

কিতাবের প্রতিটি আয়াত
করুণার উন্মুক্ত দ্বার,
যে গ্রহণ করে সত্য হৃদয়ে,
সফল হয় সে বারবার।

কিতাবের আলো পেলে
বদলে যায় জীবন,
মুছে যায় অজ্ঞতার আঁধার,
জাগে ঈমানের স্পন্দন।

রহমান নামে ডাকি তাঁকে,
রহীম নামে চাই,
গফ্ফার নামে ক্ষমা ভিক্ষা,
তাওয়াব নামে যাই।

রাযযাক নামে রিজিক চাই,
শাকুর নামে কৃতজ্ঞতা,
হাদী নামে হেদায়েত চাই,
ওয়ালী নামে নৈকট্য।

নূর নামে আলোক চাই,
সালাম নামে শান্তি,
ওয়াদুদ নামে ভালোবাসা,
দূর হোক সব ক্লান্তি।

জব্বার নামে শক্তি চাই,
লতীফ নামে মমতা,
হাকীম নামে প্রজ্ঞা চাই,
বাড়ুক সৎ কর্মতা।

প্রতিটি নাম জান্নাতপথের
এক একটি আলোকধারা,
যে নামগুলো হৃদয়ে জাগে
সফল হয় জীবনসারা।

ধন নয় শেষ সফলতা,
ক্ষমতা নয় জয়,
রবের সন্তুষ্টি লাভের চেয়ে
মহান কিছু নয়।

রাজমুকুট মাটিতে মিশে,
প্রাসাদ হয় ধূলি,
অহংকারের অট্টালিকা
একদিন যায় ভুলি।

কিন্তু যে হৃদয় রবের প্রেমে
নম্র হয়ে যায়,
সে হৃদয়ের আলো কভু
নিভে যেতে না চায়।

যে মানুষটি আল্লাহকে
জীবনের সাথী করে,
সে মানুষটি সুখ খুঁজে পায়
ঝড়ের মাঝের তীরে।

হে আরশের মহান অধিপতি,
হে রহমান, হে রহীম,
আমাদের অন্তর করো
ঈমানের আলোয় সুশোভিত মহান সুমহীম।

তোমার সুন্দর নামগুলোর
মর্ম যেন বুঝতে পারি,
সেই নাম ধরে তোমার কাছে
ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়াই।

কুরআন হোক হৃদয়ের বসন্ত,
বক্ষের উজ্জ্বল নূর,
দুঃখ-চিন্তা দূর হোক সব,
মুছে যাক অন্তর-সুর।

তোমাকেই যেন ভয় করি,
তোমাকেই ভালোবাসি,
তোমারই পথে জীবন গড়ে
তোমারই সন্তুষ্টি হাসি।

যেদিন শেষ হবে পৃথিবীর পথ,
থামবে জীবনের গতি,
সেদিন যেন শুনতে পাই
এসো, পেয়েছ আমার সন্তুষ্টি।

সুন্দর নামসমূহ তোমারই,
মহিমা তোমার অসীম,
তুমি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই
হে রহমান, হে রহীম।

***

সুন্দর নামসমূহ তাঁরই

যখন মানুষ ক্লান্ত হয়ে
ফিরে আসে জীবনের পথে,
যখন স্বপ্ন ভেঙে যায়
অপ্রাপ্তির নিঃশব্দ ক্ষতে,

যখন আপনজনের ভিড়েও
নিঃসঙ্গ লাগে অন্তর,
যখন দুঃখের কালো মেঘে
ঢেকে যায় আশা-অম্বর,

তখন একটি নামই যথেষ্ট,
একটি স্মরণ, একটি ডাক,
হে আল্লাহ!” বললেই যেন
জেগে ওঠে আশার ফাঁক।

তিনি রহমানকরুণাধারা,
তিনি রহীমপ্রেম,
তিনি ছাড়া আর কোথাও নেই
শান্তির চিরন্তন ক্ষেম।

যে হৃদয় তাঁর নাম স্মরণে
ভিজিয়ে রাখে প্রাণ,
সে হৃদয়ে নেমে আসে
সন্তুষ্টির অবিরাম গান।

আল্লাহর নাম শুধু উচ্চারণ নয়,
নয় কেবল জিহ্বার ধ্বনি,
নামের ভেতর লুকিয়ে থাকে
জীবন গড়ার বাণী।

তিনি ন্যায়পরায়ণশেখান ন্যায়,
তিনি দয়াময়শেখান দয়া,
তিনি ক্ষমাশীলশেখান ক্ষমা,
শেখান ভালোবাসা ছড়ানো মায়া।

তিনি সত্যশেখান সততা,
তিনি ধৈর্যশীলসবর,
তিনি প্রজ্ঞাময়শেখান মানুষকে
চিন্তার সঠিক ডোর।

যে ব্যক্তি নামের অর্থ নিয়ে
জীবন গড়তে চায়,
তার চরিত্র সুবাস ছড়ায়,
সমাজ আলোকিত হয়।

যখন মানুষ ভুলে যায়
স্রষ্টার মহিমান্বিত নাম,
তখন পৃথিবী হারিয়ে ফেলে
নৈতিকতার আসল দাম।

অন্যায় বাড়ে, অত্যাচার বাড়ে,
বাড়ে বিভেদের দেয়াল,
লোভের আগুন গ্রাস করতে চায়
মানবতার সব জ্যোতিজাল।

কিন্তু যখন মানুষ আবার
রবের দিকে ফিরে চায়,
তাঁর সুন্দর নামের শিক্ষা
সমাজজুড়ে আলো ছড়ায়।

দয়া আসে, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়,
প্রেমের সেতু গড়ে,
মানুষ মানুষকে আপন ভাবে,
কল্যাণের পথে পড়ে।

একদিন এই পৃথিবীর সব
শেষ হয়ে যাবে নিশ্চয়,
মুছে যাবে ক্ষমতার অহংকার,
ধনসম্পদের পরিচয়।

সেদিন থাকবে না কোনো বন্ধু,
থাকবে না কোনো বাহন,
থাকবে শুধু ঈমান-আমল,
আর রবের মহান বিচারক্ষণ।

যে ব্যক্তি দুনিয়াজুড়ে
তাঁর নাম করেছে স্মরণ,
যে হৃদয়ে ছিল তাওহীদের আলো,
যে করেছে সত্য গ্রহণ,

সে শুনবে রহমতের ডাক
ভয় কোরো না আজ,
আমার কৃপা তোমার সাথী,
তোমার জন্য জান্নাত সাজ।

হে আল্লাহ,
সুন্দর নামসমূহ তোমারই,
মহিমা তোমার অসীম;
তুমি আদি, তুমি অন্ত,
তুমি রহমান, তুমি রহীম।

আমাদের হৃদয়কে করো
তোমার স্মরণে সজীব,
আমাদের জীবনকে করো
তোমার আনুগত্যে নতশির।

কুরআনকে করো অন্তরের বসন্ত,
চক্ষুর প্রশান্তি, প্রাণের নূর,
দুঃখের অন্ধকার দূর করে দাও,
খুলে দাও হেদায়েতের সুর।

তোমার নামের আলোয় যেন
গড়ে ওঠে আমাদের জীবন,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের সকল সাধনার অর্জন।

যেদিন শেষ হবে দুনিয়ার সফর,
নিভে যাবে সময়ের প্রদীপ,
সেদিন তোমার রহমতের ছায়ায়
পাই যেন জান্নাতের নিকট সান্নিধ্য।

সুন্দর নামসমূহ তোমারই
তুমি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।
তোমারই দিকে শুরু,
তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন,
তোমারই দিকে চিরন্তন গন্তব্য।

আমীন।

মন্তব্য করুন