Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ জুন, ২০২৬ ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বাধা ডিঙিয়ে বিজয়ের পথে - মোঃ মুজিবুর রহমান


বাধা ডিঙিয়ে বিজয়ের পথে

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

সম্মুখপানে ধাবিত হলে
বাধা আসবেই পথে,
ঝড় উঠবে, মেঘ নামবে,
অন্ধকার ঘিরবে রথে।

এটাই জীবনের নিয়ম চিরন্তন,
এটাই সৃষ্টির রীতি,
সংগ্রাম ছাড়া ফুটে না কখনো
সফলতার অমল প্রীতি।

যে নদী সাগরের সন্ধানে
ছুটে চলে অবিরাম,
পাথর পেলে থেমে যায় না,
রচে নিজেরই নতুন ধাম।

যে পাখি ছুঁতে চায় আকাশ,
ডানা মেলে বহুদূর,
বাতাস তাকে বাধা দিলেও
ছাড়ে না সে স্বপ্ন-সুর।

তেমনি মানুষ, লক্ষ্য যার,
যার হৃদয়ে জয়ের গান,
বাধার কাছে মাথা নত নয়,
সামনে চলাই তার প্রাণ।

বাধা আসে নানা রূপে,
নানা নামে, নানা বেশে,
কখনো দুঃখ, কখনো ব্যর্থতা,
কখনো হতাশার দেশে।

কখনো আসে দারিদ্র্যের ছায়া,
কখনো আসে অভাব,
কখনো আসে আপনজনের
অবহেলার কঠিন জবাব।

কখনো নিন্দা, কখনো তিরস্কার,
কখনো অপমানের বাণ,
কখনো সন্দেহ ঘিরে ধরে
স্বপ্নময় হৃদয়খান।

কখনো নিজের ভেতরেই জাগে
ভয় আর দুর্বলতা,
কখনো অলসতা এসে করে
শক্তির অবমূল্যায়নটা।

তবু এসবই পথের অংশ,
এসবই যাত্রার সাথী,
এসব ছাড়া পূর্ণ হয় না
মানবজীবনের গাঁথি।

সংগ্রাম ছাড়া মানুষ কখনো
মহান হতে পারে না,
ঝড় না এলে বৃক্ষের শিকড়
গভীরে যেতে জানে না।

অগ্নিপরীক্ষা ছাড়া সোনা
খাঁটি রূপে জ্বলে না,
কঠিন আঘাত ছাড়া পাথর
ভাস্কর্যে রূপ মেলে না।

বীজকে আগে মাটির নিচে
অন্ধকারে থাকতে হয়,
তবেই পরে সূর্যের আলোয়
সবুজ অঙ্কুর মাথা তোলে।

শুঁয়োপোকা দীর্ঘ সাধনায়
গড়ে তোলে আপন ঘর,
তারপর একদিন ডানা মেলে
প্রজাপতি হয় সুন্দর।

প্রকৃতির এই প্রতিটি দৃশ্য
একই শিক্ষা দেয়,
সংগ্রামেরই সোপান বেয়ে
সফলতা ধরা দেয়।

যারা থামে না প্রতিকূলে,
যারা হার মানে না,
হাজার ব্যর্থতার মাঝেও
নতুন স্বপ্ন বুনে যায় তারা।

পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়ায়,
মুছে ফেলে চোখের জল,
পরাজয়কে শিক্ষা বানিয়ে
চলে অবিচল।

তাদের কাছে ব্যর্থতা শুধু
সফলতার প্রস্তুতি,
তাদের কাছে কষ্ট মানে
নতুন শক্তির সৃষ্টি।

তারা জানে, রাতের পরে
প্রভাত আসবেই একদিন,
দীর্ঘ খরার শেষে আবার
নামবে বর্ষার রিনিঝিনি।

তাই তারা পথ চলে নির্ভয়ে,
বিশ্বাস রাখে প্রাণে,
যে এগোয় সে- পৌঁছায় শেষে
কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যখানে।

হে পথিক, ভয় পেও না,
যদি সামনে দেয়াল ওঠে,
দৃঢ় সংকল্পের হাতুড়ি নিয়ে
আঘাত করো শত আঘাতে।

যদি আসে ঝড়ের তাণ্ডব,
স্থির থেকো পর্বতের মতো,
যদি নামে আঁধার ঘন,
জ্বালো আশার প্রদীপ যত।

যদি সবাই বলে—“পারবে না,
মনে রেখো নীরব বাণী,
অসাধ্যকে সাধ্য করেছে
মানুষের অদম্য প্রাণই।

নিজেকে কখনো ছোট ভেবো না,
হতাশ হয়ো না কভু,
অন্তরে লুকিয়ে আছে তোমার
অসীম সম্ভাবনার প্রভু।

সফলতার কোনো শর্টকাট নেই,
নেই অলসতার স্থান,
ঘামের ফোঁটায় লেখা থাকে
বিজয়ের মহাগান।

যে কৃষক মাঠে পরিশ্রম করে,
সে- তো ফসল পায়,
যে মাঝি বৈঠা চালিয়ে চলে,
সে- তীরে পৌঁছায়।

যে ছাত্র জ্ঞানের সাধনায়
অবিরাম থাকে রত,
সাফল্যের মুকুট পরে
একদিন হয় গৌরবমত।

যে শ্রমিক ঘামে ভেজায়
দিনের প্রতিটি ক্ষণ,
তার হাতেই গড়ে ওঠে
সভ্যতার অট্টালিকাগণ।

কর্মই মানুষকে করে মহান,
কর্মই গৌরব আনে,
কর্মবিমুখ জীবন কভু
সাফল্য পায় না প্রাণে।

আশা হলো সেই প্রদীপ
যা নিভে যেতে দেয় না,
ঝড়-বাদলের মাঝখানেও
পথ হারাতে দেয় না।

আশা বলে—“চলো সামনে,
থেমো না কোনো কালে,
আশা বলে—“আলো আছে
দূরের কোনো ডালে।

যে মানুষ আশাকে আঁকড়ে ধরে,
সে কখনো একা নয়,
তার অন্তরে জেগে থাকে
অজেয় বিজয়ের পরিচয়।

একদিন সব বাধা পেরিয়ে
আসবে সোনালি ভোর,
দীর্ঘ রাতের অবসান হবে,
মুছে যাবে অন্ধকার ঘোর।

যে চোখ একদিন কেঁদেছিল,
সেই চোখ হাসবে সুখে,
যে হৃদয় ছিল ক্ষত-বিক্ষত,
ফুল ফুটবে তার বুকে।

যে পথ ছিল কণ্টকময়,
সেই পথে ফুটবে ফুল,
যে জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা,
হবে সার্থক, হবে কূল।

তখন মানুষ ফিরে দেখে
অতীত দিনের ক্ষত,
বুঝতে পারেসেই বাধাই ছিল
সফলতার সেতুপথ।

তাই হে মানুষ, সামনে চলো,
থেমো না কোনোদিন,
বাধা এলে সাহস নিয়ে
করো তাকে অতিক্রমণ।

প্রতিকূলতা আসবেই পথে,
এটাই জীবনের রীতি,
তাকে ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়াই
মানবজয়ের নীতি।

ঝড়ের বুকে, ঢেউয়ের মাঝে,
রাখো অবিচল মন,
অন্ধকারের অন্তরালেই
লুকিয়ে থাকে সুবর্ণ ভোরের ক্ষণ।

যে এগোয়, সে- পৌঁছায়,
যে লড়ে, সে- পায় জয়,
যে হার মানে না প্রতিকূলে,
তারই হাতে বিজয়ময় ভবিষ্যৎ রয়।

চলো তবে দৃপ্ত পদে,
স্বপ্নকে করি সঙ্গী,
বাধা ডিঙিয়ে, ভয়কে জয় করে,
গড়ি সাফল্যের রঙিন ভুবন অঙ্গী।

কারণ ইতিহাস যুগে যুগে
একটি কথাই কয়
বাধাকে যারা সোপান বানায়,
বিজয় তাদেরই হয়।

***

অদম্য অভিযাত্রা

যে চলেছে সম্মুখপানে,
সে কি পাবে ফুলের পথ?
তারই তরে ঝড়ের গর্জন,
তারই তরে কণ্টকরথ।

যে চায় ছুঁতে দিগন্তরেখা,
মেঘের গায়ে আঁকতে নাম,
তাকেই আগে পেরোতে হয়
সন্দেহ-ঘেরা অন্ধধাম।

যে চায় জাগাতে নতুন ভোর,
রাত্রির সাথে তারই যুদ্ধ,
যে চায় গড়িতে মহৎ ইতিহাস,
তাকেই হতে হয় দৃঢ়।

প্রকৃতির এই অনন্ত বিধান,
যুগে যুগে এক সত্য বাণী
বাধা ছাড়া বিজয় আসে না,
সংগ্রাম ছাড়া মেলে না জয়ধ্বনি।

বাধা আসে না শত্রু হয়ে,
আসে শিক্ষার দূত,
বাধা আসে শক্তি জাগাতে,
আসে খুলিতে ভবিষ্যৎসূত।

পাহাড় বলে—“থামো পথিক!
নদী বলে—“ফিরে যাও,
ঝঞ্ঝা বলে—“পারবে না তুমি!
ঢেউ বলে—“ডুবে যাও

কিন্তু যারা অন্তরে ধারণ করে
অদম্য সাহসের দীপ,
তারা শুনে না ভয়ের ভাষা,
তারা দেখে আশার নীড়।

প্রতিকূলতা যতই আসুক,
ততই জাগে নব শক্তি,
অগ্নিশিখায় দগ্ধ হয়েই
স্বর্ণ পায় তার প্রকৃত মুক্তি।

নদী কি থেমেছে পাথর পেয়ে?
থেমেছে কি সাগরধারা?
সহস্র বাধা ভেঙে গড়েছে
নিজের চলার পথ সারা।

সূর্য কি থামে মেঘের ভয়ে?
চাঁদ কি হারায় আলো?
নক্ষত্র কি আঁধার দেখে
ফিরে যায় নিরাশ ভালো?

বৃক্ষ দাঁড়ায় ঝড়ের মাঝে,
শিকড় গাঁথে গভীরতায়,
প্রবল বাতাস যতই আসে,
ততই সে দৃঢ়তায়।

বীজটি আগে মাটির তলে
অন্ধকারে থাকে লীন,
তারপর একদিন মহিমায় জাগে
সবুজ শস্যক্ষেত্র বিলীন।

প্রকৃতি যেন প্রতিক্ষণে
শিক্ষা দিয়ে যায়,
বাধাকে জয় করেই মানুষ
মহৎ গন্তব্য পায়।

বাহিরের শত্রু যত না ভয়ংকর,
অন্তরের শত্রু তার চেয়ে বড়,
সন্দেহ, ভয়, হতাশা, অলসতা
স্বপ্নকে করে জড়।

কত মানুষ পথ হারিয়েছে
নিজের ভয়ের কাছে,
কত প্রতিভা নিভে গেছে
নৈরাশ্যের কালো আঁচে।

তাই আগে জয় করতে হবে
নিজ হৃদয়ের দুর্বলতা,
নিজেকে জাগাও, নিজেকে গড়ো,
নিজেই হও শক্তিমতা।

যে নিজের সাথে জয়ী হয়,
পৃথিবী তার কাছে ক্ষুদ্র,
তার পদচারণায় কেঁপে ওঠে
ব্যর্থতার সব পাষাণ প্রাচীর।

স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থাকে
যদি না থাকে কর্ম,
পরিশ্রমের ঘামেই রচিত
সাফল্যের মহাধর্ম।

যে কৃষক রৌদ্রে পুড়ে
ফসল ফলায় ক্ষেতে,
তারই ঘামে হাসে শস্য
সোনালি রঙের মেতে।

যে মাঝি বৈঠা চালায়
প্রলয়-জাগা নদীর বুকে,
সে- একদিন পৌঁছে যায়
নিরাপদ তীরের সুখে।

যে ছাত্র রাত জাগিয়া
জ্ঞানালোকের সন্ধান করে,
সে- একদিন আলোকবর্তিকা
হয়ে সমাজের তরে।

শ্রম, সাধনা, অধ্যবসায়
বিজয়ের তিন স্তম্ভ,
এই তিন শক্তির সামনে
ব্যর্থতা হয় নতশির নম্র।

ইতিহাস খুলে দেখো একবার,
যাদের নামে যুগের গান,
তারা কি পেয়েছিল সহজে
সম্মান, সফলতা, জয়ধ্বনিমান?

না, তাদের পথেও ছিল
অসংখ্য দুঃখের ঢেউ,
অগণিত ব্যর্থতার কাঁটা,
অশ্রুর গোপন ঢেউ।

কিন্তু তারা থামেনি কখনো,
হয়নি হতাশ, নত,
বাধাকে করেছে সোপান,
তাই হয়েছে মহীয়ান যত।

আজও পৃথিবী শ্রদ্ধাভরে
স্মরণ করে তাদের নাম,
কারণ তারা শিখিয়েছে
সংগ্রামেই লুকায় মহাকাম।

অবশেষে আসে সেই ক্ষণ,
যখন রাত ফুরায়,
দীর্ঘ অন্ধকারের পরে
সোনার প্রভাত জাগায়।

যে কেঁদেছিল একদিন,
সে- হাসে আনন্দে,
যে হেরেছিল শতবার,
সে- জয়ী মহাসম্মানে।

যে পথ ছিল কণ্টকময়,
আজ সে ফুলে ভরা,
যে জীবন ছিল সংগ্রামের,
আজ সে গৌরবে সারা।

তখন বুঝে মানুষ
বাধা ছিল না অভিশাপ,
বাধাই ছিল সিঁড়ি,
যা পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের আলোকচূড়ায় অপরূপ প্রতাপ।

তাই হে মানুষ,
ঝড়কে ভয় করো না,
পাহাড় দেখে থেমে যেও না,
অন্ধকারে হারিয়ে যেও না।

সম্মুখে ধাবিত হলে
বাধা আসবেই বারবার,
প্রতিকূলতার প্রাচীর পেরিয়েই
খুলবে সাফল্যের দ্বার।

যে এগিয়ে চলে,
পৃথিবী তার পথ ছেড়ে দেয়;
যে লড়াই করে,
বিজয় তার হাত ধরে নেয়।

তাই দৃপ্ত পদে এগিয়ে চলো,
রাখো অবিচল বিশ্বাস,
বাধা ডিঙিয়ে, ভয়কে জয় করে
গড়ো মহিমান্বিত ইতিহাস।

যুগে যুগে, কালে কালে,
এক সত্যই অম্লান রয়
বাধাকে যারা জয়ের সোপান বানায়,
বিজয় চিরকাল তাদেরই হয়।

***

সম্মুখে যখন চলবে তুমি,
পথ কি হবে মসৃণ স্রোত?
কণ্টক, পাষাণ, ঘূর্ণি, তুফান
সবই হবে পথের জোট।

যে নাবিক চেনে না ঝঞ্ঝাকে,
সে কি পায় সাগরের মান?
যে সৈনিক দেখেনি সংগ্রাম,
কোথায় তার বিজয়গান?

ঢেউয়ের পরে ঢেউ আসিবে,
আসিবে শত প্রতিঘাত,
তবু যার হৃদয়ে জাগে
লক্ষ্যপানে দৃঢ় প্রভাত,

সে কি থামে? সে কি ফেরে?
সে কি ভেঙে পড়ে হায়?
বরং বাধার বক্ষ চিরিয়া
নতুন পথের দিশা পায়।

প্রতিকূলতা অগ্নিকুণ্ড,
সাহস তাহার জ্বলন্ত শিখা,
যে সেই আগুনে দগ্ধ হতে জানে,
তাহারই জীবনে জাগে দীক্ষা।

একদিনে কি বৃক্ষ বড় হয়?
একদিনে কি ফসল ফলে?
একদিনে কি সূর্য ওঠে
আকাশ ভরে সোনার জ্বলে?

প্রতিটি সৃষ্টির অন্তরালে
আছে দীর্ঘ সাধনার কাল,
বিন্দু বিন্দু জলেই গড়ে
বিশাল নদীর জয়জয়কার।

তাই যে মানুষ প্রতিদিন
অল্প অল্প করে এগোয়,
সময়ের বুকে সেই মানুষই
মহাসফলতার আলো বয়।

পড়ে গেলে আবার উঠো,
হারলে আবার শুরু করো,
ব্যর্থতার ধুলোমাখা পথেই
সাফল্যের বীজ রোপণ করো।

অধ্যবসায়ের রথের চাকা
ধীরে ধীরে ঘুরে যায়,
কিন্তু একদিন সেই রথই
বিজয়ের নগরে পৌঁছে যায়।

যখন একদিন লক্ষ্যপানে
পৌঁছাবে দৃপ্ত পদে,
তখন দেখবে সব কষ্টগুলো
ফুল হয়ে আছে পথে।

যে অশ্রু ঝরেছিল নিভৃতে,
হাসির মুক্তা হবে আজ,
যে ব্যথা ছিল হৃদয়জুড়ে,
সেই ব্যথাই গৌরবের সাজ।

যে রাত ছিল দীর্ঘ অন্ধকার,
সে রাতই ভোরের দিশা,
যে বাধা ছিল দুর্ভেদ্য প্রাচীর,
সে- হলো সাফল্যের সিঁড়ি।

তখন মানুষ বুঝতে শেখে
জীবনের গভীর বাণী
বাধা ছিল না শত্রু কোনো,
ছিল কল্যাণের অজানা খনি।

তাই হে অভিযাত্রী মানুষ,
সামনে চলো নির্ভীক প্রাণে,
বাধা যতই আসুক পথে,
থেমো না কোনো টানে।

প্রতিকূলতার প্রতিটি ঢেউ
করো শক্তির আহ্বান,
প্রতিটি ব্যর্থতার ভস্ম হতে
জ্বালো নতুন অভিযানের গান।

কারণ জগতের চিরন্তন সত্য
আকাশ, বাতাস, সাগর কয়,
বাধাকে যারা পদতলে রেখে
এগিয়ে চলে, বিজয় তাদেরই হয়।

বাধাকে যারা সোপান করে,
দুঃখকে করে শক্তি,
ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে
লেখা থাকে তাদেরই গাথা অমৃতি।

***

অজেয় মানুষের মহাগান

মানুষ জন্মে ক্ষুদ্র হয়ে,
স্বপ্নে হয় সে মহীয়ান,
সংকল্প তার ডানার শক্তি,
অধ্যবসায় তার সম্মান।

শৈশব হতে বার্ধক্য অবধি
জীবন এক অভিযাত্রা,
প্রতিটি দিন এক নতুন সংগ্রাম,
প্রতিটি ক্ষণ এক নতুন মাত্রা।

যে শিশু পড়ে গিয়ে উঠে,
সেই শেখে চলার রীতি,
যে যুবক ব্যর্থতাকে জয় করে,
সেই লেখে সাফল্যের গীতি।

যে বৃদ্ধ দীর্ঘ জীবনের শেষে
পেছন ফিরে দেখে পথ,
সে জানেসংগ্রামের প্রতিটি ক্ষণ
ছিল আশীর্বাদের রথ।

জীবনের মাঠে যারা নামে,
তাদের জন্য নিয়ম এক
বাধা আসবে, ঝড়ও আসবে,
তবু এগিয়ে যেতে হবে অবিরত।

কারণ থেমে থাকা মানে ক্ষয়,
পিছিয়ে পড়া মানে হার,
আর এগিয়ে চলা মানেই খুলে যায়
সম্ভাবনার অগণিত দ্বার।

নদী যেমন বহমান থাকে
পর্বত, পাথর, চর পেরিয়ে,
মানুষও তেমনি পৌঁছে যায়
প্রতিকূলতার দেয়াল ভেঙে।

দিগন্ত ডাকে, ভবিষ্যৎ ডাকে,
ডাকে অনাগত প্রভাত,
সাহসীরা সেই ডাকে সাড়া দেয়,
ভীরুরা হারায় পথের সাথে।

তাই হে মানুষ, জাগো আবার,
জাগাও অন্তরের শক্তি,
বাধাকে ভয় নয়, শিক্ষা ভাবো,
তাতেই নিহিত মুক্তি।

যে কাঁটার মাঝে ফুল খুঁজে পায়,
সে- সত্যিকার জয়ী,
যে অন্ধকারে আলো জ্বালায়,
সে- ভবিষ্যতের বিজয়ী।

সময়ের বুকে লেখা থাকবে
তারই অমর পরিচয়
যে বাধাকে করেছে সোপান,
বিজয় হয়েছে তারই সঙ্গময়।

চলো তবে সামনে চলো,
আকাশ হোক পথের সাথি,
ঝড়কে করো শক্তির ভাষা,
দুঃখকে করো জয়ের গাঁথি।

প্রতিকূলতা যতই আসুক,
হতাশ হয়ো না কভু,
প্রতিটি পরীক্ষার অন্তরালে
লুকিয়ে থাকে কল্যাণ প্রভু।

পাহাড় পেরিয়ে, সাগর ডিঙিয়ে,
ঝঞ্ঝা ভেদ করে নির্ভয়,
লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলো
সাফল্য হবেই তোমার জয়।

যুগে যুগে, দেশে দেশে,
মানব ইতিহাস এক কথাই কয়

"সম্মুখে ধাবিত হলে বাধা আসবেই;
কিন্তু যে বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলে,
বিজয় শেষ পর্যন্ত তারই হয়।"

মন্তব্য করুন