প্রভাষক
২১ জুন, ২০২৬ ০৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
ঈসা নবী মরিয়মের পুত্র
“মাবুদ ইসা! আমি আমার জীবনে যা ভুল করেছি সেজন্য আমি দুঃখিত। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই। আমাকে আমার গুনাহ্ থেকে মুক্ত করার জন্য, সলীবে মৃত্যুবরণ করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ দেই। অনুগ্রহ করে আমার জীবনে এসো এবং আমাকে তোমার পাক-রূহু (পবিত্র আত্মা) দ্বারা পূর্ণ করো এবং চিরকাল আমার সাথে থাকো। প্রভু যীশু, তোমাকে ধন্যবাদ দেই, আমীন।”
এই মুনাজাতটি কি আপনার অন্তরের আকাঙ্ক্ষা?যদি হ্যাঁ হয়, তবে আমরা আপনাকে প্রার্থনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাই,আর ইসার প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী,তিনি আপনার জীবনে আসবেন।
আমি আপনাকে জানাতে চাই যে, হ্যাঁ, আমি এইমাত্র এই প্রার্থনাটি করেছি।
আপনি যদি কখনও বাপ্তিস্ম (তরিকাবন্দি) না নিয়ে থাকেন, তাহলে আমরা পরামর্শ দিই যে আপনি যেন কোনও ইমাম (পালক) বা ইসাহী জামাতের (খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর) সঙ্গে যোগাযোগ করেন যেন প্রভু ইসার নামে তরিকাবন্দি হতে পারেন। যেমনটি লেখা হয়েছে:
”মন ফিরাও এবং তোমরা প্রত্যেক জন তোমাদের গুনাহ্ মাফের জন্য ঈসা মসীহের নামে বাপ্তিস্ম নেও; তা হলে পাক-রূহ্রূপ দান পাবে।” (প্রেরিত ২: ৩৮ আয়াত)
পাক-রূহু (পবিত্র আত্মা)
যীশু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, যখন তিনি এই জগৎ ত্যাগ করবেন এবং তাঁর পিতার কাছে ফিরে যাবেন, তখন তিনি পাক-রূহু (পবিত্র আত্মা/ সত্যের আত্মা) পাঠাবেন, যিনি তাঁর বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন এবং যারা তাঁর উপর ঈমান আনবে তাদের হৃদয়ে বাস করবেন:
“যাঁকে আমি পিতার কাছ থেকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব, সত্যের সেই রূহ্, যিনি পিতার কাছ থেকে বের হয়ে আসেন — যখন সেই সহায় আসবেন — তিনিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।” (ইউহোন্না ১৫: ২৬-২৭ আয়াত)
ইসার বেহেস্তে (স্বর্গে) আরোহণের দশ দিন পর, পঞ্চশপ্তমীর দিনে পাক-রূহু এসেছিলেন:
“পরে পঞ্চাশত্তমীর দিন উপস্থিত হলে তাঁরা সকলে এক স্থানে সমবেত হলেন। তখন হঠাৎ আসমান থেকে প্রচণ্ড বায়ুর বেগের শব্দের মত একটা আওয়াজ আসল এবং যে গৃহে তাঁরা বসেছিলেন, সেই আওয়াজে গৃহটি পূর্ণ হয়ে গেল। এমন সময়ে তাঁরা দেখতে পেলেন আগুনের জিহ্বার মত অনেক জিহ্বা অংশ অংশ হয়ে পড়ছে এবং সেই জিহ্বাগুলো এসে তাঁদের প্রত্যেক জনের উপরে বসলো। তাতে তাঁরা সকলে পাক-রূহে পরিপূর্ণ হলেন এবং রূহ্ তাঁদেরকে যেরকম কথা বলার শক্তি দান করলেন, সেই অনুসারে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে লাগলেন।” (প্রেরিত ২: ১-৪ আয়াত)
ইসা তাঁর সাহাবীদের শেষ যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হল, প্রচার-কার্য:
“বেহেশতে ও দুনিয়াতে সমস্ত কর্তৃত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতিকে সাহাবী কর; পিতার ও পুত্রের ও পাক-রূহের নামে তাদেরকে বাপ্তিস্ম দাও; আমি তোমাদেরকে যা যা হুকুম করেছি, সেসব পালন করতে তাদেরকে শিক্ষা দাও। আর দেখ, আমিই যুগের শেষ সময় পর্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।” (মথি ২৮: ১৮-২০ আয়াত)
"অন্বেষণ কর, পাইবে।"
ইসা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, আপনি যদি তাঁকে অন্বেষন করেন, তাঁর কাছে যাচ্ঞা করেন এবং তাঁর বাক্য পড়েন, তবেই আপনি তাঁকে খুঁজে পাবেন:
“যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে। কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে; এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে আঘাত করে , তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে।” (মথি ৭:৭-৮ আয়াত)
“আমি দুনিয়ার নূর (জ্যোতি); যে আমাকে অনুসরণ করে, সে কোন মতে অন্ধকারে চলবে না, কিন্তু জীবনের নূর পাবে।” (ইউহোন্না ৮:১২ আয়াত)
“আর ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আমাকে নিয়ে মনে কোন বাধা না পায়।” (লূক ৭:২৩ আয়াত)
ইসার নিম্নলিখিত বাক্যগুলি সুসমাচারের সংক্ষিপ্তসার। যেটিকে বলা হয় “ক্ষুদ্র বাইবেল” :
“কারণ আল্লাহ্ দুনিয়াকে এমন মহব্বত করলেন যে, তাঁর এক জাত পুত্রকে দান করলেন, যেন যে কেউ তাঁতে ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” (ইউহোন্না ৩:১৬ আয়াত)
ইসা মসীহ’কে যখন সলীববিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন তাঁর সঙ্গে দু’জন অপরাধীকেও সলীববিদ্ধ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন বলেছিলেন: “তুমি নাকি সেই মসীহ্? নিজেকে ও আমাদেরকে রক্ষা কর। কিন্তু অন্য জন উত্তর দিয়ে তাকে অনুযোগ করে বললো, তুমি কি আল্লাহ্কেও ভয় কর না? আমরা তো একই দণ্ড পাচ্ছি। আর আমরা ন্যায়সঙ্গত দণ্ড পাচ্ছি; কারণ যা যা করেছি, তারই সমুচিত ফল পাচ্ছি; কিন্তু ইনি কোন অপকর্ম করেন নি। পরে সে বললো, ঈসা আপনি যখন আপন রাজ্যে ফিরে আসবেন তখন আমাকে স্মরণ করবেন। তিনি তাকে বললেন, আমি তোমাকে সত্যি বলছি, আজই তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হবে।“ (লূক ২৩:৩৯-৪৩ আয়াত)
৪
৪ মন্তব্য