সহকারী অধ্যাপক
২১ জুন, ২০২৬ ০৩:১৪ অপরাহ্ণ
ছোট-বড়: সম্প্রীতির সেতুবন্ধন - মোঃ মুজিবুর রহমান
ছোট-বড়: সম্প্রীতির সেতুবন্ধন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ছোট আর বড়—দুই নয় ভিন্ন,
একই মালার দুটি ফুল,
একই নদীর দুইটি তীর,
একই আকাশ, একই কূল।
বয়সে কেউ অগ্রগামী,
কেউ বা নবীন প্রাণ,
তবু সবার মাঝে প্রবাহিত
একই মানবতার গান।
বড় দেয় ছায়া, পথের দিশা,
ছোট আনে নব আলোর ঢেউ,
দুজন মিলে গড়ে তোলে
সুন্দর আগামী দিনের নৌ।
যেখানে থাকে স্নেহের পরশ,
শ্রদ্ধার নির্মল বাতাস,
সেখানে ফুটে সুখের কুসুম,
দূরে সরে যায় সর্বনাশ।
শ্রদ্ধা হলো মহৎ গুণ,
মানবতার শ্রেষ্ঠ রূপ,
শ্রদ্ধা ছাড়া ভেঙে যায়
সম্পর্কের সোনার কূপ।
ছোট যখন বড়দের দেখে
বিনয়ভরা কোমল চোখে,
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ধারা
নেমে আসে হৃদয়লোকে।
যারা হেঁটেছে বহু পথ,
দেখেছে জীবনের রূপ,
তাদের কাছে লুকিয়ে থাকে
অসংখ্য অভিজ্ঞতার ধূপ।
তাদের কথা শুনলে মানুষ
শিখতে পারে চলার রীতি,
জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার
সুন্দর সুন্দর কৌশলনীতি।
শ্রদ্ধা শুধু মাথা নোয়ানো নয়,
শ্রদ্ধা হলো হৃদয়ের আলো,
যেখানে থাকে শ্রদ্ধার বীজ,
সেখানে সম্পর্ক থাকে ভালো।
বড়রা যদি স্নেহ বিলায়,
ছোটরা পায় সাহস নতুন,
শুকনো ডালে যেমন আবার
ফুটে ওঠে বসন্ত-ফাগুন।
একটি মধুর কথার মাঝে
কত যে শক্তি লুকিয়ে রয়,
একটু স্নেহ, একটু আদর
হৃদয়ের অন্ধকার ক্ষয়।
ছোটদের ভুল হলে তাদের
সঠিক পথে ডাকতে হয়,
কঠোরতার দেয়াল তুলে
ভালোবাসা হারানো নয়।
মায়ার ডোরে বাঁধা মানুষ
অন্যায়ের পথে যায় না সহজে,
স্নেহের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠে
আদর্শ মানুষ সমাজমাঝে।
যে ঘরে থাকে ভালোবাসা,
যে ঘরে থাকে মমতার বাণী,
সে ঘর যেন ফুলের বাগান,
সে ঘর সুখের রাজধানী।
মায়া-মমতা দুর্বলতা নয়,
এ এক মহান শক্তির নাম,
যার পরশে কঠিন হৃদয়
পায় মানবতার অবিরাম ধাম।
মানুষ যখন মানুষের জন্য
খুলে দেয় হৃদয়ের দ্বার,
তখন পৃথিবী হয়ে ওঠে
স্বপ্নে গড়া সুন্দর সংসার।
কেউ বিপদে পড়লে যদি
দশজন এগিয়ে আসে,
দুঃখ তখন হার মানে
আশার দীপটি ভাসে।
মমতার ভাষা সবার চেনা,
নেই কোনো দেশ বা কাল,
এই ভাষাতেই গড়ে ওঠে
ভ্রাতৃত্বের অটুট জাল।
ধনী-গরিব, ছোট-বড়,
সব ভেদাভেদ মুছে যায়,
যেখানে মানুষ মানুষকে
মানুষ হিসেবেই চায়।
অভিনয়ের মুখোশ পরে
সম্পর্ক টেকে না দীর্ঘকাল,
সত্য হৃদয়ের আন্তরিকতা
আনে জীবনে সুখের জোয়ার।
স্বার্থ যখন কেন্দ্র হয়,
বন্ধন তখন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়,
আন্তরিকতার নির্মল আলো
সেই অন্ধকার দূরে লয়।
হাসিমুখে কথা বলা,
খোঁজখবর রাখা নিয়মিত,
মানুষকে মানুষ ভাবা—
এগুলোই মহৎ চরিত।
কত সম্পর্ক ভেঙে যায়
সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে,
আন্তরিকতা থাকলে তবে
মিলন ঘটে সহজ রীতিতে।
যেখানে হৃদয় খোলা থাকে,
থাকে না কোনো দেয়াল,
সেখানে জন্ম নেয় প্রতিদিন
সৌহার্দ্যের নতুন সকাল।
পরিবার হলো প্রথম বিদ্যালয়,
প্রথম শিক্ষা, প্রথম গান,
সেখানেই মানুষ শেখে
ভালোবাসার মহৎ জ্ঞান।
দাদা-দাদি, নানা-নানি,
মা-বাবা আর সন্তান,
সবার মাঝে সৌহার্দ্য থাকলে
আলোকিত হয় জীবনপ্রাণ।
ছোটরা শিখে বড়দের দেখে,
বড়রা রাখে স্নেহের হাত,
এই বন্ধনেই টিকে থাকে
সংসারের দিন ও রাত।
ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা,
বোনের প্রতি স্নেহ অমল,
এই সম্পর্কের শক্তিতেই
পরিবার থাকে অবিচল।
যেখানে সবাই সবার পাশে,
সুখ-দুঃখে ভাগ নেয় সমান,
সেই পরিবার হয়ে ওঠে
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্থান।
পরিবার থেকে সমাজ গড়ে,
সমাজ থেকে রাষ্ট্র,
সুসম্পর্কের ভিত না থাকলে
সবই হয় ভঙ্গুর অস্ত্র।
পড়শির প্রতি দায়িত্ববোধ,
বন্ধুর প্রতি সহমর্মিতা,
সমাজজীবনের প্রতিটি ধাপে
দরকার আন্তরিক মানবতা।
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো,
বিপদে বাড়ানো হাত,
এমন সমাজ গড়ে তোলে
নিরাপদ আগামী প্রভাত।
হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ যত
সরে যায় ধীরে ধীরে,
সৌহার্দ্যের দীপশিখা জ্বলে
মানবতার তীরে তীরে।
তখন সমাজ হয় উদ্যান,
মানুষ সেখানে ফুল,
সত্য, ন্যায় আর ভালোবাসা
হয়ে ওঠে জীবনের মূল।
রাষ্ট্র শুধু ইটের দেয়াল,
রাষ্ট্র শুধু মানচিত্র নয়,
রাষ্ট্র গড়ে মানুষের হৃদয়,
সততা ও কর্মময়।
যে দেশের মানুষ একতাবদ্ধ,
সহযোগিতায় থাকে রত,
সে দেশ এগিয়ে যায় দ্রুত,
হয় সম্মানে সমুন্নত।
ছোট-বড় সবার অবদান
রাষ্ট্রগঠনের মূল শক্তি,
কারও শ্রম, কারও প্রজ্ঞা,
কারও ত্যাগে আসে মুক্তি।
যেখানে থাকে পারস্পরিক
শ্রদ্ধা, স্নেহ আর বিশ্বাস,
সেখানে উন্নয়নের রথ
চলে নিরন্তর বারোমাস।
ঐক্যের শক্তি পাহাড় ভাঙে,
গড়ে নতুন ইতিহাস,
সেই শক্তিতেই জাগে দেশে
সমৃদ্ধির সুবাতাস।
এসো আমরা প্রতিজ্ঞা করি,
ভালোবাসব মানুষকে,
স্নেহের জল ঢালব সদা
শুষ্ক হৃদয়ের বনভূমিকে।
ছোটরা দেবে শ্রদ্ধার ফুল,
বড়রা দেবে স্নেহের ছায়া,
এভাবেই গড়ে উঠবে
মানবতার স্বর্গমায়া।
কেউ হবে না অবহেলিত,
কেউ হবে না একাকী,
সবার জন্য খুলে থাকবে
সহযোগিতার জানালাখানি।
হাতের সাথে হাত মিলিয়ে,
হৃদয়ের সাথে হৃদয়,
আমরা গড়ব এমন সমাজ
যেখানে শান্তির বিজয়।
ছোট আর বড় পাশাপাশি,
একই পথে চলুক সদা,
শ্রদ্ধা, স্নেহ, মায়া-মমতায়
ভরে উঠুক ধরাধামটা।
পরিবার হোক ভালোবাসার,
সমাজ হোক সহমর্মিতার,
রাষ্ট্র হোক ন্যায় ও কল্যাণের,
মানবতা হোক সবার।
যতদিন থাকবে পৃথিবীতে
মানুষ নামের এই পরিচয়,
ততদিন স্নেহ-শ্রদ্ধার বন্ধন
বয়ে আনবে সত্য বিজয়।
ছোট-বড়ের মিলনগাথা
শুনুক যুগে যুগে ধরা,
পারস্পরিক সহযোগিতায়
উজ্জ্বল হোক বিশ্বসারা।
স্নেহ হোক শক্তি,
শ্রদ্ধা হোক পথ,
মায়া-মমতা হোক পাথেয়,
মানবতা হোক রথ।
এই হোক আমাদের অঙ্গীকার,
এই হোক আগামী দিনের বাণী—
“মানুষ মানুষের জন্য,
ভালোবাসাই মানবজীবনের চিরন্তন জয়গান।” ।।
***
মানুষের এই রঙিন ভুবন,
কত বিচিত্র তার পরিচয়,
কেউ প্রবীণ অভিজ্ঞতায় দীপ্ত,
কেউ নবীন স্বপ্নে অক্ষয়।
কেউ দেখেছে জীবনের পথ
ঝড়-বাদলের শত ইতিহাস,
কেউ দাঁড়িয়েছে যাত্রাপথে
নিয়ে ভবিষ্যতের বিশ্বাস।
তবু সবার মাঝে রয়েছে
এক অবিচ্ছেদ্য সেতুবন্ধন,
স্নেহ, শ্রদ্ধা, মায়া, মমতা,
আন্তরিকতার অমল চন্দন।
ছোট আর বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নয়,
নয় কোনো বিভেদের দেয়াল,
একজন দেয় জ্ঞানের আলো,
অন্যজন আনে নতুন সকাল।
বড়রা যেন বটের ছায়া,
দীর্ঘদিনের অর্জিত জ্ঞান,
ছোটরা যেন নব কিশলয়,
আগামীর অফুরন্ত প্রাণ।
যখন তারা হাতে হাত রেখে
চলে এক লক্ষ্যপানে,
তখন গড়ে উন্নতির পথ
দেশ ও জাতির কল্যাণে।
শ্রদ্ধা হলো হৃদয়ের ভাষা,
ভদ্রতার নয় কেবল রীতি,
শ্রদ্ধা থাকে যার অন্তরে,
সুন্দর হয় তার জীবনগীতি।
যে শ্রদ্ধা করে গুরুজনকে,
শোনে অভিজ্ঞতার বাণী,
তার জীবনের প্রতিটি পথে
ফোটে সাফল্যের ফুলখানি।
প্রবীণদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
অমূল্য সম্পদের মতো,
যে তা গ্রহণ করতে শেখে
সে এগোয় অবিরত।
বৃক্ষ যেমন শিকড় ছাড়া
দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না,
শ্রদ্ধাহীন মানুষ কখনো
পূর্ণ মর্যাদা পায় না।
শ্রদ্ধা যেখানে বিরাজ করে,
সেখানে কলহ দূরে যায়,
সম্পর্কগুলো সোনার মতো
দীপ্তিময় হয়ে রয়।
স্নেহ হলো জীবনের মাঝে
স্বর্গীয় এক মধুর সুর,
যার পরশে কঠিন হৃদয়
হয়ে ওঠে কোমল নূর।
একটু স্নেহ, একটু আদর,
একটু মমতার আহ্বান,
বদলে দিতে পারে সহজে
একটি মানুষের জীবন।
শিশুর মুখে ফুটে ওঠে
আনন্দমাখা হাসির ফুল,
যখন সে পায় বড়দের কাছে
ভালোবাসার নির্মল কূল।
স্নেহ শুধু আদর নয়,
সঠিক পথে রাখার তাগিদ,
স্নেহ মানে ভুল শুধরে দিয়ে
গড়ে তোলা শুভ ভবিষ্যৎ।
যে সমাজে স্নেহের চর্চা,
সেখানে বিদ্বেষ কমে যায়,
মানুষ মানুষকে আপন ভেবে
সাহায্যের হাত বাড়ায়।
মায়া-মমতা মানুষের মাঝে
আল্লাহপ্রদত্ত এক উপহার,
এই গুণেই পৃথিবীজুড়ে
টিকে আছে মানবতার সংসার।
অসহায়ের কান্না শুনে
যে হৃদয় ব্যথিত হয়,
সেই হৃদয়ের মমতাতেই
মানবতার বিজয় রয়।
কেউ যখন পড়ে বিপদে,
আরেকজন ছুটে আসে,
সেই দৃশ্যেই পৃথিবী তখন
সৌন্দর্যের গান ভাসে।
মমতার কোনো জাত নেই,
নেই কোনো ভৌগোলিক সীমা,
মমতার ডাকে সাড়া দেয়
মানবতার মহিমা।
ধনী-গরিব, ছোট-বড়,
সব ব্যবধান মুছে যায়,
যখন মানুষ মানুষের পাশে
নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়।
সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি
অর্থ কিংবা ক্ষমতা নয়,
আন্তরিকতার নির্মল আলো
সত্যিকারের সুখময়।
মুখে হাসি, মনে বিদ্বেষ—
এতে সম্পর্ক বাঁচে না,
হৃদয়ের সত্য অনুভূতি
গোপন করে রাখা যায় না।
আন্তরিকতা এমন শক্তি
যা ভাঙা মন জোড়া দেয়,
অবিশ্বাসের অন্ধকারে
বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বলে রয়।
একটি খোঁজখবর নেওয়া,
একটি সান্ত্বনার বাণী,
অনেক সময় হয়ে ওঠে
দুঃখভোলা জীবনের টানি।
যেখানে থাকে আন্তরিকতা,
সেখানে থাকে শান্তি,
সেখানে থাকে সৌহার্দ্যের
অমল-ধবল কান্তি।
পরিবার হলো মানবজীবনের
প্রথম শিক্ষা, প্রথম গান,
প্রথম ভালোবাসার আশ্রয়,
প্রথম নৈতিক জ্ঞান।
মা-বাবার স্নেহের ছায়া,
দাদা-দাদির উপদেশ,
ভাই-বোনের ভালোবাসায়
সুখের বাগান হয় বিশেষ।
ছোটরা শেখে বড়দের দেখে,
বড়রা শেখায় চলার পথ,
এভাবেই গড়ে ওঠে
সুন্দর জীবনের রথ।
যেখানে থাকে পারস্পরিক
শ্রদ্ধা, স্নেহ, সহযোগিতা,
সেই পরিবারে জন্ম নেয়
সুখ, শান্তি ও সফলতা।
পরিবার যদি হয় সুদৃঢ়,
সমাজও হবে শক্তিশালী,
ভিত মজবুত থাকলে যেমন
অটল থাকে অট্টালিকা খানি।
একটি সমাজ তখনই মহান,
যখন মানুষ মানুষকে চেনে,
নিজের সুখের পাশাপাশি
অন্যের সুখও হৃদয়ে গেঁথে নেয়।
প্রতিবেশীর দুঃখে পাশে থাকা,
অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানো,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
ন্যায়ের পতাকা উড়ানো।
এসব গুণেই সমাজ গড়ে,
এসব গুণেই আসে জয়,
এসব গুণেই সভ্যতা পায়
শান্তি ও উন্নতির পরিচয়।
যে সমাজে হিংসা কমে,
ভালোবাসা বাড়ে প্রতিদিন,
সে সমাজ হয় ফুলের বাগান,
সুখের অনন্ত রঙিন।
রাষ্ট্র কোনো মানচিত্র নয়,
রাষ্ট্র কেবল ভূমি নয়,
রাষ্ট্র গড়ে মানুষের হৃদয়,
কর্ম, ত্যাগ আর পরিচয়।
একজন কৃষকের ঘামে,
একজন শ্রমিকের শ্রমে,
একজন শিক্ষকের জ্ঞানে,
একজন সৈনিকের শপথে।
একজন বিজ্ঞানীর চিন্তায়,
একজন চিকিৎসকের সেবায়,
রাষ্ট্র এগোয় সমৃদ্ধির পথে
ঐক্যের অমল প্রভায়।
যেখানে ছোট-বড় সবাই
নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে,
সেখানে উন্নয়নের সূর্য
দিগন্তজুড়ে আলো ঝরে।
সেখানে শান্তি আসে,
সেখানে নিরাপত্তা রয়,
সেখানে মানবকল্যাণের
সুবর্ণ ইতিহাস গড়ে হয়।
এসো আজ প্রতিজ্ঞা করি,
হৃদয় হবে নির্মল নদী,
স্নেহ হবে তার স্বচ্ছ জল,
শ্রদ্ধা হবে চিরসাথী।
মায়া হবে জীবনের ফুল,
মমতা হবে সুবাস,
আন্তরিকতা হবে আলোকধারা,
দূর করবে হতাশা।
ছোটরা দেবে সম্মান,
বড়রা দেবে স্নেহ,
সবাই মিলে গড়ব আমরা
সৌহার্দ্যের স্বর্ণগেহ।
পরিবার হবে শান্তির নীড়,
সমাজ হবে কল্যাণময়,
রাষ্ট্র হবে উন্নতির বাতিঘর,
মানবতা হবে অক্ষয়।
যতদিন সূর্য উঠবে পূর্বে,
যতদিন জ্বলবে চাঁদের আলো,
ততদিন ছোট-বড়ের বন্ধন
মানবসমাজে থাকবে ভালো।
স্নেহ হোক হৃদয়ের ভাষা,
শ্রদ্ধা হোক জীবনের পথ,
মায়া-মমতা হোক পাথেয়,
মানবতা হোক অগ্রযাত্রার রথ।
হাতের সাথে হাত মিলুক,
প্রাণের সাথে প্রাণ,
ছোট-বড়ের সম্প্রীতিতে
মুখর হোক বিশ্বভুবন।
কারণ মানুষ মানুষের জন্য,
এ সত্য চির অমলিন,
ভালোবাসা, সহযোগিতা, সৌহার্দ্য—
মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার, শ্রেষ্ঠ দিন।।।
***
মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে
বেঁচে থাকার যে আহ্বান,
সেই আহ্বানের গভীর সুরে
জাগে মানবতার গান।
কেউ আসে আগে পৃথিবীতে,
কেউ বা পরে আসে,
কেউ অভিজ্ঞতার দীপ জ্বালে,
কেউ নব স্বপ্ন ভাসে।
কিন্তু সবার পরিচয় এক—
মানুষ নামের মহামূল্য ধন,
সবার মাঝে প্রবাহিত হয়
একই প্রাণের স্পন্দন।
ছোট-বড় তাই ভিন্ন নয়,
নয় কোনো বিভেদের দেয়াল,
তারা যেন একই বীণার
ভিন্ন ভিন্ন সুরের জাল।
একজন দেয় অভিজ্ঞতার আলো,
একজন আনে নতুন দিন,
একজন দেখায় চলার পথ,
একজন গড়ে ভবিষ্যৎ ঋণ।
যখন তারা হাতে হাত রেখে
বিশ্বাসের বাঁধন গড়ে,
তখন সুখের সোনার ফসল
জন্ম নেয় ঘরে ঘরে।
শ্রদ্ধা যেন প্রভাতের শিশির,
নির্মল, কোমল, পবিত্র আলো,
যার স্পর্শে হৃদয়ের ভুবন
হয়ে ওঠে অতি ভালো।
যে ছোট বড়কে সম্মান করে,
শোনে জীবনের ইতিহাস,
তার পথচলায় ফুটে ওঠে
জয়ের অগণিত সুবাস।
প্রবীণেরা চলার পথে
দেখেছেন বহু ঝড়,
হাসি-কান্নার নানা অধ্যায়,
সফলতা আর ভাঙাগড়।
তাদের বুকে সঞ্চিত থাকে
অভিজ্ঞতার রত্নভাণ্ডার,
যে তা গ্রহণ করতে শেখে
তারই জীবন হয় সমৃদ্ধ আর।
শ্রদ্ধা মানে মাথা নোয়ানো নয়,
শ্রদ্ধা মানে হৃদয়ের টান,
শ্রদ্ধা মানে কৃতজ্ঞচিত্তে
স্বীকার করা অবদান।
যেখানে থাকে শ্রদ্ধার দীপ,
সেখানে কলহ মুছে যায়,
অহংকারের অন্ধকারে
সৌন্দর্যের আলো জ্বলে রয়।
স্নেহ হলো মায়ের আঁচল,
বাবার স্নিগ্ধ আশীর্বাদ,
দাদার গল্প, নানীর দোয়া,
জীবনভরা মধুর স্বাদ।
স্নেহ হলো শুকনো ডালে
নতুন পাতার সবুজ হাসি,
স্নেহ হলো ক্লান্ত প্রাণে
স্বপ্ন জাগানো ভালোবাসি।
বড়রা যদি স্নেহ বিলায়,
ছোটরা পায় সাহস নতুন,
ভয়-শঙ্কার কালো মেঘে
ফোটে আশার রঙিন ফাগুন।
একটি মধুর বাক্য কখনো
হয়ে ওঠে শক্তির উৎস,
একটি আন্তরিক প্রশ্রয়
মুছে দেয় শত দুঃখ-হতাশ।
স্নেহ মানে শাসনও বটে,
তবে তাতে থাকে মায়ার ছোঁয়া,
ভালোবাসার কোমল হাতে
ভুলের পথটি সোজা হওয়া।
যে পরিবারে স্নেহের ধারা
বহে চলে নদীর মতো,
সে পরিবার সুখের বাগান,
শান্তির নীড় অতি যত্নে গড়া।
মায়া-মমতা মানুষের মাঝে
স্রষ্টার দেওয়া শ্রেষ্ঠ দান,
এই গুণেই পৃথিবীজুড়ে
টিকে আছে মানবপ্রাণ।
কেউ যদি কাঁদে নিঃসঙ্গ রাতে,
কেউ যদি থাকে ব্যথাভার,
মমতার হাত বাড়িয়ে দিলে
হালকা হয় দুঃখের ভার।
মানুষ যখন মানুষের তরে
নিবেদন করে আপন প্রাণ,
তখন সৃষ্টি হয় পৃথিবীতে
কল্যাণময় নতুন গান।
ধনী-গরিব, ছোট-বড়,
সব পরিচয় ক্ষণিক হয়,
মানুষ যখন মানুষকে দেখে
মানুষ হিসেবেই—সত্যময়।
মমতার ছায়া যেখানে পড়ে,
সেখানে ঘৃণা টেকে না,
স্বার্থপরতার শুষ্ক মরুতে
মানবতার ফুল ফোটে না।
তাই এসো সবাই মমতার বীজ
রোপণ করি প্রাণে প্রাণে,
সেই বীজ থেকে শান্তির বন
জন্ম নেবে কালে কালে।
মানুষ একা চলতে পারে,
তবু একা গড়তে পারে না দেশ,
সহযোগিতার মহাশক্তিতে
সফল হয় জীবনের রেশ।
একজন পারে পথ দেখাতে,
অন্যজন পারে পথ গড়তে,
একজন পারে স্বপ্ন দেখতে,
অন্যজন পারে তা বাস্তব করতে।
নদী যেমন উপনদী ছাড়া
প্রবাহ পায় না পূর্ণতা,
তেমনি মানুষ মানুষের ছাড়া
পায় না জীবনের সফলতা।
বিপদে যদি সবাই মিলে
ধরি একে অপরের হাত,
অন্ধকারও হার মানে তখন,
ফিরে আসে আলোর প্রভাত।
সহযোগিতার এই মহামন্ত্র
যদি হৃদয়ে ধারণ করি,
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রজুড়ে
শান্তির শস্য ফলাতে পারি।
এসো আজ শপথ করি,
শ্রদ্ধা হবে জীবনের রীতি,
স্নেহ হবে হৃদয়ের ভাষা,
মমতা হবে মহাপ্রীতি।
ছোটরা দেবে সম্মান,
বড়রা দেবে স্নেহের ছায়া,
সবাই মিলে গড়ব আমরা
মানবতার স্বর্ণমায়া।
পরিবার হবে সুখের নীড়,
সমাজ হবে সহমর্মী,
রাষ্ট্র হবে উন্নতির শিখর,
মানবতা হবে চিরধর্মী।
যতদিন সূর্য উদিত হবে,
যতদিন জ্বলবে চাঁদের আলো,
ততদিন ছোট-বড়ের সম্প্রীতি
পৃথিবীটাকে রাখবে ভালো।
স্নেহ হোক শক্তি,
শ্রদ্ধা হোক পথ,
মায়া-মমতা হোক পাথেয়,
সহযোগিতা হোক রথ।
মানুষ মানুষের আপন হোক,
ঘুচুক বিভেদ, হিংসা, ভয়—
ছোট-বড়ের মিলনগাঁথায়
জাগুক চিরকল্যাণের জয়।।
***
৫৩
৯২ মন্তব্য