Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ জুন, ২০২৬ ০৭:৪১ অপরাহ্ণ

যে আকাশ কালো মেঘে ঢাকা

যে আকাশ কালো মেঘে ঢাকা! 


হাসান  বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হয়ে ওঠেনি। রোগ যখন শরীরের ভেতরে অনেকটা জায়গা দখল করে ফেলেছে, তখনই তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

হাসপাতালের সাদা বিছানায় একা শুয়ে থাকেন তিনি। আশপাশে রোগী আছে, স্বজন আছে, ব্যস্ততা আছে, কিন্তু তার নিজের জন্য যেন কেউ নেই। একমাত্র সঙ্গী হিসেবে আছেন তার স্ত্রী চিত্রা।

চিত্রা একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। হাসান ও সরকারি চাকরিজীবী। প্রেমের বিয়ে ছিল তাদের। প্রায় চার বছরের সম্পর্কের পর সংসার শুরু। এক নাচের অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা। চোখাচোখি, পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে ভালোবাসা। ধর্মের ভিন্নতা ছিল,হাসান মুসলিম, চিত্রা খ্রিস্টান। কিন্তু প্রেমের সময় এসব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দুজনেই বিশ্বাস করতেন, মানুষই বড়, ধর্ম নয়।

কিন্তু বিয়ের পর যেন কোথায় একটা অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। চিত্রা ভালো বেতন পান, তবুও সংসারের খরচে তার অংশগ্রহণ ছিল খুবই কম। সরকারি চাকরির বেতন দিয়ে হাসান  সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে বারবার। আর আজ এই অসুস্থতা, ডাক্তার, টেস্ট, ওষুধ, হাসপাতালের বিল,সবকিছু মিলিয়ে যেন জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধার-দেনা করে, মানুষের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিছানায় শুয়ে শুয়ে হাসান সাহেবের চোখ ভিজে ওঠে। বারবার মনে হয়, জীবনের এতগুলো বছর কি তবে ভুল মানুষকে চিনতেই কেটে গেল? যার জন্য এত ত্যাগ, এত সংগ্রাম, এত ভালোবাসা—তার কাছ থেকে বিপদের দিনে সামান্য সহানুভূতিটুকুও কি পাওয়ার কথা ছিল না?

তিনি ভাবেন, ভুলটা কোথায় ছিল? ভালোবাসায়? সিদ্ধান্তে? নাকি মানুষ চেনায়?

হাসপাতালের বারান্দা দিয়ে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনি। কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো সত্যিই পাওয়া যায় না। জীবনে অনেক বড় বড় বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন, অনেক ঝড় পেরিয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে প্রিয় মানুষের উদাসীনতা।

জীবন হয়তো এমনই। কখনও কখনও সবচেয়ে বড় একাকীত্ব আসে মানুষের ভিড়ে নয়, সবচেয়ে কাছের মানুষের নীরবতার ভেতর থেকে।

মন্তব্য করুন