সহকারী শিক্ষক
২২ জুন, ২০২৬ ০৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইসলামি ইতিহাস ও তাফসিরের বর্ণনামতে, ইব্রাহিম (আ.) যে মূর্তিগুলো ভেঙেছিলেন, সেগুলো কোনো পাহাড়ের মূর্তি ছিল না, বরং সেগুলো ছিল তাঁর সম্প্রদায়ের পূজাকেন্দ্র বা মন্দিরের ভেতরে স্থাপিত প্রতিমা বা মূর্তি।
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী বিষয়টি ছিল নিম্নরূপ:
স্থানের প্রেক্ষাপট: ইব্রাহিম (আ.) যে জনপদে বসবাস করতেন, সেখানে তাঁর সম্প্রদায় বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করত। সেই সম্প্রদায়ের মানুষ বছরে একটি নির্দিষ্ট দিনে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে শহরের বাইরে চলে যেত। সেই সুযোগে ইব্রাহিম (আ.) তাদের মন্দিরে প্রবেশ করেন।
মূর্তি ভাঙার ঘটনা: পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত ৫৮-৬৩) এবং সূরা আস-সাফফাতে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। ইব্রাহিম (আ.) সেই মন্দিরের সব মূর্তি ভেঙে ফেলেছিলেন এবং বড় একটি মূর্তির কাঁধে কুড়ালটি রেখে দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, তারা যেন ফিরে এসে তাদের দেবতার কাছেই জিজ্ঞেস করে যে, এই কাণ্ড কে ঘটিয়েছে। এটি ছিল তাদের কুসংস্কারের অসারতা প্রমাণ করার একটি বিশেষ কৌশল।
নমরুদের ভূমিকা: নমরুদ ছিল সেই অঞ্চলের তৎকালীন দাপুটে এবং উদ্ধত রাজা বা শাসক, যিনি নিজেকেই উপাস্য হিসেবে দাবি করতেন। মূর্তিপূজার ঘটনার সাথে নমরুদের সরাসরি সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এরপরই। ইব্রাহিম (আ.)-কে যখন নমরুদের সামনে হাজির করা হয়, তখন তিনি নমরুদের সামনে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
সংশোধনী: ‘নমরুদ পাহাড়’ বা পাহাড়ের মূর্তির কোনো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় ভিত্তি পাওয়া যায় না। নমরুদ কোনো পাহাড় ছিল না, বরং সে ছিল একজন ব্যক্তি বা শাসক। সম্ভবত কোনো ভুলবশত বা শ্রুতি থেকে আপনি পাহাড়ের কথাটি শুনে থাকতে পারেন। ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার মূল কেন্দ্র ছিল ব্যবিলনের (বর্তমান ইরাক) কোনো এক উপাসনালয়।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মূর্তি ভাঙার এই ঘটনার পরই নমরুদ ইব্রাহিম (আ.)-কে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
৫৩
৯২ মন্তব্য