Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ জুন, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

বিনয় : মানবতার শ্রেষ্ঠ অলংকার -মোঃ মুজিবুর রহমান



বিনয় : মানবতার শ্রেষ্ঠ অলংকার

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মানুষের মাঝে যত গুণ আছে,

যত মহিমা, যত আলো,

তাদের মাঝে বিনয় যেন

সবচেয়ে নির্মল, সবচেয়ে ভালো।

ধন-সম্পদে বড় হওয়া নয়,

নয় পদ-পদবীর অহংকার,

বিনয় যার হৃদয়ে জাগে

সেই তো সত্যিকার মহৎ মানুষ আর।

নম্রতার মধুর পরশে

কঠিন মনও গলে যায়,

সৌজন্যের কোমল ছোঁয়ায়

শত্রুও আপন হয়ে যায়।

বিনয় মানে মাথা নত করা নয়

অন্যায়ের কাছে ভয়ে,

বিনয় মানে সত্যের পথে

দৃঢ় থাকা বিনম্র হৃদয় নিয়ে।

বিনয় মানে ভদ্র ভাষা,

মধুর আচরণ, শিষ্ট বাণী,

বিনয় মানে মানুষের প্রতি

অন্তরে রাখা ভালোবাসাখানি।

যে মানুষ বিনয়কে ধারণ করে

চরিত্রের অমূল্য রতন করে,

তার উপস্থিতিতে চারপাশ জুড়ে

শান্তির সুবাস ধীরে ধীরে ঝরে।

অহংকারের প্রাসাদ যতই হোক উঁচু,

স্থায়ী নয় তার কোনো ভিত্তি,

বিনয়ের ছোট্ট কুটিরটিই

মানবতার চিরন্তন স্মৃতি।

অহংকারী মানুষ নিজেকে দেখে,

নিজের গৌরব নিয়ে ব্যস্ত,

বিনয়ী মানুষ অন্যের সুখে

খুঁজে পায় আনন্দের অস্তিত্ব।

কেউ যদি বলে কটু কথা,

তীক্ষ্ণ ভাষার আঘাত হানে,

বিনয়ী মানুষ রাগ না পুষে

সহিষ্ণুতার পথেই টানে।

প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়,

নয় বিদ্বেষের উত্তাল ঢেউ,

ক্ষমার আলো জ্বালিয়ে রেখে

সে বলে—"মানুষ ভুল করতেই পারে, কেউ।"

এই পৃথিবীর ইতিহাস জুড়ে

যত মহান মানুষের নাম,

তাদের জীবনের অলংকার ছিল

বিনয়েরই পবিত্র ধাম।

জ্ঞানী মানুষ যত জ্ঞানী হন,

ততই বাড়ে বিনয়ের দীপ,

কারণ সত্য জ্ঞানের সাগর দেখে

তিনি বুঝেন নিজের সীমার নীড়।

ফলভরা গাছ যেমন নত হয়,

শস্যভরা ক্ষেত যেমন ঝুঁকে,

মহৎ মানুষও তেমনি থাকেন

বিনয়ের সৌন্দর্য বুকে।

শূন্য কলসির শব্দ বেশি,

পূর্ণ কলসি থাকে নীরব,

মহান মানুষ নিজের মহত্ত্ব

প্রকাশ করেন না গর্বভরে সব।

বিনয় শেখায় কৃতজ্ঞ হতে,

শেখায় ভুলকে চিনতে,

শেখায় নিজের অর্জনকে

স্রষ্টার দান বলে মানতে।

যা কিছু পেলাম জীবনে আমি,

শুধু কি আমারই কৃতিত্ব?

কত মানুষের শ্রম-ঘামে গড়া

আমার সফলতার ভিত্তি।

শিক্ষকের দান, মায়ের স্নেহ,

পিতার ত্যাগ, বন্ধুর হাত,

সমাজের অগণিত অবদান মিলে

খুলে দেয় জীবনের প্রভাত।

তাই বিনয়ী মানুষ কখনো

অহমিকার মুকুট পরে না,

নিজের সাফল্যের কাহিনি বলে

অন্যকে ছোট করে না।

সমাজে যার আছে বিনয়,

তার আছে অমূল্য সম্পদ,

তার চারপাশে জেগে ওঠে

বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য।

মানুষ তাকে ভালোবাসে,

সম্মান করে অন্তর ভরে,

কারণ তার কথায় থাকে না বিষ,

থাকে কল্যাণ সকলের তরে।

পরিবারে বিনয় থাকলে

সম্পর্ক হয় আরও মধুর,

ছোট-বড় সবার মাঝে

বয়ে চলে ভালোবাসার সুর।

বিদ্যালয়ে বিনয় থাকলে

শিক্ষার পরিবেশ হয় সুন্দর,

জ্ঞানচর্চার প্রতিটি অঙ্গন

হয়ে ওঠে আলোকময় ঘর।

কর্মক্ষেত্রে বিনয় থাকলে

দলগত শক্তি বাড়ে বহু,

সহযোগিতার বন্ধন গড়ে

সাফল্য আসে দিগন্ত ছুঁয়ে।

রাষ্ট্রনায়কের বিনয় হলে

জনগণ পায় আস্থার স্থান,

ক্ষমতার অহংকার হারিয়ে

প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যায়ের মান।

ধর্মের বাণী যুগে যুগে

বিনয়ের কথাই বলে,

অহংকারকে দূরে সরিয়ে

মানবতাকে রাখতে কোলে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা

নম্রতার মহিমা গায়,

বিনয়ীদের জন্য রয়েছে

রহমতের অশেষ ছায়া।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)

ছিলেন বিনয়ের উজ্জ্বল দিশা,

বিশ্বজয়ের পরও তাঁর মাঝে

ছিল না গর্বের কোনো নিশা।

তিনি ছিলেন মানুষের বন্ধু,

দুঃখীর পাশে সহমর্মী প্রাণ,

ক্ষমতা পেয়েও দেখিয়েছেন

বিনয়ের সর্বোচ্চ সম্মান।

তাঁর আদর্শ আজও শেখায়

মহত্ত্ব মানে নয় গর্ব করা,

মহত্ত্ব মানে মানুষের হৃদয়

ভালোবাসা দিয়ে ভরা।

বিনয় দুর্বলতা নয় কখনো,

শক্তিরই মহীয়ান রূপ,

যে নিজেকে জয় করতে পারে

তারই হাতে সত্যের ধূপ।

অহংকার ভাঙে সম্পর্ক,

সৃষ্টি করে বিভেদের দেয়াল,

বিনয় গড়ে হৃদয়ের সেতু,

মুছে দেয় দূরত্বের জঞ্জাল।

মানবতার এই অমূল্য গুণ

হোক জীবনের প্রতিটি শপথ,

বিনয়ের আলোয় আলোকিত হোক

আমাদের সকল পথ।

ঘরে ঘরে জাগুক বিনয়,

মনে মনে ফুটুক প্রেম,

শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সৌজন্যে

উজ্জ্বল হোক মানবক্ষেম।

যতদিন মানুষ থাকবে পৃথিবীতে,

ততদিন থাকবে এই বাণী অমলিন

জ্ঞানকে মহান করে বিনয়,

মানুষকে মহৎ করে সৎ চরিত্রের ঋণ।

এসো আমরা বিনয় শিখি,

অহংকারকে করি পরিহার,

বিনয়ের মালা গলায় পরে

গড়ি মানবতার নতুন দ্বার।

কারণ বিনয়ই চরিত্রের শোভা,

বিনয়ই হৃদয়ের জ্যোতি,

বিনয়ই মানুষকে পৌঁছে দেয়

মহত্ত্ব, মর্যাদা সত্যের গতি।

যেখানে বিনয়, সেখানে শান্তি,

যেখানে বিনয়, সেখানে প্রেম,

যেখানে বিনয়, সেখানে মানুষ

হয়ে ওঠে কল্যাণের হেম।

তাই জীবনের প্রতিটি প্রহরে

রাখি এই মহামন্ত্র হৃদয় ভরে

বিনয়ই মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার,

বিনয়ই মানবতার চিরন্তন সৌন্দর্য,

বিনয়ই মহত্ত্বের দ্বার উন্মোচনের

অক্ষয়, অনন্ত, পবিত্র অধিকার।

***

বিনয় : মানবতার শ্রেষ্ঠ অলংকার

মানুষের মাঝে যত গুণ আছে,

যত মহিমা, যত আলো,

তাদের মাঝে বিনয় যেন

সবচেয়ে নির্মল, সবচেয়ে ভালো।

ধন-সম্পদে বড় হওয়া নয়,

নয় পদ-পদবীর অহংকার,

বিনয় যার হৃদয়ে জাগে

সেই তো সত্যিকার মহৎ মানুষ আর।

নম্রতার মধুর পরশে

কঠিন মনও গলে যায়,

সৌজন্যের কোমল ছোঁয়ায়

শত্রুও আপন হয়ে ধায়।

বিনয় মানে মাথা নত করা নয়

অন্যায়ের কাছে ভয়ে,

বিনয় মানে সত্যের পথে

দৃঢ় থাকা বিনম্র হৃদয় নিয়ে।

বিনয় মানে ভদ্র ভাষা,

মধুর আচরণ, শিষ্ট বাণী,

বিনয় মানে মানুষের প্রতি

অন্তরে রাখা ভালোবাসাখানি।

যে মানুষ বিনয়কে ধারণ করে

চরিত্রের অমূল্য রতন করে,

তার উপস্থিতিতে চারপাশ জুড়ে

শান্তির সুবাস ধীরে ধীরে ঝরে।

অহংকারের প্রাসাদ যতই হোক উঁচু,

স্থায়ী নয় তার কোনো ভিত্তি,

বিনয়ের ছোট্ট কুটিরটিই

মানবতার চিরন্তন স্মৃতি।

অহংকারী মানুষ নিজেকে দেখে,

নিজের গৌরব নিয়ে ব্যস্ত,

বিনয়ী মানুষ অন্যের সুখে

খুঁজে পায় আনন্দের অস্তিত্ব।

কেউ যদি বলে কটু কথা,

তীক্ষ্ণ ভাষার আঘাত হানে,

বিনয়ী মানুষ রাগ না পুষে

সহিষ্ণুতার পথেই টানে।

প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়,

নয় বিদ্বেষের উত্তাল ঢেউ,

ক্ষমার আলো জ্বালিয়ে রেখে

সে বলে—"মানুষ ভুল করতেই পারে, কেউ।"

এই পৃথিবীর ইতিহাস জুড়ে

যত মহান মানুষের নাম,

তাদের জীবনের অলংকার ছিল

বিনয়েরই পবিত্র ধাম।

জ্ঞানী মানুষ যত জ্ঞানী হন,

ততই বাড়ে বিনয়ের দীপ,

কারণ সত্য জ্ঞানের সাগর দেখে

তিনি বুঝেন নিজের সীমার নীড়।

ফলভরা গাছ যেমন নত হয়,

শস্যভরা ক্ষেত যেমন ঝুঁকে,

মহৎ মানুষও তেমনি থাকেন

বিনয়ের সৌন্দর্য বুকে।

শূন্য কলসির শব্দ বেশি,

পূর্ণ কলসি থাকে নীরব,

মহান মানুষ নিজের মহত্ত্ব

প্রকাশ করেন না গর্বভরে সব।

 

বিনয় শেখায় কৃতজ্ঞ হতে,

শেখায় ভুলকে চিনতে,

শেখায় নিজের অর্জনকে

স্রষ্টার দান বলে মানতে।

যা কিছু পেলাম জীবনে আমি,

শুধু কি আমারই কৃতিত্ব?

কত মানুষের শ্রম-ঘামে গড়া

আমার সফলতার ভিত্তি।

শিক্ষকের দান, মায়ের স্নেহ,

পিতার ত্যাগ, বন্ধুর হাত,

সমাজের অগণিত অবদান মিলে

খুলে দেয় জীবনের প্রভাত।

তাই বিনয়ী মানুষ কখনো

অহমিকার মুকুট পরে না,

নিজের সাফল্যের কাহিনি বলে

অন্যকে ছোট করে না।

সমাজে যার আছে বিনয়,

তার আছে অমূল্য সম্পদ,

তার চারপাশে জেগে ওঠে

বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য।

মানুষ তাকে ভালোবাসে,

সম্মান করে অন্তর ভরে,

কারণ তার কথায় থাকে না বিষ,

থাকে কল্যাণ সকলের তরে।

পরিবারে বিনয় থাকলে

সম্পর্ক হয় আরও মধুর,

ছোট-বড় সবার মাঝে

বয়ে চলে ভালোবাসার সুর।

বিদ্যালয়ে বিনয় থাকলে

শিক্ষার পরিবেশ হয় সুন্দর,

জ্ঞানচর্চার প্রতিটি অঙ্গন

হয়ে ওঠে আলোকময় ঘর।

কর্মক্ষেত্রে বিনয় থাকলে

দলগত শক্তি বাড়ে বহু,

সহযোগিতার বন্ধন গড়ে

সাফল্য আসে দিগন্ত ছুঁয়ে।

রাষ্ট্রনায়কের বিনয় হলে

জনগণ পায় আস্থার স্থান,

ক্ষমতার অহংকার হারিয়ে

প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যায়ের মান।

ধর্মের বাণী যুগে যুগে

বিনয়ের কথাই বলে,

অহংকারকে দূরে সরিয়ে

মানবতাকে রাখতে কোলে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা

নম্রতার মহিমা গায়,

বিনয়ীদের জন্য রয়েছে

রহমতের অশেষ ছায়া।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)

ছিলেন বিনয়ের উজ্জ্বল দিশা,

বিশ্বজয়ের পরও তাঁর মাঝে

ছিল না গর্বের কোনো নিশা।

তিনি ছিলেন মানুষের বন্ধু,

দুঃখীর পাশে সহমর্মী প্রাণ,

ক্ষমতা পেয়েও দেখিয়েছেন

বিনয়ের সর্বোচ্চ সম্মান।

তাঁর আদর্শ আজও শেখায়

মহত্ত্ব মানে নয় গর্ব করা,

মহত্ত্ব মানে মানুষের হৃদয়

ভালোবাসা দিয়ে ভরা।

বিনয় দুর্বলতা নয় কখনো,

শক্তিরই মহীয়ান রূপ,

যে নিজেকে জয় করতে পারে

তারই হাতে সত্যের ধূপ।

অহংকার ভাঙে সম্পর্ক,

সৃষ্টি করে বিভেদের দেয়াল,

বিনয় গড়ে হৃদয়ের সেতু,

মুছে দেয় দূরত্বের জঞ্জাল।

মানবতার এই অমূল্য গুণ

হোক জীবনের প্রতিটি শপথ,

বিনয়ের আলোয় আলোকিত হোক

আমাদের সকল পথ।

ঘরে ঘরে জাগুক বিনয়,

মনে মনে ফুটুক প্রেম,

শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সৌজন্যে

উজ্জ্বল হোক মানবক্ষেম।

যতদিন মানুষ থাকবে পৃথিবীতে,

ততদিন থাকবে এই বাণী অমলিন

জ্ঞানকে মহান করে বিনয়,

মানুষকে মহৎ করে সৎ চরিত্রের ঋণ।

এসো আমরা বিনয় শিখি,

অহংকারকে করি পরিহার,

বিনয়ের মালা গলায় পরে

গড়ি মানবতার নতুন দ্বার।

কারণ বিনয়ই চরিত্রের শোভা,

বিনয়ই হৃদয়ের জ্যোতি,

বিনয়ই মানুষকে পৌঁছে দেয়

মহত্ত্ব, মর্যাদা সত্যের গতি।

যেখানে বিনয়, সেখানে শান্তি,

যেখানে বিনয়, সেখানে প্রেম,

যেখানে বিনয়, সেখানে মানুষ

হয়ে ওঠে কল্যাণের হেম।

তাই জীবনের প্রতিটি প্রহরে

রাখি এই মহামন্ত্র হৃদয় ভরে

বিনয়ই মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার,

বিনয়ই মানবতার চিরন্তন সৌন্দর্য,

বিনয়ই মহত্ত্বের দ্বার উন্মোচনের

অক্ষয়, অনন্ত, পবিত্র অধিকার।

বিনয় : মানবতার মহিমান্বিত মুকুট

(এক উচ্চাঙ্গ দীর্ঘ কাব্য)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মানুষের যত মহৎ গুণ,

যত সৌন্দর্য, যত আলো,

যত মহিমা চরিত্রজুড়ে

ছড়ায় জীবনের শুভ ভালো,

তাদের মাঝে বিনয় যেন

নক্ষত্রখচিত আকাশমালা,

অহংকারের আঁধার ভেঙে

জ্বালে প্রজ্ঞার শুভ জ্বালা।

বিনয় মানে মাথা নত নয়

অন্যায় শক্তির ভয়ে কভু,

বিনয় মানে সত্যের পথে

দৃঢ় থাকা নম্র প্রভু।

বিনয় মানে হৃদয় জুড়ে

শ্রদ্ধা, প্রেম আর সৌজন্য,

মানুষকে মানুষ ভাবার মাঝে

মানবতার চির ঐশ্বর্য।

যে হৃদয়ে বিনয় থাকে

সেই হৃদয় হয় প্রসন্ন,

তার আচরণ নদীর মতো

স্বচ্ছ, কোমল, স্নিগ্ধ, ধন্য।

অহংকারের প্রাচীর যত

উঁচু হয়ে দাঁড়াক পথে,

একদিন তা ধূলি হবে

সময়েরই নির্মম রথে।

কিন্তু বিনয় অমর হয়ে

থাকে মানুষের অন্তরে,

যুগের পরে যুগকে ছুঁয়ে

বেঁচে থাকে স্মৃতিঘরে।

ফলভারে নত বৃক্ষ যেমন

মাটির কাছে আসে নেমে,

সত্য জ্ঞানে সমৃদ্ধ মানুষ

বিনয় ধরে আপন প্রেমে।

শস্যভরা সোনার ক্ষেতে

নতমুখে দোলে ধান,

তেমনি জ্ঞানী বিনয়ীজন

বাড়ায় সবার সম্মান।

শূন্য পাত্র শব্দ তোলে,

পূর্ণ পাত্র থাকে নীরব,

মহৎ প্রাণের গভীরতা তাই

কোলাহলহীন, সুগভীর সব।

বিনয় শেখায় সহিষ্ণু হতে,

কটু বাক্য হেসে সইতে,

রাগের আগুন নেভাতে শেখায়

ক্ষমার শিশির বইতে।

কেউ যদি দেয় তিরস্কার,

কেউ যদি করে অবজ্ঞা,

বিনয়ী জন প্রতিউত্তরে

ছড়ায় না ঘৃণার অগ্নিশিখা।

সে জানে মানুষ ভুলের পুত্র,

ত্রুটিহীন নয় কেহ,

ক্ষমার মাঝে মহত্ত্ব থাকে,

বিদ্বেষে কেবল ক্ষয় আর দেহ।

বিনয় শেখায় কৃতজ্ঞ হতে,

প্রতিটি প্রাপ্তি মনে রাখতে,

নিজের সাফল্য নিজের নয়,

সহযোগীদের সাথে ভাগ করতে।

মায়ের অশেষ স্নেহধারা,

পিতার ত্যাগের মহাকাব্য,

শিক্ষকের জ্ঞানের প্রদীপ,

বন্ধুর সহায়তার অভ্যাস,

কত অজানা মানুষের শ্রমে

গড়ে ওঠে জীবনের সোপান,

তাই বিনয়ী মানুষ জানে

কৃতজ্ঞতাই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।

নিজের গুণে মুগ্ধ হয়ে

অহংকারে ভাসে না সে,

কারণ সে জানে, সবই ক্ষণিক

সময় সবকিছু নেয় হেসে।

ধন থাকিলে বিনয় চাই,

জ্ঞান থাকিলে বিনয় চাই,

ক্ষমতা যদি হাতে আসে

তবুও বিনয় হারায় নাই।

বিনয়হীন জ্ঞান অন্ধকার,

বিনয়হীন ধন অভিশাপ,

বিনয়হীন ক্ষমতার হাতে

মানবতা হয় প্রতিনিয়ত চাপ।

সমাজজীবন সুন্দর হয়

যখন থাকে বিনয়ের ছোঁয়া,

ছোট-বড় সব মানুষ তখন

একসূত্রে গাঁথা হয় বোনা।

বিনয়ী মানুষ সবার কাছে

বিশ্বাসের প্রতীক হয়,

তার কথাতে শান্তি ঝরে,

তার আচরণ হৃদয় জয়।

পরিবারে বিনয় থাকলে

মুছে যায় শত বিবাদ,

ভালোবাসার আলো জ্বেলে

গড়ে ওঠে সুখের আবাস।

বিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে

বিনয় যদি থাকে সাথে,

জ্ঞানচর্চার প্রতিটি ধাপে

সাফল্য আসে হাতে হাতে।

কর্মক্ষেত্রে বিনয় থাকলে

দূর হয় হিংসা, বিরোধ,

সহযোগিতার বন্ধন গড়ে

বাড়ে কর্মের শুভ প্রমোদ।

রাষ্ট্রের নেতা বিনয়ী হলে

জনগণ পায় শান্তি,

ন্যায় সেবার আদর্শ গড়ে

বৃদ্ধি পায় দেশের কান্তি।

ধর্মের ইতিহাস খুলে দেখো,

যুগে যুগে একই বাণী,

অহংকারে পতন আসে,

বিনয়ে বাড়ে জীবনের মানই।

পবিত্র কোরআনের বাণী

মানুষকে দেয় এই শিক্ষা

নম্রতার পথে চললে মানুষ

পায় রহমতের সুমধুর দীক্ষা।

হাদিস জুড়ে বারবার আসে

বিনয়ের পবিত্র ডাক,

অহমিকা ত্যাগ করে মানুষ

সত্যের পথে চলুক পাক।

নবী-রাসূল সকলেই ছিলেন

বিনয়ের উজ্জ্বল দিশারী,

তাঁদের জীবন মানবতার

অক্ষয় আলোর ভাণ্ডারী।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)

মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ,

ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও যিনি

দেখিয়েছেন বিনয়ের কারণ।

তিনি ছিলেন এতই নম্র

যেন সবার আপনজন,

দরিদ্র, এতিম, অসহায়ের

ছিলেন তিনি আশ্রয়স্থল।

রাজা নন শুধু, ছিলেন সেবক,

মানুষের কল্যাণে নিবেদিত,

তাঁর বিনয়ের মহিমাতে

আজও বিশ্ব আলোকিত।

বিনয় কোনো দুর্বলতা নয়,

মহাশক্তির পরিচয়,

নিজেকে জয় করার মাঝে

মানবজয়ের সার্থক বিজয়।

তরবারি দিয়ে দেশ জয় করা

অত কঠিন কিছু নয়,

নিজের অহং জয় করতে পারা

সত্যিকারের বিজয়ময়।

অহংকার মানুষকে ভাঙে,

বিনয় মানুষকে গড়ে,

অহংকার বিভেদ আনে,

বিনয় প্রেমের বীজ ছড়ে।

অহংকারে বন্ধ হয় দ্বার,

বিনয়ে খুলে হৃদয়,

অহংকারে সৃষ্টি হয় দূরত্ব,

বিনয়ে মানুষ মানুষময়।

তাই এসো আমরা শপথ করি,

বিনয় হবে জীবনের গান,

ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সৌজন্যে

গড়ব মানবতার মহান স্থান।

ঘরে ঘরে জাগুক বিনয়,

প্রাণে প্রাণে ফুটুক প্রেম,

সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতায়

আলোকিত হোক বিশ্বভূমি হেম।

বিদ্যালয়, সমাজ, রাষ্ট্রজুড়ে

ছড়িয়ে পড়ুক এই আহ্বান,

বিনয় হবে চরিত্রগঠনের

সর্বশ্রেষ্ঠ ভিত্তিপ্রস্তর মহান।

যতদিন সূর্য উঠবে পূর্বে,

যতদিন নদী বইবে সাগরে,

ততদিন বিনয়ের মহিমাগাথা

গাওয়া হবে অন্তরে অন্তরে।

কারণ বিনয়ই মানুষের শোভা,

বিনয়ই চরিত্রের দীপ,

বিনয়ই মহত্ত্বের মহাসোপান,

বিনয়ই সত্যের অনুপম নীড়।

বিনয়ই হৃদয়ের পবিত্র ফুল,

বিনয়ই শান্তির অমৃতধারা,

বিনয়ই মানবতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ,

বিনয়ই জীবনের শ্রেষ্ঠ সারা।

তাই আসো, অহংকার ত্যাগ করে

বিনয়ের পথেই চলি,

মানুষ হয়ে মানুষের পাশে

ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালি।

আর যুগে যুগে উচ্চারিত হোক

এই চিরন্তন সত্যবাণী

"বিনয় মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার,

বিনয় চরিত্রের মহিমান্বিত মুকুট,

বিনয় মানবতার অক্ষয় সৌন্দর্য,

আর বিনয়ী হৃদয়ই পৃথিবীর

সবচেয়ে সুন্দর শ্রদ্ধেয় আশ্রয়।"

***

বিনয় : সৃষ্টির সৌন্দর্য

আদি থেকে অনন্তকাল,

যত মহৎ গুণের ধারা,

মানবহৃদয় আলোকিত করে

যত সৌন্দর্য, যত সারা,

তাদের মাঝে বিনয় যেন

ভোরের প্রথম আলোর রেখা,

যে আলোয় মুছে যায় অহংকার,

জাগে মানবতার শুভ দেখা।

বিনয় কোনো ক্ষুদ্র বিষয় নয়,

নয় কেবল ভদ্রতার নাম,

বিনয় হলো মহৎ আত্মার

পবিত্রতম মহিমান্বিত ধাম।

বিনয় মানে নম্র হওয়া,

তবু নয় দুর্বলতার চিহ্ন,

বিনয় মানে সত্যের পথে

অটল থাকা দৃঢ় স্নিগ্ধ।

বিনয় মানে হৃদয়ভরা

সৌজন্য আর শুভবোধ,

মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায়,

মুছে দেয় বিভেদের রোধ।

যেখানে বিনয় জাগ্রত থাকে,

সেখানে থাকে না অহংকার,

সেখানে মানুষ মানুষকে দেখে

ভালোবাসার অধিকার।

যেমন নীরব নদীর বুকে

গভীর জলের প্রবাহ চলে,

তেমনি বিনয়ী মানুষের মহত্ত্ব

নিভৃতে আপন আলো জ্বলে।

ফুল কখনো নিজের সৌরভ

নিজে বসে করে না প্রচার,

তবু তার সুবাসে ভরে ওঠে

চারদিকের বিস্তৃত সংসার।

সূর্য কখনো বলে না কভু

আমিই জগতের আলো,

তবু তার কিরণ ছড়িয়ে দেয়

পৃথিবীজুড়ে শুভ ভালো।

ঠিক তেমনি বিনয়ী মানুষ

নিজেকে বড় বলে না,

তার কর্মই তার পরিচয়,

মুখে গৌরব তোলে না।

ফলভারে নত আম্রশাখা,

শস্যভারে নত ধান,

প্রকৃতি যেন শেখায় নিত্য

বিনয় মহত্ত্বের সম্মান।

অহংকারের উঁচু মিনার

মুহূর্তেই ভেঙে যায়,

বিনয়ের ক্ষুদ্র কুটিরখানি

যুগ যুগ ধরে টিকে রয়।

অহংকারী মানুষ ভাবে

সবই আমার কীর্তিগাথা,

বিনয়ী মানুষ জানে অন্তরে

সবই স্রষ্টার অশেষ দান তথা।

তাই সে কৃতজ্ঞতার ফুল

প্রতিদিন হৃদয়ে ফোটায়,

নিজের প্রাপ্তির পেছনে থাকা

হাজার অবদান স্মরণে আনে।

মায়ের স্নেহ, বাবার ত্যাগ,

শিক্ষকের জ্ঞানের আলো,

বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা,

সমাজের সহায়তা ভালো।

কত মানুষের অদৃশ্য শ্রমে

গড়ে ওঠে জীবনের ঘর,

তাই বিনয়ী মানুষ কখনো

গর্বে হয় না আত্মহারা।

সহিষ্ণুতা বিনয়ের সাথী,

ধৈর্য তার আপন বন্ধু,

ঝড় এলেও ভেঙে না পড়ে,

থাকে সে দৃঢ়, শান্ত, মৃদু।

কেউ যদি দেয় কটু ভাষা,

কেউ যদি করে অপমান,

বিনয়ী জন রাগ না পুষে

দেয় সৌজন্যেরই সম্মান।

প্রতিশোধের অগ্নিশিখা

জ্বালায় না তার প্রাণ,

ক্ষমার মাঝে খুঁজে নেয় সে

মহত্ত্বের প্রকৃত জ্ঞান।

বিনয় শেখায় ক্ষমা করতে,

বিনয় শেখায় ভালোবাসতে,

বিনয় শেখায় ভাঙা হৃদয়

আবার নতুন করে গড়তে।

পরিবারে যদি বিনয় থাকে,

ভালোবাসা বাড়ে বহুগুণ,

শ্রদ্ধা-মমতার সেতুবন্ধনে

ফুটে ওঠে সুখের বাগান।

ছোট বড় সব সদস্য তখন

একসূত্রে বাঁধা হয়,

পরস্পরের হৃদয়জুড়ে

আস্থার প্রদীপ জ্বলে রয়।

বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণি,

প্রতিটি জ্ঞানের অঙ্গন,

বিনয়ের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে

মানবগঠনের পবিত্র ভুবন।

শিক্ষার্থী শেখে শিষ্টাচার,

শিক্ষক পান মর্যাদা,

জ্ঞানের সাথে চরিত্র গড়ার

সুন্দরতম প্রতিশ্রুতি সাধা।

কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি ধাপে

বিনয় যদি থাকে সাথি,

সহযোগিতার সোনার সেতু

গড়ে ওঠে দিন রাতি।

ঊর্ধ্বতন আর অধস্তনের মাঝে

থাকে না কোনো দেয়াল,

পারস্পরিক শ্রদ্ধার বুননে

জাগে সাফল্যের জয়জয়কার।

সমাজজুড়ে বিনয় থাকলে

হিংসা-বিদ্বেষ কমে যায়,

মানুষ মানুষকে আপন ভেবে

শান্তির বীজ বপন করে তায়।

রাষ্ট্রের নেতা বিনয়ী হলে

ন্যায়ের আলো ছড়ায় দূর,

ক্ষমতা তখন সেবার ব্রত,

দেশ হয় উন্নতির সুর।

ধর্মের ইতিহাস সাক্ষী হয়ে

আজও একটি বাণী কয়

অহংকারে পতন ঘটে,

বিনয়ে মানুষের উন্নতি হয়।

পবিত্র কোরআনের আলোকে

নম্রতার মহিমা মহান,

আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের

যাদের অন্তর বিনয়বান।

হাদিসের পাতায় পাতায়

নম্রতার আহ্বান রয়,

অহমিকা ত্যাগ করে মানুষ

সত্যের পথে অগ্রসর হয়।

সকল নবী, সকল রাসূল

ছিলেন বিনয়ের প্রতীক,

তাঁদের জীবন মানবজাতির

শ্রেষ্ঠ আদর্শ, শ্রেষ্ঠ দীক্ষা ঠিক।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)

বিনয়ের উজ্জ্বলতম আলো,

জয়ের শিখরে থেকেও যিনি

অহংকারকে রাখেননি ভালো।

তিনি ছিলেন এতিমের বন্ধু,

দুঃখীর সান্ত্বনার বাণী,

ক্ষমতার চূড়ায় থেকেও ছিলেন

নম্রতার চিরকালীন খনি।

তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়

শেখায় মানবতার পাঠ,

বিনয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকে

মহত্ত্বের শ্রেষ্ঠ প্রভাত।

বিনয় কোনো দুর্বলতা নয়,

শক্তির মহা পরিচয়,

নিজেকে জয় করাই পৃথিবীতে

সর্বশ্রেষ্ঠ মানব-বিজয়।

শত্রুকে জয় করা সহজ হতে পারে,

নিজেকে জয় করা কঠিন,

অহংকারকে পরাজিত করতে

লাগে চরিত্রের দীপ্তি অমলিন।

 

তাই যে পারে নিজ অহমকে

সত্যের কাছে নত করতে,

সে- পারে মহত্ত্বের পথে

মানবতাকে আলোকিত করতে।

এসো তবে আজ আমরা সবাই

বিনয়ের পতাকা তুলি,

সৌজন্য, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতায়

জীবনের প্রদীপ জ্বালি।

ঘরে ঘরে জাগুক বিনয়,

প্রাণে প্রাণে জাগুক প্রেম,

মানবতার সোনালি ভোরে

মুছে যাক বিভেদের হেম।

বিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ,

রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাঙ্গণ,

বিনয়ের আলোয় আলোকিত হোক

প্রতিটি হৃদয়, প্রতিটি জীবন।

যতদিন আকাশে চাঁদ উঠবে,

যতদিন সূর্য দেবে আলো,

ততদিন মানবসভ্যতা গাইবে

বিনয়ের মহিমাগাথা ভালো।

কারণ

বিনয়ই চরিত্রের চন্দ্রালোকে,

বিনয়ই হৃদয়ের নির্মল ফুল,

বিনয়ই মানবতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ,

বিনয়ই মহত্ত্বের মূল।

বিনয়ই জ্ঞানের শোভা,

বিনয়ই সৌন্দর্যের প্রাণ,

বিনয়ই মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার,

বিনয়ই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।

যেখানে বিনয়, সেখানে শান্তি;

যেখানে বিনয়, সেখানে প্রেম;

যেখানে বিনয়, সেখানে মহত্ত্ব;

যেখানে বিনয়, সেখানে মানবতার চিরন্তন হেম।।

 

 

মন্তব্য করুন