Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুন, ২০২৬ ০৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

সব স্ত্রী "যাওজাহ" হয় না! বিস্তারিত পড়লে অনেক ফায়দা হবে।
সব স্ত্রী "যাওজাহ" হয় না!
বিস্তারিত পড়লে অনেক ফায়দা হবে।
!!
!!
الامرأة، الزوجة، الصاحبة -
কুরআনুল কারীমে এ তিনটি শব্দই স্ত্রী ও অর্ধাঙ্গিনী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-
امراة لوط
اسكن انت و زوجك
يوم يفر المرأ من اخيه وامه و ابيه وصاحبته و بنيه
মহান আল্লাহ সবার ক্ষেত্র زوجة শব্দটি ব্যবহার করলেন না কেন? কারো ক্ষেত্রে امراة কারো ক্ষেত্রে زوجة কারো ক্ষেত্র صاحبة- এভাবে ব্যবহার করলেন কেন? শব্দ ৩টি কি একই তাৎপর্য বহন করে? নাকি এগুলোর মধ্যে তাৎপর্যের দিক বিবেচনায় কোনো পার্থক্য আছে?
এ ব্যাপারে কথা হলো- শব্দ ৩টি সাধারণভাবে স্ত্রী বা অর্ধাঙ্গিনী বুঝালেও এগুলোর মধ্যে তাৎপর্যগত বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্যের কারণেই মহান আল্লাহ কারো জন্য ইমরাআহ, কারো জন্য যাওজাহ, কারো জন্য সাহিবাহ ব্যবহার করেছেন।
ইমরাআহ :
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক আছে। ভালোবাসা নেই। সামঞ্জস্য নেই। দ্বীন ও অন্যান্য চিন্তাধারায়ও ঐকমত্য নেই। এমন স্ত্রীকে ইমরাআহ বলে।
যাওজাহ:
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক আছে। সম্প্রীতি ভালোবাসা আছে। সামঞ্জস্য আছে। দ্বীন ও অন্যান্য চিন্তাধারায়ও ঐকমত্য আছে। এমন স্ত্রীকে যাওজাহ বলে।
মহান আল্লাহ امرأة نوح، امرأة لوط বলেছেন। زوجة نوح، زوجة لوط বলেননি। তাদের মধ্যে ঈমানের পার্থক্য থাকার কারণে। হযরত নূহ ও লূত আ. মুমিন এবং নবী ছিলেন। কিন্তু তাদের স্ত্রীগণ ঈমানদার ছিলেন না। তাই তাদের ইমরাআহ বলেছেন, যাওজাহ বলেননি। কারণ তাদের মধ্যে ধর্মীয় সামঞ্জস্য ছিল না।
এভাবে আল্লাহপাক امرأة فرعون বলেছেন। কেননা, ফেরাউন বেঈমান ছিল; কিন্তু তার স্ত্রী ঈমানদার ছিলেন। ঈমানের ব্যাপারে তাদের মধ্যে সামঞ্জস্য বা মিল ছিল না। সে জন্য ফেরাউনের স্ত্রীকে ইমরাআহ বলেছেন। যাওজাহ বলেননি।
কুরআনে কারীমের যাওজাহ শব্দের প্রয়োগস্থল সম্পর্কে চিন্তা করলে দেখা যায়- মহান আল্লাহ হযরত আদম আ. এর সহধর্মীণীর ব্যাপারে যাওজাহ শব্দ প্রয়োগ করেছেন- قلنا يا ادم اسكن انت وزوجك الجنة
(হে আদম! তুমি এবং তোমার যাওজাহ জান্নাতে বসবাস করো)।
এভাবে নবী কারীম সা. এর সহধর্মীণীদের ব্যাপারেও যাওজাহ শব্দ প্রয়োগ করেছেন- يا ايها النبي قل لازواجك
(হে নবী! আপনি স্বীয় আযওয়াজ তথা সহধর্মীণীদের বলুন)।
এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ এটাই বুঝাতে চান যে, তাদের মধ্যে ধর্ম ও চিন্তাধারার সাজুয্য ও মিল ছিল। তাই তাদের সহধর্মীণীদের যাওজাহ বলা হয়েছে।
এখানে একটি মজার বিষয় হল, হযরত যাকারিয়া আ. ও তার সহধর্মীণীর মধ্যে মিল-মহব্বত ও ধর্মীয় সামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও كان امرأتي عاقرا বলে তিনি তার সহধর্মীণীকে ইমরাআত বললেন কেন? তার কারণ হলো, সন্তান প্রজননের ক্ষেত্রে হযরত যাকারিয়া আ. ও তার সহধর্মীণীর মধ্যে মিল বা সামঞ্জস্য ছিল না। হযরত যাকারিয়া আ. সন্তান প্রজননে সক্ষম ছিলেন; তার সহধর্মীণী সক্ষম ছিলেন না। كان امرأتي عاقرا বলে আল্লাহর কাছে হযরত যাকারিয়া আ. এ শেকায়েতই করে ছিলেন। পরে যখন ইয়াহিয়া আ. কে তার সন্তান হিসেবে দান করলেন এবং যাকারিয়া আ. ও তার স্ত্রীর মধ্যে অমিল ঘুচে মিল ও সাজুয্য তৈরি হলো যে, তারা উভয়েই সন্তান প্রজননে সক্ষম- তখন কুরআনের বাচনভঙ্গি বদলে গেল। তখন আল্লাহ হযরত যাকারিয়া আ. এর সহধর্মীনীর ক্ষেত্রে যাওজাহ শব্দই প্রয়োগ করেন। তাকে আর ইমরাআহ বলেননি। মহান আল্লাহ বলেন- فاستجبنا له ووهبنا له يحيي واصلحنا له زوجه
(আমি তার দুআ কবুল করলাম। তাকে ইয়াহিয়া দান করলাম। এবং তার যাওজাহকে (স্ত্রীকে) ভালো করে দিলাম)।
আল্লাহপাক আবু লাহাবের ঘরের দোষকে উন্মোচিত করে বলেছেন- وامرأته حمالة الحطب
(তার ইমরাআহ হলো ইন্ধনবহনকারীনী)।
কারণ আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর মধ্যে নানাদিক থেকে সম্প্রীতি সামঞ্জস্য ছিল না।
সাহিবাহ:
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন শারীরিক ও চিন্তাধারার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন সে স্ত্রীকে সাহিবাহ বলে।
এ কারণে কিয়ামতের বেশিরভাগ দৃশ্যে স্ত্রীর ক্ষেত্রে কুরআনে কারীম সাহিবাহ শব্দ ব্যবহার করেছে।
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- يوم يفر المرأ من اخيه وامه وابيه وصاحبته وبنيه
(সেদিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন মানুষ তার ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পলায়ন করবে)।
কেননা কিয়ামতের ভয়াবহতার কারণে স্বামী-স্ত্রীর চিন্তাধারা ও শারীরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এ নাতিদীর্ঘ লেখায় প্রতীয়মান হয়- ইমরাআত, যাওজাহ ও সাহিবাহ- এ শব্দ ৩টি স্ত্রীর অর্থ দিলেও তাৎপর্যের দিক বিবেচনায় সব স্ত্রীকেই যাওজাহ বলা যাবে না। সব স্ত্রী যাওজাহ হয় না। যাওজাহ এর কোয়ালিটি সবচে ভালো, উৎকৃষ্ট।
কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ক'জন স্ত্রী তার 'যাওজাহ' এর তকমা ধরে রাখতে পারবে- জানি না। তবে এ দুনিয়াতে আমরা যারা বিবাহিত- আমাদের কার কার 'যাওজাহ' আছে- একটু হিসাব মিলানোর চেষ্টা তো করতে পারি? তাই না?
শায়খ সাজিদুর রহমান হাফি. এর ওয়াল থেকে
মন্তব্য করুন