Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুন, ২০২৬ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

৩ বছর পর আল্লাহ তায়ালা ওই ঝুলন্ত চুক্তিপত্রে 'উই পোকা' পাঠালেন।
কুরাইশরা দেখল ইসলাম দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল, বনু হাশেম (রাসূল সা. এর) গোত্রের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
তারা নবীজি (সা.)-কে হত্যার জন্য হাতে পেতে চাইল। কিন্তু আবু তালিব নবীজিকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন।
কুরাইশরা কাবা ঘরে একটি চুক্তিপত্র ঝুলিয়ে দিল। এতে লেখা ছিল,
"বনু হাশেমের সাথে কেউ বিয়ে শাদি করবে না, বেচাকেনা করবে না এবং কোনো ধরনের মেলামেশা করবে না, যতক্ষণ না তারা মুহাম্মদ (সা.)-কে হত্যার জন্য আমাদের হাতে তুলে দেয়।"
বনু হাশেমের সবাই (মুসলিম ও অমুসলিম আত্মীয়রা) 'শিআবে আবি তালিব' নামক এক উপত্যকায় অবরুদ্ধ হলো।
টানা ৩ বছর তাদের কাছে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল। ক্ষুধার জ্বালায় তারা গাছের পাতা এবং শুকনো চামড়া ভিজিয়ে খেতেন। শিশুদের কান্নার আওয়াজ উপত্যকার বাইরে থেকেও শোনা যেত।
আবু তালিব নবীজি সা. এর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই চিন্তিত ছিলেন যে, রাতে তিনি নবীজিকে নিজের বিছানায় শোয়াতেন।
আবার যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত, তখন তিনি নবীজি সা.কে সরিয়ে নিজের ছেলেদের কাউকে নবীজির বিছানায় শুইয়ে দিতেন, যাতে কেউ গুপ্তহত্যা করলে নবীজি সা. এর বদলে তার নিজের ছেলের মৃত্যু হয়।
৩ বছর পর আল্লাহ তায়ালা ওই ঝুলন্ত চুক্তিপত্রে 'উই পোকা' পাঠালেন। উই পোকা পুরো চুক্তিপত্রের সব লেখা খেয়ে ফেলল, শুধু "বিসমিকল্লাহুম্মা" (আল্লাহর নাম) অংশটুকু ছাড়া।
আল্লাহ ওহির মাধ্যমে নবীজি সা.কে এই খবর দিলেন। নবীজি সা. চাচা আবু তালিবকে তা জানালেন।
আবু তালিব কুরাইশদের কাছে গিয়ে বললেন:
"আমার ভাতিজা আমাকে খবর দিয়েছে যে, আল্লাহ তোমাদের চুক্তিপত্রে উই পোকা পাঠিয়েছেন এবং জুলুমের সব কথা মিটিয়ে দিয়েছেন, শুধু আল্লাহর নাম বাকি রেখেছেন।
যদি তাঁর কথা সত্য হয়, তবে তোমরা অবরোধ তুলে নেবে। আর যদি মিথ্যা হয়, তবে আমি তাঁকে তোমাদের হাতে তুলে দেব।"
কুরাইশরা রাজি হলো। তারা কাবা থেকে চুক্তিপত্র নামিয়ে দেখল, সত্যিই আল্লাহর নাম ছাড়া সব লেখা উই পোকা খেয়ে ফেলেছে!
এই অলৌকিক ঘটনা দেখেও আবু জাহেল এবং কিছু নেতা মানতে চাইল না। তারা বলল, "এটা যাদু!"
কিন্তু কুরাইশদের মধ্য থেকেই কিছু বিবেকবান লোক (যেমন হিশাম বিন আমর, মুতইম বিন আদি) এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াল এবং চুক্তি ছিঁড়ে ফেলে অবরোধ তুলে নিল।
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ❤️
(সূত্র: সিয়ারু আলামিন নুবালা)
মন্তব্য করুন