প্রতি বছর মহররম আসে। আশুরার কথা শুনি। রোজার কথা জানি। কিন্তু অনেক প্রশ্ন মনে থেকে যায় — কখন রাখব, কেন দুই দিন, এক দিন রাখলে হবে কি না।
আজকে সব প্রশ্নের উত্তর একসাথে।
প্রশ্ন ১ — আশুরার রোজা কি ফরজ না সুন্নত?
সুন্নত। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। জিজ্ঞেস করলেন কেন। তারা বলল — এই দিনে আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে ফিরআউনের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, তাই আমরা শুকরিয়া হিসেবে রোজা রাখি।
"মুসার সাথে আমাদের সম্পর্ক তোমাদের চেয়ে বেশি।"
এরপর তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদের রাখতে বললেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস ২০০৪)
প্রশ্ন ২ — এই রোজার ফজিলত কতটুকু?
"আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হবে।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২)
শুধু একটি রোজা — আর পুরো এক বছরের ছোট গুনাহ মাফের আশা। এর চেয়ে বড় সুযোগ আর কী হতে পারে?
প্রশ্ন ৩ — কোন তারিখে রোজা রাখব?
১০ মহররম — এটাই আশুরা।
এই বছর — শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬।
তবে শুধু ১০ তারিখে রোজা রাখলে ইহুদিদের সাথে মিল হয়ে যায়। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমি অবশ্যই ৯ তারিখেও রোজা রাখব।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৩৪)
পরের বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু এই হাদিস থেকে আলেমরা বলেছেন —
৯ ও ১০ মহররম — দুই দিন রোজা রাখা সুন্নত।
প্রশ্ন ৪ — শুধু ১০ তারিখ রাখলে কি হবে?
হ্যাঁ, হবে। ফজিলত পাবেন।
তবে ৯+১০ বা ১০+১১ — দুই দিন রাখলে সুন্নতের পূর্ণ অনুসরণ হবে।
আলেমদের মত —
সবচেয়ে উত্তম — ৯ ও ১০ মহররম।
বিকল্প — ১০ ও ১১ মহররম।
শুধু ১০ তারিখও জায়েজ — তবে অসম্পূর্ণ।
এই বছরের তারিখ —
৯ মহররম — বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১০ মহররম — শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রশ্ন ৫ — মহিলারা কি এই রোজা রাখতে পারবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্যই এই রোজার ফজিলত সমান।
তবে হায়েজ বা নিফাসের কারণে রাখতে না পারলে কাজা নেই — এটা নফল রোজা, কাজা ওয়াজিব নয়।
প্রশ্ন ৬ — যে ৩টি ভুল ধারণা অনেকে পোষণ করেন
ভুল এক — "আশুরার দিন বিশেষ খাবার রান্না করতে হয়।"
সহিহ কোনো হাদিসে এর প্রমাণ নেই। এটি প্রচলিত কিন্তু ভিত্তিহীন।
ভুল দুই — "এই দিনে শোক পালন করতে হয়।"
আহলুস সুন্নাহর মতে এই দিনে শোক পালন করা বিদআত। আশুরা শোকের দিন নয় — শুকরিয়া ও রোজার দিন।
ভুল তিন — "শুধু শিয়ারাই আশুরা পালন করে।"
না। আশুরার রোজা সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত — এটি আহলুস সুন্নাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
প্রশ্ন ৭ — এই দিনে রোজা ছাড়া আর কী করব?
বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন।
পরিবারকে নিয়ে রোজা রাখুন।
আশুরার গুরুত্ব সন্তানদের বলুন।
সদকা করুন।
এই দোয়া বেশি বেশি পড়ুন —
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির।
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আল্লাহ প্রতি বছর আশুরা ফিরিয়ে আনেন।
একটা রোজায় এক বছরের গুনাহ মাফের সুযোগ দেন।
এই সুযোগ যেন এবার আমরা কেউ মিস না করি।
রেফারেন্স:
সহিহ বুখারি, হাদিস ২০০৪
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৩৪, ১১৬২
ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
©

Ekram Hossain – ইকরাম হোসাইন
Islamic Reminder | আমল ও ফজিলত
৫৩
৯২ মন্তব্য