Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুন, ২০২৬ ০৬:৩৬ অপরাহ্ণ

আমি-ই সঠিক—এই ভ্রম ভাঙুক - মোঃ মুজিবুর রহমান


আমি-ই সঠিক—এই ভ্রম ভাঙুক

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

আমি-ই সঠিক, বাকিরা ভুল—
এ কেমন অন্ধকার ভাবনা!
এ কেমন অহংকারের দেয়াল,
এ কেমন আত্মগর্বের কামনা!

মানুষ তো মানুষই সবার আগে,
ভুলে ভরা তার জীবনখানি,
জ্ঞান যতই হোক না গভীর,
অপূর্ণতার থাকে গল্প বাণী।

যে বলে, “আমার কথাই শেষ,
আমিই সত্যের একমাত্র পথ,”
সে কি জানে না যুগে যুগে
ভুল করেছে জ্ঞানীও শত?

সূর্য যেমন আলো বিলায়,
তবু কখনো মেঘে ঢাকা পড়ে,
মানববুদ্ধি তেমনি কখনো
ভুলের জালে আবদ্ধ ঘোরে।

এক পক্ষ যদি নিজেকে ভাবে
সম্পূর্ণ সত্যের অধিকারী,
তবে সে ভুলে যায় অজান্তে
নিজের সীমারেখা ভারী।

বিপরীত পক্ষও হতে পারে
কোনো সত্যের বাহক হয়ে,
যে কথাটিকে অবহেলা করি
তা-ই দাঁড়ায় কখনো জয়ী হয়ে।

তাই শুনতে শেখো অন্যের কথা,
মন খুলে দাও আলো বাতাসে,
সত্য কখনো একা আসে না,
ফোটে অনেক মতের আকাশে।

নদী যেমন সাগরে মেশে
হাজার স্রোতের মিলনধারায়,
জ্ঞানও তেমনি পূর্ণতা পায়
বহু মতের সংলাপ-ছায়ায়।

তর্ক যদি হয় সত্যের তরে,
তবে সে তর্ক মহৎ সাধনা,
কিন্তু যদি হয় অহংকারে,
তবে তা শুধু বিভেদ-বেদনা।

নিজেকে প্রশ্ন করো নীরবে—
“
আমার মাঝেও কি ভুল আছে?”
এই একটি প্রশ্নের ভেতরেই
জীবনের বড় শিক্ষা বাঁচে।

আত্মসমালোচনার আয়নাতে
যে দেখে নিজের অন্তর,
সে-ই পারে ভুলকে চিনতে,
সে-ই হয় জ্ঞানের পথিক বর।

অন্যকে দোষারোপ সহজ খুব,
নিজেকে দেখা কঠিন কাজ,
যে নিজেকে জয় করতে পারে,
সফলতার সেখানেই সাজ।

কথার আগে ভাবো একবার,
কেমন লাগে অপর প্রাণে,
আমার ভাষার কঠোর আঘাত
কত ক্ষত রাখে অজানায় গানে।

শ্রদ্ধা দাও ভিন্ন মতকে,
অসম্মান নয় কোনোদিন,
সত্যের পথে হাঁটতে হলে
প্রয়োজন উদার হৃদয়-বীণ।

যে মানুষ নম্রতার আলোয়
চলায় জীবনের প্রতিটি পথ,
তার কাছে দ্বন্দ্ব হার মানে,
শান্তি পায় ক্লান্ত রথ।

পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে,
যেখানে থাকে পারস্পরিক মান,
সেখানে ফোটে সম্প্রীতির ফুল,
সেখানে জাগে কল্যাণ-গান।

স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-স্বজন,
শিক্ষক, ছাত্র, নেতা, জনতা,
সব সম্পর্ক টিকে থাকে
বিনয়, শ্রদ্ধা আর মানবতা।

একজন যদি শুধু বলে—
“
আমিই ঠিক, তুমি ভুল,”
তবে সম্পর্ক শুকিয়ে যায়,
ঝরে পড়ে বিশ্বাসের ফুল।

কিন্তু যদি দুজনেই বলে—
“
চলো দেখি কোথায় সত্য,”
তবে বিভেদের রাত ভেঙে
উঁকি দেয় প্রভাতের নিত্য।

জীবন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়,
যেখানে সবাই শত্রু হয়,
জীবন হলো শিক্ষার পাঠশালা,
যেখানে ভুলও শিক্ষক রয়।

যে ভুলকে স্বীকার করতে পারে,
সে-ই তো সত্যিকার বড়,
অহংকারী মাথা নত না হলেও
ভিতরে থাকে শূন্য ঘর।

ফলভরা বৃক্ষ নত হয়ে থাকে,
শূন্য ডালই উঁচু দোলে,
জ্ঞানী মানুষ বিনয়ী হয়,
অজ্ঞ অহংকারে কথা বলে।

তাই এসো আমরা শপথ করি,
শুনব আগে, বলব পরে,
সত্যকে খুঁজব আন্তরিকতায়,
মানবতার সোনার ভোরে।

নিজের ভুলকে ভয় করব না,
অন্যের গুণকে দেব সম্মান,
সুস্থ বিবেক, নির্মল হৃদয়
হোক আমাদের পরিচয়-জ্ঞান।

হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়,
প্রতিশোধের কালো ধোঁয়া নয়,
পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতু
গড়ুক নতুন আলোর জয়।

যেখানে থাকবে আত্মসমালোচনা,
সেখানে থাকবে উন্নতির পথ,
যেখানে থাকবে নম্র হৃদয়,
সেখানে ফুটবে সত্যের রথ।

এক পক্ষ নয়, উভয় পক্ষই
শিখুক সত্যের সন্ধান,
ভুলের মাঝে শিক্ষা খুঁজে
গড়ুক সুন্দর মানবপ্রাণ।

মানুষ মাত্রেই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়,
এ সত্য রাখি অন্তরে,
নিজেকে শুধরে, অন্যকে বুঝে
চলি আমরা আলোর তরে।

তখন পৃথিবী হবে সুন্দর,
কমবে বিভেদ, কমবে ক্ষয়,
“
আমি-ই সঠিক”—এই ভ্রম ভেঙে
মানবতারই হবে জয়।

হৃদয় জুড়ে জেগে উঠুক
সহনশীলতার নির্মল দীপ,
সত্য, বিনয়, ন্যায় ও প্রেমে
মানবজীবন হোক অনুপম স্নিগ্ধ সীপ।

সকল মতের সম্মিলনে গড়ি
সুন্দর আগামী দিনের দেশ,
নিজেকে শুধরে, অন্যকে বুঝে—
এই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ রেশ।

***

সত্যের সন্ধানে

(আত্মসমালোচনা, সহনশীলতা ও মানবিক প্রজ্ঞা)

মানুষ যখন ভাবতে শেখে—
“
আমিই শুধু সত্যের পথ,
আমার বাণী চূড়ান্ত বাণী,
আমার মতেই জীবনের রথ”—

তখন ধীরে জমে অন্তরে
অহমিকার কালো মেঘ,
বিবেক তখন হারায় আলো,
যুক্তি হয় অবরুদ্ধ বেগ।

সত্য কখনো কারও একার
সম্পত্তি হয়ে থাকে না,
জ্ঞান-সমুদ্রের অতল তলে
একক নৌকা পৌঁছায় না।

একটি চোখে দেখা দৃশ্য
অন্য চোখে ভিন্ন রূপ,
একটি হৃদয় যা বুঝতে পারে,
অন্য হৃদয়ে অন্য রূপ।

তাই তো জ্ঞানী মাথা নত করে,
শোনে সকলের ভাষা,
সত্যের বাগান ফুটে ওঠে
বহু মতের মিলিত আশা।

যে বলে, “হয়তো আমিও
ভুল করতে পারি কোনোখানে,”
প্রজ্ঞার দীপ জ্বলে ওঠে
তারই নির্মল প্রাণে।

নিজেকে প্রশ্ন করার মাঝে
আছে উন্নতির সোপান,
আত্মসমালোচনার আলোয়
উজ্জ্বল হয় মানবপ্রাণ।

অন্যকে শুধু দোষ দিলে
দোষের শেষ কোথাও নেই,
নিজের ভেতর তাকালে তবে
শুদ্ধতার পথ খুঁজে পাই।

ভুল স্বীকার দুর্বলতা নয়,
এ মহত্ত্বের মহা পরিচয়,
যে ভুল বুঝে শুধরে নেয়,
সফলতা তার পিছু রয়।

নদী যেমন বাঁক নেয় পথে,
তবু সাগর পানে ধায়,
মানুষও তেমনি ভুল শুধরে
উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে যায়।

যেখানে আলোচনা খোলা,
যেখানে শ্রদ্ধা থাকে অটুট,
সেখানে বিবাদ হার মানে,
সম্পর্ক হয় আরও সুদৃঢ়।

কঠোর ভাষা আগুন জ্বালে,
মধুর ভাষা আনে শান্তি,
একটি নম্র বাক্যের মাঝে
লুকিয়ে থাকে জীবনের কান্তি।

অহংকারের উঁচু প্রাচীর
মানুষকে মানুষ থেকে সরায়,
বিনয়ের স্নিগ্ধ সবুজ বাগান
হৃদয়কে হৃদয়ের কাছে আনে।

পরিবারে যদি সবাই ভাবে—
“
আমিই শুধু ঠিক,”
তবে সেখানে অশান্তির ঢেউ
করবে প্রতিক্ষণ দিকবিদিক।

কর্মক্ষেত্রে, সমাজজীবনে,
রাষ্ট্রের বৃহৎ অঙ্গনে,
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই
সাফল্য আনে প্রতিক্ষণে।

শিক্ষক যদি শোনেন ছাত্রকে,
ছাত্র যদি মানে গুরুজন,
নেতা যদি শোনেন জনগণকে,
সমৃদ্ধ হয় দেশ ও জীবন।

বন্ধুত্ব থাকে টিকে শুধু
বিশ্বাসের দৃঢ় বাঁধনে,
সেই বিশ্বাস ভেঙে যায় যখন
অহংকার ঢোকে গোপনে।

যে মানুষ নিজের ভুল দেখে,
সে-ই দেখে পৃথিবী স্পষ্ট,
অহংকারী নিজের ছায়াতেই
হারায় দিক আর দৃষ্টি।

ফলভারে নত হয় শাখা,
শূন্য ডাল ওঠে উঁচু হয়ে,
জ্ঞানী যত বড় হন না কেন,
বিনয়ে থাকেন নীরব বয়ে।

এসো তবে শিখি আমরা
শুনতে আগে, বলতে পরে,
বিচার করি সত্যকে নিয়ে,
অহংকারকে রাখি দূরে।

এসো তবে গড়ি সমাজ
যেখানে মতভেদ শত্রু নয়,
ভিন্ন চিন্তা, ভিন্ন অভিমত
নতুন আলোর সম্ভাবনাময়।

যেখানে মানুষ মানুষকে দেখে
শুধু প্রতিপক্ষ রূপে নয়,
বরং সহযাত্রী মনে করে,
সেখানেই মানবতার জয়।

এক পক্ষ নয়, উভয় পক্ষই
সত্যের পথে হতে পারে,
কখনো আমি, কখনো তুমি—
ভুলের দায়ও নিতে পারে।

তাই মনে রাখি প্রতিক্ষণ—
সীমাবদ্ধ সব জ্ঞান-বুদ্ধি,
নম্র হৃদয়, খোলা মনই
মানবতার শ্রেষ্ঠ সমৃদ্ধি।

বিবেক হোক পথের প্রদীপ,
সততা হোক চলার গান,
সহনশীলতা, প্রেম ও শ্রদ্ধায়
ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ।

সত্যের তরে চলুক যাত্রা,
না থাকুক অহমিকার ভয়,
“
আমি-ই সঠিক”—এই ভ্রম ভেঙে
মানবতার হোক মহাজয়।

যেদিন মানুষ শিখবে আবার
নিজেকে আগে বিচার করতে,
সেদিন পৃথিবী শিখবে নতুন
সম্প্রীতির ফুল ফুটাতে।

সেদিন ঘৃণার কালো মেঘ
মুছে যাবে নীল আকাশে,
সেদিন সত্য, প্রেম আর ন্যায়
ফুটবে মানুষের বিশ্বাসে।

তখন ধরণী গাইবে গান—
বিনয় যার মহৎ পরিচয়,
অপরকে বুঝে, নিজেকে শোধরে
সেই মানুষই পায় সত্যের জয়।

***

আগে বিনয়

(আত্মজিজ্ঞাসা, সহনশীলতা ও মানবিক প্রজ্ঞা)

কে বলেছে আমি-ই শুধু
সত্যের একমাত্র দ্বার?
কে বলেছে আমার কথাই
শেষ সিদ্ধান্ত বারংবার?

মানুষ মাত্রই সীমাবদ্ধ,
ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়,
জ্ঞান যতই আকাশ ছুঁক,
অপূর্ণতার থাকে পরিচয়।

একটি চোখে যা ধরা পড়ে,
অন্য চোখে অন্য রূপ,
একটি মনে যে সত্য জাগে,
অন্য মনে ভিন্ন স্বরূপ।

তাই তো পৃথিবী শিখিয়েছে
শত মতের সহাবস্থান,
সত্য খুঁজে পায় মানুষ
মুক্ত চিন্তার সম্মিলন।

যখন মানুষ অহংকারে
নিজেকে ভাবে মহাজ্ঞানী,
তখন তারই দৃষ্টিপথে
নেমে আসে অন্ধকারখানি।

সে আর দেখে না অন্যকে,
শোনে না কোনো যুক্তিবাক্য,
নিজের মতের প্রাচীর তুলে
করে সত্যকেও সংকুচিত।

কিন্তু যিনি বিনয়ী হয়ে
শোনেন সবার মনের কথা,
তার হৃদয়ে প্রস্ফুটিত হয়
প্রজ্ঞার অমলিন ব্যাখ্যা।

বিতর্ক যদি সত্যের তরে,
তবে সে জ্ঞানের সোপান,
বিতর্ক যদি অহমিকার,
তবে সে বিভেদের গান।

অন্যের দোষ দেখার আগে
দেখো নিজের অন্তরখানি,
সেখানে হয়তো লুকিয়ে আছে
অসংখ্য ভুলের কাহিনি।

আত্মসমালোচনার আয়নাতে
যে মানুষটি দেখে মুখ,
সে-ই পারে ভুল সংশোধনে
গড়তে জীবনের সুখ।

ভুল স্বীকার লজ্জা নয়,
ভুল শুধরানো গৌরব,
যে ভুল বুঝে ফিরে আসে,
তারই জীবন মহারব।

নদী যেমন পাহাড় ডিঙিয়ে
চলে সাগরের পানে,
মানুষও তেমনি ভুল পেরিয়ে
উন্নতির গান গানে।

কত রাজা, কত পণ্ডিত,
কত ক্ষমতাবান ব্যক্তি,
নিজের ভুলকে সত্য ভেবে
হারিয়েছে শুভশক্তি।

আবার কত সাধারণ মানুষ
নম্রতার দীপ জ্বেলে,
সত্যের পথে চলেছে ধীরে
মানবতার হাত মেলে।

ফলভরা বৃক্ষ নত হয়ে
দাঁড়ায় বিনয়ের ছায়ায়,
শূন্য ডালই অহংকারে
আকাশ ছোঁয়ার গান গায়।

পরিবারে শান্তি থাকে
যেখানে থাকে শ্রদ্ধাবোধ,
নিজের কথা চাপিয়ে দিলে
জন্ম নেয় অশান্তির রোধ।

স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-স্বজন,
সহকর্মী আর প্রতিবেশী,
পরস্পরের মতকে মানলে
সম্পর্ক হয় আরও বেশি।

শিক্ষক যদি শেখার মানস
নিজের মাঝে রাখেন জাগ্রত,
ছাত্রও পায় চিন্তার ডানা,
জ্ঞান হয় তখন সমৃদ্ধ।

নেতা যদি জনগণের কথা
শ্রদ্ধাভরে শোনেন সদা,
দেশের পথে উন্নয়নের
নতুন সূর্য ওঠে তখনই সুধা।

সত্য কখনো ভয় পায় না
প্রশ্ন কিংবা আলোচনা,
সত্য বরং দীপ্ত হয়
যুক্তি, প্রমাণ, সমালোচনায়।

তাই যে বলে—“শুধু আমিই ঠিক,”
সে জানে না সত্যের রীতি,
সত্যের পথে চলতে হলে
দরকার নম্রতা ও নীতি।

এসো তবে শিখি সবাই
শুনতে আগে, বলতে পরে,
রাগের আগুন নিভিয়ে ফেলি
বিবেকের নির্মল নীরে।

এসো তবে গড়ি সমাজ
যেখানে মতভেদ শত্রু নয়,
ভিন্নতার মাঝেও খুঁজে নেব
ঐক্যের অমলিন জয়।

এক পক্ষ নয়, দুই পক্ষেই
থাকতে পারে ভুলের ছাপ,
এক পক্ষ নয়, দুই পক্ষেই
জাগতে পারে সত্যের আলাপ।

কখনো আমি, কখনো তুমি,
কখনো দুজনেই ভুল,
এই উপলব্ধির আলোতেই
ফোটে বিশ্বাসের ফুল।

যেখানে থাকে আত্মজিজ্ঞাসা,
সেখানে জাগে উন্নতির বাণী,
যেখানে থাকে সহনশীলতা,
সেখানে হাসে মানবজীবনখানি।

বিদ্বেষ নয়, প্রতিহিংসা নয়,
নয় অহংকারের উল্লাস,
সত্য, প্রেম আর বিনয়ের পথে
হোক মানবতার বিকাশ।

হৃদয় জুড়ে জ্বলে উঠুক
সদাচারের শাশ্বত দীপ,
ন্যায়, করুণা, মমতা, প্রেমে
হোক পৃথিবী স্নিগ্ধ-সুন্দর সীপ।

যেদিন মানুষ বুঝবে সত্য—
“
আমি নই সব জ্ঞানের শেষ,”
সেদিন ধরণী ভরে উঠবে
সম্প্রীতির সুবাসে বিশেষ।

সেদিন মানুষ মানুষকে আর
প্রতিপক্ষ বলে ভাববে না,
ভিন্ন মতের মাঝেও খুঁজে নেবে
সত্যের সোনালি ঠিকানা।

তখন আকাশ গাইবে গান,
বাতাস বহবে শান্তির বাণী,
নিজেকে শোধরে অন্যকে বুঝে
উজ্জ্বল হবে মানবপ্রাণী।

সত্যের আগে বিনয় থাক,
বিচারের আগে বিবেক জাগুক,
“
আমি-ই সঠিক”—এই ভ্রম ভেঙে
মানবতার মহাসূর্য উঠুক।

 

***

অহংকারের প্রাচীর ভেঙে

(আত্মসমালোচনা, সত্যসন্ধান ও মানবিক সম্প্রীতি)

আমি কি সত্যের একমাত্র আলো?
আমারই কি শেষ বাণী?
আমার ভাবনাই কি চূড়ান্ত জ্ঞান,
আমার পথেই কি কল্যাণখানি?

যদি তাই হতো, তবে কেন
ভুল করতেন জ্ঞানী-গুণী?
কেন ইতিহাসের পৃষ্ঠায় লেখা
ভ্রান্তির দীর্ঘ কাহিনি?

মানুষ জন্মায় সীমাবদ্ধতা নিয়ে,
ভুল আর শুদ্ধির মাঝে,
শিখতে শিখতে এগিয়ে চলে
জীবনের বিস্তৃত সাজে।

আজ যা সত্য বলে মনে হয়,
কাল তা সংশোধিত হয়,
জ্ঞান নদী সদা বহমান,
স্থিরতা তার পরিচয় নয়।

তাই যে বলে—“আমি-ই সঠিক,
অন্য সবাই ভুল,”
সে অজান্তেই শুকিয়ে ফেলে
বিবেকের কোমল ফুল।

অহংকার এক অদৃশ্য শৃঙ্খল,
বাঁধে মানুষের মন,
নিজের ভুলকে আড়াল করে,
ক্ষীণ করে প্রজ্ঞার ক্ষণ।

সত্য কখনো একা থাকে না,
সে বহুমতের সাথী,
যেমন আকাশ রঙিন হয়
অগণিত নক্ষত্রপাতি।

একটি জানালা দিয়ে দেখা
সমস্ত পৃথিবী নয়,
একটি চোখের উপলব্ধি
সর্বজ্ঞতার পরিচয় নয়।

অন্যের ভেতরও থাকতে পারে
সত্যের দীপ্ত অংশ,
অন্যের যুক্তিও কখনো
খুলে দেয় নতুন দিগন্ত।

তাই শুনতে শেখো মন খুলে,
শুধু উত্তর দেবার তরে নয়,
বোঝার জন্য শোনো মানুষকে—
এ শিক্ষা মহামূল্য জয়।

যে শোনে, সে-ই শেখে;
যে শেখে, সে-ই বড়,
যে বড় হয় বিনয়ের বলে,
তার জীবন হয় মধুর।

আত্মসমালোচনার প্রদীপ জ্বালো,
নিজের অন্তর দেখো,
অন্যের দোষের হিসাবের আগে
নিজের ভুলগুলো লেখো।

প্রতিদিন যদি প্রশ্ন করি—
“
আমি কি ঠিক করেছি?”
তবে অনেক ভুলের পথ
আমরা আগেই রোধ করেছি।

ভুল স্বীকার সাহসের কাজ,
এ দুর্বলতার নয়,
নিজের সীমা চিনতে পারাই
প্রজ্ঞাবানের পরিচয়।

নদী যেমন নত হয়ে চলে
সাগরের বিশাল বুকে,
তেমনি মানুষ নম্র হয়ে
মহত্ত্ব খুঁজে সুখে।

ফলভরা শাখা নত হয়,
খালি ডাল উঁচু থাকে,
জ্ঞানের আলো বিনয় আনে,
অহংকার অন্ধকার ডাকে।

পরিবারের শান্তি গড়ে
পারস্পরিক সম্মানে,
শুধু নিজের মত চাপালে
দুঃখ নামে ঘরে ঘরে।

বন্ধুত্ব টিকে বিশ্বাসে,
সম্পর্ক টিকে মমতায়,
অহংকারের আগুন লাগলে
সবই ভস্ম হয়ে যায়।

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীরা
যদি করে সম্মান,
তবে সফলতার সিঁড়ি গড়ে
সহযোগিতার প্রাণ।

রাষ্ট্র গড়ে ন্যায়ের পথে,
শাসক শোনে জনগণ,
জনগণও দায়িত্ব নিলে
সমৃদ্ধ হয় ভূবন।

শিক্ষক শোনেন ছাত্রের কথা,
ছাত্র মানে শিক্ষার মান,
উভয়ের মাঝে শ্রদ্ধা থাকলে
আলোকিত হয় জ্ঞান।

এক পক্ষ নয়, উভয় পক্ষেই
ভুলের সম্ভাবনা রয়,
এক পক্ষ নয়, উভয় পক্ষেই
সত্যেরও কিছু অংশময়।

কখনো আমি, কখনো তুমি,
কখনো দুজনেই ভুল,
এই উপলব্ধির বাগান জুড়ে
ফোটে সহমর্মিতার ফুল।

বিতর্ক যদি সত্যের জন্য,
তবে তা মহৎ সাধনা,
বিতর্ক যদি অহংকারের,
তবে তা শুধু বেদনা।

শান্ত কণ্ঠে আলোচনা
সমস্যার দুয়ার খোলে,
রাগের আগুন নিভে গিয়ে
সম্প্রীতির বাতি জ্বলে।

ঘৃণা নয়, প্রতিহিংসা নয়,
নয় বিদ্বেষের জয়,
ভালোবাসা, ন্যায় ও বিনয়
মানবতার পরিচয়।

যে হৃদয়ে করুণা থাকে,
সেখানে শান্তি বাস,
যে হৃদয়ে অহংকার জাগে,
সেখানে অশান্তির নিঃশ্বাস।

এসো আমরা শপথ করি—
সত্যকে ভালোবাসব,
নিজের ভুলকে চিনে নিয়ে
প্রতিদিন নিজেকে গড়ব।

শুনব আগে, বলব পরে,
বিবেক হবে পথপ্রদীপ,
সহনশীলতা, শ্রদ্ধা, মমতায়
জ্বলবে মানবতার দীপ।

যেদিন মানুষ বুঝবে এসে—
সত্য কারও একার নয়,
সেদিন পৃথিবী ভরে উঠবে
ঐক্য, প্রেম ও মহাজয়ে।

যেদিন মানুষ বলবে না আর—
“
আমিই শুধু ঠিক,”
সেদিন ধরণী জেগে উঠবে
সম্প্রীতির সুরে দিক্‌বিদিক্‌।

তখন ঘুচবে বিভেদের রাত,
ফুটবে প্রভাতের আলো,
মানুষ মানুষকে চিনবে আবার
ভ্রাতৃত্বের শুভ ভালো।

তখন আকাশ গাইবে গান,
নদী বইবে আনন্দধারা,
সত্য, বিনয়, ন্যায় ও প্রেমে
উজ্জ্বল হবে বিশ্বসারা।

এসো তবে অহংকারের প্রাচীর ভেঙে
মানবতার সেতু গড়ি,
নিজেকে শোধরে, অন্যকে বুঝে
আলোর পথে এগিয়ে চলি।

কারণ সত্যের আগে প্রয়োজন
বিনয়, বিবেক আর শ্রবণ,
আর মানবতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়—
পারস্পরিক সম্মান ও আত্মসংশোধন।

Top of Form

Bottom of Form

 

 

মন্তব্য করুন