Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুন, ২০২৬ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

মহানবী (সাঃ) এর সাধাসিধে জীবন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পুরো জীবনই ছিল অনাড়ম্বর, বিনয়ী এবং চরম সাদাসিধে জীবনযাপনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সমগ্র আরবের শাসক এবং আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হওয়া সত্ত্বেও তিনি পার্থিব ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রেখেছিলেন।নবীজি (সা.)-এর সাদাসিধে জীবনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সাধারণ বাসস্থান ও আসবাবপত্রছোট ঘর: নবীজি (সা.) মদিনার মসজিদের পাশে খেজুর পাতা ও মাটির তৈরি অতি সাধারণ ছোট কামরায় বসবাস করতেন।খেজুর পাতার বিছানা: তিনি দামি খাটের বদলে খেজুর পাতার তৈরি চাটাইয়ে ঘুমাতেন, যার ফলে অনেক সময় তাঁর পিঠে চাটাইয়ের দাগ পড়ে যেত।আসবাবের অভাব: তাঁর ঘরে কোনো বিলাসবহুল আসবাব ছিল না; চামড়ার পানির পাত্র ও সামান্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসই ছিল তাঁর সম্পদ।

২. আহার ও খাদ্যকষ্টচুলা না জ্বলা: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজির ঘরে টানা দুই মাস পর্যন্ত রান্নার জন্য কোনো আগুন জ্বলত না। তাঁরা শুধু খেজুর ও পানি খেয়ে দিন কাটাতেন।ক্ষুধার্ত থাকা: তিনি মদিনার শাসক হওয়ার পরও কখনও টানা তিন দিন পেট ভরে গমের রুটি খাননি। এমনকি মৃত্যুর দিনও তাঁর ঘরে সামান্য খেজুর ও পানি ছাড়া কিছুই ছিল না।সহজ খাবার: তিনি কখনো খাবারের কোনো ত্রুটি ধরতেন না এবং যা পেতেন তা-ই আনন্দের সাথে গ্রহণ করতেন।

৩. নিজের কাজ নিজে করাগৃহস্থালির কাজ: মহানবী (সা.) নিজের জুতো নিজেই সেলাই ও মেরামত করতেন এবং জামা ছিঁড়ে গেলে তালি দিতেন।পরিবারকে সাহায্য: ঘরে অবস্থানকালে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাজে হাত বাড়াতেন, আটা পেষা ও উটের দেখভালসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজ নিজে করতেন।

৪. পোশাক-পরিচ্ছদ ও দানশীলতাসাধারণ পোশাক: তিনি সাধারণ সুতি পোশাক ও চাদর পরিধান করতেন, যাতে কোনো জাঁকজমক থাকত না।উদারতা: নিজের ঘরে খাবার না থাকলেও কোনো সাহায্যপ্রার্থীকে তিনি খালি হাতে ফেরাতেন না, নিজের অংশটুকুও অন্যকে বিলিয়ে দিতেন।সম্পদহীন প্রস্থান: মৃত্যুর সময় তিনি উম্মতের জন্য কোনো দিরহাম, দিনার বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি রেখে যাননি।নবীজি (সা.) বলতেন, "দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক? আমি তো সেই আরোহীর মতো, যে কিছুক্ষণের জন্য একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয় এবং তারপর আবার যাত্রা শুরু করে।" তাঁর এই অনাড়ম্বর জীবন দর্শন বর্তমান মানবজাতির জন্য এক মহান শিক্ষা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ