Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুন, ২০২৬ ০২:০৮ অপরাহ্ণ

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে ।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্য, প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক, নকল ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলের ব্যাপক পার্থক্য দূর করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সমতা, জবাবদিহি ও অভিন্ন মানদণ্ড নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘শিক্ষায় এক দেশ, এক প্যারামিটার’ নীতির কথা তুলে ধরেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। একই দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন বোর্ডে ভিন্ন মানের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে, বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ঝুলে থাকবে, প্রশ্নফাঁস ও নকলের সংস্কৃতি চলবেÑ এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতের সংস্কার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান ও কঠিনতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কোনো বোর্ডকে তুলনামূলক সহজ, আবার কোনো বোর্ডকে কঠিন প্রশ্নের বোর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়ে। তিনি বলেন, ‘এক বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে, অথচ বোর্ডভেদে প্রশ্ন আলাদা হবেÑ এটি যৌক্তিক নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও একই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একক মূল্যায়ন ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। তাই আমরা শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু করতে চাই।’

তিনি জানান, এবার দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার অভিন্ন বিষয়গুলোতেও একই প্রশ্নপত্র প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা হবে সময়মতো : শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অযৌক্তিক সময়ক্ষেপণ কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের স্নাতক কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। তার ভাষায়, ‘আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতেই হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। সময়মতো শিক্ষা সম্পন্ন করে তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথ তৈরি করতে হবে।’

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুবিধার্থে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন আগাম প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও সময়োপযোগী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি স্কুল বা মাদ্রাসায় বছরে বিপুল পরিমাণ এমপিও ব্যয় হয়। অথচ সেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করলে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, ভবিষ্যতে সেই কাঠামো ব্যবহার করে বদলির ব্যবস্থাও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরি বহাল রেখেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোরতা : প্রচলিত নকলের প্রবণতা কমলেও প্রযুক্তিনির্ভর বা ডিজিটাল নকল নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন নকলের ধরন বদলে গেছে। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসাধু উপায়ে পরীক্ষায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই আইন সংশোধনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নফাঁস বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এমনকি তিনি নিজেও বিজি প্রেসে গিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করেছেন।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পথে : জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা, দায়বদ্ধতা ও পেশাগত মর্যাদাবোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, কেন্দ্রসচিব এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য করুন

ব্লগ