সিনিয়র শিক্ষক
২৪ জুন, ২০২৬ ০২:৫১ অপরাহ্ণ
স্থবির ইঞ্জিনের বাহনে বসে প্রধান, সহ:প্রধানের স্বপ্ন যাত্রা
স্থবির ইঞ্জিনের বাহনে বসে প্রধান, সহ:প্রধানের স্বপ্ন যাত্রা
২৪ জুন, ২০২৬
রাষ্ট্র নামক বিশাল ওয়ার্কশপটির ভেতরে সময় যেন স্তব্ধ। চারিদিকে লোহার গন্ধ, মিস্ত্রিদের পায়ের শব্দ আর ধুলোর ঘনঘটা। কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া’ নামক গাড়িটি আজ এক অন্তহীন নিরবতার কবলে। এই ওয়ার্কশপের ইতিহাসে হয়তো অনেক গাড়ি তৈরি হয়েছে, অনেক গন্তব্যে পৌঁছেছে; কিন্তু এই গাড়িটি যেন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—যার ইঞ্জিনে প্রাণ নেই, যার চাকায় মাটি লেগেছে, যার জানালা দিয়ে উঁকি দেয় শুধু হতাশার ধোঁয়া।
যন্ত্রের শরীর, মৃত আত্মা:
গাড়িটি একসময় দাপটে ছুটেছে। এর বডি ছিল উদ্দীপনায় ভরা, ইঞ্জিন ছিল কর্মস্পৃহার দহনে উজ্জ্বল। কিন্তু অযত্ন, উদাসীনতা আর দীর্ঘসূত্রতার জঞ্জাল জমতে জমতে আজ তা পরিণত হয়েছে এক জরাজীর্ণ কাঠামোতে। নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ ছিল ইঞ্জিনের তেল, কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ছিল স্পার্ক প্লাগ—যা আজ সব মরিচার আস্তরণে ঢাকা।
ড্রাইভারের অসহায়ত্ব :
স্টিয়ারিঙের আসনে বসে আছেন শিক্ষামন্ত্রী—ড্রাইভার। তার ডান হাত এক্সিলারেটরে, বাঁ হাত স্টিয়ারিঙে। তিনি বারবার ইগনিশন ঘোরান, অথচ ইঞ্জিনের গর্জন ফিরে আসে না। তার কপালের ঘাম ফোঁটা ফোঁটা স্টিয়ারিঙে গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু নির্দেশের ভাষা যেন বোঝে না এই পুরোনো ইঞ্জিন। তিনি এখন বাস্তবের কঠিন এক প্রশ্নের মুখে: “আমার ইচ্ছা কী যথেষ্ট, নাকি যন্ত্রের ত্রুটি বড়?”
মিস্ত্রিদের গোলকধাঁধা:
প্রক্রিয়া সমাধাকারী মিস্ত্রিরা ব্যস্ত। নাট খোলা, বল্টু ফেলা, হাতুড়ি পেটানো—কিন্তু সমাধান নয়। কেউ বলেন তেলের অভাবে সংকট, কেউ বলেন যন্ত্রাংশ আমদানিতে দেরি। আসলে তারা নিজেরাই এক গোলকধাঁধায় আবদ্ধ; এক জায়গা সারাতে গেলে আরেক জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। তাদের কর্মব্যস্ততা যেন সময়কে জয় করার নয়, বরং সময়কে থমকে রাখার মহড়া।
যাত্রীদের দহন:
পেছনের সিটে আমরা—আটম এনটিয়ারসিএর প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদপ্রার্থীরা। আমাদের হৃদয় এখন আর ব্যক্তিগত নয়; তা যেন একটি সম্মিলিত যন্ত্রণার নাম। সিটগুলো শক্ত, অথচ সময়ের শূল আমাদের অস্বস্তি বাড়ায়। জানালার বাইরে রোদ, ভেতরে নিস্তেজ আলো; গন্তব্য হয়তো কয়েক মাইল দূরে, কিন্তু এই গাড়ির চাকা যেন পাহাড়সম বোঝা।
একটি প্রশ্ন, লক্ষ মুখর:
আমরা সবাই তাকিয়ে থাকি—কবে ইঞ্জিনের ভেতর নতুন দহন হবে? কবে মিস্ত্রিরা তাদের অজুহাতের ঝোলা গুটিয়ে ফেলবে? কবে ড্রাইভারের হাতের ছোঁয়ায় আবারও জীবন ফিরে পাবে এই গাড়ি? নাকি এই ওয়ার্কশপই হবে আমাদের চূড়ান্ত ঠিকানা?
উপসংহার:
অপেক্ষার অমর দলিল
হাতুড়ির শব্দে কি আজ নিয়োগের সুর বাজবে, নাকি আবারও অজুহাতের কালি মাখবে সাফল্যের সাদা কাগজ? ২৪ জুন, ২০২৬—এই তারিখটি শিক্ষক সমাজের জন্য হয়ে থাকবে অপেক্ষার এক অমোঘ দলিল। এই প্রতীক্ষা যে বৃথা যাবে না, তা বলার সাহস কারও নেই।
কিন্তু এটুকু নিশ্চিত: যে ইঞ্জিনে দহন জ্বলে না, সেখানে স্বপ্নের গাড়ি চলতে পারে না। আর তাই আমাদের প্রতীক্ষা শুধু একটি প্রক্রিয়ার জন্য নয়, বরং সেই প্রাণের জাগরণের জন্য—যেখানে কর্মদক্ষতা নয়, আন্তরিকতাই প্রধান প্রজ্বলন।
- মুফিদুল আলম
কক্সবাজার
৪
৪ মন্তব্য