সহকারী অধ্যাপক
২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:২২ পূর্বাহ্ণ
জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে - মোঃ মুজিবুর রহমান
জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে
(সূরা কাহফ ১০৭-১০৮-এর ভাবানুবর্তী
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যারা রাখে অন্তরে ঈমানের দীপ,
সত্যের আলোয় যাদের জীবন অনুপম,
যারা চলে স্রষ্টার বিধানের পথে,
সৎকর্মে সাজায় প্রতিটি ক্ষণ অনুক্ষণ,
যারা মিথ্যার কাছে মাথা নত করে না,
অন্যায়ের সাথে করে না আপস,
মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেয় প্রাণ,
প্রভুর সন্তুষ্টিতেই খুঁজে নেয় উল্লাস—
তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ,
রহমতের আকাশ হতে নেমে আসে বাণী;
সকল ক্লান্তি, সকল অশ্রু, সকল ত্যাগের শেষে
অপেক্ষা করে এক অনন্ত সুখের কাহিনি।
সেই সুখের নাম—জান্নাতুল ফিরদাউস,
সবুজের মাঝে অপরূপ শান্তির নীড়,
যেখানে নেই কোনো ভয়, নেই কোনো বিষাদ,
নেই মৃত্যুর ছায়া, নেই বিচ্ছেদের ভীড়।
সেখানে নদী বয়ে চলে সুধার মতো,
স্বচ্ছ জলের কলতান গায় গান,
দুধের ধারা, মধুর প্রবাহ,
সৌন্দর্যে ভরে দেয় চারিধার প্রাণ।
সেখানে বাতাস বহে প্রশান্তির সুরে,
সেখানে আলো ঝরে চাঁদেরও অধিক,
সেখানে নেই দুঃখ, নেই কোনো হতাশা,
প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দে সমৃদ্ধ অতুলনীয় দ্যুতিময় দীপ।
সেখানে ফুলেরা হাসে রঙের উল্লাসে,
ফল ঝুলে থাকে হাতের নাগালে,
ইচ্ছা করলেই পাওয়া যায় সবকিছু,
কোনো কষ্ট নেই অর্জনের কৌশলে।
সেখানে হৃদয় থাকে নির্মল আনন্দে,
কলুষতার চিহ্ন থাকে না কোথাও,
হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, ক্ষোভ—
চিরতরে হারিয়ে যায় সুখের ছায়াতলে নীরব প্রভাতে।
সেখানে মিলবে প্রিয়জনের সঙ্গ,
যারা ছিল ঈমান ও ন্যায়ের পথে,
সকল বিচ্ছেদ হবে মিলনের উৎসব,
আনন্দের জোয়ার উঠবে হৃদয়ের রথে।
সেখানে নেই বয়সের ভার,
নেই রোগ-ব্যাধির কোনো স্পর্শ,
নেই দুর্বলতা, নেই অক্ষমতা,
নেই জীবনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হর্ষ-বিষাদ।
সেখানে প্রতিটি সকাল নতুন নয়নে,
প্রতিটি সন্ধ্যা নব আনন্দের বারতা,
কিন্তু সময় সেখানে ক্ষয় হয় না,
কারণ সেটি চিরস্থায়ী সুখের মহাকাব্যতা।
মানুষ দুনিয়ায় কত কিছু চায়,
কত স্বপ্ন দেখে, কত আশা বোনে,
কিন্তু ফিরদাউসের এক মুহূর্ত সুখও
দুনিয়ার সব সম্পদের চেয়ে অগণিত গুণে।
দুনিয়ার প্রাসাদ ক্ষয়ে যায় একদিন,
ক্ষমতার মুকুট পড়ে ধুলোর মাঝে,
ধন-সম্পদ, যশ-খ্যাতি সবই ক্ষণিক,
সময় তাদের ইতিহাসে সাজে।
কিন্তু ফিরদাউসের নেয়ামত অমলিন,
সেখানে নেই বিনাশের ভয়,
সেখানে প্রতিটি প্রাপ্তি অনন্ত,
প্রতিটি আনন্দ অবিরামময়।
মানুষ কখনো এক জায়গায় থেকে
পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে,
কিন্তু ফিরদাউসের সৌন্দর্য এমন,
যা হৃদয়কে চিরতরে সুখে রেখে।
সেখানে কেউ বলবে না—
“আমি অন্য কোথাও যেতে চাই”,
কারণ তার চেয়ে উত্তম কোনো স্থান
সৃষ্টি জগতে আর কোথাও নাই।
যেখানে প্রতিটি দৃশ্য বিস্ময়ের,
প্রতিটি বাগান অপরূপ রূপে ভরা,
প্রতিটি প্রাসাদ নূরের আভায় দীপ্ত,
প্রতিটি পথ শান্তির মালায় গড়া।
সেখানে নেই একঘেয়েমির ছায়া,
নেই ক্লান্তির কোনো স্পর্শ,
প্রতিটি ক্ষণ নতুন আনন্দে উদ্ভাসিত,
প্রতিটি অনুভব নবীন হর্ষ।
ফিরদাউস—জান্নাতের শ্রেষ্ঠ স্তর,
যার ঊর্ধ্বে রয়েছে আরশ মহান,
যেখান থেকে প্রবাহিত হয়
চিরসুখের অগণিত নদীর গান।
হে প্রভু!
আমাদের অন্তরে দাও সত্যের আলো,
দাও ঈমানের দৃঢ়তা অবিচল;
সৎকর্মের পথে রাখো অবিরাম,
করো না আমাদের হৃদয় বিকল।
দাও বিনয়, দাও তাকওয়ার শক্তি,
দাও কল্যাণের পথে চলার সাহস,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করি,
সত্যের পথে রাখো অবিচল বিশ্বাস।
আমাদের আমল করো কবুল,
ক্ষমা করো সকল ভুল ও গুনাহ,
তোমার রহমতের ছায়ায় রেখো,
দূর করো অন্তরের সকল ব্যথা।
যেদিন শেষ হবে জীবনের সফর,
নিভে যাবে পৃথিবীর সব আয়োজন,
সেদিন তোমার দয়ায় দাও আশ্রয়
ফিরদাউসের চিরসুন্দর প্রাঙ্গণ।
যেখানে থাকবে না অশ্রুর ইতিহাস,
থাকবে না বিচ্ছেদের কোনো ব্যথা,
শুধু থাকবে সন্তুষ্টির অনন্ত আলো,
আর রবের নৈকট্যের মহিমাময় কথা।
হে আল্লাহ!
আমাদেরকে সেই সৌভাগ্য দান করো,
যেখানে সুখের নেই কোনো শেষ,
যেখানে চিরদিন গাওয়া হবে
রহমত, শান্তি ও জান্নাতের অবিনাশী রেশ।
আমীন।
***
ফিরদাউসের আহ্বান
যারা বিশ্বাসের আলো বুকে
জ্বালিয়ে রাখে নিরন্তর,
যাদের হৃদয় সত্যের পথে
অটল, অবিচল, নির্ভীক ঘর;
যারা সৎকর্মের ফুল ফোটায়
মানবতার প্রতিটি বনে,
যারা রবের সন্তুষ্টি খোঁজে
জীবনের সকল ক্ষণে—
যারা অন্যায় দেখে নীরব নয়,
সত্য বলে দৃপ্ত কণ্ঠে,
যারা দয়ার ছায়া বিলায়
ক্লান্ত, অবহেলিত জনপদে;
যারা বিনয়কে মুকুট করে,
তাকওয়াকে করে পথের দিশা,
যাদের চোখে আখিরাতের স্বপ্ন,
অন্তরে রবের ভালোবাসা—
তাদের জন্য সুসংবাদ আজ,
রহমতের ভাষায় ঘোষণা হয়;
দিগন্ত পেরিয়ে নেমে আসে
অনন্ত সুখের অক্ষয় জয়।
তাদের মেহমানদারির জন্য
রয়েছে ফিরদাউস মহান,
জান্নাতসমূহের শ্রেষ্ঠ উদ্যান,
শান্তির চিরসবুজ স্থান।
ফিরদাউস!
কী অপার মাধুর্য তোমার নামে,
কী অপরূপ মহিমা তোমার পরিচয়ে!
যেখানে দুঃখের ইতিহাস মুছে যায়,
যেখানে আনন্দ ফোটে অনন্ত প্রভায়।
যেখানে নেই মৃত্যুর ভয়,
নেই রোগ, নেই বার্ধক্য,
নেই হতাশার দীর্ঘ ছায়া,
নেই বিচ্ছেদের অশ্রুমাখা অধ্যায়।
সেখানে বয়ে চলে প্রশান্তির নদী,
স্বচ্ছতার নির্মল স্রোত,
যেন আল্লাহর অনুগ্রহধারা
বইছে অবিরত, অনিঃশেষ জ্যোত্স্নার মতো।
সেখানে গাছেরা ফল দেয়
কোনো অপেক্ষা ছাড়াই,
শাখা নত হয়ে অতিথিকে ডাকে
ভালোবাসার পরশ বিলাই।
সেখানে ফুলেরা ঝরে না কখনো,
রঙ ফিকে হয় না কভু,
সৌন্দর্য থাকে চিরনবীন,
যেন সদ্য সৃষ্ট আলোর প্রভু।
সেখানে নেই ক্লান্তি,
নেই পরিশ্রমের ভার,
নেই জীবনের অনিশ্চয়তা,
নেই কোনো অন্ধকার।
সেখানে প্রতিটি সকাল
নতুন আনন্দের বার্তা আনে,
প্রতিটি মুহূর্ত বিস্ময়ে ভরা,
প্রতিটি দৃশ্য হৃদয় টানে।
দুনিয়ার মানুষ কখনো কখনো
একই দৃশ্যে ক্লান্ত হয়,
একই পথে চলতে চলতে
পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়।
কিন্তু ফিরদাউস ভিন্ন এক জগৎ,
সেখানে নেই একঘেয়েমির ছোঁয়া,
প্রতিটি ক্ষণ নতুন সুখে দীপ্ত,
প্রতিটি মুহূর্ত নতুন পাওয়া।
সেখানে কেউ বলবে না—
“অন্য কোথাও যেতে চাই”,
কারণ সেখানে যা আছে,
তার চেয়ে উত্তম কিছু কোথাও নাই।
কেউ খুঁজবে না নতুন ঠিকানা,
খুঁজবে না অন্য কোনো দেশ,
কারণ সব সৌন্দর্যের সমাবেশ
সেখানেই হয়েছে নিঃশেষ।
সেখানে নেই অপূর্ণতা,
নেই কোনো অভাবের হাহাকার,
নেই হারানোর আশঙ্কা,
নেই বিচ্ছেদের অন্ধকার।
সেখানে সুখের সাগর এত গভীর,
ভাষা যার বর্ণনা দিতে অক্ষম,
মানব কল্পনা যার সামনে
নম্র হয়ে দাঁড়ায় নীরব, অবাক, মুগ্ধ।
ফিরদাউস—
যার ঊর্ধ্বে মহান আরশ,
যেখান থেকে প্রবাহিত হয়
জান্নাতের অগণিত নদীর হর্ষ।
ফিরদাউস—
যার প্রতিটি প্রাসাদ নূরের,
প্রতিটি প্রান্তর শান্তির,
প্রতিটি বাতাস রহমতের,
প্রতিটি মুহূর্ত কল্যাণের।
সেখানে থাকবে ঈমানদারদের মিলন,
নবী, শহীদ, সৎকর্মশীলদের সাথে,
ভালোবাসা হবে সীমাহীন,
চিরস্থায়ী আনন্দের প্রভাতে।
সেখানে থাকবে না বিদ্বেষ,
থাকবে না হিংসার দাগ,
সব হৃদয় হবে নির্মল,
সব সম্পর্ক হবে অনুরাগ।
সেখানে রবের সন্তুষ্টি হবে
সকল সুখের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার,
যে সন্তুষ্টির সামনে ম্লান হয়ে যায়
সমস্ত সৌন্দর্য, সমস্ত অহংকার।
হে আমাদের প্রতিপালক!
আমাদের অন্তরে দাও সেই ঈমান,
যে ঈমান ঝড়ে ভাঙে না,
যে ঈমান অন্ধকারে হারায় না প্রাণ।
আমাদের আমলকে করো সৎ,
নিয়তকে করো বিশুদ্ধ,
আমাদের জীবনকে করো কল্যাণময়,
চরিত্রকে করো সুগন্ধময় পুষ্প।
হে দয়াময়!
আমাদের চোখকে হারাম থেকে বাঁচাও,
আমাদের জিহ্বাকে সত্যের পথে চালাও,
আমাদের হৃদয়কে অহংকারমুক্ত করো,
আমাদের আত্মাকে তাকওয়ায় সাজাও।
যেদিন পৃথিবীর অধ্যায় শেষ হবে,
নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ,
সেদিন তোমার রহমতের ছায়ায়
করো না আমাদের নসীব ক্ষীণ ও ক্ষুদ্র।
বরং ডেকে নিও সেই কাফেলায়,
যারা ঈমানে ছিল অটল,
যারা সৎকর্মে ছিল উজ্জ্বল,
যারা তোমার প্রেমে ছিল বিহ্বল।
আর আমাদের দাও সেই স্থান,
যেখানে নেই বিচ্ছেদ, নেই অবসান,
যেখানে চিরকাল ধ্বনিত হবে
রহমত, শান্তি আর কুরআনের গান।
দাও আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউস,
সকল জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নিবাস,
যেখানে অনন্তকাল ধরে ফুটে থাকবে
তোমার দয়ার অমলিন সুবাস।
আমীন।
***
জান্নাতুল ফিরদাউস
(ঈমান, সৎকর্ম
যারা হৃদয়ে ধারণ করে
ঈমানের অমলিন আলো,
যাদের জীবন সত্যের তরে
প্রতিক্ষণে জ্বলে ভালো;
যারা দেখে ক্ষণিক পৃথিবী
একটি পরীক্ষার পথ,
আর আখিরাতের অনন্ত জীবনে
রাখে বিশ্বাস অবিরত;
যারা প্রভুর সন্তুষ্টির জন্য
ত্যাগ করে লোভের ডাক,
অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
রক্ষা করে সত্যের হক;
যারা সৎকর্মের বীজ বপন করে
মানবতার উর্বর ক্ষেতে,
দুঃখীর চোখের জল মুছে দেয়
করুণার কোমল হাতে;
যারা বিনয়ের অলংকার পরে,
অহংকার রাখে দূরে,
যারা তাকওয়ার দীপ জ্বালিয়ে
চলে আল্লাহর নূরে—
তাদের জন্য রয়েছে সুখবর,
রয়েছে মহিমান্বিত পুরস্কার,
রয়েছে চিরপ্রশান্ত নিবাস,
রয়েছে অনন্ত সুখের দ্বার।
সে দ্বারের নাম—ফিরদাউস,
জান্নাতসমূহের শ্রেষ্ঠ স্থান,
যার উপরে আরশে আজীম,
যার নিচে শান্তির অবিরাম গান।
সেখানে নেই মৃত্যুর ছায়া,
নেই বিচ্ছেদের কোনো ভয়,
নেই অশ্রু, নেই দীর্ঘশ্বাস,
নেই বেদনার পরিচয়।
সেখানে নেই রোগের আঘাত,
নেই বার্ধক্যের ভার,
নেই ক্লান্তি, নেই অবসাদ,
নেই জীবনের অন্ধকার।
সেখানে প্রতিটি বাতাস বয়ে আনে
প্রশান্তির সুরভি,
প্রতিটি দৃশ্য মনে জাগায়
অসীম আনন্দের ছবি।
নদীগুলো বয়ে চলে নীরব,
কলকল সুরের তানে,
যেন রহমতের গান গেয়ে যায়
চিরসুখের অবসানে।
গাছের শাখা নত হয়ে থাকে,
অতিথির প্রতীক্ষায়,
ফলসমূহ হাসিমুখে ডাকে
আনন্দের আবেশে হায়।
সেখানে ফুল ঝরে না কখনো,
সৌন্দর্য হয় না ম্লান,
প্রতিটি মুহূর্ত নবীন হয়ে
জাগায় বিস্ময়ের গান।
দুনিয়ার সুখ সীমাবদ্ধ,
শেষ হয় সময়ের সাথে,
ফিরদাউসের সুখ অফুরন্ত,
বহে অনন্ত প্রভাতে।
দুনিয়ার প্রাসাদ ভেঙে পড়ে,
রাজমুকুট হারায় জ্যোতি,
ফিরদাউসের মহিমার কাছে
সবই ক্ষণিক স্মৃতি।
মানুষ পৃথিবীতে একদিন
এক দৃশ্যে হয় ক্লান্ত,
একই পথে হাঁটতে হাঁটতে
মন হয় অবসন্ন।
কিন্তু ফিরদাউসের প্রতিটি ক্ষণ
নতুন আনন্দে ভরা,
প্রতিটি সকাল নতুন বিস্ময়,
প্রতিটি সন্ধ্যা সোনাঝরা।
সেখানে একঘেয়েমি নেই,
নেই পরিবর্তনের সাধ,
কারণ প্রতিটি মুহূর্ত সেখানে
নব নব নেয়ামতের স্বাদ।
কেউ বলবে না—
“চল অন্য কোথাও যাই”,
কারণ তার চেয়ে সুন্দর কোনো স্থান
সৃষ্টির মাঝে আর নাই।
কেউ চাইবে না নতুন ঠিকানা,
কেউ খুঁজবে না নতুন দেশ,
কারণ সব সৌন্দর্যের সমাবেশ
সেখানেই হয়েছে নিঃশেষ।
সেখানে হৃদয় হবে নির্মল,
বিদ্বেষ থাকবে না আর,
হিংসা, অহংকার, ক্রোধের আগুন
নিভে যাবে বারবার।
সেখানে ভালোবাসা হবে
চিরস্থায়ী ও গভীর,
সেখানে মিলন হবে
আনন্দের মহাসমুদ্র-তীর।
সেখানে নবীগণ থাকবেন,
সিদ্দীক ও শহীদগণ,
সৎকর্মশীলদের কাফেলা হবে
নূরের মতো উজ্জ্বল মন।
সেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে
সবচেয়ে মহান দান,
যার তুলনায় ম্লান হয়ে যায়
জগতের সব সম্মান।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দাও
ঈমানের অবিনাশী দীপ,
যে দীপ ঝড়েও নিভবে না,
যে দীপ রাখবে হৃদয় সজীব।
আমাদের কর্ম করো বিশুদ্ধ,
নিয়ত করো নির্মল,
আমাদের জীবন করো সুন্দর,
চরিত্র করো উজ্জ্বল।
আমাদের চোখে দাও লজ্জা,
কথায় দাও সত্যের বল,
অন্তরে দাও বিনয়ের ফুল,
কর্মে দাও কল্যাণের ফল।
যখন জীবনের সূর্য ডুববে,
শেষ হবে দুনিয়ার মেলা,
তখন তুমি ধরো আমাদের হাত,
করো না একাকী বেলা।
তোমার রহমতের ছায়াতলে
ডেকে নিও সেদিন,
ঈমানদারদের সেই দলে
যারা পেয়েছে মুক্তির ঋণ।
আর আমাদের দিও আশ্রয়
ফিরদাউসের সবুজ বনে,
যেখানে অনন্ত সুখের নদী
বয়ে চলে ক্ষণে ক্ষণে।
যেখানে নেই বিদায়বেলা,
নেই কোনো বিচ্ছেদ-শোক,
নেই হারানোর ভয়,
নেই বেদনার লোক।
যেখানে শান্তি চিরন্তন,
যেখানে আনন্দ অফুরান,
যেখানে রবের নৈকট্যে
পূর্ণ হবে সকল প্রাণ।
সেই ফিরদাউসের আকাঙ্ক্ষায়
আমরা তুলি দু’হাত,
হে দয়াময়, কবুল করো
আমাদের জীবনের মুনাজাত।
আমাদের দাও সেই মহাসৌভাগ্য,
সেই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার,
যেখানে অনন্তকাল ধরে
জ্বলবে রহমতের অমর অগ্নিস্ফুলিঙ্গের হার।
আমীন।
ফিরদাউস
বিশ্বাস যারা হৃদয়ে রাখে
নক্ষত্রের মতো জ্বেলে,
সত্য যাদের পথের প্রদীপ
অন্ধকারের কূলে কূলে;
যারা জানে জীবন মানে
কেবল ভোগের নাম নয়,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে
ভালোবাসার বীজ বপনময়;
যারা স্রষ্টার অমোঘ বাণী
বুকে ধারণ করে নীরব,
যাদের চোখে জেগে থাকে
আখিরাতের প্রভাত-উৎসব;
যারা অন্যায় দেখে নত নয়,
সত্যের পাশে দাঁড়ায় দৃঢ়,
যারা দয়ার স্নিগ্ধ ছায়া
ছড়িয়ে দেয় নিঃস্ব-নিঃসহায় ঘিরে;
যারা লোভের ঝড়ের মুখে
সততার পতাকা তোলে,
যারা আমলকে ফুলের মতো
নিষ্কলুষ হৃদয়ে গড়ে—
তাদের জন্য সুখবর আসে
আরশপানে উঠা বাণী,
রহমতের সুবিশাল আকাশ
খুলে দেয় আশার জানি।
বলা হয়—
এসো, হে ঈমানের যাত্রী,
এসো, হে সৎকর্মের দল,
আজ তোমাদের জন্য সাজানো
অনন্ত সুখের অমর ফল।
তোমাদের মেহমানদারির তরে
রয়েছে ফিরদাউস মহান,
জান্নাতসমূহের শ্রেষ্ঠ উদ্যান,
সৌন্দর্যের চূড়ান্ত সম্মান।
ফিরদাউস!
নামটির মাঝেই যেন
সবুজ স্বপ্নের সুর,
যেন শান্তির মহাসমুদ্র,
যেন আলোয় ভরা নূর।
সেখানে দুঃখের কোনো ইতিহাস
লেখা হবে না আর,
অশ্রুর নদী শুকিয়ে যাবে
চিরতরে একবার।
সেখানে মৃত্যুর পদধ্বনি
কখনো শোনা যাবে না,
সময়ের করাল গ্রাস এসে
কাউকে ছুঁতে পারবে না।
সেখানে বার্ধক্য নেই,
নেই শরীরের অবসাদ,
নেই রোগের দীর্ঘশ্বাস,
নেই কষ্টের প্রতিবাদ।
সেখানে প্রতিটি বাতাস
প্রশান্তির গান গায়,
প্রতিটি সুবাস হৃদয়জুড়ে
অনন্ত আনন্দ ছড়ায়।
সেখানে নদীগুলো বয়ে চলে
স্বচ্ছতার মহিমায়,
কলকল ধ্বনি যেন ওঠে
রহমতের প্রার্থনায়।
সেখানে বৃক্ষের ডালে ডালে
নূরের ছায়া দোলে,
ফলসমূহ অতিথিদের তরে
অপেক্ষা করে কোলে।
ফুলেরা সেখানে ঝরে না,
সৌন্দর্য হারায় না কভু,
প্রতিটি পাপড়ি যেন বহন করে
মহান স্রষ্টার প্রভু-প্রদত্ত রূপভূ।
সেখানে আলো নিভে না,
সেখানে সুখ ফুরায় না,
সেখানে ভালোবাসার নদী
কোনোদিন শুকায় না।
দুনিয়ার প্রাসাদ ভেঙে পড়ে,
রাজদণ্ড মাটিতে মেশে,
ক্ষমতা, খ্যাতি, ধনসম্পদ
একদিন স্মৃতিতে রেশে।
কিন্তু ফিরদাউসের নেয়ামত
চিরনবীন, চিরউজ্জ্বল,
সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত
নতুন আনন্দে সমুজ্জ্বল।
মানুষ পৃথিবীতে ক্লান্ত হয়,
একই দৃশ্য দেখে দেখে,
একই পথে হাঁটতে হাঁটতে
স্বপ্ন অন্য পথে ডাকে।
কিন্তু ফিরদাউস অন্য এক জগৎ,
অন্য এক সৌন্দর্যের দেশ,
যেখানে বিস্ময়ের ভাণ্ডার
কখনো হয় না নিঃশেষ।
প্রতিটি সকাল নতুন রঙে
মুগ্ধতার দ্বার খোলে,
প্রতিটি সন্ধ্যা সোনালি সুরে
হৃদয়ের আকাশ দোলে।
সেখানে কেউ বলবে না—
“অন্য কোথাও যেতে চাই”,
কারণ তার চেয়ে সুন্দর স্থান
সৃষ্টির মাঝে আর নাই।
কেউ খুঁজবে না নতুন ঠিকানা,
নতুন কোনো প্রান্তর,
কারণ সমস্ত সৌন্দর্য এসে
মিশেছে সেখানে অন্তরান্তর।
সেখানে থাকবে না অভাব,
থাকবে না অপূর্ণতার বেদনা,
থাকবে না হারানোর ভয়,
থাকবে না বিচ্ছেদের যন্ত্রণা।
হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার,
সব মুছে যাবে চিরতরে,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে
বিশুদ্ধ হৃদয়ের নূরে।
সেখানে মিলবে নবীদের সান্নিধ্য,
সিদ্দীক, শহীদ, সৎজন,
যাদের জীবন ছিল সত্যের আলো,
যাদের কর্ম ছিল পুণ্যবন।
সেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে
সবচেয়ে বড় পুরস্কার,
যার সামনে ম্লান হয়ে যায়
সব সৌন্দর্য, সব অহংকার।
সেখানে হৃদয় বলবে—
“এটাই তো চাওয়া ছিল”,
সেখানে আত্মা বলবে—
“এ পথেই তো চলা ছিল”।
সেখানে সময় থেমে যাবে না,
তবু ক্লান্তিও আসবে না,
অনন্তকাল প্রবাহিত হবে,
তবু আনন্দ ফুরাবে না।
প্রতিটি ক্ষণ হবে নতুন,
প্রতিটি অনুভব নবীন,
প্রতিটি দৃষ্টি হবে বিস্ময়ময়,
প্রতিটি প্রাপ্তি রঙিন।
হে পরম করুণাময়!
আমাদের অন্তরে দাও
ঈমানের সেই দীপ্ত শিখা,
যা ঝড় এলেও নিভে না।
আমাদের কর্মকে করো সুন্দর,
নিয়তকে করো পবিত্র,
আমাদের চরিত্র করো এমন
যেন সুবাসিত পুষ্পচিত্র।
আমাদের অহংকারমুক্ত করো,
বিনয়ের অলংকার দাও,
সত্যের পথে অবিচল থাকার
দৃঢ় সাহস হৃদয়ে দাও।
আমাদের চোখে তাকওয়া দাও,
কথায় দাও প্রজ্ঞার দীপ,
আমাদের জীবন করো কল্যাণময়,
আমাদের অন্তর করো সজীব।
যখন নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ,
শেষ হবে পৃথিবীর অধ্যায়,
তখন তোমার অশেষ দয়ায়
হারিয়ে যেতে দিও না হায়।
ডেকে নিও সেই কাফেলায়,
যারা ঈমানে ছিল অটল,
যারা সৎকর্মে ছিল উজ্জ্বল,
যাদের হৃদয় ছিল নির্মল।
আর দান করো সেই মহা-নিবাস,
সেই অনন্ত সুখের বন,
যেখানে শান্তি অফুরন্ত,
যেখানে শেষ নেই কোনোক্ষণ।
দান করো জান্নাতুল ফিরদাউস—
সকল জান্নাতের শ্রেষ্ঠ স্থান,
যেখানে চিরকাল জেগে থাকে
রহমত, নূর আর কল্যাণ।
যেখানে কেউ স্থানান্তর চায় না,
চায় না অন্য কোনো ঠিকানা,
কারণ সেখানেই পূর্ণ হয়ে যায়
মানব-আকাঙ্ক্ষার সব গাথা।
সেই ফিরদাউসের আশায় আজ
তুলি আমরা দু'হাত,
হে রব্বুল আলামিন!
কবুল করো এ মুনাজাত।
আমীন।
৭
৭ মন্তব্য