সহকারী শিক্ষক
২৫ জুন, ২০২৬ ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ
একটি শিয়ালের প্রতি মায়া
একটি শিয়ালের প্রতি মায়া
প্রিয় সিয়াম,
আশা করছি ভালো আছ। ভালো থাকারই কথা। তবে যতটুকু মনে হয়, তোমাদের বাড়িতে এখন বিদ্যুৎ নেই। তাই বোধহয় গরমের সঙ্গে একটু যুদ্ধ করেই সময় কাটাতে হচ্ছে।
আজ জীবনে প্রথমবার তোমাকে চিঠি লিখতে বসলাম। তুমি হয়তো আমার লেখার সব কথা বুঝবে না। কারণ তুমি এখনও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ো। তবে বাংলা তো বেশ ভালোই পড়তে পারো, তাই ভরসা করে লিখছি।
কিছুদিন আগে রাত প্রায় দুটার দিকে মনটা খুব খারাপ ছিল। তাই একা একা হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে তোমাদের বাড়ির কাছাকাছি চলে গেলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তায় তিনটি শিয়াল। এর আগে শিয়াল দেখেছি, কিন্তু এত কাছ থেকে কখনও নয়। মাত্র হাত দুয়েক দূরে!
আমাকে দেখে দুটো শিয়াল দ্রুত সরে গেল। কিন্তু একটি গেল না। সে দাঁড়িয়ে রইল। আমিও দাঁড়িয়ে রইলাম। আমাদের চোখে চোখ পড়ল। জানো সিয়াম, সেই মুহূর্তে আমি তার চোখের মধ্যে এক অদ্ভুত মায়া দেখতে পেলাম। এমন মায়া, যা আজকাল মানুষের চোখেও খুব কম দেখি।
আমি তাকিয়ে রইলাম, সেও তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ পরে শিয়ালটি রাস্তায় বসে পড়ল। প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো শিকার করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু না, সে শান্তভাবেই বসে রইল। তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন আমি অন্য এক জগতে হারিয়ে গেলাম।
সেদিনের পর থেকে দিনের বেলায় অনেকবার তাকে খুঁজেছি। কিন্তু দিনের আলোয় শিয়ালকে কোথায় আর পাওয়া যায়! তবুও আমার মনে হয়, হয়তো তোমাদের বাড়ির পেছনের বাগানেই কোথাও সে আছে।
সিয়াম, আমার সেই শিয়ালটাকে খুব দরকার। যদি কোনোদিন তাকে দেখতে পাও, তবে একটু খোঁজ নিও। জানো, তাকে আমার খুব ভালো লেগে গেছে। মনে হয়, যদি তাকে কাছে রাখতে পারতাম, তাহলে কত যত্নই না করতাম! নিয়ম করে খাওয়াতাম, তার জন্য আলাদা থাকার জায়গা বানাতাম, তাকে ভালোবাসতাম। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসা দিলে মানুষ যেমন আপন হয়, প্রাণীরাও তেমনি আপন হয়ে যায়।
তুমি হয়তো ছোট মানুষ, তাই আমার এই কথাগুলোর গভীরতা পুরোটা বুঝবে না। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো—মায়া বড় অদ্ভুত জিনিস। একবার কারও প্রতি মায়া জন্মালে তাকে ভুলে থাকা খুব কঠিন।
যদি কখনও সেই মায়াভরা চোখের শিয়ালটিকে দেখতে পাও, তাহলে মনে মনে তাকে আমার কাছে দিও।
ইতি
তোমার স্যার
১৪
২৪ মন্তব্য