Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ জুন, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ণ

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা -মোঃ মুজিবুর রহমান

 

 


লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনার ভারে
কত মন নীরবে কাঁদে অন্ধকারে,
হাসিমুখের আড়ালে জমে দীর্ঘশ্বাস,
বুকভরা ব্যথা নিয়ে চলে সর্বনাশ।

কেউ দেখে না চোখের গভীর ক্ষতচিহ্ন,
কেউ বোঝে না হৃদয়ের নিভৃত আর্তনাদ,
মানুষের ভিড়েও মানুষ থাকে একা,
নীরব বেদনার ভাষা হয় না অনুবাদ।

কত অবহেলা এসে দরজায় দাঁড়ায়,
কত অপমান এসে আত্মাকে জড়ায়,
কত আপনজনও দূরে সরে যায়,
স্বার্থের হিসাব কষে সম্পর্ক ভেঙে যায়।

তবুও হে প্রভু!
তোমার আকাশ জুড়ে আশার আলো জ্বলে,
তোমার রহমতের স্রোত বয়ে চলে অবিরলে,
তোমার দয়ার দুয়ার কখনো হয় না বন্ধ,
তোমার করুণার কাছে সব দুঃখ নিরানন্দ।

হে আল্লাহ!
লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাও,
যে লাঞ্ছনা মানুষের মর্যাদা ভেঙে দেয়,
যে অপমান হৃদয়ের আকাশে
কালো মেঘ হয়ে ছেয়ে যায়।

গঞ্জনা থেকে বাঁচাও,
যে তিরস্কার অন্যায়ভাবে
মানুষের আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেয়,
যে কটু বাক্য হৃদয়ে
বিষাক্ত কাঁটার মতো বিঁধে রয়।

বঞ্চনা থেকে বাঁচাও,
যে বঞ্চনা অধিকার কেড়ে নেয়,
ন্যায়কে পদদলিত করে,
সত্যকে আড়াল করে
মিথ্যার আসন উঁচু করে।

হে দয়াময়!
আমাদের এমন শক্তি দাও,
যেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করি,
অহংকারের কাছে আত্মসমর্পণ না করি,
অসত্যের পথে কখনো না চলি।

আমাদের ধৈর্য দাও,
যে ধৈর্য ঝড়ের মধ্যেও স্থির থাকে,
যে ধৈর্য অশ্রুর মাঝেও
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখে।

আমাদের তাকওয়া দাও,
যে তাকওয়া হৃদয়কে পবিত্র করে,
চরিত্রকে সুগন্ধময় ফুলের মতো
সবার কাছে প্রিয় করে তোলে।

হে রব্বুল আলামিন!
আমাদের অন্তরে এমন আলো দাও,
যা ঘৃণাকে ভালোবাসায় বদলে দেয়,
প্রতিশোধকে ক্ষমায় রূপান্তরিত করে,
হতাশাকে আশার সোপানে পৌঁছে দেয়।

যখন মানুষ উপহাস করে,
তখন তুমি সম্মান দাও;
যখন মানুষ দূরে সরিয়ে দেয়,
তখন তুমি কাছে টেনে নাও;
যখন মানুষ দরজা বন্ধ করে,
তখন তুমি রহমতের দুয়ার খুলে দাও।

কত নবী অপমানিত হয়েছেন,
তবুও সত্যের পথ ছাড়েননি;
কত সৎ মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন,
তবুও ন্যায়ের পতাকা নামাননি।

তাঁদের জীবনের শিক্ষা বলে—
অপমান চিরস্থায়ী নয়,
অন্যায় চিরজয়ী নয়,
অন্ধকার চিরদিন থাকে না,
দুঃখও অনন্তকাল টিকে না।

একদিন সূর্য ওঠে,
একদিন রাত ফুরোয়,
একদিন শুষ্ক ডালে
নতুন কুঁড়ি জাগে।

তাই হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়ে আশা দাও,
যেন হতাশা গ্রাস করতে না পারে;
আমাদের চিত্তে সাহস দাও,
যেন ভয় আমাদের বন্দী করতে না পারে।

আমাদের মুখে সত্যের ভাষা দাও,
হাতে সেবার শক্তি দাও,
চোখে ন্যায়ের দৃষ্টি দাও,
হৃদয়ে মানবতার আলো দাও।

যেন আমরা কাউকে লাঞ্ছিত না করি,
কাউকে গঞ্জনা না দিই,
কাউকে বঞ্চিত না করি,
কাউকে তুচ্ছ না ভাবি।

যেন আমাদের আচরণ হয়
মমতার নদী,
ভালোবাসার বৃক্ষ,
সহমর্মিতার ছায়া,
কল্যাণের বাতিঘর।

আমরা যেন মানুষের সম্মান রক্ষা করি,
দুর্বলের পাশে দাঁড়াই,
অসহায়ের চোখের জল মুছে দিই,
অধিকারহারা মানুষের কণ্ঠস্বর হই।

হে মহান প্রভু!
যে হৃদয় ভেঙে গেছে,
তাকে জোড়া লাগাও;
যে মন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে,
তাকে শক্তি দাও;
যে আত্মা হতাশায় ডুবে গেছে,
তাকে আশার আলো দেখাও।

অহংকার থেকে বাঁচাও,
হিংসা থেকে বাঁচাও,
বিদ্বেষ থেকে বাঁচাও,
লোভ থেকে বাঁচাও,
অন্যায়ের সহযোগী হওয়া থেকে বাঁচাও।

আমাদের জীবনকে করো
সততার আলোকস্তম্ভ,
বিনয়ের পুষ্পবাগান,
ন্যায়ের মহাসড়ক,
মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

হে পরম করুণাময়!
যখন পৃথিবীর পথে
লাঞ্ছনা এসে দাঁড়াবে,
তুমি আমাদের মর্যাদা রক্ষা করো।

যখন গঞ্জনার ঝড় বইবে,
তুমি আমাদের ধৈর্যের নোঙর দাও।

যখন বঞ্চনার অন্ধকার নামবে,
তুমি আমাদের ন্যায়ের আলো দাও।

যখন হৃদয় ভেঙে পড়বে,
তুমি আমাদের ঈমানের শক্তি দাও।

যখন চারপাশে কেউ থাকবে না,
তখন তুমি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও।

হে আল্লাহ!
আমাদের এমন জীবন দাও,
যেখানে থাকবে সত্যের দীপ্তি,
সততার সৌরভ,
বিনয়ের মহিমা,
মানবতার উষ্ণতা,
এবং তোমার সন্তুষ্টির অনন্ত আলো।

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা থেকে
তুমি আমাদের রক্ষা করো;
অপমানের অন্ধকার থেকে
সম্মানের প্রভাতে পৌঁছে দাও।

দুঃখের সাগর পেরিয়ে
শান্তির তীরে নিয়ে যাও;
পরীক্ষার আগুন পেরিয়ে
সফলতার বাগানে পৌঁছে দাও।

আর আমাদের শেষ প্রার্থনা—

হে আল্লাহ!
মানুষের কাছে নয়,
তোমার কাছেই চাই মর্যাদা;
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী প্রশংসা নয়,
চাই তোমার চিরস্থায়ী সন্তুষ্টি।

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা থেকে বাঁচাও,
সত্য, ধৈর্য, তাকওয়া ও সম্মানের পথে চালাও।
আমিন।

***

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা—
মানবজীবনের কত পুরোনো ব্যথার নাম!
কখনো তা ঝরে চোখের জলে,
কখনো তা জমে থাকে নীরব দীর্ঘশ্বাসে,
কখনো বা হৃদয়ের গভীরতম গহ্বরে
অদৃশ্য ক্ষতের মতো বহমান থাকে অবিরাম।

কত মানুষ হাসির মুখোশ পরে,
অন্তরে লুকিয়ে রাখে শত অপমান;
কত মানুষ লোকচক্ষুর আড়ালে
অশ্রুতে ভেজায় রাত্রির নিস্তব্ধ প্রহর।
কেউ দেখে না,
কেউ বোঝে না,
কেউ শোনে না
হৃদয়ের নিভৃত কান্নার শব্দ।

কখনো আপনজনের অবহেলা,
কখনো স্বজনের তির্যক বাক্য,
কখনো সমাজের নির্মম বিচার,
কখনো ক্ষমতার অন্যায় ব্যবহার—
মানুষকে ক্ষতবিক্ষত করে,
আত্মমর্যাদাকে করে রক্তাক্ত।

তবুও হে প্রভু!
পৃথিবীর সকল দুয়ার বন্ধ হলেও
তোমার রহমতের দুয়ার কখনো বন্ধ হয় না।
মানুষ দূরে সরিয়ে দিলেও
তোমার করুণার ছায়া দূরে সরে না।
মানুষ ভুল বুঝলেও
তুমি অন্তরের ভাষা জানো।
মানুষ বিচার করলেও
তুমি ন্যায়বিচারের মহান অধিপতি।

তাই আজ
নতশিরে, বিনম্র হৃদয়ে,
অশ্রুসজল নয়নে
তোমার দরবারে করি নিবেদন—

হে আল্লাহ!
লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাও,
যে লাঞ্ছনা মানুষের সম্মানকে ভেঙে দেয়,
যে অপমান হৃদয়ের আকাশে
বিষণ্নতার কালোমেঘ ছড়িয়ে দেয়।

গঞ্জনা থেকে বাঁচাও,
যে গঞ্জনা সাহসকে দুর্বল করে,
আত্মবিশ্বাসকে নিঃশেষ করে,
স্বপ্নের ডানাকে ভেঙে দেয়।

বঞ্চনা থেকে বাঁচাও,
যে বঞ্চনা ন্যায়কে আড়াল করে,
অধিকার কেড়ে নেয়,
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেয়।

হে পরম করুণাময়!
আমাদের এমন শক্তি দাও,
যাতে আমরা অন্যায়ের সামনে
সত্যের পতাকা উঁচু রাখতে পারি।
এমন ধৈর্য দাও,
যাতে ঝড়ের মাঝেও
বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে পারি।

এমন প্রজ্ঞা দাও,
যাতে ক্রোধের আগুনে
বিবেককে হারিয়ে না ফেলি।
এমন বিনয় দাও,
যাতে সামান্য অর্জনে
অহংকারে অন্ধ না হয়ে যাই।

হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!
যখন মানুষ উপহাস করে,
তখন তুমি আমাদের মর্যাদা দিও।
যখন মানুষ অবজ্ঞা করে,
তখন তুমি আমাদের সম্মান বাড়িয়ে দিও।
যখন মানুষ কষ্ট দেয়,
তখন তুমি আমাদের হৃদয়ে
ক্ষমার ফুল ফুটিয়ে দিও।

আমরা জানি,
পরীক্ষা ছাড়া উন্নতি নেই,
ধৈর্য ছাড়া সাফল্য নেই,
ত্যাগ ছাড়া মহত্ত্ব নেই,
আর তোমার সন্তুষ্টি ছাড়া
কোনো অর্জনেরই প্রকৃত মূল্য নেই।

কত নবী নিগৃহীত হয়েছেন,
কত সত্যবাদী মানুষ অপমানিত হয়েছেন,
কত সৎ ব্যক্তি অবিচারের শিকার হয়েছেন—
তবুও তাঁরা সত্যের পথ ছাড়েননি।
তাঁদের ধৈর্য ইতিহাসকে আলোকিত করেছে,
তাঁদের ঈমান যুগে যুগে
মানবতাকে পথ দেখিয়েছে।

হে আল্লাহ!
আমাদেরও সেই ধৈর্য দাও,
যা অপমানকে শক্তিতে রূপ দেয়;
সেই প্রজ্ঞা দাও,
যা প্রতিশোধকে ক্ষমায় রূপান্তরিত করে;
সেই তাকওয়া দাও,
যা মানুষকে তোমার নৈকট্যে পৌঁছে দেয়।

যেন আমরা কাউকে লাঞ্ছিত না করি,
কাউকে অবজ্ঞা না করি,
কাউকে বঞ্চিত না করি,
কাউকে অপমান না করি।

যেন আমাদের বাক্য হয় মধুর,
আচরণ হয় সৌন্দর্যময়,
চরিত্র হয় সুবাসিত ফুলের মতো,
হৃদয় হয় সহমর্মিতার সাগর।

আমরা যেন দুর্বলের আশ্রয় হই,
অসহায়ের সহায় হই,
দুঃখীর সান্ত্বনা হই,
বঞ্চিতের কণ্ঠস্বর হই।

হে মহান রব!
যে হৃদয় ভেঙে গেছে,
তাকে জুড়ে দাও।
যে মন ক্লান্ত,
তাকে প্রশান্তি দাও।
যে আত্মা দুঃখে ভারাক্রান্ত,
তাকে আশার আলো দাও।

আমাদের জীবনকে করো
সততার দীপশিখা,
বিনয়ের বাগান,
ন্যায়ের মিনার,
মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যখন অপমানের ঝড় উঠবে,
তুমি আমাদের স্থিরতা দিও।
যখন অন্যায়ের অন্ধকার নামবে,
তুমি আমাদের সত্যের আলো দিও।
যখন বঞ্চনার কাঁটা বিঁধবে,
তুমি আমাদের ধৈর্যের ফুল দিও।

যখন পৃথিবী নির্দয় হবে,
তুমি আমাদের প্রতি দয়ালু হও।
যখন মানুষ ভুলে যাবে,
তুমি আমাদের স্মরণে রেখো।
যখন চারপাশ শূন্য হয়ে যাবে,
তুমি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেও।

হে পরম দয়ালু!
আমাদের অন্তরে এমন বিশ্বাস দাও,
যা কোনো অপমানে ভাঙে না;
এমন আশা দাও,
যা কোনো হতাশায় নিভে না;
এমন ভালোবাসা দাও,
যা ঘৃণাকে জয় করে;
এমন চরিত্র দাও,
যা মানুষের হৃদয়ে স্থান পায়।

আমরা চাই না ক্ষণস্থায়ী খ্যাতি,
চাই না অহংকারের অলংকার,
চাই না মিথ্যা প্রশংসার মুকুট—
আমরা চাই তোমার সন্তুষ্টি,
তোমার রহমত,
তোমার ক্ষমা,
তোমার নৈকট্য।

হে আল্লাহ!
লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করো,
গঞ্জনা থেকে রক্ষা করো,
বঞ্চনা থেকে রক্ষা করো।

অপমানের অন্ধকার পেরিয়ে
সম্মানের আলোয় পৌঁছে দাও।
দুঃখের মরুভূমি পেরিয়ে
শান্তির উদ্যান দেখাও।
পরীক্ষার আগুন পেরিয়ে
সফলতার সুধা পান করাও।

আর আমাদের জীবনের প্রতিটি প্রহরে
এই প্রার্থনা জাগ্রত থাকুক—

হে আল্লাহ!
মানুষের বিচারে নয়,
তোমার বিচারে মর্যাদাবান হতে চাই।
মানুষের প্রশংসায় নয়,
তোমার সন্তুষ্টিতে ধন্য হতে চাই।
মানুষের সম্মানের আগে
তোমার সন্তুষ্টিকেই শ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করতে চাই।

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা থেকে বাঁচাও প্রভু;
ঈমান, ধৈর্য, তাকওয়া, ন্যায় ও মানবতার পথে
আজীবন পরিচালিত করো।

***

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনা—
এ তিনটি শব্দ নয় শুধু,
মানবহৃদয়ের গভীরতম দীর্ঘশ্বাস,
অশ্রুসিক্ত ইতিহাসের অনুচ্চারিত অধ্যায়,
নীরব রাত্রির বেদনামাখা উপাখ্যান।

কত শত মানুষ
অভিমানের প্রদীপ বুকে নিয়ে
দিনের পর দিন পথ চলে,
কত শত হৃদয়
অপমানের ভার বহন করে
নিঃশব্দে সময় গোনে।

কেউ দেখে বাহির,
কেউ দেখে না অন্তর;
কেউ শোনে হাসির শব্দ,
কেউ শোনে না কান্নার সুর।

হে মহান প্রতিপালক!
তুমি তো জানো—
কত অবহেলা জমে আছে বুকে,
কত অপমান জমে আছে স্মৃতিতে,
কত বঞ্চনা জমে আছে জীবনের পাতায়।

যখন স্বপ্ন ভেঙে যায়,
যখন আপনজন দূরে সরে যায়,
যখন সত্য মিথ্যার ভিড়ে হারিয়ে যায়,
যখন ন্যায় অপেক্ষা করে
অন্যায়ের অট্টহাসির সামনে,
তখন হৃদয় আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—

হে আল্লাহ!
এহেন হেনস্থা থেকে বাঁচাও প্রভু।

তুমি ছাড়া কার কাছে যাব?
কার কাছে বলব বুকের গোপন কথা?
কার কাছে রাখব দুঃখের ভার?

তুমি তো অশ্রুর ভাষা বোঝো,
তুমি তো হৃদয়ের গোপন শব্দ শোনো,
তুমি তো মানুষের অদেখা ক্ষতও জানো।

হে দয়াময়!
আমাদের এমন ঈমান দাও,
যা অপমানেও নত হয় না;
এমন ধৈর্য দাও,
যা ঝড়েও ভেঙে পড়ে না;
এমন তাকওয়া দাও,
যা অন্ধকারেও পথ হারায় না।

যখন মানুষ বিদ্রূপ করে,
আমাদের জিহ্বায় ধৈর্যের বাণী দাও।
যখন মানুষ অবজ্ঞা করে,
আমাদের হৃদয়ে ক্ষমার আলো দাও।
যখন মানুষ বঞ্চিত করে,
আমাদের আত্মায় সন্তুষ্টির সুধা ঢেলে দাও।

হে প্রভু!
আমরা জানি,
পৃথিবীর বিচার চূড়ান্ত নয়,
মানুষের মতামত শেষ কথা নয়,
ক্ষমতার আসন স্থায়ী নয়,
সম্পদের অহংকার চিরন্তন নয়।

চিরন্তন কেবল তোমারই বিচার,
অবিনশ্বর কেবল তোমারই রাজত্ব,
অমলিন কেবল তোমারই সন্তুষ্টি।

তাই আমাদের হৃদয়ে
দুনিয়ার মোহ নয়,
আখিরাতের আশা জাগিয়ে দাও।

যেন অপমানে আমরা ভেঙে না পড়ি,
যেন কষ্টে আমরা পথ না হারাই,
যেন বঞ্চনায় আমরা অন্যায় না করি,
যেন ক্রোধে আমরা বিবেক না হারাই।

হে আল্লাহ!
আমাদেরকে এমন মানুষ বানাও,
যে অপমানের প্রতিশোধ নেয় না,
বরং চরিত্রের মহিমায় উত্তর দেয়।

এমন মানুষ বানাও,
যে কষ্ট পেয়ে কষ্ট দেয় না,
বরং ভালোবাসা বিলায়।

এমন মানুষ বানাও,
যে নিজে বঞ্চিত হয়েও
অন্যকে বঞ্চিত করে না।

এমন মানুষ বানাও,
যে নিজে লাঞ্ছিত হয়েও
অন্যের সম্মান রক্ষা করে।

আমাদের জীবন হোক
বিনয়ের বিদ্যালয়,
সততার আলোকবর্তিকা,
ধৈর্যের উদ্যান,
তাকওয়ার সুবাসিত ফুলবাগান।

হে রব্বুল আলামিন!
যখন পৃথিবীর পথে
লাঞ্ছনার কাঁটা বিছিয়ে থাকবে,
তুমি আমাদের পায়ের নিচে
ধৈর্যের মখমল বিছিয়ে দিও।

যখন গঞ্জনার ঝড় বইবে,
তুমি ঈমানের নোঙর দিও।

যখন বঞ্চনার মরুভূমি
জীবনকে শুষ্ক করে তুলবে,
তুমি রহমতের ঝরনা প্রবাহিত করো।

যখন কেউ পাশে থাকবে না,
তুমি আমাদের সঙ্গী হও।

যখন কেউ বুঝবে না,
তুমি আমাদের বুঝে নাও।

যখন কেউ মূল্য দেবে না,
তুমি আমাদের মর্যাদা দাও।

যখন কেউ ভালোবাসবে না,
তুমি তোমার রহমতের ছায়ায় ঢেকে রাখো।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে অহংকারমুক্ত করো,
আমাদের চিত্তকে হিংসামুক্ত করো,
আমাদের জীবনকে মিথ্যামুক্ত করো,
আমাদের কর্মকে রিয়ামুক্ত করো।

আমাদের মুখে সত্যের ভাষা দাও,
চোখে ন্যায়ের দৃষ্টি দাও,
হাতে কল্যাণের শক্তি দাও,
হৃদয়ে মানবতার আলো দাও।

আমরা যেন মানুষের দুঃখ বুঝি,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াই,
বিপন্নের হাত ধরি,
অধিকারহীনকে অধিকার ফিরিয়ে দিতে শিখি।

আমরা যেন কারও চোখের জল না হই,
কারও দীর্ঘশ্বাসের কারণ না হই,
কারও বঞ্চনার উৎস না হই,
কারও অপমানের উপলক্ষ না হই।

বরং আমরা হই
আশার প্রদীপ,
ভালোবাসার ভাষা,
শান্তির দূত,
মানবতার সেবক।

হে করুণাময়!
যে হৃদয় কাঁদে,
তাকে সান্ত্বনা দাও;
যে মন ভেঙে যায়,
তাকে দৃঢ়তা দাও;
যে আত্মা ক্লান্ত,
তাকে প্রশান্তি দাও।

দুঃখের রাত্রি শেষে
সুন্দর প্রভাত দাও।
পরীক্ষার অগ্নিপথ শেষে
সফলতার উদ্যান দাও।
অপমানের ছায়া শেষে
সম্মানের সূর্যোদয় দাও।

আর আমাদের শেষ মিনতি—

হে আল্লাহ!

লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাও,
গঞ্জনা থেকে বাঁচাও,
বঞ্চনা থেকে বাঁচাও।

অন্যায় থেকে বাঁচাও,
অহংকার থেকে বাঁচাও,
হতাশা থেকে বাঁচাও।

আমাদের জীবনকে
ঈমানের আলোয় আলোকিত করো,
ধৈর্যের শক্তিতে সমুন্নত করো,
তাকওয়ার সৌন্দর্যে সুশোভিত করো,
মানবতার মহিমায় মহীয়ান করো।

মানুষের কাছে নয়,
তোমার কাছেই চাই সম্মান;
দুনিয়ার প্রশংসা নয়,
চাই তোমার সন্তুষ্টি।

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনার অন্ধকার পেরিয়ে
তোমার রহমতের আলোয় পৌঁছে দাও, হে পরম দয়ালু।

আমিন

মন্তব্য করুন