প্রধান শিক্ষক
২৬ জুন, ২০২৬ ০৯:১৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির একাল ও সেকাল
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীন ও বর্তমান রুপের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মূলত উদ্দেশ্য, কাঠামোগত ও পদ্বতিগত ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। সেকালের প্রতিষ্ঠানগুলো ছিলো মূলত গুরুগৃহ বা ধর্মশালার মতো। যেখানে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল মানবিক ও সমাজ সংস্কার বা সেবা।
বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংগঠিত স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়েছে। রাষ্ট্র ছাড়া প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো আয়মূলক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে।
সেকালঃ
উদ্দেশ্যঃ উদ্দেশ্য ছিল মানবিক ও সমাজ সংস্কার বা সেবা।
শিক্ষার ধরণঃ এটি ছিল ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীভিত্তিক। একজন গুরু তার শিষ্যদের সরাসরি শিক্ষা দিতেন।
পদ্বতিঃ মূলত মৌখিক ও হাতে কলমে শিক্ষা দিতেন।
বিষয়বস্তুঃ ধর্মীয়, নৈতিক জীবন ধারণের জন্য মৌলিক বিষয়গুলো ছিল শিক্ষার মূল লক্ষ্য।
একালঃ
উদ্দেশ্যঃ রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সার্বজনীন মানব সম্পদ তৈরী করা। যেখানে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সন্তান পড়ার সুযোগ পায়। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো আয়মূলক বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। যেখানে সমাজের উচু শ্রেণির সন্তানরা পড়ার সুযোগ পায়।
শিক্ষার ধরণঃ প্রাতিষ্ঠানিক সুসংগঠিত এবং নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম ভিত্তিক।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোঃ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা ইত্যাদি বিভিন্ন স্তরের।
শিক্ষাদান পদ্বতিঃ আধুনিক পদ্বতি, মাল্টিমিডিয়া এবং সংশ্লিস্ট বিবিধ উপকরণ।
বিষয়বস্তুঃ প্রথাগত বিষয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষক শিক্ষার্থী সম্পর্কঃ সেকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক ও সমীহ ছিল তা বর্তমানে ভিন্ন ধরণের। তবে শিক্ষকের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার সুযোগঃ বর্তমানে রাষ্ট্র সব শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা সেকালের তুলনায় অনেক বেশি সহজলভ্য।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীন ও বর্তমানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো শিক্ষার সুযোগ, কাঠামোগত ও উদ্দেশ্য। ধনীরা এখন ধনীর জন্য স্কুল বানায়, আয় করে শিক্ষা থেকে। তবে রাষ্ট্র আপামর জনতার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর।
১
২ মন্তব্য