সহকারী অধ্যাপক
২৮ জুন, ২০২৬ ০৬:৩৭ অপরাহ্ণ
কষ্ট—সফলতার পাথেয়-২ (সূরা আল-ইনশিকাক ৮৪:৬-এর ভাবধারায় -মোঃ মুজিবুর রহমান
কষ্ট—সফলতার পাথেয়-২
(সূরা আল-ইনশিকাক ৮৪:৬-এর ভাবধারায়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
"হে মানুষ!
তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে অবিরাম শ্রম করে চলেছ;
অবশেষে তাঁরই সাক্ষাৎ লাভ করবে।"
হে মানুষ!
কোথায় তোমার যাত্রার শেষ?
কোথায় থামবে এই ক্লান্ত পদচারণা?
কোন সাগরে গিয়ে মিশবে
তোমার সকল হাসি-কান্না,
সকল আশা-নিরাশা,
সকল সংগ্রাম আর সাধনা?
জানো কি?
তোমার প্রতিটি শ্বাস,
প্রতিটি অশ্রুবিন্দু,
প্রতিটি ঘামের ফোঁটা,
প্রতিটি নীরব দীর্ঘশ্বাস—
সবই এগিয়ে চলেছে
এক অনিবার্য গন্তব্যের দিকে।
সেই গন্তব্য—
তোমার রব।
কষ্ট মানেই অন্ধকার নয়,
কষ্ট মানেই শেষ নয়।
কষ্ট হলো ভোরের আগে
রাত্রির দীর্ঘ প্রতীক্ষা।
বীজ যদি না মাটির বুকে
অন্ধকারে চাপা পড়ে,
সবুজ অঙ্কুর কি কখনো
সূর্যের দিকে মুখ তোলে?
নদী যদি না ভাঙে পাহাড়,
পায় কি সে সাগরের ঠিকানা?
মেঘ যদি না বুক ভরে কাঁদে,
সবুজ হয় কি ধানের খেত?
তেমনি মানুষও
সংগ্রামের আগুনে দগ্ধ হয়ে
বিশুদ্ধ হয়,
পরিণত হয়,
পূর্ণতা পায়।
শ্রম মানুষকে ছোট করে না,
বরং মহৎ করে।
যে হাত পরিশ্রমে রুক্ষ,
সে হাতই সম্মানের।
ঘামে ভেজা কপাল
অলসতার অলংকারের চেয়ে
অনেক বেশি দীপ্তিমান।
যে মানুষ
সৎ পথে অটল থাকে,
হাল ছাড়ে না,
অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায় না—
সে-ই প্রকৃত বিজয়ী।
কারণ
সফলতা কেবল প্রাপ্তির নাম নয়,
সফলতা হলো
সততার পথে অবিচল থাকার নাম।
মানুষ ভাবে—
সে নিজের জন্যই ছুটছে।
কিন্তু অদৃশ্য সত্য হলো,
প্রতিটি পদক্ষেপ,
প্রতিটি সিদ্ধান্ত,
প্রতিটি দিন,
প্রতিটি বছর—
তাকে নিয়ে যাচ্ছে
তার মহান রবের সামনে।
একদিন
থেমে যাবে
সময়ের ঘড়ি।
বন্ধ হবে
সব হিসাবের খাতা।
রয়ে যাবে শুধু
আমল,
সত্য,
আর ন্যায়ের বিচার।
সেদিন
কোনো পরিচয় নয়,
কোনো ক্ষমতা নয়,
কোনো সম্পদ নয়—
কেবল কর্মই কথা বলবে।
দুঃখ শেখায় ধৈর্য।
অভাব শেখায় সংযম।
ব্যর্থতা শেখায় অধ্যবসায়।
অপমান শেখায় বিনয়।
বিচ্ছেদ শেখায় ভালোবাসার মূল্য।
অসুস্থতা শেখায়
সুস্থতার কৃতজ্ঞতা।
প্রতিটি পরীক্ষা
আসলে
একটি নতুন দরজা।
যে বুঝতে পারে,
সে পরিণত হয়।
যে ধৈর্য ধরে,
সে উন্নত হয়।
যে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে,
সে কখনো একা থাকে না।
সফলতা কেবল
উঁচু অট্টালিকা নয়।
সফলতা
অঢেল সম্পদও নয়।
সফলতা
অগণিত অনুসারীর সংখ্যাও নয়।
সফলতা হলো—
অন্যায় না করা।
অসহায়কে সাহায্য করা।
সত্য কথা বলা।
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।
অহংকার ত্যাগ করা।
মানুষকে ভালোবাসা।
আর
নিজ রবের সন্তুষ্টি অর্জন করা।
মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়।
কিন্তু মৃত্যু
শেষ নয়।
মৃত্যু হলো
এক দরজা,
যার ওপারে
চিরন্তন জীবন।
যে সৎকর্ম নিয়ে আসে,
তার জন্য মৃত্যু
ভয়ের নয়—
প্রিয় সাক্ষাতের আহ্বান।
আর যে অন্যায়ের বোঝা বয়ে আনে,
তার কাছে
মৃত্যু হয়
আতঙ্কের নাম।
তাই
আজই নিজেকে প্রস্তুত করো।
কোনো অশ্রুই
অকারণে ঝরে না।
কোনো দীর্ঘশ্বাসই
হারিয়ে যায় না।
কোনো সৎকর্ম
বৃথা হয় না।
প্রতিটি ধৈর্য,
প্রতিটি ত্যাগ,
প্রতিটি ক্ষমা,
প্রতিটি নীরব কান্না—
রহমতের ভাণ্ডারে
সংরক্ষিত থাকে।
মানুষ ভুলে যায়,
কিন্তু
আল্লাহ ভুলে যান না।
হে পথিক!
ক্লান্ত হয়ো না।
যে পথ
সত্যের,
সে পথ দীর্ঘ হলেও
নিরাপদ।
যে পথ
অন্যায়ের,
সে পথ সহজ হলেও
ধ্বংসের।
অতএব
ধৈর্যের প্রদীপ হাতে
চলতে থাকো।
অন্ধকারকে ভয় করো না।
কারণ
সূর্য ওঠার আগে
রাতই সবচেয়ে গভীর হয়।
জাগো মানুষ!
জাগো বিবেক!
জাগো মানবতা!
লোভের দেয়াল ভেঙে
সত্যের পথে এসো।
অহংকারের মুকুট খুলে
বিনয়ের পোশাক পরো।
অন্যের চোখের জল
মুছে দিতে শিখো।
কারণ
যে হৃদয়
মানুষকে ভালোবাসে,
সে হৃদয়ই
রবের ভালোবাসার যোগ্য হয়।
একদিন
সব পথ শেষ হবে।
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
সব হিসাব খুলে যাবে।
তখন
হাসবে কেউ,
কাঁদবে কেউ।
কারও মুখ
পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে।
কারও মুখ
অনুশোচনার ছায়ায় ঢেকে যাবে।
তাই আজ,
এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে,
সৎকর্মের বীজ বপন করো।
যাতে
মহাসাক্ষাতের দিনে
তোমার হৃদয়
ভয়ে নয়,
আনন্দে ভরে ওঠে।
কষ্ট যদি আসে,
তাকে ঘৃণা করো না।
সংগ্রাম যদি ডাকে,
পিছু হটো না।
পরিশ্রম যদি কঠিন হয়,
অলসতার কাছে আত্মসমর্পণ করো না।
কারণ—
কষ্ট চরিত্র গড়ে,
পরিশ্রম স্বপ্ন গড়ে,
ধৈর্য ভবিষ্যৎ গড়ে,
ঈমান মানুষ গড়ে,
আর সৎকর্ম
আখিরাত গড়ে।
জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাস
রবের দিকেই এগিয়ে চলে।
তাই চলি আমরা
সততার আলো হাতে,
ধৈর্যের শক্তি বুকে,
মানবতার ভালোবাসা হৃদয়ে,
ঈমানের দীপ্তি প্রাণে।
যেন শেষ প্রহরে,
মহামিলনের সেই অনন্ত মুহূর্তে,
আমাদের ক্লান্ত জীবনের সমস্ত পরিশ্রম
রবের সন্তুষ্টিতে রূপ নেয়,
আর আমরা শুনতে পাই—
"হে প্রশান্ত আত্মা!
তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো—
তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট, তুমিও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।
অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও,
এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।"
কষ্ট—সফলতার পাথেয
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু,
সকল শক্তির উৎস, সকল জ্ঞানের আলো—
তোমারই নামে শুরু করি আজ
জীবনের এই অনন্ত কাব্য।
তুমি আকাশে নক্ষত্র জ্বালাও,
পৃথিবীতে বসন্তের ফুল ফোটাও,
শুকনো মাটিতে বৃষ্টির সুধা বর্ষাও,
আবার মানুষের হৃদয়ে
আশার প্রদীপও জ্বালিয়ে দাও।
তোমার ইচ্ছায় সূর্য ওঠে,
তোমার আদেশে সন্ধ্যা নামে,
তোমার হুকুমে জীবন শুরু,
তোমারই ডাকে জীবনের অবসান।
হে রব!
এই ক্ষুদ্র কণ্ঠে দাও সত্যের ভাষা,
এই কলমে দাও প্রজ্ঞার দীপ্তি,
এই হৃদয়ে দাও বিনয়,
যেন প্রতিটি শব্দ
মানুষকে তোমার দিকেই আহ্বান করে।
হে মানুষ!
তুমি কি ভেবেছ,
কেবলই মুঠো মাটি,
অস্থি-মাংস আর রক্তের সমষ্টি তুমি?
না,
তোমার বুকে আছে
দায়িত্বের এক মহাসমুদ্র,
বিবেকের এক উজ্জ্বল প্রদীপ,
আর অনন্ত জীবনের এক অমোঘ আহ্বান।
তোমার জন্ম
কেবল বেঁচে থাকার জন্য নয়;
তোমার আগমন
একটি মহান পরীক্ষার জন্য।
তুমি পথিক,
পৃথিবী তোমার সরাইখানা,
সময় তোমার সঙ্গী,
কর্ম তোমার পাথেয়,
আর আখিরাত
তোমার চিরন্তন গন্তব্য।
কষ্টকে ভয় কোরো না।
ঝড় যেমন বৃক্ষকে
গভীর শিকড় গাঁথতে শেখায়,
তেমনি দুঃখ
মানুষকে দৃঢ় হতে শেখায়।
আগুনে না পুড়লে
স্বর্ণ খাঁটি হয় না;
ছেনির আঘাত না পেলে
পাথর ভাস্কর্যে রূপ নেয় না;
ঝড় না এলে
নাবিকের দক্ষতা প্রকাশ পায় না।
তেমনি,
সংগ্রামহীন মানুষ
অভিজ্ঞ হয় না,
কষ্টহীন হৃদয়
পরিণত হয় না।
ঘামের প্রতিটি বিন্দু
ইবাদতের সুবাসে ভরে ওঠে,
যখন তা সততার পথে ঝরে।
পরিশ্রমী হাত
দরিদ্র হলেও সম্মানিত;
অলস হাত
সম্পদে ভরা হলেও শূন্য।
কোদালের আঘাতে
মাটি যেমন ফসল দেয়,
তেমনি অধ্যবসায়ের আঘাতে
জীবন ফল দেয়।
কষ্টের পথ
দীর্ঘ হতে পারে,
কিন্তু সে পথ
মিথ্যার শর্টকাটের চেয়ে
অসংখ্য গুণ মহৎ।
মানুষ ভাবে—
সে নিজের ঘর গড়ছে,
নিজের স্বপ্ন সাজাচ্ছে,
নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে।
কিন্তু সে জানে না,
প্রতিটি দিন,
প্রতিটি পদক্ষেপ,
প্রতিটি সিদ্ধান্ত,
তাকে ধীরে ধীরে
তার রবের সান্নিধ্যের দিকে
এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সময়ের প্রতিটি সূর্যোদয়
একটি পৃষ্ঠা উল্টায়,
প্রতিটি সূর্যাস্ত
জীবনের একটি অধ্যায় বন্ধ করে।
শেষ পর্যন্ত
খোলা থাকবে কেবল
আমলের গ্রন্থ।
সেখানে থাকবে না
অহংকারের ভাষণ,
থাকবে না বাহ্যিক পরিচয়;
থাকবে কেবল
সত্য,
ন্যায়,
আর কর্মের সাক্ষ্য।
যে অপেক্ষা করতে জানে,
সে-ই প্রকৃত বিজয়ী।
যে কাঁদতে কাঁদতেও
সত্য আঁকড়ে ধরে,
সে কখনো পরাজিত হয় না।
ধৈর্য
নিষ্ক্রিয়তা নয়;
ধৈর্য হলো
সত্যের পথে অবিচল থাকার শক্তি।
অন্ধকার যত গভীর,
ভোর তত নিকট।
রাত যত দীর্ঘ,
সূর্যোদয় তত মহিমান্বিত।
তাই,
হে মানুষ!
পথ যতই দুর্গম হোক,
সত্যের পথ ছেড়ে যেয়ো না।
একদিন
সব শব্দ থেমে যাবে।
সব কোলাহল স্তব্ধ হবে।
সমস্ত মুখোশ খুলে পড়বে।
মানুষ দাঁড়াবে
নিজ কর্মের সামনে,
নিজ বিবেকের সামনে,
নিজ প্রতিপালকের সামনে।
সেদিন
কোনো সুপারিশ
অন্যায়কে রক্ষা করবে না,
কোনো সম্পদ
অসত্যকে ঢাকবে না।
সেদিন
হাসবে সেই হৃদয়,
যে পৃথিবীতে কেঁদেও
ধৈর্য হারায়নি।
সফল হবে সেই জীবন,
যে জীবনের প্রতিটি কষ্ট
রবের সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গিত ছিল।
চলো,
কষ্টকে আপন করি।
চলো,
পরিশ্রমকে ইবাদত বানাই।
চলো,
সততাকে পতাকা করি,
মানবতাকে সঙ্গী করি,
ঈমানকে হৃদয়ের আলো করি।
কারণ
জীবনের প্রতিটি শ্বাস
রবের দিকে এগিয়ে যায়।
প্রতিটি অশ্রু
তাঁরই জ্ঞানে সংরক্ষিত থাকে।
প্রতিটি সৎকর্ম
তাঁরই দরবারে অমর হয়ে থাকে।
হে মানুষ!
চলতে থাকো—
ক্লান্ত হয়ো না,
নিরাশ হয়ো না,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করো না।
তোমার কষ্ট বৃথা যাবে না।
তোমার শ্রম হারিয়ে যাবে না।
তোমার ধৈর্য বিস্মৃত হবে না।
কারণ
তোমার প্রতিটি পদক্ষেপ
তোমাকে নিয়ে যাচ্ছে
সেই মহান সাক্ষাতের দিকে—
যেখানে ন্যায়ের পূর্ণতা,
করুণার পরিপূর্ণতা,
এবং চিরন্তন সফলতার ঘোষণা অপেক্ষা করছে।
***
হে পথিক!
পথকে দোষ দিও না,
যদি সে পথ কাঁটায় ভরা হয়।
কাঁটার বুক চিরেই
গোলাপ আপন রূপে ফোটে,
ঝড়ের বুক ভেদ করেই
ঈগল ডানা মেলে আকাশ ছোঁয়।
যে নদী থেমে যায়,
সে পচে যায়;
যে নদী বাধা ভেঙে চলে,
সে-ই সাগরের বুকে
নিজের পরিচয় খুঁজে পায়।
তেমনি মানুষের জীবনও—
স্থবিরতার জন্য নয়,
অবিরাম সাধনার জন্য।
হে মানুষ!
তোমার প্রতিটি দিন
একটি পরীক্ষা,
প্রতিটি সকাল
একটি নতুন অঙ্গীকার,
প্রতিটি সন্ধ্যা
একটি আত্মসমালোচনার আয়না।
আজ যে ঘাম ঝরে,
আগামীকাল সেই ঘামই
সম্মানের মুকুট হয়ে ওঠে।
আজ যে চোখ অশ্রুতে ভিজে,
আগামীকাল সেই চোখেই
কৃতজ্ঞতার আলো জ্বলে।
তুমি যখন অন্যায়ের প্রলোভন
অস্বীকার করো,
তখন তুমি কেবল
একটি পাপ এড়াও না—
নিজ আত্মাকে
আরও নির্মল করো।
তুমি যখন ক্ষুধার মধ্যেও
হালালকে আঁকড়ে ধরো,
তখন তোমার নীরবতা
আকাশে ইবাদতের সুর হয়ে ওঠে।
হে সংগ্রামী মানুষ!
পৃথিবী তোমাকে
বারবার পরীক্ষা নেবে।
কখনো অভাব দিয়ে,
কখনো প্রাচুর্য দিয়ে,
কখনো সম্মান দিয়ে,
কখনো অপমান দিয়ে।
সব পরীক্ষাই
একটি প্রশ্ন করে—
তুমি কি সত্যের পথে
অটল থাকতে পারবে?
স্মরণ রেখো,
ধৈর্য মানে
হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়;
ধৈর্য মানে
ঝড়ের মধ্যেও
সঠিক পথে চলতে থাকা।
যে কৃষক
আজ বীজ বপন করে,
সে জানে—
ফসল আজই উঠবে না।
তবু সে অপেক্ষা করে,
কারণ তার বিশ্বাস আছে।
যে মুমিন
আজ সৎকর্ম করে,
সে-ও জানে—
প্রতিদান হয়তো আজ নয়,
কিন্তু প্রতিদান নিশ্চিত।
হে মানব!
তোমার প্রতিটি কষ্ট
যদি রবের সন্তুষ্টির জন্য হয়,
তবে তা আর কষ্ট থাকে না;
তা ইবাদতে রূপ নেয়।
তোমার প্রতিটি পদক্ষেপ,
প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস,
প্রতিটি ঘামের বিন্দু,
প্রতিটি নীরব অশ্রু—
সবই সাক্ষ্য হয়ে থাকবে
সেই মহাদিবসে,
যেদিন কোনো কর্ম
অদৃশ্য থাকবে না।
তাই ভেঙে পড়ো না।
অন্ধকারকে শেষ মনে করো না।
ঝড়কে পরাজয় ভাবো না।
কারণ
যে হৃদয়
রবের ওপর ভরসা রাখে,
তার কাছে প্রতিটি কষ্ট
আলোকিত সোপান,
প্রতিটি ব্যর্থতা
নতুন শিক্ষার দুয়ার,
প্রতিটি সংগ্রাম
চিরন্তন সফলতার প্রস্তুতি।
হে মানুষ!
চলো—
শ্রমকে সম্মান করি,
ধৈর্যকে অলংকার করি,
সত্যকে জীবন করি,
আর প্রতিটি কর্মে
রবের সন্তুষ্টি খুঁজি।
কারণ
শেষ পর্যন্ত
আমরা ফিরব তাঁরই কাছে।
সেখানে থাকবে না
পদমর্যাদা,
সম্পদের অহংকার,
খ্যাতির মোহ,
বা পৃথিবীর বাহ্যিক জয়।
সেখানে থাকবে
শুধু একটি পরিচয়—
কে কত নিষ্ঠার সঙ্গে
নিজ রবের দিকে
অবিরাম কদম বাড়িয়েছিল।
সেই সফল,
যে কষ্টকে ভয় করেনি।
সেই সফল,
যে সত্যকে বিক্রি করেনি।
সেই সফল,
যে জীবনের প্রতিটি শ্রমকে
আখিরাতের ফসল বানিয়েছে।
আর সেই সফলতার আলো
কখনো নিভে যায় না;
কারণ তার উৎস
চিরঞ্জীব,
চিরকরুণাময়,
চিরন্যায়বিচারক
মহান আল্লাহ।
১৪
২৪ মন্তব্য