সহকারী অধ্যাপক
২৮ জুন, ২০২৬ ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ
মানবতার মহাকাব্য - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মানবতার মহাকাব্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ যদি মানুষ হয়, জাগে যদি বিবেক,
অন্যায়-অন্ধকার ভেঙে ফুটবে ন্যায়ের একেক।
প্রাণে যদি জ্বলে ওঠে মানবতার দীপ,
পৃথিবী হবে শান্তিময়, সুখে ভরবে নীড়।
মানুষ কেবল দেহ নয়, মানুষ মহাপ্রাণ,
সত্য-ন্যায়ে গড়ে ওঠে মানুষের সম্মান।
দয়া যার অলংকার, প্রেম যার পরিচয়,
সে-ই তো সত্য মানুষ, সে-ই পৃথিবীর জয়।
সহমর্মিতার স্নিগ্ধ ছায়া হৃদয়জুড়ে থাক,
অপরের দুঃখ দেখলে চোখে নেমে আসুক ফাঁক।
নিজের সুখের সাথে যেন জড়ায় সবার হাসি,
এই হোক মানবধর্ম, এই হোক জীবনের বাঁশি।
সততার দীপ্ত শিখা জ্বালাও অন্তরে,
মিথ্যার কালো মেঘ সরাও দৃঢ় প্রত্যয়ে।
অন্যায় যত শক্তিশালী হোক না শতবার,
সত্যের সূর্য উঠবেই—এ বিশ্বাস অটুট আর।
ন্যায়ের পথে হাঁটতে শিখো দৃঢ় পদক্ষেপে,
ভয়কে জয় করো সদা নৈতিকতার রথে।
ক্ষমতার অহংকার নয়, চাই বিনয়ের দীপ,
নম্র হৃদয়েই ফুটে ওঠে মানবতার নীড়।
সহনশীলতার বাণী হোক প্রতিটি প্রাণে,
ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন মত—বন্ধুত্ব থাক টানে।
ধর্ম, বর্ণ, জাতির নামে বিভেদের দেয়াল,
ভালোবাসার স্পর্শে হোক ধূলিসাৎ চিরকাল।
দেশপ্রেম মানে কেবল পতাকা হাতে ধরা নয়,
দেশপ্রেম মানে কর্মে-গুণে দেশের সত্য জয়।
মাঠে, কারখানায়, পাঠশালায়, গবেষণার ঘরে,
দেশ গড়ার অঙ্গীকার থাক প্রতিটি অন্তরে।
শ্রমের ঘামে ভিজুক মাটি, ফুটুক সোনার ধান,
জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় ভাসুক প্রিয় বাংলাদেশ মহান।
পরিশ্রমের প্রতিটি বিন্দু অমূল্য রতনখানি,
কর্মময় জীবনই আনে সাফল্যের বাণী।
শিশুর মুখে ফুটুক হাসি, বৃদ্ধ থাকুক সুখে,
নারীর সম্মান অটুট থাক প্রতিটি জনমুখে।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও নিঃস্বার্থ হৃদয় নিয়ে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা এ-ই পৃথিবী দিয়েছে।
লোভের আগুন নিভিয়ে ফেলো বিবেকের জলে,
অন্যের অধিকার কেড়ে সুখ মেলে না কভু ফলে।
স্বার্থপরতার অন্ধকারে ডুবে যায় যে প্রাণ,
সে হারায় নিজেরই কাছে মানুষের সম্মান।
হিংসা, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা বিষের মতো ক্ষয়,
ভালোবাসার একটি বীজ আনে শতগুণ জয়।
ক্ষমার মাঝে মহত্ত্ব লুকায়, করুণায় শক্তি,
মানবতার বিজয়গাথা এ-ই চিরসত্য ভক্তি।
ক্রোধ যদি আসে হৃদয়জুড়ে, ধৈর্যে তাকে হারাও,
অহংকারের উঁচু প্রাচীর বিনয়ে ভেঙে ফেলাও।
যে নিজেকে জয় করেছে, সে-ই মহাবীর,
তারই হাতে রচিত হবে আগামীর তীর।
শিক্ষা হোক চরিত্র গঠনের নির্মল আলোকধারা,
জ্ঞান যেন শুধু মুখস্থ নয়—হোক জীবনের সারা।
বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে নৈতিকতার গান,
সত্যের পথে গড়ে উঠুক আগামী প্রজন্ম প্রাণ।
তরুণ তুমি, জাগো এবার, বদলে দাও কাল,
তোমার হাতেই ফুটবে নতুন সম্ভাবনার লাল।
সাহস, সততা, কর্মে ভরো জীবনের প্রতিক্ষণ,
তোমার মাঝে লুকিয়ে আছে জাতির ভবিষ্যৎ মন।
প্রকৃতিকে ভালোবাসো, নদী-গাছকে রক্ষা করো,
নীল আকাশের নির্মলতায় সবুজ পৃথিবী গড়ো।
মানুষ, প্রাণী, বন আর জল—সবাই সৃষ্টির দান,
সবাই মিলে বাঁচলে তবে পূর্ণ হবে প্রাণ।
যে সমাজে সত্যের কদর, ন্যায়ের থাকে মান,
সেই সমাজেই বিকশিত হয় সভ্যতার সম্মান।
যে রাষ্ট্রে থাকে মানবিকতা, আইনের শাসন দৃঢ়,
সেই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ হয় আলোকোজ্জ্বল নিখুঁত।
এসো তবে শপথ করি হৃদয় রেখে হাতে,
ঘৃণার বদলে প্রেম বিলাব প্রতিটি প্রভাতে।
সত্য হবে জীবনের পথ, ন্যায় হবে সাথি,
মানবতার পতাকাতলে গড়ব নতুন জাতি।
ধর্ম হোক কল্যাণের ডাক, জ্ঞান হোক আলোর সুর,
কর্ম হোক জীবনের সাধনা, হৃদয় হোক ভরপুর।
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে গড়ুক বিশ্বজয়,
এই হোক আগামী দিনের অটল পরিচয়।
সকল মানবীয় মহাগুণ হোক জীবনের শপথ,
সকল পাশবিক প্রবৃত্তি হোক চিরদিনের রথভ্রষ্ট।
মানুষ হোক মানুষের আপন, পৃথিবী হোক ঘর,
শান্তি, প্রেম আর ন্যায়ের আলো ছড়াক নিরন্তর।
তখনই গড়বে উন্নত জাতি, উন্নত দেশ মহান,
তখনই জাগবে বিশ্বজুড়ে মানবতার গান।
সত্য, প্রেম, ন্যায়, করুণায় আলোকিত প্রতিদিন—
এই হোক আমাদের চিরন্তন অঙ্গীকার, চিরদিন।
মানবতার মহাজাগরণ
(উন্নত জাতি, উন্নত দেশ ও সুন্দর পৃথিবীর মহাকাব্য)
মানুষ, তুমি মানুষেরই শ্রেষ্ঠ পরিচয় বহন করো,
তোমার বুকের অন্তরালে অমৃতেরই আলো ঝরো।
তোমার হাতে নির্মিত হয় সভ্যতার মহাকাব্য,
তোমার বুকে জেগে ওঠে বিশ্বমানবতার সৌরভ।
নও তুমি কেবল রক্ত-মাংসের ক্ষণিক দেহখানি,
তোমার মাঝে জ্বলে অনন্ত সত্যের দীপশিখা প্রাণী।
বিবেক তোমার শ্রেষ্ঠ মুকুট, জ্ঞান তোমার অলংকার,
প্রেম তোমার চিরসঙ্গী, ন্যায় তোমার অহংকার।
যেখানে দয়ার স্নিগ্ধধারা শুকিয়ে যায় নির্মমতায়,
সেখানে জন্ম নেয় অশান্তি, সভ্যতা হারায় আপনায়।
যেখানে হৃদয় শেখে কাঁদতে অপরেরই অশ্রুধারায়,
সেখানেই ফুটে ওঠে স্বর্গ মানুষের কর্মধারায়।
সহমর্মিতার কোমল ছোঁয়ায় ভাঙুক বিভেদের প্রাচীর,
অসহায়ের ক্লান্ত চোখে ফুটুক আশার নব নক্ষত্রনীড়।
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে, তৃষ্ণার্তকে দাও জল,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ সম্বল।
সত্য হোক জীবনের শপথ, ন্যায় হোক পথের দিশা,
সততার দীপ্ত প্রদীপ জ্বলুক প্রতিটি ঘরে-দ্বারপাশে।
মিথ্যার ঝড় যতই উঠুক, প্রতারণা যতই হাসে,
সত্যের সূর্য কখনো ডোবে না ইতিহাসের আকাশে।
লোভের বিষে অন্ধ হয়ে হারিও না মানবতা,
স্বার্থের ক্ষুদ্র কারাগারে বন্দী কোরো না আত্মতা।
অপরের প্রাপ্য গ্রাস কেড়ে সুখের প্রাসাদ গড়ে না,
অন্যায়ের ভিত্তির উপর কোনো সভ্যতা দাঁড়ায় না।
ক্রোধ যদি আসে দাবানলের মতো উন্মত্ত বেগে,
ধৈর্যের নদী বইয়ে দিও অন্তরেরই নীরব ঢেউয়ে।
অহংকারের সুউচ্চ মিনার একদিন ধুলায় মিশে যায়,
বিনয় যার জীবনের ভাষা, সে-ই যুগে যুগে অমর হয়।
দেশপ্রেম মানে শুধু নয় পতাকা তুলে ধরা,
দেশপ্রেম মানে সততা নিয়ে কর্মপথে চলা।
কৃষকের ঘামে, শ্রমিকের হাতে, শিক্ষকের আলোকবাণী,
বিজ্ঞানীর নীরব সাধনায় জাগে জাতির ভবিষ্যৎখানি।
বিদ্যালয় হোক চরিত্র গঠনের নির্মল তীর্থধাম,
যেখানে জ্ঞানের সঙ্গে জাগে নৈতিকতার পবিত্র নাম।
শিক্ষা হোক আলোকবর্তিকা, মুক্ত করুক মনের দ্বার,
মানুষ গড়ার মহান সাধনাই হোক শিক্ষার অঙ্গীকার।
তরুণ, তোমার চোখে লিখিত আগামী দিনের গান,
তোমার শক্তি, তোমার সততা—জাতির শ্রেষ্ঠ সম্মান।
অলসতার শৃঙ্খল ভেঙে কর্মের পথে হও অভিযাত্রী,
তোমার হাতেই রচিত হবে নতুন যুগের যাত্রাপথ।
ধর্ম হোক শান্তির শিক্ষা, প্রেম হোক সকল প্রাণে,
বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি মিলুক সৌহার্দ্যের টানে।
মানুষ মানুষকে চিনুক শুধু মানুষ বলেই,
এই হোক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পরিচয় সকল কালের খেলায়।
এসো আজ শপথ করি—
হিংসার বদলে ভালোবাসা,
ঘৃণার বদলে ক্ষমা,
লোভের বদলে ত্যাগ,
অহংকারের বদলে বিনয়,
স্বার্থের বদলে মানবকল্যাণ,
অন্যায়ের বদলে ন্যায়,
অন্ধকারের বদলে আলোর অভিযাত্রা।
যেদিন প্রতিটি হৃদয়ে মানবতার প্রদীপ জ্বলবে,
যেদিন প্রতিটি হাতে শ্রম আর সততার ফুল ফুটবে,
যেদিন শিশুর হাসি হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত,
যেদিন ন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে সকল শক্তি,
সেদিনই গড়ে উঠবে উন্নত জাতি,
সমৃদ্ধ দেশ,
এবং শান্তি, সৌন্দর্য ও মানবিকতায় ভরা
এক অনিন্দ্যসুন্দর পৃথিবী।
মানুষের জয় হোক,
মানবতার জয় হোক,
সত্যের জয় হোক,
ন্যায়ের জয় হোক,
প্রেমের জয় হোক—
চিরকাল, চিরঅম্লান।
***
মানবতার মহাজাগরণ
ভোরের শিশির যেমন নীরব ঘাসের বুকে নামে,
তেমনি মানবতা নেমে আসুক প্রতিটি প্রাণের থামে।
অহিংসার শুভ্র পায়রা উড়ুক নীল আকাশজুড়ে,
ভালোবাসার মঙ্গলবাণী ধ্বনিত হোক বিশ্বজুড়ে।
যে হৃদয়ে দয়ার নদী বহে অবিরাম স্রোতে,
সে হৃদয়ের স্পর্শে ফুটে ফুল শুকনো মরুপ্রান্তে।
এক ফোঁটা স্নেহ, একটুখানি মমতার কোমল দান,
বদলে দিতে পারে সহজে শত সহস্র প্রাণ।
সত্য যেন ধ্রুবতারার মতো অটল দীপ্তিমান,
ঝড়-তুফানে হারায় না যে নিজের মহাসম্মান।
অসত্য যত ছলনা বুনে ক্ষণিক সুখের জাল,
সত্য শেষে জয়ী হয়—এ ইতিহাসের কাল।
ন্যায় যেন সুবিচারের দীপ, অন্ধকারের শেষে,
মানুষ যেন মাথা তোলে সত্যেরই পরিবেশে।
ক্ষমতা নয়, চরিত্র হোক নেতৃত্বের পরিচয়,
মানবকল্যাণেই নিহিত থাকুক সকল জয়ের জয়।
লোভের মরুভূমি পেরিয়ে ত্যাগের বনানীতে,
শান্তির পাখি বাসা বাঁধুক মানুষের হৃদয়ভূমিতে।
স্বার্থের ক্ষুদ্র সীমানা ভেঙে মিলুক প্রাণে প্রাণ,
বিশ্ব হোক এক পরিবার—এই হোক মহাগান।
ক্রোধ যদি জ্বলে দাবানলের উন্মত্ত উত্তাপে,
ধৈর্যের মেঘ বৃষ্টি হয়ে নামুক অন্তর-মাপে।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয়ের ফুল পরো,
মানুষ হয়ে মানুষেরই সম্মান রক্ষা করো।
সহিষ্ণুতার মহাশিক্ষা সভ্যতারই ভিত্তি,
ভিন্নতার মাঝেই লুকিয়ে সৃষ্টির মহাশক্তি।
বর্ণ, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি—বৈচিত্র্যের রঙ,
ঐক্যের মালায় গাঁথা হলে সুন্দর হবে সঙ্গ।
দেশপ্রেম মানে জনপদের প্রতিটি মুখের হাসি,
ক্ষুধার্ত শিশুর অন্ন জোগায় যে শ্রমিকেরই বাঁশি।
দেশপ্রেম মানে দুর্নীতিকে সাহসে করা না,
দেশপ্রেম মানে সত্যের পথে জীবনভর চলা।
বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে জ্বালো জ্ঞানের দীপ,
চরিত্রগঠনের মহাশিক্ষাই হোক শিক্ষার নীড়।
পুঁথির অক্ষর প্রাণ না পেলে জ্ঞান থাকে অসম্পূর্ণ,
নৈতিকতার স্পর্শে তবেই মানুষ হয় পরিপূর্ণ।
তরুণেরা হোক বজ্রশপথ, আলোকিত প্রত্যয়,
তাদের চোখে জেগে উঠুক আগামী দিনের জয়।
কর্মে, জ্ঞানে, সাহসিকতায় গড়ুক নব ইতিহাস,
সত্য ও সেবার আদর্শে হোক জীবনের বিকাশ।
প্রকৃতি আমাদের জননী, নদী আমাদের গান,
সবুজ বনের শ্বাসে জাগে পৃথিবীরই প্রাণ।
একটি বৃক্ষ রোপণ মানে আগামী দিনের আলো,
একটি নদী বাঁচানো মানে জীবনেরই ভালো।
মানুষ যদি মানুষকে ভালোবাসতে শেখে,
অন্ধকারের প্রাচীর ভেঙে আলোর দেশে দেখে।
ঘৃণার বদলে করুণা যদি হৃদয় ভরে রয়,
তবে পৃথিবীর প্রতিটি প্রভাত হবে আশারময়।
এসো সবাই হাতে হাত রেখে করি নতুন শপথ—
সততা হবে জীবনের পথ,
ন্যায় হবে চিরসাথী,
সহমর্মিতা হবে হৃদয়ের ভাষা,
দেশপ্রেম হবে কর্মের প্রেরণা,
ত্যাগ হবে মহিমা,
বিনয় হবে অলংকার,
আর মানবতাই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়।
তখন আকাশ আরও নির্মল হবে,
নদী গাইবে শান্তির গান,
শিশুরা হাসবে নির্ভয়ে,
বৃদ্ধের চোখে ফুটবে তৃপ্তির আলো,
নারীর সম্মান হবে অটুট,
যুবকের হাতে জাগবে সৃজনের শক্তি,
আর পৃথিবী হয়ে উঠবে
মানুষের জন্য মানুষেরই
এক অনিন্দ্য, ন্যায়ভিত্তিক, সৌন্দর্যময় আবাস।
মানবতার এই মহাযাত্রা
কখনো থেমে থাকে না;
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে,
হৃদয় থেকে হৃদয়ে,
আলো থেকে আরও আলোর দিকে—
এগিয়ে চলে অনন্ত অভিযানে।
যতদিন মানুষ বিবেকের ডাকে সাড়া দেবে,
ততদিন সভ্যতার সূর্য অস্ত যাবে না।
যতদিন প্রেম থাকবে,
ততদিন পৃথিবী বেঁচে থাকবে।
যতদিন সত্য থাকবে,
ততদিন মানুষ থাকবে মানুষ হয়েই।
এই আমাদের অঙ্গীকার—
মানবগুণের দীপ্ত আলোয়
গড়ব উন্নত জাতি,
সমৃদ্ধ দেশ,
এবং শান্তি, ন্যায়, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসায়
উজ্জ্বল এক নতুন পৃথিবী।
***
মানবতার মহাকাব্য
(উন্নত জাতি, উন্নত দেশ ও শান্তিময় পৃথিবীর অঙ্গীকার)
মানুষ, তোমার পরিচয় কেবল রক্ত-মাংসের গড়ন নয়,
তোমার অন্তরে জাগে অনন্ত আলোর অক্ষয় পরিচয়।
তোমার বিবেক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ দীপ,
তোমার হৃদয় করুণার গভীর সাগর,
তোমার হাতেই রচিত হয়
সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাস,
আর তোমার কর্মেই লেখা হয়
ভবিষ্যতের মহাকাব্য।
যখন মানুষ মানুষকে আপন বলে ডাকে,
যখন অপরের ব্যথা নিজের বেদনায় মিশে যায়,
যখন ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া
উৎসবের চেয়েও বড় আনন্দ হয়ে ওঠে,
তখন পৃথিবী সত্যিই সুন্দর হয়,
তখন আকাশের নীল আরও নির্মল লাগে,
নদীর জলে জেগে ওঠে আশার সুর,
আর বাতাসে ভেসে আসে
মানবতার অমলিন সুবাস।
সহমর্মিতা কোনো দান নয়—
এ মানুষের সহজাত মহিমা।
যে হৃদয় অপরের অশ্রু মুছে দিতে জানে,
সে-ই প্রকৃত অর্থে ধনী।
যার চোখে সকল মানুষ সমান,
যার কণ্ঠে বিদ্বেষের ভাষা নেই,
যার হাতে প্রতিশোধের অস্ত্র নয়,
আছে সেবার পবিত্র অর্ঘ্য,
সেই মানুষই যুগের পথপ্রদর্শক।
সত্য যেন হিমালয়ের শিখর—
ঝড়ে নত হয় না,
প্রলোভনে বিকায় না,
মিথ্যার কুয়াশায় হারায় না।
অন্ধকার যতই দীর্ঘ হোক,
ভোরের সূর্য যেমন অবধারিত,
সত্যের জয়ও তেমনি অনিবার্য।
ন্যায়ের পথ কখনো সহজ নয়,
তবু সেই পথেই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পদচিহ্ন।
যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি,
যারা বিবেককে বিকিয়ে দেয়নি,
যারা সত্যের জন্য কষ্টকে আলিঙ্গন করেছে,
তাদের জীবনই হয়ে উঠেছে
প্রজন্মের অনুপ্রেরণার শিখা।
লোভ মানুষের অন্তরের মরুভূমি,
যেখানে তৃষ্ণা বাড়ে,
কিন্তু শান্তি জন্মায় না।
স্বার্থপরতা এমন এক শৃঙ্খল,
যা মানুষকে বন্দী করে নিজেরই ক্ষুদ্রতায়।
অথচ ত্যাগের এক বিন্দু আলো
অসংখ্য হৃদয়কে আলোকিত করে।
হিংসা আগুনের মতো—
প্রথমে অন্যকে পোড়াতে চায়,
শেষে নিজেকেই ভস্ম করে।
বিদ্বেষ বিষের মতো—
যে পান করে, সেই আগে ক্ষতবিক্ষত হয়।
তাই ভালোবাসাই হোক মানুষের ধর্ম,
ক্ষমাই হোক শক্তির পরিচয়,
আর করুণাই হোক সভ্যতার ভাষা।
অহংকারের মিনার যত উঁচুই হোক,
সময়ের ঝড়ে তা ভেঙে পড়ে।
কিন্তু বিনয়ের বৃক্ষ
প্রতিটি ঋতুতেই সবুজ থাকে।
যে নিজেকে বড় বলে না,
মানুষ তাকে বড় বলেই স্মরণ করে।
দেশপ্রেম কেবল পতাকার রঙে সীমাবদ্ধ নয়,
দেশপ্রেম জেগে ওঠে
কৃষকের ঘামে,
শ্রমিকের ক্লান্ত হাতে,
শিক্ষকের নিরলস সাধনায়,
চিকিৎসকের সেবায়,
বিজ্ঞানীর গবেষণায়,
সৈনিকের সতর্ক প্রহরায়,
আর সৎ নাগরিকের প্রতিদিনের দায়িত্বে।
বিদ্যালয় হোক চরিত্রের কর্মশালা,
বিশ্ববিদ্যালয় হোক সত্য অনুসন্ধানের অগ্নিশিখা।
শিক্ষা কেবল পরীক্ষার ফল নয়,
শিক্ষা হলো বিবেকের জাগরণ,
মানুষকে মানুষ করে তোলার
অমর সাধনা।
তরুণেরা—
তোমাদের চোখেই আগামী দিনের সূর্যোদয়।
তোমাদের সাহস,
তোমাদের সততা,
তোমাদের অধ্যবসায়,
তোমাদের সৃজনশীলতা—
এসবের উপরই দাঁড়িয়ে আছে
ভবিষ্যৎ জাতির ভিত্তি।
গাছকে ভালোবাসো,
কারণ সে নীরবে জীবন দেয়।
নদীকে ভালোবাসো,
কারণ সে বহন করে সভ্যতার গান।
মাটিকে ভালোবাসো,
কারণ সে সকলকে সমান আশ্রয় দেয়।
প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে
নিজেকেই রক্ষা করা।
এসো,
আমরা নতুন এক অঙ্গীকার লিখি—
সত্য হবে আমাদের ভাষা,
ন্যায় হবে আমাদের পথ,
সততা হবে আমাদের শক্তি,
সহমর্মিতা হবে আমাদের পরিচয়,
ত্যাগ হবে আমাদের অলংকার,
দেশপ্রেম হবে আমাদের কর্ম,
বিনয় হবে আমাদের মহিমা,
আর মানবতা হবে
সমস্ত পরিচয়ের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
যেদিন প্রতিটি ঘরে জ্বলবে নৈতিকতার প্রদীপ,
যেদিন প্রতিটি শিশুর হাসি হবে নিরাপদ,
যেদিন বৃদ্ধের মুখে থাকবে নিশ্চিন্ত প্রশান্তি,
যেদিন নারী চলবে সম্মানের আলোয়,
যেদিন শ্রমের মর্যাদা হবে সমান,
যেদিন ক্ষমতার চেয়ে চরিত্র বড় হবে,
যেদিন সম্পদের চেয়ে সততা মূল্যবান হবে,
সেদিনই গড়ে উঠবে
উন্নত জাতি,
সমৃদ্ধ দেশ,
আর শান্তি, ন্যায়, সৌন্দর্য ও মানবিকতায়
উজ্জ্বল এক নতুন পৃথিবী।
চলো,
আমরা ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা বুনি,
অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করি,
অহংকারের পরিবর্তে বিনয় ধারণ করি,
লোভের পরিবর্তে ত্যাগকে বরণ করি,
বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের সেতু গড়ি।
মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয় মানুষ হওয়া—
এই সত্য যেন কখনো ম্লান না হয়।
বিবেকের আলো জ্বলুক,
মানবতার গান ধ্বনিত হোক,
দেশ হোক সমৃদ্ধ,
পৃথিবী হোক শান্ত,
আর প্রতিটি হৃদয়ে চিরদিন
জেগে থাকুক
কল্যাণ, করুণা, ন্যায় ও প্রেমের
অবিনশ্বর মহাসংগীত।
১
২ মন্তব্য