প্রভাষক
২৮ জুন, ২০২৬ ০৭:৫০ অপরাহ্ণ
ইতিহাস - প্রাচীনযুগ, মধ্যযুগীয় ও ঔপনিবেশিক যুগ।
ইতিহাস
প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী রয়েছে। এই ইতিহাসকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: প্রাচীন, মধ্যযুগীয়, ঔপনিবেশিক এবং আধুনিক যুগ।
প্রাচীন বাংলা
· প্রাগৈতিহাসিক যুগ: বাংলায় ২০,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের বসতি স্থাপনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রাগৈতিহাসিক যুগে বাংলায় মানুষের বসতি স্থাপনের ইঙ্গিতগুলি প্রধানত প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এই সময়ের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
সময়কাল: যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা বিতর্কিত, তবে মনে করা হয় বাংলায় ২০,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের বসবাস ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং মেদিনীপুরের কিছু স্থানে উচ্চ প্যালিওলিথিক (পুরাতন প্রস্তর যুগ) যুগের হাতিয়ার আবিষ্কৃত হয়েছে।
বসবাসের ধরন: এই সময়ের মানুষেরা শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জীবনধারণ করত এবং সম্ভবত ছোট যাযাবর গোষ্ঠীতে বাস করত।
সাংস্কৃতিক বিবর্তন: পরবর্তীকালে মেসোলিথিক (মধ্য প্রস্তর যুগ) এবং নিওলিথিক (নব্য প্রস্তর যুগ) যুগে কৃষিকাজ এবং স্থায়ী বসতি স্থাপনের সূচনা হয়, যা সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক বা তার পরবর্তী সময়ের সাংস্কৃতিক প্রভাবকেও নির্দেশ করে।
· মৌর্য ও গুপ্ত যুগ: খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে বাংলা মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। সম্রাট অশোকের শাসনামলে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটে। এরপর ৪র্থ শতাব্দীতে এটি গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মৌর্য সাম্রাজ্য এবং ৪র্থ শতাব্দীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে বাংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগে প্রবেশ করে। মৌর্য যুগে সম্রাট অশোকের শাসনামলে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটে এবং গুপ্ত যুগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ হিসেবে বিকশিত হয়, যার ফলস্বরূপ বাংলা শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বাণিজ্যের সুবিধা লাভ করে।
মৌর্য যুগ
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে বাংলা মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
প্রশাসনিক কেন্দ্র: পুণ্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থানগড়) ছিল বাংলার মৌর্য শাসনের কেন্দ্র।
ধর্ম: সম্রাট অশোকের শাসনামলে এই অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটে।
গুপ্ত যুগ
সময়কাল: খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতাব্দীতে বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রশাসন: গুপ্ত শাসকরা সমগ্র বাংলা সরাসরি শাসন করতেন না; অনেক অঞ্চল 'মহারাজা' উপাধিধারী স্থানীয় সামন্ত রাজাদের দ্বারা শাসিত হতো।
অর্থনীতি: গুপ্ত যুগে বাংলা একটি সমৃদ্ধশালী প্রদেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার ব্যাপক প্রচলন ঘটে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে বাংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ ছিল এবং এর অধীনে থাকা শান্তি, সম্পদ ও সমৃদ্ধি সর্বভারতীয় বাণিজ্যের অংশীদারিত্বে সহায়তা করে।
· গৌড় রাজ্য: ৭ম শতাব্দীতে রাজা শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক এবং তাঁর সময় থেকেই বাঙালি পঞ্জিকা বা বাংলা সনের সূচনা বলে মনে করা হয়।
হ্যাঁ, এই তথ্যটি সঠিক। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন সপ্তম শতাব্দীতে গৌড় রাজ্যের স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসক এবং তিনিই প্রথম বাংলা সন বা বঙ্গাব্দের সূচনা করেছিলেন। তাঁর সিংহাসনে আরোহণের দিন থেকেই এই পঞ্জিকার গণনা শুরু হয়।
গৌড় রাজ্য: শশাঙ্ক বাংলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাজ্যকে একত্রিত করে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, যার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
রাজত্বকাল: ঐতিহাসিকদের মতে তিনি আনুমানিক ৫৯৩ থেকে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজত্ব করেন।
বাংলা সন: তাঁর সিংহাসনে আরোহণের বছর (৫৯৩ খ্রিস্টাব্দ) থেকেই বঙ্গাব্দের গণনা শুরু হয়।
· পাল সাম্রাজ্য: অষ্টম শতাব্দীতে গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাল সাম্রাজ্য ছিল বাংলার প্রথম স্বাধীন বৌদ্ধ রাজবংশ।
পাল যুগকে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গৌরবময় যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা প্রায় ৪০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
অষ্টম শতাব্দীতে গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাল সাম্রাজ্য ছিল বাংলার প্রথম স্বাধীন বৌদ্ধ রাজবংশ, যা প্রায় ৪০০ বছর ধরে শাসন করেছিল এবং প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সাম্রাজ্যের শাসকেরা মূলত বৌদ্ধধর্মের মহাযান ও তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিলেন। পাল যুগকে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়, কারণ এই সময়কালে সাহিত্য, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটেছিল।
প্রতিষ্ঠা: গোপাল অষ্টম শতাব্দীতে বাংলায় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত রাজা হিসেবে পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
শাসনকাল: পাল সাম্রাজ্যের শাসনকাল প্রায় চার শতাব্দী (প্রায় ৭৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী হয়েছিল এবং এটি বাংলা ও বিহার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
ধর্ম: পাল শাসকেরা বৌদ্ধধর্মের মহাযান ও তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিলেন।
গুরুত্ব: পাল যুগকে বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় সময় হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সাহিত্য, শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
· সেন রাজবংশ: একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত সেন রাজবংশ বাংলায় শাসন করে। এই সময়ে হিন্দু ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত সেন রাজবংশ বাংলায় শাসন করে এবং এই সময়ে হিন্দু ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এই গোঁড়া হিন্দু রাজবংশ পালদের পরাজিত করে বাংলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদের শাসনামলে হিন্দু সংস্কৃতি সমাজে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
সেন রাজবংশের শাসনকাল
প্রতিষ্ঠা: পাল সাম্রাজ্যের পতনের পর একাদশ শতকের শেষভাগে সেন বংশের উত্থান ঘটে। সামন্ত সেন রাঢ় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন এবং তার পুত্র হেমন্ত সেন প্রথম স্বাধীন সেন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
ক্ষমতা বৃদ্ধি: বিজয় সেন (আনু. ১০৯৮-১১৬০ খ্রি.) ছিলেন এই রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা, যিনি রাজ্যকে শক্তিশালী করে তুলেন এবং পালদের বিতাড়িত করেন।
ব্যাপ্তিকরণ: সেন সাম্রাজ্য তার শীর্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
অবসান: বিজয় সেনের পর আরও কিছু শাসক থাকলেও, একপর্যায়ে অন্যান্য শক্তির উত্থানের ফলে সেন শাসনের অবসান ঘটে।
হিন্দু ধর্মের প্রভাব
রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সেন রাজারা ছিলেন গোঁড়া হিন্দু, তাই এই সময়ে হিন্দু ধর্ম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে।
সামাজিক প্রভাব: এর ফলে সমাজে ব্রাহ্মণদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং হিন্দু সংস্কৃতি সমাজে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা: সেন রাজাদের এই অবদানের কারণে মুসলমান শাসনের সময়েও বাংলায় হিন্দু সংস্কৃতি টিকে ছিল।
মধ্যযুগীয় বাংলা
· মুসলিম বিজয় ও সালতানাত: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক সেন বংশের পতন এবং মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক সেন বংশের পতনের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তিনি মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে নদীয়া আক্রমণ করে সেনরাজ লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করেন। এরপর গৌড় (লখনৌতি) কে রাজধানী করে তিনি বাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে দিল্লি সালতানাতের অংশ হয়।
মুসলিম শাসনের সূচনা: ১২০৪ সালে সেন বংশের পতন ঘটিয়ে বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
নদীয়া আক্রমণ: তিনি ১৭/১৮ জন মাত্র অশ্বারোহী নিয়ে নদীয়া আক্রমণ করেন এবং সেন বংশের পতন ঘটান, যার ফলে রাজা লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
প্রশাসনিক ভিত্তি স্থাপন: বখতিয়ার খলজি গৌড়কে রাজধানী করে বাংলায় একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
পরবর্তী প্রভাব: তাঁর শাসনের মাধ্যমে বাংলা ও বিহারে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং এটি দিল্লি সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
· স্বাধীন বাংলা সালতানাত: ১৪শ শতাব্দীতে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ কর্তৃক স্বাধীন বাংলা সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়কালে বাংলা একটি সমৃদ্ধিশালী অঞ্চলে পরিণত হয় এবং স্থাপত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
১৪শ শতাব্দীতে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সালতানাত একটি সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী রাজ্য ছিল, যা স্থাপত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই সময়ে বাংলা একটি একক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হয়েছিল, যা ইলিয়াস শাহী বংশের মাধ্যমে এক দীর্ঘ স্থিতিশীল শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
স্বাধীন বাংলা সালতানাত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
প্রতিষ্ঠা: ১৪শ শতাব্দীতে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাজবংশ: ইলিয়াস শাহী বংশের মাধ্যমে এই সালতানাতের সূচনা হয়, যা বাংলায় স্থিতিশীলতা আনে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: এই সময়ে বাংলা একটি সমৃদ্ধিশালী অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।
স্থাপত্য ও সংস্কৃতি: স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটে।
রাজনৈতিক ক্ষমতা: ১৪শ থেকে ১৬শ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের একটি প্রভাবশালী শক্তি ছিল।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এই যুগটি বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
· মুঘল শাসন: ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে মুঘলরা বাংলা জয় করে। মুঘল আমলে সুবাহ বাংলা ছিল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে সম্পদশালী প্রদেশগুলির মধ্যে একটি এবং এটি বিশ্বের ১২ শতাংশ জিডিপির যোগান দিত।
ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে মুঘলরা বাংলা জয় করে, এবং মুঘল শাসনামলে 'সুবাহ বাংলা' সাম্রাজ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ ছিল। মুঘল বাংলা বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ১২% সরবরাহ করত, যা তৎকালীন সমগ্র ইউরোপের জিডিপির থেকেও বেশি ছিল। এই সমৃদ্ধির কারণ ছিল এখানকার বস্ত্র শিল্প এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এবং প্রধান রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলার ভূমিকা।
- মুঘল বিজয়: ১৫৭৬ সালে 'রাজমহলের যুদ্ধ'-এ মুঘলরা বাংলা জয় করে।
- অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: মুঘল আমলে 'সুবাহ বাংলা' ছিল অত্যন্ত সম্পদশালী এবং বিশ্বের জিডিপিতে এর অবদান ছিল ১২%।
- শিল্প ও বাণিজ্য: এই অঞ্চলটি টেক্সটাইল (বস্ত্র) এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। এটি বিশ্বের রেশম, সুতি বস্ত্র, ইস্পাত, এবং সল্টপিটারের মতো পণ্যের একটি প্রধান রপ্তানিকারক ছিল।
- 'স্বর্গ' উপাধি: ইউরোপীয়রা বাংলাকে "প্যারাডাইস অফ নেশনস" বা "জাতিসমূহের স্বর্গ" বলত, যা এর অর্থনৈতিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
মুঘল শাসনামলে সুবাহ বাংলা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী একটি অঞ্চল ছিল। এই প্রদেশের সমৃদ্ধির কারণে একে প্রায়শই "প্রাচ্যের স্বর্গ" বা "বাংলার স্বর্ণযুগ" হিসেবে অভিহিত করা হতো।
এই সমৃদ্ধির কিছু প্রধান কারণ ও বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
· কৃষি ও বাণিজ্য: সুবাহ বাংলা ছিল চাল, চিনি, পাট, এবং বিশেষত সূক্ষ্ম মসলিন কাপড়ের একটি প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র। এই পণ্যগুলির রপ্তানি বাণিজ্য বাংলার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল।
· মুঘলদের মনোযোগ: ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে আকবরের শাসনামলে বাংলা মুঘলদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এটি সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
· অর্থনৈতিক অবদান: সুবাহ বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস ছিল এবং এটি সেই সময়ে বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২ শতাংশ সরবরাহ করত বলে অনুমান করা হয়, যা একে বিশ্বের অন্যতম ধনী অঞ্চলে পরিণত করেছিল।
ঔপনিবেশিক যুগ (ব্রিটিশ আমল)
· পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭): নবাব সিরাজউদ্দৌৌলার পরাজয় এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ ছিল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ, যা ২৩ জুন, ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি পরাজিত হন এবং এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল
যুদ্ধের স্থান: ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
যুদ্ধের স্থায়িত্ব: যুদ্ধটি প্রায় আট ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।
নেতৃত্ব: ব্রিটিশ পক্ষে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ এবং নবাবের পক্ষে ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
পরাজয়ের কারণ: মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়, যদিও যুদ্ধের তীব্রতা কম ছিল।
প্রভাব: এই যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এর মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসন বিস্তারের পথ খুলে দেয় ।
পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন মুর্শিদাবাদের কাছে ভাগীরথী নদীর তীরে সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধটি বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে হয়েছিল।
এই যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।
যুদ্ধের প্রধান কারণ:
· ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ।
· কোম্পানির কর্মকর্তাদের দ্বারা বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার।
· নবাব সিরাজউদ্দৌলার সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ এবং কালোঘর হত্যা (Black Hole tragedy) নিয়ে বিরোধ।
যুদ্ধের ফলাফল:
· নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়।
· রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জয়লাভ করে।
· মীর জাফর, যিনি নবাবের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এবং যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন, তাকে পুতুল নবাব হিসেবে মসনদে বসানো হয়।
· এই বিজয়ের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধ ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা বিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়।
· ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১৭৭০): কোম্পানির দুঃশাসন ও শোষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়।
১৭৭০ সালের (বাংলা ১১৭৬ সাল) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুঃশাসন ও শোষণের ফলে সৃষ্ট এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কেড়ে নেয়। এই দুর্ভিক্ষের কারণ ছিল তীব্র খরা ও বন্যার পর কোম্পানির কর আদায়ের কঠোরতা। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে, রোগে এবং ক্লান্তিতে মারা যায় এবং সমাজের মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে।
প্রধান কারণ:
- কোম্পানির শোষণ: ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধু রাজস্ব আদায়ে মন দেয় এবং কৃষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কর আদায় করতে থাকে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ: তীব্র খরা ও বন্যার কারণে শস্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
- কৃষকদের উপর চাপ: শস্যহানি হলেও কোম্পানি কর আদায় বন্ধ করেনি, ফলে কৃষকদের উপর বিপুল চাপ সৃষ্টি হয় এবং তারা খাদ্যের অভাবে এবং কর পরিশোধ করতে না পেরে মারা যেতে থাকে।
ফলাফল:
- জনসংখ্যার ব্যাপক হ্রাস: এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ১ কোটি মানুষ মারা যায়।
- অর্থনৈতিক ক্ষতি: কৃষিজমি জঙ্গলে পরিণত হয়, কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পদ শূন্য হয়ে যায়।
- সামাজিক প্রভাব: সমাজে মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে এবং অনেক জমিদার তাদের জমিদারি বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ, বাংলা ১১৭৬ সন) ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে বাংলায় সংঘটিত একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
এই দুর্ভিক্ষে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গিয়েছিল এবং এটি কোম্পানির দুঃশাসন, উচ্চ কর নীতি এবং খাদ্যশস্য মজুতের কারণে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত এবং প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত, যা ঔপনিবেশিক শাসনের অন্ধকার দিকটি উন্মোচিত করে
· চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩): লর্ড কর্নওয়ালিস কর্তৃক প্রবর্তিত এই ব্যবস্থার ফলে জমিদার শ্রেণি তৈরি হয় এবং কৃষকদের ওপর শোষণ বাড়ে।
১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লর্ড কর্নওয়ালিসের একটি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল, যার মাধ্যমে জমিদারদের জমির মালিকানা দেওয়া হয় এবং তাদের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নির্দিষ্ট রাজস্ব আদায় করত। এই ব্যবস্থার ফলে জমিদার শ্রেণি তৈরি হয়, যারা কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করত এবং এর ফলে কৃষকদের ওপর শোষণ বাড়ে।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মূল ফলাফল:
· জমিদার শ্রেণি তৈরি: জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা পায় এবং তারা বংশানুক্রমিকভাবে এই অধিকার লাভ করে।
· কৃষকের শোষণ: কৃষকরা তাদের জমির মালিকানা হারায় এবং জমিদারদের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়, যার ফলে তাদের ওপর শোষণ বৃদ্ধি পায়।
· স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় রাজস্ব: জমিদারদের কাছ থেকে কোম্পানি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায় করত, যা চিরস্থায়ীভাবে নির্ধারিত ছিল।
· রাজনৈতিক প্রভাব: জমিদাররা ইংরেজ শাসনের অনুগত একটি শ্রেণি হিসেবে কাজ করত, যা ব্রিটিশ শাসনের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে সাহায্য করে।
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত এই ব্যবস্থাটি ব্রিটিশ ভারতের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী এবং বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল।
আপনার দেওয়া মূল পয়েন্টগুলো হলো:
১. প্রবর্তনকারী: লর্ড কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis)
২. সময়কাল: ১৭৯৩ সাল
৩. ফলাফল: এর মাধ্যমে একটি নতুন জমিদার শ্রেণি তৈরি হয় এবং কৃষকদের ওপর শোষণ বাড়ে।
এই ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য একটি নির্দিষ্ট এবং স্থায়ী রাজস্ব আয়ের উৎস নিশ্চিত করা। তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, যা বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে আপনি নির্ভরযোগ্য উৎস অনুসন্ধান করতে পারেন।
· বঙ্গীয় নবজাগরণ: ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক মনীষীর উদ্যোগে বাংলায় এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হয়।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর মতো মনীষীদের উদ্যোগে বাংলায় যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাই বঙ্গীয় নবজাগরণ নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের ফলে সমাজে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে এবং বাঙালি জীবনে এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
· প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য: এই আন্দোলন বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন এনেছিল। এটি ছিল ইউরোপীয় নবজাগরণের দ্বারা প্রভাবিত একটি আন্দোলন, যা সমাজে আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটিয়েছিল।
· উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব: রাজা রামমোহন রায়কে এই নবজাগরণের জনক বলা হয়। এছাড়াও, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ডিরোজিও, নওয়াব আবদুল লতিফ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর মতো ব্যক্তিরাও এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
· গুরুত্বপূর্ণ অবদান: এই আন্দোলনের ফলে সতীদাহ প্রথার মতো সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠে এবং তা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সংস্কার এবং জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও এর অবদান অনস্বীকার্য।
এই আন্দোলন বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল যার লক্ষ্য ছিল কুসংস্কার দূর করা, শিক্ষা প্রসার করা এবং আধুনিক চিন্তাভাবনার উন্মেষ ঘটানো।
· বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫): ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করে, যার ফলে তীব্র আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯১১ সালে তা আবার রদ করা হয়।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক কারণে বঙ্গভঙ্গ করে, যার ফলে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে এটি রদ করতে বাধ্য হয়। বঙ্গভঙ্গকে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখা হয়, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে দমন করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল।
· কারণ: ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও, এর আসল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিকভাবে বাঙালি জাতিকে দুর্বল করা।
· প্রভাব: প্রশাসনিক কারণে বাংলাকে ভাগ করার ফলে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়, যা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত।
· ফলাফল: ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে।
· অন্যান্য: বঙ্গভঙ্গ রদের সাথে সাথে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল, যা ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক চেতনা এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছিল।
· বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫): ব্রিটিশ সরকার মূলত প্রশাসনিক সুবিধার্থে (সেই সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি আয়তনে অনেক বড় ছিল) এই সিদ্ধান্ত নেয়।
· উদ্দেশ্য ও প্রভাব: সরকারি কারণ প্রশাসনিক হলেও, এই বিভাজনের ফলে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি হয় এবং হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটে।
· আন্দোলন: এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলায় এবং সমগ্র ভারতে তীব্র আন্দোলন, ধর্মঘট এবং বয়কট শুরু হয়, যা ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকারকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করে।
১৪
২৪ মন্তব্য