সহকারী অধ্যাপক
২৮ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (সৎকর্মে শক্তি, অসৎ থেকে মুক্তির প্রার্থনা) - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
(সৎকর্মে শক্তি, অসৎ থেকে মুক্তির প্রার্থনা)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আলো যখন নিভে আসে মনের গহীন কোণে,
পথের শেষে ধুলো জমে ক্লান্ত জীবনের ক্ষণে,
তখন শুনি আসমানি এক অনন্ত আহ্বান—
"আল্লাহ ছাড়া নেই যে শক্তি, নেই কোনো অবলম্বন।"
লা হাওলা— হৃদয় বলে, আমি নই তো বড়,
আমার শক্তি ক্ষণিক আলো, তাঁরই কৃপা ঘর।
লা কুওয়াতা— জানায় প্রাণে, যত সাধ্য আমার,
রবের দানেই জাগে শেষে সফলতার দ্বার।
মানুষ যত অহংকারে বুকটা করে ভার,
এক নিমেষে ভেঙে দিতে পারেন রব মহান।
আবার যখন ভাঙা প্রাণে জাগে নতুন ভোর,
তাঁরই দয়ায় ফুটে ওঠে আশার রঙিন ডোর।
সৎপথ যদি দুর্গম হয় কাঁটা-ভরা পথে,
এই যিকিরই সাহস জাগায় অন্তরেরই রথে।
মিথ্যার ডাকে কাঁপে যদি দুর্বল মানবমন,
এই বাণীই ফিরিয়ে আনে সত্যের অনুক্ষণ।
লোভের আগুন জ্বলে যখন হৃদয়েরই মাঝে,
অন্যায় তখন ডাকে এসে রঙিন মিথ্যা সাজে।
তখন বলি— "হে পরওয়ারদিগার, দাও শক্তি আমায়,
সত্য ছাড়া যেন কোনো পথ না ডাকে আমায়।"
ক্রোধ যখন ঝড়ের মতো ছিন্ন করে ধৈর্য,
ক্ষমার নদী শুকিয়ে যায় হারিয়ে ফেলে সৌরভ,
এই দোয়ারই স্নিগ্ধ ধারা নামে অন্তরজুড়ে,
ঘৃণার আগুন নিভে যায় যে ভালোবাসার নূরে।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয় পরে প্রাণ,
মানবতার পথে তখন জাগে নতুন গান।
ক্ষমা, দয়া, ন্যায় ও প্রেম— চারটি দীপ্ত ফুল,
এই যিকিরের সুবাস পেয়ে হয় যে অনুকূল।
জ্ঞানচর্চাতে অলসতা যদি বাঁধা হয়ে রয়,
এই দোয়া বলে— "উঠে দাঁড়াও, জ্ঞানের পথেই জয়।"
পরিশ্রমের প্রতিটি ক্ষণ ইবাদতেরই রূপ,
সত্যের বীজ বপন করে গড়ো আলোর ভূপ।
অসহায়ের অশ্রুধারা মুছে দাও স্নেহভরে,
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন দাও ভালোবাসার তরে।
এমন কর্মে শক্তি চেয়ে বলো অন্তর ভরি—
"হে মহান রব, তোমার দয়ায় চলি নিরন্তরই।"
মা-বাবার সেই সেবার মাঝে জান্নাতেরই ঘ্রাণ,
শিক্ষকের সম্মানেতে জাগে জ্ঞানের গান।
প্রতিবেশীর অধিকারে যে রাখে সদা খেয়াল,
তারই জীবনে ফুটে ওঠে রহমতেরই জ্যোতিজাল।
অন্যায় দেখে নীরব থাকা নয় তো মুমিনের পথ,
সাহস নিয়ে সত্য বলাই ঈমানেরই রথ।
কিন্তু যেন ভাষা হয় নম্রতা আর প্রেম,
মানুষ জয়ই হোক আমাদের প্রতিটি কর্মক্ষেম।
অর্থ, যশ আর ক্ষমতাতে মুগ্ধ হবে না মন,
সবই ক্ষণিক, চিরস্থায়ী কেবল রবের ধন।
তাঁরই নামে শুরু হোক প্রতিটি কর্মযজ্ঞ,
তাঁরই ভয়ে দূরে যাক অন্যায়েরই অগ্নি।
হে যুবক, হে তরুণ হৃদয়, স্বপ্ন দেখো আজ,
সততারই ভিত্তির উপর গড়ো আগামী সাজ।
দুর্নীতির সব কালো ছায়া ফেলো দূরে সরিয়ে,
সত্যের আলো জ্বালাও এসে পৃথিবী ভরিয়ে।
হে শিশু, তুমি ফুলের মতো নিষ্পাপ হৃদয়খানি,
শিখে নাও আজ সত্যবাক্য, মানবতার বাণী।
হে প্রবীণ, তোমার জ্ঞান হোক জাতির আলোকধারা,
অভিজ্ঞতার দীপ জ্বেলে পথ দেখাও সারা।
যেখানে ঘৃণা, সেখানে দাও ভালোবাসার ফুল,
যেখানে বিভেদ, সেখানে গড়ো ঐক্যেরই কূল।
যেখানে অন্যায়, সেখানে ন্যায়ের পতাকা তোল,
যেখানে অন্ধকার, সেখানে আলোর প্রদীপ জ্বাল।
প্রতিটি শ্বাসে জাগুক যেন আল্লাহরই স্মরণ,
প্রতিটি কাজে ফুটে উঠুক ঈমানেরই চরণ।
এই যিকিরের অমৃতধারা হৃদয় ভরে বই,
মানুষ যেন মানুষ থাকে— এ প্রার্থনাই রই।
"লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"—
এ শুধু মুখের উচ্চারণ নয়;
এ আত্মসমর্পণের শপথ,
এ বিনয়ের অঙ্গীকার,
এ সৎপথে চলার সাহস,
এ অসৎকে প্রত্যাখ্যানের দৃঢ় প্রত্যয়,
এ মানবতার দীপশিখা,
এ বিশ্বাসের অবিনাশী ভিত্তি।
তাই এসো সবাই, হৃদয়ের গভীর বিশ্বাসে বলি—
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।
সৎকর্মে দাও অটল শক্তি,
অসৎ থেকে দাও মুক্তি।
তোমারই সাহায্যে জাগুক প্রাণ,
তোমারই নূরে আলোকিত হোক মানবজীবন;
সত্য, ন্যায়, দয়া ও তাকওয়ার পথে
গড়ে উঠুক সুন্দর মানুষ, সুন্দর সমাজ, সুন্দর দেশ এবং শান্তিময় পৃথিবী। আমীন।
***
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
আকাশ জুড়ে ভোরের আলো, জাগে সৃষ্টির গান,
প্রভুর নামে শুরু হোক প্রতিটি অভিযান।
হৃদয় বলে— আমি ক্ষুদ্র, সীমাহীন তিনি,
তাঁরই দয়ায় ফুটে ওঠে জীবনের রঙিনী।
লা হাওলা— বাণী নয় শুধু, আত্মার আর্তনাদ,
দুর্বল প্রাণে জাগিয়ে তোলে ঈমানেরই স্বাদ।
লা কুওয়াতা— শক্তির উৎস একমাত্র রব মহান,
তাঁরই ইচ্ছায় সফল হয় মানুষের অভিযান।
যে শক্তি দিয়ে সূর্য ওঠে পূর্বাকাশ ভরে,
যে শক্তি দিয়ে নদী বয়ে যায় সাগরেরই তরে,
যে শক্তি দিয়ে বীজের বুকে বনানী জন্মায়,
সেই শক্তিতেই মানবহৃদয় সত্যপথে ধায়।
মানুষ যখন ভুলে যায় তার আপন পরিচয়,
ক্ষমতারই মোহে তখন বিবেক হারায় সয়।
অহংকারের অট্টালিকা ভেঙে পড়ে ক্ষণে,
রবের কৃপা না থাকিলে কে দাঁড়াবে জীবনে?
তাই তো মুমিন নতশিরে প্রার্থনা করে যায়—
"হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর আশ্রয় কোথায় পাই?"
পাপের ডাকে কাঁপে যদি দুর্বল অন্তরখানি,
তোমারই দয়া ফিরিয়ে আনে সত্যের অমৃতবাণী।
লোভের মেলা, স্বার্থের বাজার, প্রতারণার ভিড়,
অন্যায় যেন চারদিকে আজ বিষাক্ত কালো নীড়।
সেখানে যে মাথা তুলে সত্যের কথা কয়,
তোমারই দানে সে মানুষ অটল সাহস পায়।
ক্রোধের আগুন জ্বলে ওঠে ক্ষুদ্র অপমানে,
ক্ষমার নদী শুকিয়ে যায় হৃদয়েরই টানে।
তখন তোমার স্মরণ যেন বর্ষার শীতল জল,
ঘৃণার মরু ভিজিয়ে তোলে ভালোবাসার দল।
যে মুখে থাকে এই যিকির, সেই মুখ মিথ্যা নয়,
যে প্রাণে থাকে আল্লাহভীতি, অন্যায় তার সয়?
যে হৃদয়ে রবের ভরসা, সে হৃদয় নির্ভীক,
ঝড়ের মাঝেও রাখে আশা, আলোকিত প্রতীক।
অসহায়ের চোখের জলে দেখো তোমার দান,
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন দিলে পূর্ণ হয় ঈমান।
এতিম শিশুর হাসির মাঝে জান্নাতেরই নূর,
মানবসেবায় লুকিয়ে থাকে রহমতের সুর।
মা-বাবার সেই ক্লান্ত মুখে শ্রদ্ধার চুম্বন দাও,
শিক্ষকেরই জ্ঞানের ঋণ কৃতজ্ঞতায় চুকাও।
প্রতিবেশীর অধিকারে রেখো সদা খেয়াল,
তবেই হবে মানবধর্ম পূর্ণ ও নির্ভাল।
শ্রমিক যখন ঘাম ঝরিয়ে গড়ে দেশের সেতু,
কৃষক যখন মাঠে বোনে সোনার ধানের ক্ষেত,
সত্য ব্যবসায়ী ন্যায়ের পথে রাখে যারই মান,
সবার মাঝেই ইবাদতের জ্বলে পবিত্র জ্ঞান।
হে তরুণ, জাগো আজকে জ্ঞানের দীপ হাতে,
সততারই দুর্গ গড়ো জীবনেরই পথে।
অসত্য যদি ডাকেই তোমায় রঙিন মোহের ছলে,
বল— "আমার রব রয়েছেন সত্যেরই অনলে।"
হে ছাত্র, বইকে ভালোবাসো, জ্ঞানের পথে চলো,
অজ্ঞতার সব আঁধার ভেঙে আলোর শিখা জ্বালো।
হে শিক্ষক, চরিত্রগঠনের হও মহান দিশারী,
তোমার হাতে গড়ে উঠুক আগামী দিনের ভারী।
হে বিচারক, ন্যায়ের পাল্লা রেখো সদা সমান,
হে শাসক, জনগণের হও বিশ্বস্ত অভিভাবক মহান।
হে লেখক, কলম তোমার সত্যের পথে চলুক,
হে কবি, তোমার কাব্যধারা মানবতায় ফলুক।
হে ধনী, দানের আনন্দে করো হৃদয় ভরা,
হে দরিদ্র, ধৈর্য রেখো, রব আছেন সবার সরা।
হে পথিক, কষ্টের পথেই সাফল্যেরই দ্বার,
পরিশ্রমে ফুটে ওঠে জীবনের অমৃতহার।
যেখানে বিভেদ, সেখানে গড়ো ভ্রাতৃত্বেরই সেতু,
যেখানে বিদ্বেষ, সেখানে প্রেমের অনন্ত ঋতু।
যেখানে অন্যায়, সেখানে ন্যায়ের পতাকা তোলো,
যেখানে আঁধার, সেখানে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালো।
তাকওয়ার আলো হৃদয়ে জ্বলে সূর্যেরও অধিক,
বিনয় যার অলংকার, সে-ই মানুষ মহৎ ঠিক।
ক্ষমা যার শক্তি, দয়া যার চিরপরিচয়,
মানবতার ইতিহাসে তারই অমর জয়।
"লা হাওলা" শেখায় মানুষ দুর্বলতার জ্ঞান,
"লা কুওয়াতা" শেখায় শুধু আল্লাহই মহীয়ান।
তাঁরই শক্তি, তাঁরই দয়া, তাঁরই অশেষ নূর,
তাঁরই কৃপায় জীবনভরা সুখের সুমধুর সুর।
এসো তবে সকলে মিলে করি আজ অঙ্গীকার—
মিথ্যা, লোভ, হিংসা, ঘৃণা করব চিরবিসর্জন আর।
সত্য, ন্যায়, প্রেম ও দয়া হবে জীবনের গান,
আল্লাহভীতি হবে মোদের শ্রেষ্ঠ সম্মান।
প্রতিটি নিশ্বাস বলুক যেন—
"লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।"
এই যিকির হোক আত্মার জ্যোতি,
এই যিকির হোক সাহসের আলো,
এই যিকির হোক সৎপথের পাথেয়,
এই যিকির হোক অসৎ থেকে মুক্তির প্রেরণা।
আল্লাহরই দয়ায় জাগুক কর্ম,
আল্লাহরই দয়ায় ফুটুক জ্ঞান,
আল্লাহরই দয়ায় গড়ে উঠুক
সুন্দর মানুষ,
সুন্দর পরিবার,
সুন্দর সমাজ,
সুন্দর দেশ,
এবং ন্যায়, দয়া, শান্তি ও মানবতায় ভাস্বর এক কল্যাণময় পৃথিবী।
***
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
(সৎকর্মে শক্তি, অসৎকর্ম বর্জনের প্রেরণা)
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
মানবজীবন সংগ্রামের মাঠ, পরীক্ষা প্রতিক্ষণ,
কখনো সুখ, কখনো দুঃখ, কখনো বিষণ্ন মন।
অন্ধকারে পথ হারিয়ে কাঁদে অবলা প্রাণ,
তখন আকাশ ছুঁয়ে আসে এক চিরন্তন বাণী মহান—
"লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"
এ বাণী শুধু শব্দ নয়, এ হৃদয়ের আলো,
এ বিশ্বাসের অমৃতধারা, সত্যপথের ভালো।
এ শেখায়— "আমি নই শক্তিমান, নই কোনো গর্বের ধন,
আমার সকল শক্তির উৎস একমাত্র পরম করুণাময় রব।"
যে শক্তিতে সূর্য ওঠে, জাগে ভোরের গান,
যে শক্তিতে গ্রহ-নক্ষত্র রাখে শৃঙ্খলার মান,
যে শক্তিতে সাগর গর্জে, নদী বহে নিরন্তর,
সেই শক্তিতেই মানুষ জাগে সত্যপথের অন্তর।
লোভের ডাকে টলে গেলে বলো এই পবিত্র নাম,
ক্রোধ যখন হৃদয় জ্বালায়, স্মরণ করো তাঁরই কালাম।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয়ের বস্ত্র পরো,
আল্লাহরই সাহায্যে তবে সত্যের পথে চলো।
মিথ্যার প্রাসাদ যতই হোক অলংকারে ভরা,
সত্যের ছোট কুটিরখানি আল্লাহর নূরে সরা।
অন্যায় যত প্রবল হোক, স্থায়ী তার নয়,
ধৈর্য, তাকওয়া, ন্যায়ের পথে শেষ পর্যন্ত জয়।
যে যুবক চরিত্র গড়ে ঈমানেরই তরে,
সে-ই একদিন আলোকিত করে দেশকে অন্তরে।
যে শিক্ষার্থী জ্ঞানের সাথে নৈতিকতা শেখে,
ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তারই হাতে থেকে।
মা-বাবার সেবায় রয়েছে জান্নাতের সুবাস,
শিক্ষকের সম্মানে জাগে বিদ্যার উজ্জ্বল আভাস।
প্রতিবেশীর অধিকারে যে রাখে সদা মান,
তার জীবনেই প্রস্ফুটিত রহমতের সম্মান।
অসহায়ের চোখের জলে নিজের অশ্রু মেশাও,
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন দিয়ে মানবধর্ম শেখাও।
এতিম শিশুর মুখের হাসি জান্নাতেরই ফুল,
দয়া যার হৃদয়ে জাগে, সে-ই সত্যিকারের কূল।
পরিশ্রমের ঘামে লেখা সাফল্যের ইতিহাস,
অলসতার অন্ধকারে ম্লান হয় সকল আশ।
কর্মই যখন ইবাদত হয় আল্লাহর সন্তোষে,
জীবন তখন সার্থক হয় সত্যের পরশে।
বিপদ এলে ভয় পেও না, বলো অন্তরভরে—
"হে মহান রব! তোমারই দয়া রাখো আমার তরে।"
কারণ তুমি ছাড়া আর নেই কোনো শক্তির স্থান,
তোমারই ইচ্ছায় জাগে সাহস, জয় করে অবসান।
ক্ষমা যার মহিমা, দয়া যার পরিচয়,
সেই মানুষই পৃথিবীতে রেখে যায় অমর জয়।
ন্যায় যার পতাকা, সত্য যার গান,
মানবতার ইতিহাসে সে-ই মহান প্রাণ।
যেখানে হিংসা, সেখানে প্রেমের বীজ বোনো,
যেখানে বিভেদ, সেখানে ভ্রাতৃত্বের সেতু গড়ো।
যেখানে মিথ্যা, সেখানে সত্যের দীপ জ্বালো,
যেখানে হতাশা, সেখানে আশার বাণী বলো।
হে মানুষ!
তোমার হৃদয়কে করো আল্লাহর স্মরণে উজ্জ্বল,
তোমার জিহ্বাকে করো সত্যের উচ্চারণে সফল,
তোমার হাতকে করো সেবার জন্য প্রসারিত,
তোমার জীবনকে করো ন্যায়ের পথে নিবেদিত।
"লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"—
এ দুর্বলতার স্বীকারোক্তি,
এ আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা,
এ সৎকর্মের প্রেরণা,
এ পাপ থেকে ফিরে আসার আহ্বান,
এ বিনয়ের শিক্ষা,
এ তাকওয়ার আলো,
এ ঈমানের শক্তি,
এ সফল জীবনের চাবিকাঠি।
এসো, প্রতিটি প্রভাতে,
প্রতিটি সন্ধ্যায়,
প্রতিটি কর্মের শুরুতে,
প্রতিটি বিপদের মুহূর্তে,
প্রতিটি প্রার্থনার শেষে,
আমরা অন্তরের গভীর বিশ্বাসে উচ্চারণ করি—
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
হে আল্লাহ!
সৎকাজ করার শক্তি দাও,
অসৎকাজ বর্জনের তাওফীক দাও,
সত্যকে ভালোবাসার হৃদয় দাও,
অন্যায়কে প্রত্যাখ্যানের সাহস দাও,
জ্ঞানকে কাজে লাগানোর প্রজ্ঞা দাও,
মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ দাও।
তোমারই নূরে আলোকিত হোক আমাদের অন্তর,
তোমারই রহমতে পবিত্র হোক আমাদের চরিত্র,
তোমারই হিদায়াতে গড়ে উঠুক
সুন্দর মানুষ,
সুন্দর পরিবার,
সুন্দর সমাজ,
সুন্দর দেশ,
এবং শান্তি, ন্যায়, দয়া ও মানবকল্যাণে ভাস্বর এক মহিমান্বিত পৃথিবী।
আমীন।
***
প্রভাতবেলার শুভ্র আলো ছুঁয়ে নীল আকাশ,
জাগে বিশ্বে রবের কুদরত, করুণার সুবাস।
অণু থেকে নক্ষত্রপুঞ্জ, সাগর হতে শৈল,
সবখানে তাঁর মহিমাগান—অশেষ, অনন্ত, অমল।
মানুষ ক্ষুদ্র, সীমিত তার জ্ঞান ও শক্তিবল,
এক নিমেষে বদলে যায় জীবনেরই চল।
তবু তারই হৃদয় মাঝে জাগে আশার দীপ,
যখন শোনে আসমানি সেই চিরন্তন আহ্বান স্নিগ্ধ, সুনিবিড়—
"লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"
এ শুধু মুখের উচ্চারণ নয়,
এ আত্মার নিবেদন;
এ বিনয়ের অর্ঘ্য,
এ বিশ্বাসের দীপশিখা,
এ রবের দরবারে
অক্ষমতার অকপট স্বীকারোক্তি।
হে মহান আল্লাহ!
তোমার সাহায্য ব্যতীত
পাপ থেকে ফিরে আসার শক্তি নেই,
তোমার তাওফীক ব্যতীত
সৎকাজে অবিচল থাকার ক্ষমতা নেই।
তোমারই শক্তিতে সূর্য প্রতিদিন উদিত হয়,
তোমারই আদেশে চাঁদ জোছনার অঞ্জলি বিলায়,
তোমারই ইচ্ছায় নদী ছুটে চলে সাগরপানে,
তোমারই রহমতে ফুল হাসে বসন্তের গানে।
মানুষ যখন অহংকারে ভুলে যায় আপন পরিচয়,
ক্ষমতার মোহে ডুবে গিয়ে হারায় সত্যের জয়,
তখন এই যিকির ডাকে—
"ফিরে এসো তোমার রবের কাছে,
তাঁরই সাহায্যে জাগুক তোমার বিবেক।"
লোভ যখন হৃদয়ে আগুন জ্বালে,
অন্যায় যখন সোনার মুখোশ পরে আসে,
মিথ্যা যখন সত্যের ভাষা ধার করে,
তখন ঈমানের অন্তর কেঁদে ওঠে—
"হে পরম দয়াময়!
তোমার সাহায্য না পেলে
আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারব না।"
ক্রোধ যখন অগ্নিশিখা হয়ে
ধৈর্যের বন পুড়িয়ে দেয়,
অভিমান যখন সম্পর্ক ভাঙে,
হিংসা যখন ভালোবাসাকে নির্বাসনে পাঠায়,
তখন এই যিকির
বর্ষার নির্মল জলের মতো
হৃদয়কে ধুয়ে দেয় শান্তির স্রোতে।
অহংকারের মুকুট খুলে
বিনয়ের পুষ্পমালা পরায়,
বিদ্বেষের প্রাচীর ভেঙে
ভ্রাতৃত্বের সেতু গড়ে,
অন্ধকার মনোজগতে
তাকওয়ার সূর্যোদয় ঘটায়।
যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয়,
সে হৃদয়ে প্রতারণা বাসা বাঁধে না।
যে অন্তরে আল্লাহর স্মরণ,
সে অন্তরে অন্যায়ের বিজয় হয় না।
যে জীবনে আল্লাহর ওপর ভরসা,
সে জীবন বিপদেও আশা হারায় না।
মা-বাবার সেবায় জান্নাতের সুবাস,
শিক্ষকের সম্মানে জ্ঞানের বিকাশ,
প্রতিবেশীর অধিকারে মানবতার প্রকাশ,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো—ইবাদতের উজ্জ্বল আভাস।
ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া,
এতিমের মাথায় স্নেহের হাত রাখা,
অসুস্থের পাশে সান্ত্বনা হয়ে দাঁড়ানো,
অত্যাচারিতের পক্ষে ন্যায়ের ভাষা বলা—
এসবই সেই সৎপথ,
যার তাওফীক আসে
আল্লাহরই অশেষ দয়া থেকে।
হে তরুণ!
তোমার শক্তি হোক চরিত্রে,
তোমার সৌন্দর্য হোক সততায়,
তোমার বিজয় হোক জ্ঞানে,
তোমার মর্যাদা হোক তাকওয়ায়।
হে শিক্ষার্থী!
বইয়ের আলোকে
চরিত্রের আলোয় রূপান্তর করো।
জ্ঞানকে করো আমলের সঙ্গী,
সাফল্যকে করো বিনয়ের অলংকার।
হে লেখক!
কলম হোক সত্যের ভাষ্যকার।
হে কবি!
তোমার কবিতা হোক
মানবতা, ন্যায় ও আল্লাহভীতির সুরধারা।
হে সমাজ!
অন্যায়কে নয়,
ন্যায়কে আপন করো।
বিদ্বেষকে নয়,
ভালোবাসাকে স্থান দাও।
প্রতারণাকে নয়,
বিশ্বাসকে মর্যাদা দাও।
অহংকারকে নয়,
বিনয়কে সম্মান দাও।
কারণ—
পৃথিবীর সব শক্তি ক্ষণস্থায়ী,
সব ক্ষমতা সীমাবদ্ধ,
সব গৌরব একদিন ম্লান হবে।
চিরস্থায়ী কেবল
আল্লাহর শক্তি,
আল্লাহর ক্ষমতা,
আল্লাহর দয়া,
আল্লাহর নূর।
তাই প্রতিটি প্রভাতে,
প্রতিটি সন্ধ্যায়,
প্রতিটি কর্মের শুরুতে,
প্রতিটি বিপদের মুহূর্তে,
প্রতিটি সাফল্যের পরে,
প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর মাঝে,
প্রতিটি সিজদার গভীরে
হৃদয়ভরা বিশ্বাসে বলি—
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
হে মহান আল্লাহ!
সৎকাজের তাওফীক দাও,
অসৎকাজ থেকে হেফাজত করো।
সত্যকে ভালোবাসার হৃদয় দাও,
ন্যায় প্রতিষ্ঠার সাহস দাও,
ক্ষমার মহত্ত্ব দাও,
দয়ার সৌন্দর্য দাও,
বিনয়ের অলংকার দাও,
তাকওয়ার আলো দাও।
তোমার রহমতে গড়ে উঠুক
উন্নত মানুষ,
আদর্শ পরিবার,
নৈতিক সমাজ,
কল্যাণময় রাষ্ট্র,
এবং ন্যায়, শান্তি, দয়া ও মানবিক মূল্যবোধে সমুজ্জ্বল এক সুন্দর পৃথিবী।
আমীন।
৭
৭ মন্তব্য