Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ জুন, ২০২৬ ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সিজদার পথেই নৈকট্য - মোঃ মুজিবুর রহমান


সিজদার পথেই নৈকট্য

(সূরাঃ আল-আলাক আয়াতঃ ১৯এর আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

কখনো নয়, অন্যায়ের কাছে মাথা নত কোরো না,
মিথ্যার ডাকে সত্যের প্রদীপ নিভতে দিও না।
ক্ষমতার গর্জন, অহংকারের তপ্ত অগ্নিশিখা,
বিশ্বাসীর হৃদয় ভাঙতে পারে না কোনো দীক্ষা।

যে রব সৃষ্টি করেছেন আকাশ, নদী, পাহাড়,
তাঁরই নামে জাগে প্রাণে অফুরন্ত অনিবার্য আহ্বান।
মানুষ আসে, মানুষ যায়—সময় বদলায় রূপ,
চিরস্থায়ী কেবল তিনিই, তাঁরই অনন্ত সূর্যরূপ।

যে ডাকে বলে, "ফিরে এসো আমারই সনে,"
সে ডাকে জেগে ওঠে প্রাণ ঈমানের আপন গানে।
সিজদার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অহংকার সব ক্ষয়,
সেখানে বান্দা শেখে—রব ছাড়া আশ্রয় আর নয়।

যেখানে কপাল ছোঁয় ধূলি, হৃদয় ছোঁয় আকাশ,
সেখানে খুলে যায় রহমতের অবারিত সুবাস।
চোখের অশ্রু ঝরে নীরব, ভাষা হারায় মুখ,
তবু সে কান্নায় লুকিয়ে থাকে জান্নাতের সুখ।

সিজদা মানে কেবল নয় দেহের নত হওয়া,
সিজদা মানে আত্মার গভীরতম নিবেদন ছোঁয়া।
নিজেকে ভেঙে রবের কাছে সমর্পণের গান,
সিজদাতেই খুঁজে পায় মানুষ জীবনের সম্মান।

ঝড় যদি আসে, আসুক তবে ঈমান হোক দৃঢ়,
সত্যের পথে দাঁড়িয়ে থাকুক হৃদয় অটল, স্থির।
অন্যায় যদি হুমকি দেয়, ভয় দেখায় শতবার,
বিশ্বাসী জানে—রবের সাহায্যই সবচেয়ে অপার।

পৃথিবীর রাজ্য ক্ষণিকের, ক্ষমতারও শেষ,
আজ যে শীর্ষে, কাল সে নেমে মিশে ধূলির দেশ।
কিন্তু যিনি রবের ডাকে সাড়া দিয়ে যান,
তাঁর মর্যাদা অম্লান থাকে যুগের পর যুগ জান।

সিজদার মাঝে মুছে যায় হৃদয়ের সব দহন,
আত্মা পায় শান্তির ছোঁয়া, জাগে নতুন জীবন।
ভাঙা বুকের দীর্ঘশ্বাস হয় দোয়ার ভাষা,
রহমতের দরজা খুলে দেয় করুণাময় আশা।

যে কপাল আজ সিজদাতে নত হয় বিনয়ে,
সে কপাল একদিন জ্বলবে জান্নাতেরই আলোয়।
যে হাত তুলে প্রার্থনা করে চোখের জলে ভেজা,
তার ডাক ফেরে না কখনো, শোনেন দয়াময় স্রষ্টা।

সত্যের পথে বাধা আসবে, এ তো চিরকাল,
নবীদেরও থামাতে চেয়েছে মিথ্যারই জাল।
তবু তারা নত হননি জুলুমের আদেশে,
রবের ডাকে অটল ছিলেন ঈমানের পরিবেশে।

তাই হে মানুষ, ভয় কোরো না মিথ্যার গর্জনে,
সত্যের আলো জ্বালিয়ে রাখো হৃদয়েরই কোণে।
মানুষের ভয় ক্ষণিক মাত্র, রবের ভয় মহান,
এই ভয়েই মুক্তি মেলে, এই ভয়েই কল্যাণ।

নৈকট্য চাও? সিজদার পথে এগিয়ে চলো ধীর,
ইবাদতে ভরাও জীবন, করো অন্তর স্থির।
ধন নয়, যশ নয়, নয় পৃথিবীর মান,
রবের সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।

যখন রাত নেমে আসে নীরবতার ডানায়,
সিজদার অশ্রু জ্বলে ওঠে তারারই আলোয়।
সেই নিভৃত প্রার্থনাতে ফেরেশতারাও হাসে,
রহমতের বারিধারা নেমে আসে আকাশে।

যে হৃদয় রবকে ভালোবাসে, সে কখনো নয় একা,
প্রতিটি শ্বাসে পায় সে দয়ার অনন্ত রেখা।
দুঃখ এলে ধৈর্য ধরে, সুখে করে শুকরিয়া,
এই তো মুমিনের জীবন—আল্লাহমুখী প্রিয়া।

আসো তবে অহংকারের শৃঙ্খল করি ভাঙ,
সিজদার পথে জাগুক প্রাণ, জাগুক সত্যরঙ।
কখনো নয় অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা,
রবের পথে অটল থাকাই জীবনের সেরা ধারা।

সিজদাতেই শক্তি জাগে, সিজদাতেই জয়,
সিজদাতেই মুছে যায় সকল ভয় ও ক্ষয়।
সিজদাতেই হৃদয় পায় প্রশান্তির অপার সুর,
সিজদাতেই মানুষ পৌঁছে দয়াময়ের নূর।

হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে অহংকার থেকে পবিত্র করুন।
আমাদের সিজদাকে করুন একান্ত আন্তরিক, আমাদের দোয়াকে করুন কবুল, আমাদের ঈমানকে করুন অটল।
আপনারই আনুগত্যে, আপনারই ইবাদতে এবং আপনারই নৈকট্যে আমাদের জীবন ও মৃত্যু কবুল করুন।
আমীন।

***

কখনো নয়—অন্যায়ের কাছে নত হবে না শির,
ক্ষমতার গর্জন শুনে ভাঙবে না অন্তরস্থ ধীর।
যে ডাকে সত্য ত্যাগ করে মিথ্যার পথে যেতে,
তার ডাকে সাড়া দিও না জীবনের কোনো ক্ষেতে।

মানুষ ক্ষণিক, ক্ষমতা ক্ষণিক, ক্ষণিক পৃথিবীজোড়া,
চিরন্তন কেবল রবের রাজ্য—অনন্ত আলোর ধারা।
তাঁরই ডাকে জাগে প্রাণ, তাঁরই নামে ভোর,
তাঁরই রহমতে ফুটে ওঠে জীবনের প্রতিটি ঘোর।

সিজদা করো—
কারণ সিজদাই আত্মার শ্রেষ্ঠ নিবেদন,
সিজদাই হৃদয়ের নিঃশব্দতম সমর্পণ,
সিজদাই অহংকার ভাঙার পবিত্র মুহূর্ত,
সিজদাই বান্দার সর্বোচ্চ সম্মান।

যখন কপাল মাটিতে নত হয়,
তখন আকাশ খুলে যায়।
যখন চোখ ভিজে অশ্রুজলে,
তখন রহমতের দরজা দোলে।

সিজদার মাটিতে রাজা-প্রজা একাকার,
সেখানে ধনীর নেই গর্ব, গরিবের নেই হাহাকার।
সেখানে মানুষ কেবল বান্দা,
আর মহান আল্লাহ একমাত্র প্রভু।

যে হৃদয় সিজদায় কাঁদতে জানে,
সে হৃদয় পাপের বোঝা নামাতে জানে।
যে হৃদয় রবের সামনে ভেঙে পড়ে,
সে হৃদয়ই প্রকৃত শক্তির অধিকারী হয়।

কত ঝড় এল,
কত অত্যাচারীর তলোয়ার ঝলসে উঠল,
কত অহংকারী গর্জে বলল—
"
নত হও!"

কিন্তু ঈমান বলল—
"
না,
নত হব শুধু সেই মহান রবের সামনে,
যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশ ও পৃথিবী।"

এই "না" উচ্চারণই সাহস,
এই "না" উচ্চারণই মুক্তি,
এই "না" উচ্চারণই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বিজয়।

হে মানুষ!
তোমার সম্মান প্রাসাদে নয়,
ক্ষমতায় নয়,
অর্থে নয়,
মানুষের করতালিতে নয়।

তোমার সম্মান লুকিয়ে আছে
সেই নীরব সিজদায়,
যেখানে কেউ দেখে না,
কিন্তু আল্লাহ দেখেন।

রাতের গভীরে
যখন চারদিক স্তব্ধ,
যখন পৃথিবী নিদ্রিত,
যখন মানুষের প্রশংসা থেমে যায়,
তখন একজন মুমিন
তার রবের দরবারে দাঁড়ায়।

রুকু করে।
সিজদায় যায়।
অশ্রু ঝরায়।
দোয়া করে।

আর আকাশ বলে—
"
এই তো আমার প্রিয় বান্দা,
যে আমাকে ভুলে যায়নি।"

সিজদা শেখায়—
ক্ষমা চাইতে।
ধৈর্য ধরতে।
ক্ষমা করতে।
ভালোবাসতে।
সত্য আঁকড়ে থাকতে।

সিজদা শেখায়—
নিজেকে বড় ভাবো না।
কারণ যে মাটিতে আজ কপাল রাখছ,
একদিন সেই মাটিই হবে তোমার শেষ ঠিকানা।

যে মানুষ সিজদা জানে,
সে মানুষ প্রতারণা করে না।
অন্যায় করে না।
অহংকারে অন্ধ হয় না।
মানুষকে ছোট করে না।
কারণ সে জানে—
সবাই একদিন রবের সামনে দাঁড়াবে।

হে রব!
আমাদের হৃদয়কে সিজদার আলোয় উজ্জ্বল করুন।
আমাদের চোখকে অশ্রুর সৌন্দর্য দিন।
আমাদের জিহ্বাকে জিকিরের মাধুর্য দিন।
আমাদের জীবনকে ইবাদতের সুবাস দিন।

যখন দুঃখ আসবে—
সিজদায় রাখবেন।
যখন সুখ আসবে—
সিজদায় রাখবেন।
যখন বিপদ আসবে—
সিজদায় রাখবেন।
যখন সফলতা আসবে—
সিজদায় রাখবেন।

কারণ,
যে সিজদায় থাকে,
সে আপনার আশ্রয়ে থাকে।

যে আপনার আশ্রয়ে থাকে,
তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

হে পরম করুণাময়!
আমাদের সিজদাকে করুন ইখলাসে ভরা।
আমাদের দোয়াকে করুন কবুল।
আমাদের অন্তরকে করুন তাকওয়ার আলোয় উদ্ভাসিত।
আমাদের জীবনকে করুন কুরআনের পথে পরিচালিত।

কখনো যেন আমরা অন্যায়ের অনুসারী না হই,
কখনো যেন অহংকারের দাস না হই,
কখনো যেন মিথ্যার কাছে মাথা নত না করি।

আমরা যেন কেবল আপনারই বান্দা হই,
আপনারই ইবাদত করি,
আপনারই ওপর ভরসা রাখি,
আপনারই সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন উৎসর্গ করি।

সিজদাই হোক আমাদের শক্তি,
সিজদাই হোক আমাদের শান্তি,
সিজদাই হোক আমাদের অশ্রুর ভাষা,
সিজদাই হোক আমাদের মুক্তির সোপান।

কারণ—
যে কপাল আল্লাহর জন্য নত হয়,
সেই কপাল কখনো অপমানিত হয় না।
যে হৃদয় আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে,
তার চেয়ে ধনী আর কেউ নয়।
আর যে বান্দা সিজদায় নিজের রবকে খুঁজে পায়,
সে-ই পৃথিবীর বুকে প্রকৃত সফল,
এবং পরকালে চিরকল্যাণের অধিকারী।

সিজদা—রবের নৈকট্যের অমর আহ্বান

কখনো নয়—
মিথ্যার কাছে মাথা নত করো না,
ক্ষমতার অহংকারে সত্যকে বিসর্জন দিও না।
যে ডাকে অন্যায়ের পথে,
যে টানে অন্ধকারের দিকে,
তার পদচিহ্ন অনুসরণ নয়—
তোমার পথ হোক নূরের,
তোমার গন্তব্য হোক রবের সন্তুষ্টি।

মাথা নত হবে,
তবে কেবল সেই মহান সত্তার সামনে,
যিনি আকাশকে ছাদ করেছেন,
পৃথিবীকে করেছেন বিছানা,
যিনি ধূলিকণায় জীবন জাগান,
শূন্যতায় সৃষ্টি করেন নক্ষত্রের মহাসমুদ্র।

সিজদা করো—
কারণ সিজদাই বিশ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চারণ।
যেখানে ভাষা থেমে যায়,
সেখানে কপাল কথা বলে।
যেখানে যুক্তি স্তব্ধ হয়,
সেখানে ভালোবাসা সেজদায় ঝরে পড়ে।

সিজদা মানে আত্মসমর্পণ,
সিজদা মানে অহংকারের মৃত্যু,
সিজদা মানে আত্মার পুনর্জন্ম,
সিজদা মানে চিরকল্যাণের দিকে প্রথম পদক্ষেপ।

যে হৃদয় সিজদা জানে,
সে হৃদয় ঘৃণা বহন করে না।
যে হৃদয় আল্লাহর সামনে নত হয়,
সে মানুষকে অপমান করতে পারে না।
যে কপাল রবের জন্য ধূলিতে মিশে,
সে কপাল মর্যাদার শিখরে আরোহণ করে।

যখন রাতের নিস্তব্ধতা
পৃথিবীকে জড়িয়ে ধরে,
যখন সমস্ত শব্দ স্তব্ধ,
তখন একজন মুমিন
তার রবের দরবারে দাঁড়ায়।

তার চোখে অশ্রু,
ঠোঁটে দোয়া,
হৃদয়ে বিনয়,
আর কপালে সিজদার আলো।

সেই মুহূর্তে
পৃথিবীর কোনো রাজসিংহাসন
তার সমকক্ষ হতে পারে না।

কারণ,
যে বান্দা সিজদায় থাকে,
সে মহান রবের সান্নিধ্যে থাকে।

ঝড় আসুক,
অত্যাচার আসুক,
বিদ্রূপ আসুক,
অহংকারের বজ্রধ্বনি উঠুক—
তবুও ঈমানের কণ্ঠ বলুক,

"আমি নত হব না
কোনো মিথ্যার সামনে,
নত হব না
কোনো জালিমের আদেশে,
নত হব কেবল
সেই রবের সামনে,
যিনি আমার প্রাণেরও অধিক আপন।"

সিজদা শেখায়—
ক্ষমা চাইতে।
ক্ষমা করতে।
ধৈর্য ধারণ করতে।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।
সত্যকে ভালোবাসতে।
মানুষকে সম্মান করতে।
নিজেকে ক্ষুদ্র ভাবতে।
রবকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানতে।

সিজদা মানুষের অহংকার ভেঙে
বিনয়ের ফুল ফুটিয়ে তোলে।
সিজদা মানুষের অন্তর থেকে
হিংসা, লোভ, ক্রোধ ও কপটতা ধুয়ে দেয়।

যে ঘরে সিজদা আছে,
সে ঘরে বরকত আছে।
যে হৃদয়ে সিজদা আছে,
সে হৃদয়ে প্রশান্তি আছে।
যে জীবনে সিজদা আছে,
সে জীবনে আলোর দিশা আছে।

মানুষ ধন চায়,
ক্ষমতা চায়,
খ্যাতি চায়,
অমরত্ব চায়।

কিন্তু মুমিন জানে—
এসবই ক্ষণস্থায়ী।

চিরস্থায়ী কেবল
রবের সন্তুষ্টি।

তাই সে
সিজদায় খুঁজে ফেরে
নিজের প্রকৃত পরিচয়,
নিজের মুক্তি,
নিজের চিরসফলতা।

হে প্রভু!
আমাদের এমন সিজদা দান করুন,
যেখানে থাকবে ইখলাস,
থাকবে অশ্রুর স্বচ্ছতা,
থাকবে তাওবার গভীরতা,
থাকবে আপনার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা।

আমাদের এমন হৃদয় দিন,
যা অন্যায়ের সামনে দৃঢ়,
সত্যের সামনে বিনীত,
মানুষের প্রতি দয়ালু,
আর আপনার প্রতি সর্বদা অনুগত।

আমাদের এমন জীবন দিন,
যেখানে প্রতিটি সকাল
আপনার স্মরণে শুরু হয়,
প্রতিটি সন্ধ্যা
আপনার শুকরিয়ায় শেষ হয়,
আর প্রতিটি সিজদা
আপনার নৈকট্যের নতুন দ্বার খুলে দেয়।

হে আল্লাহ!
আমাদের কপালকে সিজদার সৌন্দর্যে অলংকৃত করুন।
আমাদের অন্তরকে তাকওয়ার আলোয় উদ্ভাসিত করুন।
আমাদের দোয়াকে কবুল করুন।
আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন।
আমাদের ঈমানকে অটল রাখুন।
আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত
আপনার আনুগত্যে অবিচল রাখুন।

যেন পৃথিবীর কোনো ভয়
আমাদের সত্য থেকে ফিরিয়ে না দেয়,
কোনো লোভ
আমাদের বিবেককে বিকিয়ে না দেয়,
কোনো ক্ষমতা
আমাদের সিজদা কেড়ে নিতে না পারে।

কারণ—
সত্যিকারের স্বাধীনতা
কেবল আল্লাহর দাসত্বে,
সত্যিকারের সম্মান
কেবল তাঁর আনুগত্যে,
সত্যিকারের প্রশান্তি
কেবল তাঁর স্মরণে,
আর সত্যিকারের নৈকট্য
কেবল আন্তরিক সিজদায়।

তাই এসো,
আমরা সবাই
অহংকারের প্রাসাদ ছেড়ে
বিনয়ের মাটিতে নত হই।

সিজদার অশ্রুতে ধুয়ে ফেলি
হৃদয়ের সব কালিমা।

রবের দিকে বাড়িয়ে দিই
দোয়ার দুটি হাত।

কারণ—
যে বান্দা সিজদায় নিজের রবকে খুঁজে পায়,
সে কখনো নিঃস্ব হয় না;
যে হৃদয় আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে,
সে কখনো একা থাকে না;
আর যে জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত,
সে জীবনই দুনিয়ায় সম্মানিত
এবং আখিরাতে চিরসফল।

***

কখনো নয়—
অন্যায়ের কাছে নত হবে না বিশ্বাসীর শির,
মিথ্যার ঝড়ে নিভে যাবে না সত্যের আলোকনির্ঝর।
জুলুম যদি গর্জে ওঠে অহংকারের ভাষায়,
ঈমান তখন দৃঢ় হয়ে দাঁড়ায় রবের আশ্রয়ায়।

ক্ষমতার মুকুট ক্ষণিক,
রাজদণ্ডও থাকে না চিরকাল।
আজ যে শাসন করে পৃথিবী,
কাল সে নিঃশব্দে মিশে যায় ধূলির জালে।

কিন্তু যিনি আসমান উঁচু করেছেন স্তম্ভহীন,
যিনি মাটির বুকে ফুটিয়েছেন জীবনের রঙিন দিন,
যিনি অন্ধকার ভেদ করে সূর্যকে দেন আলো,
তাঁরই দরবার চিরন্তন, তাঁরই রাজ্য ভালো।

তাই শোনো—
কোনো অত্যাচারীর পদচিহ্ন অনুসরণ নয়,
কোনো মিথ্যার পতাকার নিচে সমর্পণ নয়।
তোমার পথ হোক কুরআনের আলো,
তোমার লক্ষ্য হোক রবের সন্তোষই ভালো।

সিজদা করো—
কারণ সিজদাই হৃদয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতা,
সিজদাই আত্মার নিঃশব্দ নিবেদন,
সিজদাই অহংকারের কবর,
সিজদাই বিনয়ের প্রথম ভোর।

যেখানে কপাল ছুঁয়ে যায় মাটির বুক,
সেখানে আত্মা ছুঁয়ে ফেলে আসমানের সুখ।
যেখানে অশ্রু গড়ায় নিঃশব্দ প্রার্থনায়,
সেখানে রহমত নামে অশেষ করুণাধারায়।

সিজদা মানে—
নিজেকে ছোট করা নয়,
নিজেকে সত্যের হাতে সমর্পণ করা।
নিজেকে হারানো নয়,
রবের সান্নিধ্যে নিজের প্রকৃত পরিচয় খুঁজে পাওয়া।

যে মানুষ সিজদা জানে,
সে প্রতারণা জানে না।
সে মানুষের অধিকার হরণ করে না,
অহংকারের সিংহাসনে বসে না।
কারণ সে জানে—
সব শক্তির উৎস একমাত্র আল্লাহ।

কত ফিরআউন এসেছে,
কত নমরূদ ইতিহাসে গর্জে উঠেছে,
কত জালিম বলেছে—
“
নত হও!”

কিন্তু ঈমানের উত্তর ছিল একটাই—

“নত হব কেবল
সেই মহান রবের সামনে,
যাঁর হাতে আকাশের নক্ষত্র,
যাঁর ইশারায় সমুদ্রের ঢেউ,
যাঁর করুণায় হৃদয়ের স্পন্দন।”

এই প্রত্যাখ্যানই স্বাধীনতা।
এই আনুগত্যই মর্যাদা।
এই সিজদাই মানুষের প্রকৃত বিজয়।

রাত গভীর হলে,
যখন পৃথিবী নিদ্রিত,
যখন প্রশংসার কোলাহল থেমে যায়,
যখন একাকিত্ব নেমে আসে জানালার ধারে,
তখন এক মুমিন
অজুর জলে ধুয়ে নেয় হৃদয়ের ক্লান্তি।

সে দাঁড়ায়।
রুকু করে।
সিজদায় লুটিয়ে পড়ে।

তার ঠোঁটে দোয়া,
চোখে অশ্রু,
অন্তরে তাওবা,
আর প্রাণে অটল ভরসা।

সেই নীরব সিজদা
হাজার ভাষণের চেয়ে শক্তিশালী,
হাজার রাজমুকুটের চেয়ে সম্মানময়,
হাজার সম্পদের চেয়ে মূল্যবান।

কারণ—
সেখানে বান্দা সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়
তার রবের।

হে মানুষ!
তোমার সম্মান ধনে নয়,
ক্ষমতায় নয়,
খ্যাতির উল্লাসে নয়,
মানুষের করতালিতে নয়।

তোমার সম্মান লুকিয়ে আছে
সেই নিভৃত সিজদায়,
যেখানে কেউ দেখে না,
কিন্তু আল্লাহ দেখেন।

সিজদা শেখায়—
ধৈর্যকে।
ক্ষমাকে।
সত্যকে।
বিনয়কে।
শুকরিয়াকে।
তাওবাকে।
ভালোবাসাকে।

সিজদা শেখায়—
নিজেকে বড় ভাবো না।
কারণ যে মাটিতে আজ কপাল রাখছ,
একদিন সেই মাটিই হবে তোমার শেষ বিশ্রাম।

তাই অহংকার ছেড়ে দাও,
হিংসা ধুয়ে ফেলো,
লোভকে বিদায় দাও,
অন্যায়ের সব শিকল ভেঙে ফেলো।

জীবনের প্রতিটি সকাল
হোক জিকিরে আলোকিত।
প্রতিটি সন্ধ্যা
হোক শুকরিয়ায় সুশোভিত।
প্রতিটি বিপদ
হোক ধৈর্যের পরীক্ষা।
প্রতিটি সফলতা
হোক বিনয়ের সিজদা।

হে পরম করুণাময়!
আমাদের অন্তরকে ইখলাসে ভরিয়ে দিন।
আমাদের সিজদাকে কবুল করুন।
আমাদের দোয়াকে রহমতের দরজায় পৌঁছে দিন।
আমাদের ঈমানকে পাহাড়সম দৃঢ় করুন।

যেন কোনো ভয়
আমাদের সত্য থেকে ফিরিয়ে না দেয়।
কোনো লোভ
আমাদের বিবেক বিকিয়ে না দেয়।
কোনো ক্ষমতা
আমাদের সিজদা কেড়ে নিতে না পারে।

আমরা যেন কেবল
আপনারই বান্দা হই,
আপনারই আনুগত্য করি,
আপনারই সন্তুষ্টিকে
জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন মনে করি।

সিজদাই হোক আমাদের শক্তি,
সিজদাই হোক আমাদের শান্তি,
সিজদাই হোক আমাদের অশ্রুর ভাষা,
সিজদাই হোক আমাদের নৈকট্যের সেতু।

কারণ—
যে কপাল আল্লাহর জন্য নত হয়,
সে কপাল কখনো অপমানিত হয় না।
যে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত থাকে,
সে হৃদয় কখনো নিঃস্ব হয় না।
যে জীবন আল্লাহর আনুগত্যে উৎসর্গিত,
সে জীবন দুনিয়ায় কল্যাণময়,
আর আখিরাতে চিরসফল।

এসো—
আমরা সবাই
অহংকারের প্রাসাদ ছেড়ে
বিনয়ের মাটিতে নত হই।

সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করি,
সিজদাকে জীবনের অলংকার করি,
দোয়াকে করি আমাদের শক্তি,
আর আল্লাহর নৈকট্যকে করি
আমাদের চিরন্তন লক্ষ্য।

আমীন।

মন্তব্য করুন