Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ জুন, ২০২৬ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

ইতিহাসের কথা(বিরল ঘটনা)

যুক্তরাজ্যের ৫১ বছর বয়সী নির্মাণকর্মী টমি ম্যাকহিউর জীবন এক মুহূর্তেই বদলে যায় একটি বিরল চিকিৎসাগত ঘটনার কারণে।

একদিন টয়লেটে থাকা অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে তিনি দ্রুত শেষ করার জন্য অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করেন। সেই তীব্র চাপে তার রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কের দুটি অ্যানিউরিজম ফেটে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে।

ঘটনার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচাতে তাকে প্রায় এক সপ্তাহের জন্য কৃত্রিম কোমায় রাখেন।

সুস্থ হয়ে ওঠার পর পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, টমি আর আগের মানুষটি নেই।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আগে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ নির্মাণকর্মী। শিল্পকলা নিয়ে তার কোনো আগ্রহ বা বিশেষ প্রতিভা ছিল না। কিন্তু কোমা থেকে জেগে ওঠার পর তার মধ্যে হঠাৎই ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরি এবং সৃষ্টিশীল কাজ করার এক অদম্য তাগিদ তৈরি হয়।

শুধু তা-ই নয়, কয়েক মাস ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারতেন না। তার মুখ থেকে বের হওয়া প্রায় প্রতিটি বাক্যই অজান্তে ছন্দে পরিণত হতো।

তিনি ঘরের দেয়াল, ছাদ, এমনকি মেঝেতেও ছবি আঁকতে শুরু করেন। হাতের কাছে যা পেতেন, তা-ই দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করতেন। তার মস্তিষ্কে সৃষ্টিশীল চিন্তার প্রবাহ এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেক সময় তিনি রাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমাতে পারতেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে অ্যাকোয়ার্ড স্যাভান্ট সিনড্রোম বলা হয়। এতে মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক বা অন্য কোনো স্নায়বিক ঘটনার পর কোনো ব্যক্তি হঠাৎ এমন দক্ষতা বা প্রতিভা অর্জন করতে পারেন, যা আগে তার ছিল না। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নিশ্চিত ঘটনার সংখ্যা একশটিরও কম।

টমির নতুন জীবনের এই তীব্র শিল্পসত্তা শেষ পর্যন্ত তার দাম্পত্য জীবনেও প্রভাব ফেলে এবং তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে তিনি নিজের নতুন পরিচয়কে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার শিল্পকর্ম বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পায় এবং তিনি একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ