প্রধান শিক্ষকের অযোগ্যতা এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তি যখন দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলা করেন, তখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
নিচে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব এবং অন্যান্য প্রভাবকসমূহ তুলে ধরা হলো:
অযোগ্যতা ও অনিয়মের সরাসরি প্রভাব
- আর্থিক দুর্নীতি: স্কুলের তহবিল তছরুপ, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে উন্নয়নমূলক কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
- প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
- স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিং: অযোগ্য প্রধান শিক্ষক নিজের অনিয়ম ঢাকতে অযোগ্যদের সুবিধা দেন, যা শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।
- শিক্ষার মান ধস: ক্লাসের পড়াশোনা তদারকি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
- সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম বন্ধ: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞান মেলার বাজেট লোপাট হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
অন্যান্য নেতিবাচক কারণ
প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় প্রতিষ্ঠানকে পিছিয়ে দেয়:
- পরিচালনা কমিটির দুর্নীতি: ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্যদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।
- শিক্ষকদের জবাবদিহিতার অভাব: স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়েও পার পেয়ে যান।
- তদারকি সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা: উপজেলা বা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও নিরপেক্ষ পরিদর্শনের অভাব।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে হলে প্রধান শিক্ষকের সততা ও যোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি সৎ হলে প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
১
২ মন্তব্য