Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ জুন, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

মনের গ্লাসটা নামিয়ে রাখুন—জীবন অনেক হালকা লাগবে

এক বিখ্যাত প্রফেসর ক্লাসে ঢুকলেন। টেবিলের ওপর বইপত্র না রেখে তিনি পকেট থেকে একটা স্বচ্ছ কাচের গ্লাস বের করলেন, যাতে অর্ধেকটা পানি ভরা ছিল।

তিনি গ্লাসটি হাত দিয়ে উঁচিয়ে ধরে ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাদের কী মনে হয়, এই গ্লাসটার ওজন কত হতে পারে?"

ছাত্ররা একে একে উত্তর দিতে লাগল—"১০০ গ্রাম", "২০০ গ্রাম" বা "সর্বোচ্চ ২৫০ গ্রাম।"

প্রফেসর হাসলেন। তিনি বললেন, "আসলে এর সুনির্দিষ্ট ওজন কত, সেটা বড় বিষয় নয়। আসল বিষয় হলো, আমি এই গ্লাসটা কতক্ষণ ধরে রাখছি।"

সবাই একটু অবাক হয়ে প্রফেসরের দিকে তাকাল। প্রফেসর বুঝিয়ে বললেন:

আমি যদি এই গ্লাসটা এক মিনিটের জন্য ধরে রাখি, তবে আমার কাছে এটা খুব হালকা মনে হবে।

যদি আমি এটা টানা এক ঘণ্টা ধরে রাখি, তবে আমার হাতটা একটু একটু করে ব্যথা করতে শুরু করবে।

আর আমি যদি এটা সারাটা দিন এভাবে ধরে দাঁড়িয়ে থাকি, তবে আমার হাত অবশ হয়ে যাবে, প্রচণ্ড যন্ত্রণা হবে এবং শেষ পর্যন্ত আমি গ্লাসটা ধরে রাখতে না পেরে মাটিতে ফেলে দিতে বাধ্য হব।"


ছাত্ররা মাথা নেড়ে সায় দিল, কিন্তু তারা তখনও বুঝতে পারছিল না প্রফেসর এর মাধ্যমে কী বোঝাতে চাইছেন।

প্রফেসর এবার আসল কথাটা বললেন, "আমাদের জীবনের চিন্তা এবং মানসিক চাপগুলোও ঠিক এই পানির গ্লাসের  মতো। জীবন চলার পথে সমস্যা আসবেই, সেগুলো নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করা স্বাভাবিক, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু সেই চিন্তাগুলোকে যদি তোমরা মনের ভেতর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাখো, তবে দেখবে আস্তে আস্তে মনটা ভারি হয়ে উঠছে এবং তোমরা ভেতরে ভেতরে কষ্ট পাচ্ছ।

আর যদি সেই চিন্তাগুলোকে মন থেকে না নামিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বয়ে বেড়াও, তবে তা তোমাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দেবে। তোমরা নতুন কিছু করার শক্তি হারিয়ে ফেলবে।"

ক্লাসের সবাই সেদিন এক পরম শিক্ষা পেল। তারা বুঝল, দিনশেষে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনের ভেতরের সব পনির গ্লাস' টেবিল নামিয়ে রাখা জরুরি। অর্থাৎ, সারাদিনের সমস্ত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মনকে হালকা করা প্রয়োজন।

সমস্যা ও দুশ্চিন্তা জীবনের অংশ, কিন্তু তা মনের ভেতর জমিয়ে রেখে জীবনকে থামিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সময়মতো মানসিক চাপকে বিদায় জানাতে শিখতে হয়।


মন্তব্য করুন

ব্লগ