Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চোগলখুরির আগুন - মোঃ মুজিবুর রহমান


চোগলখুরির আগুন

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ গড়ার মহাসড়কে প্রেমের দীপ জ্বালো,
সত্য, ন্যায় আর ভ্রাতৃত্ব দিয়ে জীবনখানি ঢালো।
মধুর ভাষায় জুড়াও প্রাণের ক্লান্ত ক্ষত-বেদন,
ঘৃণার বদলে ভালোবাসাই হোক সকলের সাধন।

একটি কথা ফুলও হতে পারে, হতে পারে বিষ,
একটি বাক্য ভাঙতে পারে শত হৃদয়ের নিশ্বাস।
জিহ্বার ডগায় থাকে যে শক্তি, অদৃশ্য তার বল,
সততায় সে স্বর্গ গড়ে, মিথ্যায় আনে ছল।

চোগলখুরি সেই অগ্নিশিখা, গোপন বিষের তীর,
বন্ধুর বুকে বিদ্ধ করায় শত্রুতারই নীর।
একজনের কথা নিয়ে অন্যজনের দ্বারে,
আগুন জ্বালায় হাসিমুখে, বিষ ঢালে সংসারে।

মুখে থাকে মিষ্টি হাসি, অন্তরে কালো ছায়া,
অন্যের সুখ সহ্য না হয়, হিংসাই তার মায়া।
মিথ্যে নয় তো অর্ধসত্য—দুটোই তার হাতিয়ার,
মানুষ ভাঙার খেলায় যেন পায় অদ্ভুত অধিকার।

কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলে কত যে কথা,
সেই কথাতে জমে ওঠে অবিশ্বাসের ব্যথা।
আজ যে বন্ধু, কালকে দেখি শত্রু হয়ে যায়,
চোগলখুরির বিষের দাহে সম্পর্ক ভস্ম হয়।

গীবত হলো পেছন থেকে দোষের কথা বলা,
তাতেও আছে পাপের ছাপ, নিষিদ্ধ তার চলা।
কিন্তু যখন সেই কথাটাই অন্য কানে তুলে,
দুইটি প্রাণে শত্রুতা বোনে কপটতার ছলে—

সেটাই তবে চোগলখুরি, ভয়ংকর এক দোষ,
যার পরিণাম অশান্তি আর অনুতাপের রোষ।
একটি বাক্য শতটি ঘরে নামায় কালো রাত,
ভেঙে দেয় বিশ্বাসভরা বহু বছরের হাত।

স্বার্থের মোহ, লোভের নেশা, হিংসার অন্ধ ঢেউ,
চোগলখোরের অন্তরজুড়ে জাগে শুধু সে-ই ঢেউ।
অন্যকে যে ছোট বানিয়ে নিজে হতে চায় বড়,
শেষে দেখে নিজের জীবন শূন্য মরুভূমি ঘর।

মায়ের সাথে সন্তানেরও বিচ্ছেদ ঘটায় সে,
ভাইয়ের বুকে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায় হেসে।
বন্ধুত্বের সোনার সেতু ভেঙে করে ধূলি,
পরিবারে অশান্তিরই তোলে কালো ঝুলি।

কত সংসার ছিন্নভিন্ন, কত হৃদয় ভাঙে,
কত অশ্রু ঝরে নীরব রাতে দীর্ঘশ্বাসের রাঙে।
একটি জিহ্বা যদি না হতো বিষের এমন ঘর,
মানুষ হতো আরও সুখী, নির্মল অন্তর।

ধর্ম বলে—জিহ্বাকে রাখো সত্যের পথে বেঁধে,
মিথ্যা, অপবাদ, চোগলখুরি ফেলো চিরতরে ছেড়ে।
যে মুখ সদা শান্তি আনে, সেই মুখ ধন্য হয়,
মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে, আল্লাহও তুষ্ট রয়।

যে কথাতে ভাঙে সম্পর্ক, সে কথা বোলো না,
অকারণে কারো মনে সন্দেহ কখনো রোপো না।
যদি দেখো ভুলের পথে প্রিয় কোনো প্রাণ,
সংশোধনের ভাষাই হোক তোমার প্রথম দান।

আগুন যদি দেখো জ্বলে, পানি ঢালো তাতে,
তেল ঢেলে দিও না কখনো স্বার্থপরতার হাতে।
মানুষ গড়াই শ্রেষ্ঠ কাজ, ভাঙা সবচেয়ে লাজ,
এই শিক্ষাতেই গড়ে ওঠে সভ্যতারই সাজ।

চোগলখোরের মুখে থাকে রঙিন কথার ফুল,
অন্তরে তার জমে থাকে প্রতারণার ধূল।
বিশ্বাস পেয়ে বিশ্বাস ভাঙে, এ যে বড় লজ্জা,
শেষে তারই নামে জোটে অপমানের সাজা।

সমাজ গড়ার শপথ নাও, ভাঙবে না কারো মন,
শান্তির পথে হাঁটবে সবাই, এ হোক আয়োজন।
মানবতার সেতু গড়ো, ভালোবাসার বাঁধ,
সত্যের আলোয় কাটুক সবার অন্ধকারের সাধ।

যে জিহ্বাতে কুরআনের বাণী, দোয়ার মধুর সুর,
সে জিহ্বাতে কেন তবে থাকবে বিষের নূর?
যে মুখ পারে হাসি দিতে কাঁদতে থাকা প্রাণ,
সে মুখ কেন করবে তবে অপবাদ প্রদান?

এসো সবাই প্রতিজ্ঞা করি হৃদয় হবে শুদ্ধ,
চোগলখুরির পথ ছেড়ে হবো সত্যে বদ্ধ।
হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার সব ফেলি দূরে আজ,
ক্ষমা, দয়া, ন্যায় আর প্রেমেই গড়ি জীবনের সাজ।

বন্ধুর দোষ বন্ধুকেই বলি ভালোবাসার টানে,
পেছন থেকে নয় কখনো মানুষের অপমানে।
যেখানে মিলন, সেখানে যাই; ভাঙন হতে দূর,
এটাই হোক জীবনের গান, শান্তির সুমধুর সুর।

সত্যের পথে দৃঢ় থাকি, মিথ্যা করি পর,
মানুষ যেন মানুষ থাকে—এই হোক অন্তর।
ভালোবাসা বাঁচুক সবার হৃদয়েরই মাঝে,
শান্তির ফুল ফুটুক নিত্য মানবতার সাজে।

হে পরম দয়াময় আল্লাহ! রাখো জিহ্বা পবিত্র,
মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরি করো অন্তরহিত।
সত্য বলার সাহস দাও, দাও নরম হৃদয়,
অন্যের সুখে হাসতে শেখাও, দুঃখে পাশে রয়।

যেন কারো সম্পর্ক ভাঙার কারণ না হই,
বরং ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানোর মানুষ হই।
আমাদের মুখ হোক সদা কল্যাণের বাণীধার,
মানবতার পথে চলুক জীবন বারংবার।

যেদিন হবে শেষ বিচার, খুলবে আমলখানি,
জিহ্বার বলা প্রতিটি কথা উঠবে সাক্ষী আনি।
সেদিন যেন লজ্জায় নয়, হাসিমুখে দাঁড়াই,
সত্য, ন্যায় আর শান্তির পথে জীবন সার্থক পাই।

চোগলখুরি নয়—সম্প্রীতির বাণী ছড়াই,
বিদ্বেষ নয়—ভালোবাসার পৃথিবী গড়াই।
সত্যের আলোয় জাগুক মানবতার প্রতিটি ঘর,
শান্তির পথেই হোক আমাদের চিরদিনের সফর।

***

চোগলখুরির বিষবাণ

মানুষ সবার আপন হোক—এই তো শ্রেষ্ঠ বাণী,
প্রেমের আলো জ্বালুক নিত্য প্রতিটি প্রাণখানি।
সত্যের পথে গড়ে উঠুক সভ্যতারই ঘর,
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে যাক ধরণীর অন্তর।

একটি বাক্য জীবন গড়ে, একটি বাক্য ভাঙে,
একটি কথায় হাসির ফুল, একটি কথায় রাঙে
রক্তমাখা অশ্রুধারা, দীর্ঘশ্বাসের সুর,
জিহ্বার শক্তি তাই যে বড়, অতি সুদূর।

বাক্য যেন তীরের মতো ছুটে যায় যে দূরে,
ফিরিয়ে আনা যায় না পরে শত অনুতাপে ভরে।
মুখের ভাষা চরিত্রেরই নির্মল পরিচয়,
সৎ ভাষণে মানুষ পায় শ্রদ্ধা, সুখ আর জয়।

কিন্তু আছে কিছু মানুষ মিষ্টি হাসির ছলে,
অন্যের ঘরে আগুন জ্বালায় কথার বিষের দলে।
একজনের কথা নিয়ে অন্যজনের কাছে,
অবিশ্বাসের বীজ বোনে অন্ধকারের মাঝে।

চোখে যেন সরলতার নরম শুভ্র জল,
অন্তরে তার বিষের সাগর, প্রতারণার ছল।
কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলে শত অপবাদ,
সেই কথাতেই ভেঙে পড়ে বিশ্বাসেরই বাঁধ।

এ যে শুধু মিথ্যা নয়, এ যে বিষের ধারা,
সম্পর্কের সবুজ বনে জ্বালায় অগ্নিজ্বালা।
বন্ধুত্বের অটুট সেতু মুহূর্তে যায় ভেঙে,
পরিবারে শান্তির পাখি উড়ে যায় যে রেঙে।

গীবত যখন কারও দোষ পেছন থেকে বলা,
তাতেও আছে নিষেধাজ্ঞা, পাপের কালো জ্বালা।
কিন্তু যখন সেই কথাটাই লাগায় দুই কানে,
শত্রুতারই বীজ বোনে মানুষেরই প্রাণে—

সেটাই তবে চোগলখুরি, নামীমাহর দোষ,
যার পরিণাম আগুনসম, ভয়াবহ সর্বনাশ।
মানুষ মানুষ হারায় তাতে, হারায় মনের টান,
ভালোবাসার অট্টালিকা হয় ধূলিসাৎ খানখান।

চোগলখোরের লাভ যে ক্ষণিক, ক্ষতি তারই বেশি,
নিজের হাতে নিজেই পরে অপমানের ফাঁসি।
যে বিশ্বাসের অন্ন খেয়ে বিশ্বাস ভাঙতে শেখে,
ইতিহাসও তাকে শেষে ঘৃণার পাতায় লেখে।

মায়ের কোলে সন্তানেরও জন্মে ভুলের দেয়াল,
ভাইয়ের বুকে ভাইয়ের প্রতি জমে কালো জ্বাল।
বন্ধুর সাথে বন্ধুর সম্পর্কে নামে বিষের ঢেউ,
হাসিমুখের আড়ালেতে কাঁদে অগণন ঢেউ।

কত সংসার ছিন্নভিন্ন, কত স্বপ্ন ভাঙে,
কত শিশুর নিষ্পাপ মুখ বিষণ্নতায় রাঙে।
কত পিতা নীরব রাতে দীর্ঘশ্বাসে কাঁদে,
কত মায়ের বুকের ভেতর বজ্রপাতই বাঁধে।

চোগলখুরি ছোট্ট নয়, সমাজঘাতী ব্যাধি,
এতে নষ্ট হয় বিবেক, মানবতার সাধই।
অন্যায়ের এই আগুন যখন চারদিকে ছড়ায়,
শান্তির নদী শুকিয়ে গিয়ে অশান্তিতে ভরায়।

যে মানুষটি মিল করাতে পারে দুইটি প্রাণ,
সেই মানুষই পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্মানবান।
আর যে মানুষ বিভেদ বোনে হিংসার কালো বীজ,
তারই হাতে ভেঙে পড়ে সভ্যতার ভিত্তিভূমি।

ধর্ম শেখায়—সত্য বলো, ন্যায়কে ভালোবাসো,
অন্যায়ের পথ ত্যাগ করে আলোর পথে আসো।
জিহ্বাকে রাখো সংযমেতে, হৃদয় রাখো শুদ্ধ,
মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরি করো চিরবিরুদ্ধ।

যে কথা শুনে মানুষ হাসে, সে কথা বলো নিত্য,
যে কথা শুনে মন ভাঙে, তা করো পরিত্যক্ত।
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও কোমল স্নেহ-হাতে,
আগুন নয়, বর্ষাও বৃষ্টি শুষ্ক মানবমাতে।

কেউ যদি ভুল করে থাকে, বলো তাকে ধীরে,
সংশোধনের দ্বার খুলে দাও ভালোবাসার নীড়ে।
অপমানের ভাষা নয়, উপদেশের আলো,
এমন করেই মানুষ গড়ে, সমাজ হয় ভালো।

স্বার্থ যদি চোখ ঢেকে দেয়, নষ্ট হয় বিবেক,
ক্ষমতারই মোহে মানুষ হারায় নৈতিক লেখ।
চোগলখুরি সেই অন্ধত্ব, আত্মঘাতী নেশা,
শেষ বিচারে দেয় কেবল অনুতাপের রেশ।

মানুষ চেনা পোশাকেতে নয়, নয় বাহ্য রূপে,
চেনা যায় তার কথার মাঝে, ব্যবহারের কূপে।
যে জিহ্বাতে সত্য ফোটে, সে-ই তো মহীয়ান,
যে জিহ্বাতে বিষ ঝরে, সে আনে অবসান।

এসো সবাই শপথ করি সত্য হবে সাথী,
মিথ্যা যেন হৃদয় থেকে যায় চিরদিন মাটি।
ভালোবাসার পতাকা হাতে এগিয়ে যাব দূর,
সম্প্রীতিরই সুরে বাঁধব মানবতার সুর।

ক্ষমা হবে অলংকার, দয়া হবে প্রাণ,
ন্যায়ের পথে জ্বলুক নিত্য আলোকিত সম্মান।
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে মিলনেরই গান,
বাংলার ঘরে ঘরে উঠুক মানবতার তান।

হে পরম করুণাময়! দাও এমনই মন,
চোগলখুরি থেকে যেন রাখি সর্বক্ষণ।
জিহ্বাকে দাও সত্যের শক্তি, হৃদয় করো পবিত্র,
অন্যায়ের সব পথ থেকে রাখো চিরনিরাপদ।

যেন কারও অশ্রুর কারণ না হই কোনোদিন,
যেন কারও সুখের বাগান না করি রিক্ত-ক্ষীণ।
বরং হই শান্তির দূত, মিলনেরই বার্তাবাহক,
মানবতার শ্বেতপতাকা হাতে সদা থাকি জাগ্রত।

শেষ বিচারে যখন খুলবে আমলনামার দ্বার,
জিহ্বার প্রতিটি উচ্চারণ দেবে তখন সাক্ষ্য আর।
সেদিন যেন বলতে পারি মাথা তুলে নির্ভয়—
"
মানুষ ভাঙিনি কোনোদিন, গড়েছি ভালোবাসার জয়।"

তাই এসো সবাই আজ প্রতিজ্ঞার দীপ জ্বালি,
চোগলখুরির বিষমেঘ করি চিরতরে খালি।
সত্যের সূর্য উদিত হোক প্রতিটি অন্তরভূমি জুড়ে,
মানবতার সুবাস ভাসুক বিশ্বজগত্‌ ঘিরে।

চোগলখুরি নয়—হোক সত্যের দীপ্ত উচ্চারণ,
গীবত নয়—হোক সৎকথার নির্মল আহ্বান।
বিদ্বেষ নয়—হোক ভ্রাতৃত্বের অনন্ত উৎসব,
মানুষ হোক মানুষের আপন—এই হোক চিরঅভিষেক।

চোগলখুরির বিষাগ্নি ও সম্প্রীতির কাব

মানুষ গড়ার মহাসড়কে প্রেমের প্রদীপ জ্বালো,

সত্য, ন্যায় আর মমতার জল জীবনে নিত্য ঢালো।

ঘৃণার বদলে ক্ষমা ছড়াক প্রতিটি হৃদয়জুড়ে,

ভ্রাতৃত্বের ফুল ফুটুক আবার ধরণীর বুক ভরে।

মানুষ মানুষ আপন হোক—এই হোক শ্রেষ্ঠ গান,

পৃথিবীজুড়ে জেগে উঠুক শান্তির অভয়দান।

হাসিমুখে যে ভালোবাসে, সে-ই তো সত্য ধনী,

করুণা যার অন্তরে জাগে, সে-ই মহান গণ্য।

একটি বাক্য ফুল ফোটাতে পারে অনায়াসে,

একটি বাক্য বিষ ঢালিতে পারে নিঃশব্দ নিশ্বাসে।

একটি কথা জুড়িয়ে দিতে পারে শত হৃদয়,

একটি কথা ছিন্ন করতে পারে জীবনেরই জয়।

জিহ্বা ছোট, শক্তি তার যে সাগরেরও বেশি,

কল্যাণ দিয়ে গড়ে সভ্যতা, অকল্যাণে সর্বনাশই রচে শেষে।

অদৃশ্য হলেও কথার ভার পর্বতের সমান,

মানুষ তারই ভাষার ভেতর চিনে অন্তঃপ্রাণ।

সত্যভাষী মানুষের মুখ আলোর মতো দীপ্ত,

তার প্রতিটি উচ্চারণে বিশ্বাস থাকে লিপ্ত।

মিথ্যাবাদীর হাসির নিচে অন্ধকারের ঘর,

বাহিরে মধু, অন্তরে তার প্রতারণার স্বর।

চোগলখুরি—নিভৃত আগুন, ছদ্মবেশী বিষ,

অদেখা তীর বিদ্ধ করে সম্পর্কেরই নিশ্বাস।

একজনের কথা নিয়ে অন্যজনের দ্বারে,

হাসিমুখে আগুন জ্বালে সংসারেরই মাঝে।

কানে কানে ফিসফিসিয়ে ছড়ায় বিষের বীজ,

অবিশ্বাসের কালো মেঘে ঢেকে যায় দিগন্তসীমানা।

আজ যে বন্ধু, কাল সে কেন অপরিচিত হয়?

একটি মিথ্যা, একটি অপবাদ—ভেঙে দেয় পরিচয়।

গীবত যদি পেছন থেকে দোষের কথা বলা,

তাতেও আছে নিষেধ, আছে পাপের জ্বালা।

আর সে কথাই লাগিয়ে যদি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে,

চোগলখুরি তখন জ্বলে দাবানলের মতো ঘরে ঘরে।

কত সংসার ভেঙে গেছে একটি কথার দোষে,

কত স্বপ্ন হারিয়েছে মিথ্যার বিষমোষে।

কত বন্ধুত্ব ছিন্ন হলো কুটিল বাক্যবাণে,

কত আপন হলো পর আজ অবিশ্বাসের টানে।

মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে, সন্তানেরও মন,

ভাইয়ের বুকে ভাইয়ের প্রতি জন্মে বিভাজন।

স্বজন হয়ে স্বজনকে যে সন্দেহের পথে ঠেলে,

সে-ই তো নিজেই হারিয়ে যায় অন্ধকারের মেলায়।

চোগলখোরের মুখে থাকে ভদ্রতারই হাসি,

অন্তরে তার হিংসা, লোভ, অহংকারের ফাঁসি।

অন্যকে যে ছোট করে নিজে বড় হতে চায়,

শেষে নিজের বিবেকটাকেই হারিয়ে ফেলতে হয়।

স্বার্থ যখন বিবেক ঢাকে, অন্ধ হয় মন,

তখন মানুষ ভুলে যায় নিজেরই পরিচয়-ধন।

ক্ষমতার মোহ, লোভের নেশা, অহংকারের ছায়া,

সত্যের পথ ছেড়ে মানুষ মিথ্যার দিকে যায়।

ধর্ম শেখায়—সত্য বলো, ন্যায়ের পথে চলো,

অন্যায়ের আগুন নিভিয়ে শান্তির প্রদীপ জ্বালো।

মিথ্যা, অপবাদ, গীবত, চোগলখুরি ত্যাগ,

পবিত্র করো অন্তরখানি সত্যের অনুরাগ।

যে কথাতে মানুষ হাসে, সে কথা বলো নিত্য,

যে কথাতে মন ভেঙে যায়, করো তাকে পরিত্যক্ত।

যদি দেখো কারও ভুল, বলো তাকে ধীরে,

সংশোধনের দরজা খোলো ভালোবাসার নীড়ে।

আগুন যদি জ্বলে কোথাও, জল ঢালো তাতে,

কখনো যেন তেল না ঢালো স্বার্থপরতার হাতে।

ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানো শ্রেষ্ঠ মানবধর্ম,

সম্প্রীতিরই সেতু গড়াই জীবনের পরম কর্ম।

ক্ষমা মানুষের শ্রেষ্ঠ শক্তি, দয়া তার অলংকার,

ন্যায়ের পথে চলার মাঝেই জীবনের অহংকার।

অন্যের সুখে হাসতে শেখো, দুঃখে থেকো পাশে,

মানবতার মহাগানটি বাজুক নিশিদিন ভাসে।

বিশ্বাস অমূল্য সম্পদ, রক্ষা করো তাই,

একবার যদি ভেঙে যায়, সহজে ফেরে নাই।

বিশ্বাসঘাতী মানুষ শেষে একাই থাকে দূরে,

সম্মানের সব দ্বার বন্ধ হয় নিজেরই সুরে।

মানুষ চেনা বাহির দেখে কখনো সম্ভব নয়,

চেনা যায় তার ব্যবহারে, কথায়, কর্মময়।

যার জিহ্বাতে সত্য ফোটে, সে-ই মহিমান্বিত,

যার ভাষাতে বিষ ঝরে, সে হয় কলঙ্কিত।

সমাজ গড়ার মূলভিত্তি সত্য, প্রেম আর ন্যায়,

হিংসা দিয়ে কোনোদিনও স্থায়ী সুখ না পায়।

ভালোবাসার একটি কথা শত বিরোধ মেটায়,

বিদ্বেষমাখা একটি বাক্য শত সম্পর্ক কেটায়।

এসো তবে শপথ করি, সত্য হবে সাথী,

মিথ্যা হবে নির্বাসিত অন্তরেরই মাটি।

ক্ষমা হবে জীবনের রঙ, দয়া হবে প্রাণ,

ন্যায়ের পথে জ্বলুক নিত্য মানবতার জ্ঞান।

শিশুরা শিখুক কোমল ভাষা, শ্রদ্ধা, নম্রতা,

বয়োজ্যেষ্ঠে সম্মান দিক, পালন করুক সততা।

বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে উঠুক সেই গান—

"মানুষ ভাঙা নয়, মানুষ গড়া শ্রেষ্ঠ সম্মান।"

যে জিহ্বাতে কুরআনের বাণী, প্রার্থনার সুর,

সে জিহ্বাতে কেন থাকবে অপবাদের নূর?

যে মুখ পারে হাসি দিতে ক্লান্ত প্রাণের মাঝে,

সে মুখ কেন বিষ ছড়াবে প্রতারণার সাজে?

হে পরম দয়াময় আল্লাহ! করো অন্তর শুদ্ধ,

মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরি হোক চিরবিরুদ্ধ।

সত্য বলার সাহস দাও, দাও বিনয়ের মন,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাখো অবিচল অবস্থান।

অন্যের সুখে আনন্দ দাও, দুঃখে দাও সাথ,

মানুষ যেন মানুষ থাকে—এই হোক জীবনের পথ।

যেন কারও অশ্রুর কারণ না হই কোনোদিন,

বরং ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাই প্রতিক্ষণ।

শেষ বিচারের মহান দিনে খুলবে আমলনামা,

জিহ্বার বলা প্রতিটি শব্দ দেবে তখন প্রমাণ।

সেদিন যেন লজ্জিত হয়ে নত না হয় শির,

সত্যের পথে চলার গৌরব করুক জীবন স্থির।

চোগলখুরি নয়—ছড়াক সম্প্রীতির আহ্বান,

গীবত নয়—উচ্চারিত হোক সত্যের জয়গান।

বিদ্বেষ নয়—ভ্রাতৃত্ব হোক প্রতিটি প্রাণের শপথ,

মানবতার পতাকা ওড়ুক বিশ্বময় অবিরত।

প্রেমের আলো জ্বলুক নিত্য ঘরে ঘরে আবার,

ন্যায়ের বীণা বাজুক চিরকাল অপার।

মানুষ যেন মানুষকে দেয় সম্মানের আসন,

এমন পৃথিবী গড়াই হোক জীবনের সাধন।

সত্যের সূর্য উদিত হোক প্রতিটি অন্তরে,

করুণার নদী বইতে থাকুক বিশ্বজগত্‌ ভরে।

শান্তির বাগান ফুটুক নিত্য প্রতিটি হৃদয়জুড়ে—

এই প্রার্থনায় শেষ হোক কাব্য, চিরকল্যাণ ঘিরে।Top of FormBottom of Form

মন্তব্য করুন