প্রধান শিক্ষক
৩০ জুন, ২০২৬ ০৮:১০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপে যে নারীর রেকর্ড ভাঙলেন মেসি
বিশ্বকাপে যে নারীর রেকর্ড ভাঙলেন মেসি
ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বলা হয় এই গ্রহের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও পরিশ্রমী ফুটবলারদের একজন। তার জাদুকরী ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং এবং অবিশ্বাস্য ফুটবল শৈলী বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তকে মুগ্ধ করেছে, যার মধ্যে ছিলেন খোদ ফুটবলের রাজা পেলেও। মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে সবসময়ই স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন পেলে।
ব্রাজিলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অ্যালাগোয়াস। যেখানে সাক্ষরতার হার তলানিতে, আর শিশুমৃত্যুর হার আকাশচুম্বী। সেই অঞ্চলের এক ছোট্ট শহর দোইস রিয়াচোসের ফুটপাত থেকে উঠে এসেছেন মার্তা। জন্মের পরপরই তার বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। মা তেরেজা আর বড় ভাই হোসের হাত ধরে চরম অভাবের সংসারে ফুটবল খেলাই ছিল তার একমাত্র আনন্দ।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন মার্তা। তার বাড়ি থেকে টানা দুই দিন বাসযাত্রা করার পর পৌঁছান রিও ডি জেনিরোতে। যোগ দেন 'ভাস্কো দা গামা' ক্লাবে। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে ক্লাবটি নারী দল বন্ধ করে দেয়, কিন্তু মার্তাকে থামানো যায়নি। ১৬ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপে ৬ গোল করে এবং জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চেনান বাঁ পায়ের এই জাদুকর। নারী ফুটবলের 'পেলে' হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মার্তা প্রথম নজরে পড়েন ব্রাজিলের বিখ্যাত নারী ফুটবল কোচ হেলেনা পাচেকোরের। তার পরিচর্যাতেই নিজের ফুটবল খেলার দক্ষতা দিয়ে পাড়ার ছেলেদের নাস্তানাবুদ করে দেওয়া সেই ১৪ বছরের মার্তা একসময় আন্তর্জাতিক ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের ত্রাস হয়ে ওঠে।
২০০৪ ও ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে মার্তার পারফরম্যান্সের সুবাদে অলিম্পিকে রৌপ্যপদক অর্জন করে ব্রাজিল। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে চীনে প্রথম নারী বিশ্বকাপ খেলেন মার্তা। সেই আসরে ৭ গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলেও পেয়েছেন সাফল্য তিনি। ২০০৪-২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সুইডেনের উমেয়া আইকে দলের হয়ে ১০৩ ম্যাচে গোল করেছেন ২১০টি! তাকে নিয়ে ২০০৫-এ 'মার্তা, পেলে'স কাজিন' নামে এক তথ্যচিত্র তৈরি করেছিল সুইডিশ টেলিভিশন। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের বিশ্বকাপে মার্তা করেন ৪টি গোল। প্যান আমেরিকান গেমসে দুবার জিতেছেন সোনা। এই সময়েই ২০০৬-২০১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের সম্মান পেয়ে গেছেন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে চীনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা পাঁচটি অলিম্পিক গেমসে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর ক্যামেরার সামনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রাজিলের তরুণীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, শুরুতে কাঁদলে তবেই শেষে হাসতে পারবে, নারী ফুটবলকে মূল্যায়ন করো।
মার্তার অনন্য ফুটবলীয় নান্দনিকতাকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা 'ফিফা মার্তা অ্যাওয়ার্ড' প্রবর্তন করে। নারী ফুটবলে সমতাএবং লৈঙ্গিক বৈষম্য দূর করতে 'গো ইকুয়্যাল' নামে নিজস্ব স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড চালু করেন মার্তা।
২০১০-২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত তিনি ইউএনডিপির গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি প্রথম লাতিন আমেরিকান হিসেবে ইউএন উইমেন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি খেলাধুলায় নারীর সমতা ও তাদের অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করছেন। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের মহাসচিব মার্তা ভিয়েরা দা সিলভাকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একজন বিশেষ আইনজীবী হিসেবেও নিযুক্ত করেন।
১৪
২৪ মন্তব্য