সহকারী অধ্যাপক
৩০ জুন, ২০২৬ ০৮:৩১ অপরাহ্ণ
আকাশ-বাতাসের তাসবীহ - মোঃ মুজিবুর রহমান
আকাশ-বাতাসের তাসবীহ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আকাশ বলে, "রবের ডাকে চলি অবিরাম পথে,"
বাতাস বলে, "তাঁরই আদেশ বহি দিগন্তরথে।"
সূর্য ওঠে নির্দিষ্ট ক্ষণে, ডোবে নির্ধারিত বেলা,
চাঁদ-তারারা বিধান মেনে সাজায় নিশির মেলা।
নদী জানে সাগর কোথায়, ফিরে না সে পথ হারিয়ে,
পাহাড় থাকে স্থির হয়ে রবের হুকুম বুকে নিয়ে।
সাগর জানে সীমারেখা, ঢেউয়ে রাখে শৃঙ্খলার গান,
বৃষ্টি নামে নির্দিষ্ট সময়, পূর্ণ করে শস্যপ্রাণ।
ফুলের পাপড়ি নীরব মুখে সুবাস ছড়ায় ক্ষণে ক্ষণে,
পাখির কূজন ভোরের বেলা প্রশংসা গায় আপন মনে।
বনের লতা, তৃণ আর বৃক্ষ, ফলের ভারে নতশির,
সবাই যেন এক সুরে বলে—
"আল্লাহ মহান, চির অধীর
নই আমরা; তাঁরই বিধান
আমাদের প্রাণের অধিকার।"
মেঘের বুকে বিদ্যুৎ জ্বলে,
গর্জন করে বাজের ধ্বনি,
সবই যেন ঘোষণা করে—
একই রবের অসীম বাণী।
কুরআনের সে মহাসত্য
প্রকৃতিজুড়ে জাগে আজ,
সকল সৃষ্টি তাসবীহ গেয়ে
পালন করে প্রভুর কাজ।
তবু হায়!
সৃষ্টির সেরা মানুষ আমরা,
জ্ঞান-বিবেকে সবার শিরোমণি;
আমাদেরই কত অবহেলা,
কত যে ভুল, কত গ্লানি!
যাঁর দেওয়া প্রাণের আলো,
যাঁরই দানে দৃষ্টি মেলে,
যাঁর রহমতে ভোরের সূর্য
হাসে সোনার ধানের ক্ষেতে—
সেই মহান রবের হুকুম
ভুলে যাই কত সহজেতে!
আকাশ কি কখনো বলে,
"আজ আমি আর উঠব না?"
বাতাস কি বিদ্রোহ করে,
"আমি আর বইব না?"
সূর্য কি তার সময় ভোলে?
চাঁদ কি পথের বাইরে যায়?
সমুদ্র কি সীমা ছেড়ে
পৃথিবীকে ভাসিয়ে চায়?
না, কখনো নয়—
সবাই চলে স্রষ্টার বিধান মেনে,
নীরব ভক্তির গভীর সুরে
তাঁরই মহিমা গেয়ে গেয়ে।
কিন্তু মানুষ?
লোভের নেশায় হারায় পথ,
অহংকারে ভোলে পরিচয়।
মিথ্যার রঙে ঢাকে সত্য,
বিবেক তখন কাঁদে নিরুপায়।
কেউ অন্যায়ে হরণ করে
দুর্বলের ন্যায্য অধিকার,
কেউ ঘুষ নিয়ে বিকিয়ে ফেলে
সততারই দীপ্ত অহংকার।
কেউ সুদের বিষ পান করিয়ে
সমাজজুড়ে ছড়ায় ক্ষয়,
কেউ প্রতারণার হাসি হেসে
অন্যের জীবন ভাঙে নির্দয়।
কেউ ভুলে যায় নামাজের ডাক,
আজানের সুমধুর আহ্বান,
রোজার ক্ষুধায় ধৈর্যের শিক্ষা
হারিয়ে ফেলে অবহেলায় প্রাণ।
কেউ জাকাতের হক ভুলে যায়,
অভাবীর চোখে দেখে না জল,
কেউ দানের হাত গুটিয়ে রেখে
গড়ে কেবল স্বার্থের দল।
কেউ মুখে বলে ঈমানের কথা,
কর্মে তার উল্টো পরিচয়,
জিহ্বা দিয়ে আঘাত হানে,
হৃদয় ভাঙে নির্দয়ময়।
কেউ গীবতের আগুন জ্বালায়,
কেউ অপবাদ ছড়ায় সুখে,
কেউ অবহেলায় আহত করে
মানবতার কোমল বুকে।
তবু দয়ার দরজা খোলা,
রহমতের নেই কোনো শেষ।
ফিরে এলে ক্ষমা করেন
করুণাময় বিশ্বনাথ সর্বদেশ।
তিনি বলেন—
ভুলের পরে তওবা করো,
ফিরে এসো আলোর পথে।
নেক আমলে জীবন সাজাও,
রহমত নেমে আসুক তাতে।
মানুষ তুমি আশরাফুল,
এই সম্মান বৃথা নয়;
জ্ঞান-বিবেক, ন্যায়ের শক্তি
তোমার মাঝে দিয়েছেন তিনি স্বয়ং।
খলিফা করে পাঠিয়েছেন
এই সুন্দর ধরার বুকে,
ন্যায়ের আলো জ্বালতে হবে
প্রতিটি ঘর আর প্রতিটি মুখে।
শুধু নিজের সুখের জন্য
জীবন যদি কাটাও ভাই,
তবে কেন এই মহামর্যাদা?
কী-ই বা উত্তর দেবে তাই?
হও সত্যের সাহসী সৈনিক,
ন্যায়ের পথে রাখো পা,
অন্যায় দেখে নীরব থেকো না,
সত্য বলো নির্ভয়ে সবার কাছে।
ক্ষমা শেখো, দয়া শেখো,
নম্রতায় হও মহান,
মানুষের হক আদায় করে
জয় করো রবের সম্মান।
আকাশ যেমন নত নয়,
তবু রবের হুকুম মানে,
মানুষ হয়েও কেন তবে
বিদ্রোহ জাগে প্রাণের টানে?
বাতাস যেমন ক্লান্তিহীন
রবের আদেশ বয়ে চলে,
আমরাও তেমনি আমৃত্যু
চলি তাঁরই সন্তোষতলে।
পাহাড় শেখায় দৃঢ়তা,
নদী শেখায় অবিরাম গতি,
গাছ শেখায় নিঃস্বার্থ দান,
মাটি শেখায় বিনয়গাথা অতি।
সূর্য শেখায় সময়ের মূল্য,
চাঁদ শেখায় শীতল মন,
তারারা শেখায় অন্ধকারেও
জ্বালিয়ে রাখতে আলোর ক্ষণ।
পাখি শেখায় ভরসা রাখতে,
ফুল শেখায় নীরব হাসি,
বৃষ্টি শেখায় দয়ার ভাষা,
সবুজ শেখায় নব উদাসী।
বিশ্বপ্রকৃতি খোলা বিদ্যালয়,
প্রতিটি সৃষ্টি একেক গুরু,
যে পড়ে এই শিক্ষা মন দিয়ে,
তারই জীবন হয় সুরভিত শুরু।
এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি,
রবের পথে চলব সবাই,
অহংকার আর পাপের বোঝা
হৃদয় হতে ফেলব ভাই।
কুরআনের আলো হাতে নিয়ে,
সুন্নাহ হবে পথের দিশা,
সত্য, ন্যায় আর দয়ার বাণী
হোক জীবনের চিরদীক্ষা।
আকাশ-বাতাস তাসবীহ গায়,
আমরাও গাই অন্তর ভরে—
"সকল প্রশংসা একমাত্র
বিশ্বজগতের পালনকর্তার তরে।"
হে মহান আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়কে করুন সত্যের উদ্যান,
আমাদের জিহ্বাকে দিন পবিত্র বাণী,
আমাদের চোখে দিন হালালের আলো,
আমাদের কানে দিন হকের আহ্বান,
আমাদের হাতে দিন ন্যায়ের শক্তি,
আমাদের পায়ে দিন সরল পথের গতি।
আমাদের অহংকার ভেঙে
বিনয়ের সৌন্দর্য দান করুন,
অবাধ্যতার অন্ধকার মুছে
হিদায়াতের সূর্য উদিত করুন।
যেন আকাশের মতো অনুগত,
বাতাসের মতো বিশ্বস্ত,
নদীর মতো কল্যাণময়,
বৃক্ষের মতো উপকারী,
সূর্যের মতো সময়নিষ্ঠ,
চাঁদের মতো শান্ত,
আর ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত
একজন সত্যিকারের মানুষ হতে পারি।
আমাদের জীবন হোক
আপনার সন্তুষ্টির পথে নিবেদিত,
আমাদের মৃত্যু হোক ঈমানে সমুজ্জ্বল,
আর পরকাল হোক
আপনার অফুরন্ত রহমত,
ক্ষমা ও জান্নাতের চিরসবুজ ছায়ায়
অপরিসীম শান্তির অনন্ত নিবাস।
আমীন।
***
আকাশ জুড়ে অনন্ত নীলিমা, বাতাস বহে নিরবধি,
স্রষ্টার দেওয়া বিধান মেনে চলে তারা চিরঅবধি।
সূর্য ওঠে নির্দিষ্ট ক্ষণে, অস্ত যায় সময় ধরে,
চাঁদ-তারারা ঘোরে নিত্যই অটল নিয়মের অন্তরে।
সাগর জানে আপন সীমানা, নদী জানে সাগরপথ,
পাহাড় থাকে অবিচল হয়ে পালন করে প্রভুর মত।
বৃষ্টি নামে করুণাধারা শুষ্ক ধরার তৃষ্ণা মেটে,
শস্য ফলে, ফুলের হাসি ফুটে, জীবন জাগে মাঠের ক্ষেতে।
বনের বৃক্ষ, লতা-গুল্ম, ক্ষুদ্র তৃণ আর অরণ্যরাজি,
পাখির কূজন, মৌমাছিদের গুঞ্জন—সবই তাঁর বন্দনাভাজি।
প্রভাতবেলায় শিশিরকণা, সন্ধ্যাতারার নীরব আলো,
প্রতিটি সৃষ্টি বলে নীরবে—
"মহান রবের গুণগান ভালো।"
বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ-রেখা,
মেঘের গর্জন, ঝড়ের গান,
সবই যেন ঘোষণা করে—
একই রবের মহিমান।
কুরআনের বাণী সত্য অমল,
বিশ্বজুড়ে তারই প্রমাণ,
সকল সৃষ্টি তাসবীহ গেয়ে
পালন করে প্রভুর বিধান।
তবু হায়!
আমরাই মানুষ, সৃষ্টির সেরা,
জ্ঞান-বিবেক যার অমূল্য দান;
আমরাই আবার ভুলে যাই কত,
অমান্য করি প্রভুর ফরমান।
যিনি দিলেন প্রাণের স্পন্দন,
যিনি দিলেন দৃষ্টির আলো,
যাঁর রহমতে পৃথিবীজুড়ে
ফুটে ওঠে জীবনের ভালো।
যাঁর আদেশে দিনের সূচনা,
যাঁর হুকুমে নামে রাত,
সেই মহান রবের নির্দেশ
ভুলি আমরা শত শতবার।
আকাশ কি কখনো বিদ্রোহ করে,
"আমি আজ আর নীল হব না?"
বাতাস কি বলে—
"আমি আর কারও প্রাণে বইব না?"
সূর্য কি তার সময় ভুলে
ইচ্ছেমতো ওঠে-ডোবে?
চাঁদ কি কখনো নিজ কক্ষপথ
অহংকারে ছেড়ে রবে?
সমুদ্র কি তার সীমা ভেঙে
ধ্বংস ডেকে আনে সুখে?
নদী কি পথ ভুলে যায়
স্বেচ্ছাচারের দুঃসাহসে?
না, কখনো নয়।
সকল সৃষ্টি বিনম্র হয়ে
রবের হুকুম পালন করে,
নীরব তাসবীহের সুরে
বিশ্বপ্রকৃতি মুখর ভরে।
কিন্তু মানুষ—
স্বাধীন ইচ্ছার অপব্যবহারে
হারায় কত সত্যের পথ,
লোভের নেশায় বিবেক ঢাকে,
অহংকারে মুছে পরিচয়গত রথ।
কেউ কুরআনের বাণী অস্বীকার করে,
কেউ করে বিদ্রূপ সত্যধর্মে,
কেউ হালাল-হারামের সীমা ভেঙে
চলে কেবল প্রবৃত্তির মর্মে।
কেউ নামাজ ফেলে অলসতায়,
রোজার শিক্ষা ভুলে যায়,
হজ ও জাকাত অবহেলায়
দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যায়।
কেউ মিথ্যার আশ্রয় নেয়,
কেউ প্রতারণায় গড়ে সংসার,
কেউ ঘুষ খেয়ে নষ্ট করে
ন্যায়ের পবিত্র অধিকার।
কেউ সুদের আগুন জ্বালিয়ে
সমাজজুড়ে আনে ক্ষয়,
কেউ দুর্নীতির কালো ছায়ায়
অসংখ্য প্রাণ করে ক্ষয়িষ্ণু।
কেউ জুলুম করে দুর্বলের উপর,
কেড়ে নেয় মানুষের হক,
কেউ ক্ষমতার দম্ভে ভরে
হারায় ন্যায়ের সত্যপথ।
কেউ অপবাদ ছড়ায় হাসিমুখে,
কেউ গীবতের বিষ ঢালে,
কেউ কটু ভাষায় হৃদয় ভাঙে,
সম্পর্কগুলো ছাইয়ে ঢাকে।
কেউ দান করতে কৃপণ হয়,
অভাবীর কান্না শোনে না,
নিজের প্রাচুর্যের অহংকারে
অন্যের দুঃখ বোঝে না।
তবু প্রভুর রহমতের দুয়ার
রয়েছে সদা উন্মুক্ত,
ফিরে এলে আন্তরিক তওবায়
হয়ে যায় জীবন পবিত্র।
তিনি ক্ষমার সাগর মহান,
অশেষ তাঁর অনুগ্রহ,
অশ্রুভেজা হৃদয়ের ডাকে
নেমে আসে রহমতের প্রবাহ।
মানুষ তুমি আশরাফুল,
এ মর্যাদা অমূল্য ধন,
খলিফা করে পাঠিয়েছেন
গড়তে ন্যায়ের ভুবন।
তোমার হাতে আমানত রেখেছেন
সত্য, ন্যায় আর কল্যাণ,
মানবতার সেবার মধ্যেই
লুকিয়ে আছে ঈমান।
নিজের সুখেই ডুবে থেকো না,
ভাবো সবার কল্যাণ,
একটি হাসি, একটি সহায়তা,
হতে পারে জান্নাতের দান।
সত্য বলো, ন্যায়ের পথে
অটল থেকো সারাজীবন,
ক্ষমা, দয়া, নম্র আচরণ
হোক তোমার পরিচয়চিহ্ন।
আকাশ শেখায় শৃঙ্খলা,
বাতাস শেখায় সেবা,
নদী শেখায় চলার শিক্ষা,
পাহাড় শেখায় ধৈর্যসেবা।
বৃক্ষ শেখায় নিঃস্বার্থ দান,
ফুল শেখায় সুবাস বিলাতে,
সূর্য শেখায় সময়নিষ্ঠা,
চাঁদ শেখায় শান্তি ছড়াতে।
তারারা শেখায় আঁধার ভেদে
আলোর প্রদীপ জ্বালতে,
বৃষ্টি শেখায় করুণা হয়ে
শুষ্ক হৃদয় ভিজাতে।
বিশ্বপ্রকৃতি এক বিশাল পাঠশালা,
প্রতিটি সৃষ্টি একেক গুরু,
যে শেখে তার শিক্ষা বিনয়ে,
তার জীবন হয় মহাসুর।
এসো আজ প্রতিজ্ঞা করি,
রবের পথে চলব সবাই,
অন্যায়, পাপ, অহংকার ত্যাগে
শুদ্ধ করব হৃদয় ভাই।
কুরআনের আলো হাতে নিয়ে,
সুন্নাহ হবে জীবনের পথ,
হালাল-হারামের সীমা মেনে
গড়ব সত্যের নতুন রথ।
আকাশ-বাতাস তাসবীহ গায়,
আমরাও গাই অন্তর ভরে—
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর,
বিশ্বজগতের পালনকর্তার তরে।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে ঈমানে উজ্জ্বল করুন,
জিহ্বাকে সত্য ও কল্যাণের ভাষায় সুশোভিত করুন,
চোখকে হালাল দর্শনে সংযত করুন,
কানকে হকের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার তাওফিক দিন।
আমাদের হাতকে করুন সেবার হাত,
পা-কে চালান সরল-সঠিক পথে,
অহংকার দূর করে বিনয় দিন,
লোভ দূর করে সন্তুষ্টি দিন,
অবাধ্যতা দূর করে আনুগত্য দিন।
যেন আকাশের মতো নিয়মানুবর্তী,
বাতাসের মতো কল্যাণময়,
নদীর মতো নিরবচ্ছিন্ন,
বৃক্ষের মতো উপকারী,
সূর্যের মতো সময়নিষ্ঠ,
চাঁদের মতো স্নিগ্ধ,
আর ঈমানের আলোয় আলোকিত
একজন সত্যিকার মুমিন মানুষ হতে পারি।
আমাদের জীবন হোক
আপনার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত,
আমাদের কর্ম হোক নেক আমলে সমৃদ্ধ,
আমাদের মৃত্যু হোক ঈমানের সৌরভে ধন্য,
আর পরকাল হোক
আপনার অসীম রহমত, ক্ষমা
ও জান্নাতুল ফিরদাউসের
চিরশান্তিময় আবাস।
আমীন, ইয়া রব্বুল আলামীন।Top of FormBottom of Form
১৪
২৪ মন্তব্য