Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩ অপরাহ্ণ

চাঁদে ঘাঁটি বানাতে চায় নাসা

চাঁদে ঘাঁটি (মুন বেজ) বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণযান, রোভার, ছোট চন্দ্রযান ও অন্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে বিস্তারিত কৌশল নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

গত মঙ্গলবার নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়, চারটি মিশনের মাধ্যমে তিনটি প্রতিষ্ঠান চাঁদে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও অন্য মালামাল পৌঁছে দেবে। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ৫৯ কোটি ডলার দেবে তারা। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো অ্যাস্ট্রোবোটিক, ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস ও ইনটুইটিভ মেশিনস।

নাসা আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, এর আগে ‘প্রমিজ’ নামের যে নভোযানের মাধ্যমে তারা মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালিয়েছিল, সেটিকে ভবিষ্যতে চাঁদে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার কথাও ভাবা হচ্ছে।নাসার এসব উদ্যোগ একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য রোবটচালিত যানবাহনের মাধ্যমে চাঁদে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা, যেন ভবিষ্যতে মহাকাশচারীরা চাঁদে গেলে এই অবকাঠামো তাঁদের কাজ ও বসবাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

গত মাসে নাসা এই কর্মসূচির প্রথম ধাপের আওতায় আরও কয়েকটি চুক্তির ঘোষণা দেয়। এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে চাঁদে প্রথমবার চাপ–নিয়ন্ত্রিত আবাস নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন–ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে ২০৩০-এর দশকে ধাপে ধাপে চন্দ্রঘাঁটি সম্প্রসারণে নাসা তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরেছে। সংস্থাটির আশা, মহাকাশচারীরা চাঁদে ‘আধা স্থায়ী’ বসতিতে বসবাস ও সেখানে থেকে কাজ করতে পারবেন।নাসার চন্দ্রঘাঁটি–বিষয়ক কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া গালান জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

মহাকাশ অভিযানে চীনকে টেক্কা দিতে নাসার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বারবার সতর্ক করে আসছেন, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন

ব্লগ