Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও অধম -মোঃ মুজিবুর রহমান

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও অধম

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ, তুমি একদিন এসেছিলে
শূন্য হাতে, নীরব ভোরে;
প্রাণের প্রদীপ জ্বেলে দিলেন
যিনি অনন্ত আলোর ঘরে।

একই মাটির দেহে গড়া,
একই রক্ত, একই প্রাণ;
তবু কেন মানুষে মানুষে
এত ভিন্ন পরিচয় জ্ঞান?

কেউ দেখে শুধু ক্ষণিক পৃথিবী,
কেউ দেখে অনন্তকাল;
কেউ হারায় সত্যের দিশা,
কেউ চলে রবেরই পথের পাল।

সূর্য ওঠে বিধান মেনে,
চাঁদ চলে নিজ কক্ষপথে;
নদী ছুটে সাগরপানে,
বাতাস বয় নিরবধি রথে।

পাহাড় থাকে দৃঢ় হয়ে,
সাগর জানে সীমারেখা;
তারারাও রাতের আকাশে
রবের হুকুমে রাখে দেখা।

পাখির কণ্ঠে ভোরের সুর,
ফুলের গন্ধ, শিশিরজল—
সবই যেন বলে নীরব,
"
একই রবের অনুগ্রহ অমল।"

তবু মানুষ—বিবেকধারী,
জ্ঞান যার অমূল্য দান,
সত্য জেনে ফিরিয়ে দেয়
নিজের হৃদয়েরই আহ্বান।

যে হৃদয়ে অহংকার জাগে,
লোভের আগুন জ্বলে রয়,
সত্য যখন সামনে আসে
মিথ্যার কাছে মাথা নোয়ায়।

যে চোখ দেখে সত্যের আলো,
তবু করে অন্ধের ভান,
সে তো নিজের হাতে ভাঙে
নিজেরই জীবনের সম্মান।

বই ছিল হাতে, তবু সে
পড়ল না সত্যের বাণী;
চিহ্ন ছিল চারদিকে,
তবু রইল অজ্ঞানখানি।

অলৌকিক সব নিদর্শন
ছিল খোলা দিনের মতো;
তবু যারা মুখ ফিরিয়ে
হারাল নিজের শ্রেষ্ঠত্ব।

পশুর নেই তো বিচারশক্তি,
নেই ভবিষ্যৎ ভাবার মন;
মানুষ পায় জ্ঞান ও বিবেক—
এটাই তার শ্রেষ্ঠ ধন।

যদি সে ধন নষ্ট করে,
সত্যকে করে অবহেলা,
নিজের হাতে নিজের জীবন
ডেকে আনে গভীর বেলা।

মর্যাদা তখন হারিয়ে যায়,
থাকে শুধু নামের মানুষ;
বাইরে হাসি, অন্তরে শূন্য,
বিবেক থাকে নীরব, বিষণ্ন।

অন্যদিকে যে হৃদয় বলে,
"
রব, তোমারই দাস আমি,"
তারই জীবন আলোকিত হয়
দয়ার সীমাহীন ভূমি।

ঈমান শুধু মুখের বুলি
নয় কোনো ক্ষণিক গান;
ঈমান মানে সত্যকে ভালোবাসা,
ন্যায়ের পথে অবিচল প্রাণ।

সৎকর্ম শুধু দানের মুদ্রা
অথবা কিছু বাহ্য রীতি নয়;
সৎকর্ম মানে সত্যে অটল,
অন্যায়ের কাছে নত না হয়।

যে প্রতিশ্রুতি রাখে অটুট,
যে আমানত করে রক্ষা,
যে দুর্বলের পাশে দাঁড়ায়,
যে ন্যায়কে করে ভালোবাসা—

যে ক্ষমা করে প্রতিশোধ নয়,
দয়ায় ভরে অন্তরখানি,
যে কৃতজ্ঞতায় মাথা নোয়ায়
প্রতিটি দিনের প্রতিটি দানে;

যে গোপনে অশ্রু ফেলে
রবের দরবারে নিশীথ রাতে,
যে ভুল করলে ফিরে আসে
অনুতাপের পবিত্র পথে;

যে সুখে ভোলে না স্রষ্টাকে,
দুঃখেও ছাড়ে না বিশ্বাস,
যে মৃত্যুকেও ভয় না পেয়ে
সত্যে রাখে দৃঢ় আভাস—

সেই মানুষই সৃষ্টির মাঝে
শ্রেষ্ঠতার প্রকৃত চিহ্ন;
তার জীবন এক দীপশিখা,
তার চরিত্র মহিমান্বিত গীত।

মর্যাদা রূপে নয় কখনো,
ধনে নয় বা বংশগৌরবে;
মর্যাদা থাকে অন্তরজুড়ে
বিশ্বাস, আমল, চরিত্রে।

কত রাজা ধূলায় মিশেছে,
কত প্রাসাদ হয়েছে ক্ষয়;
কিন্তু সৎ মানুষের সুগন্ধ
যুগে যুগে অম্লান রয়।

কত শক্তি মিলিয়ে গেছে,
কত অহংকার ভেঙেছে ক্ষণেই;
রয়ে গেছে শুধু সত্যের আলো,
রয়ে গেছে সৎজনের বাণী।

শেষের দিনে পর্দা উঠবে,
লুকোনো কিছু থাকবে না আর;
হৃদয়ের সব গোপন কথা
হবে প্রকাশ সবার পার।

সেদিন ধন বা ক্ষমতার
কোনো গৌরব থাকবে না;
থাকবে শুধু বিশ্বাস, কর্ম,
সত্যের দীপ্ত অমর চিহ্ন।

তখন মানুষ চিনবে নিজেকে—
কী হারিয়েছে, কী পেয়েছে;
এক জীবনের প্রতিটি ক্ষণ
কোথায় কেমন ব্যয় করেছে।

হে মানুষ, আজও সময় আছে,
ফিরে এসো সত্যের তীরে;
অহংকারের শৃঙ্খল ভেঙে
চলো করুণার আলোকনীড়ে।

হৃদয় ভরো কৃতজ্ঞতায়,
জীবন ভরো সৎকর্মে;
ভালোবাসো সত্য ও ন্যায়,
চলো প্রভুরই অনুগ্রহে।

মানুষ হও শুধু নামে নয়,
মানুষ হও বিশ্বাসে;
মানুষ হও ন্যায়ের পথে,
অটল থেকো সর্বনাশে।

যে ঈমানে জীবন গড়ে,
যে কর্মে জ্বালে আলোর দীপ,
তারই নামে ইতিহাস লেখে
সম্মান, মর্যাদা, অক্ষয় নীড়।

আর যে সত্য জেনে-শুনে
অস্বীকারে কাটায় কাল,
নিজের হাতেই হারায় শেষে
নিজের মহিমা, নিজের জ্যোতিপাল।

তাই এসো সবাই শপথ করি—
সত্যই হবে জীবনের দিশা;
ঈমান হবে প্রাণের আলো,
সৎকর্ম হবে নিত্য ভাষা।

রবের সন্তোষ হবে লক্ষ্য,
ন্যায় হবে জীবনের জয়;
তবেই মানুষ সৃষ্টির মাঝে
শ্রেষ্ঠ সম্মান লাভ করে রয়।

হে পরম দয়াময়,
আমাদের অন্তরকে সত্যে দৃঢ় করুন;
বিশ্বাসকে নির্মল করুন,
সৎকর্মে জীবন ভরিয়ে দিন।

অহংকার থেকে রক্ষা করুন,
অস্বীকারের অন্ধকার হতে বাঁচান;
আপনার সন্তুষ্টির পথে অবিচল রাখুন,
এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠদের কাতারে আমাদের শামিল করুন।

আমীন।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও অধম

মানুষ তুমি—সৃষ্টির মাঝে
বিস্ময়ময় এক পরিচয়;
মাটির দেহে আকাশছোঁয়া
সম্ভাবনার অমল জয়।

একই মাটি, একই গঠন,
একই প্রাণের প্রথম শ্বাস;
তবু কেন দুইটি পথের
এত ভিন্ন ইতিহাস?

এক পথ আলোয় ভরে ওঠে,
সত্য যেখানে চিরউজ্জ্বল;
অন্য পথে অহংকারের
ঘন অন্ধকার অবিচল।

সূর্য ওঠে বিধান মেনে,
চাঁদও চলে নির্দিষ্ট পথে;
নক্ষত্রেরা রাতের বুকে
শৃঙ্খলারই গান রটে।

নদী জানে সাগর কোথায়,
বাতাস জানে গন্তব্য;
বীজের ভেতর বৃক্ষ লুকায়,
ফুলে জাগে সৌরভব্য।

পাখির কণ্ঠ ভোরের বাণী,
পাতায় পাতায় তাসবীহ;
বিশ্বজুড়ে স্রষ্টার ডাকে
জাগে অনন্ত বন্দেগী।

শুধু মানুষ—জ্ঞান যার হাতে,
বিবেক যার অমূল্য ধন;
সে-ই পারে সত্য গ্রহণে
উজ্জ্বল করতে জীবন।

সে-ই পারে সত্য জেনেও
মুখ ফিরিয়ে থাকতে দূর;
নিজের হাতে নিভিয়ে ফেলতে
অন্তরভরা আলোর নূর।

পশুর নেই তো বিচারশক্তি,
নেই নৈতিক সিদ্ধান্ত;
মানুষ পায় স্বাধীন চিত্ত,
জ্ঞান, বিবেক, দায়িত্ব।

এই স্বাধীন মহাদানের
আছে গৌরব, আছে ভার;
যে তা রাখে সত্যের পথে,
সেই তো শ্রেষ্ঠ সবার।

যে অহংকারে সত্য ঢাকে,
স্বার্থ যার একমাত্র ধ্যান,
নিজের হাতে নিজের মর্যাদা
করেই ফেলে অবমান।

আর যে হৃদয় বিনম্র হয়ে
রবের ডাকে দেয় সাড়া,
বিশ্বাস, প্রেম আর সৎকর্মে
আলোকিত হয় তার ধারা।

ঈমান শুধু উচ্চারণ নয়,
জীবনেরই রূপান্তর;
চরিত্রজুড়ে সত্যের দীপ্তি,
করুণাময় অন্তর।

সৎকর্ম শুধু দানের হাসি
অথবা ক্ষণিক আবেগ নয়;
ন্যায়ের পাশে দৃঢ় দাঁড়ানো,
মানবতার চিরপরিচয়।

ক্ষমা যার শক্তির ভাষা,
সেবা যার আনন্দগান;
অসহায়ের চোখের জলে
যে খুঁজে পায় নিজের প্রাণ।

অমানত সে রক্ষা করে,
মিথ্যা যাকে টলায় না;
অন্যায়ের ভয়ঙ্কর ঢেউ
তার বিবেক ডুবায় না।

গোপন রাতে নীরব চোখে
রবের কাছে কাঁদে যে,
মানুষেরই শ্রেষ্ঠ মর্যাদা
লিখে যায় ইতিহাসে।

শেষ বিচারের প্রভাত যখন
উন্মোচন করবে অন্তর,
লুকোনো সব ভাবনা তখন
হবে সবার সম্মুখে প্রকাশ্য।

সেদিন ধন নয়, পদ নয়,
ক্ষমতারও হবে অবসান;
বিশ্বাস, সৎকর্ম, নির্মল হৃদয়—
এগুলোই হবে পরিচয়পত্র মহান।

তাই হে মানুষ, আজই ফিরো
সত্যের নির্মল আলোকধারায়;
স্রষ্টার দেওয়া জ্ঞানকে রেখো
কল্যাণেরই অভিযাত্রায়।

তখন তুমি হবে সত্যিই
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সম্মানধারী;
চরিত্র হবে সুবাস ছড়ানো,
আলোকিত এক জীবনচারী।

আর যে সত্য জেনে-শুনে
অহংকারেই কাটায় কাল,
নিজের হাতে নিজেই হারায়
নিজের মহিমা, নিজের জ্যোতিজাল।

হে পরম দয়াময়,
আমাদের অন্তরকে সত্যপ্রেমে পূর্ণ করুন।
বিশ্বাসকে দৃঢ় করুন,
সৎকর্মে জীবনকে সৌন্দর্যময় করুন।

অহংকার থেকে রক্ষা করুন,
সত্য গ্রহণের শক্তি দিন;
আপনার সন্তুষ্টির পথে
অবিচল থাকার তাওফীক দিন।

আমীন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ