Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জুলাই, ২০২৬ ০৭:১৮ পূর্বাহ্ণ

কষ্টের সাথেই সুখ - মোঃ মুজিবুর রহমান



কষ্টের সাথেই সুখ

(সূরাঃ আল-ইনশিরাহ আয়াতঃ ৫,৬ আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

কষ্ট যদি আসে জীবনে,
ভেবো না সব শেষ;
কালো মেঘের বুক চিরে
জাগে রৌদ্রের রেশ।

এ তো রবের অঙ্গীকার,
অটল সত্য বাণী—
কষ্টের সাথেই সুখের ধারা,
দুঃখ শেষে জয়গানই।

রাত্রি যতই দীর্ঘ হোক,
ভোর কি থাকে দূরে?
অশ্রুবিন্দু ঝরে বলেই
হাসি ফোটে সুরে।

শুষ্ক মাঠের বুকের মাঝে
বৃষ্টি নামে নীরব,
তৃষ্ণার পরে নদী ভরে,
জীবন হয় সবুজ রব।

ঝড়ের পরে গাছের ডালে
নতুন পাতার গান,
পুড়ে যাওয়া মাটির বুকে
ফোটে শস্যের প্রাণ।

কঠিন পাথর ভেঙে তবে
ঝরনা নামে নেমে,
পর্বত পেরোয় নদীর ধারা
অদম্য সাহস বুকে।

মানুষ যত পরীক্ষা পায়,
ততই জাগে শক্তি;
ধৈর্যের আলো হৃদয়জুড়ে
আনে সত্য ভক্তি।

রব কখনো দেন না বোঝা
সীমার বাইরে গিয়ে,
প্রতিটি ভারের পাশেই রাখেন
সহজ পথটি দিয়ে।

একটি কষ্ট, কত যে সুখ
লুকিয়ে থাকে তাতে!
দেখতে পায় সে-ই মানুষ,
বিশ্বাস রাখে যাঁতে।

অন্ধকারের প্রতিটি ক্ষণ
আলোরই প্রস্তুতি,
নিঃশব্দ রাতের গভীর বুকে
জাগে ভোরের গীতি।

শিশির নামে নীরব রাতে,
ফুলে আনে হাসি;
সহ্য যার আছে অন্তরে,
সেই পায় ভালোবাসি।

মায়ের বেদনায় জন্ম নেয়
একটি নতুন প্রাণ,
ত্যাগের মাঝে ফুটে ওঠে
পৃথিবীর সম্মান।

বীজকে আগে মাটির নিচে
হারিয়ে যেতে হয়,
তারপর সে অঙ্কুর মেলে
সবুজ জীবনের জয়।

সোনাকে আগে আগুনে পুড়ে
হতে হয় নির্মল,
মানুষও তেমনি পরীক্ষাতে
হয় চরিত্র উজ্জ্বল।

যে হৃদয়ে ধৈর্য থাকে,
সে ভাঙে না সহজে;
বিশ্বাস যার রবের প্রতি,
সে জেতে সব খোঁজে।

অহংকারে ফুলে ওঠা মন
সামান্য দুঃখে হারে,
বিনয় যার জীবনসাথি,
সে হাসে অশ্রুধারে।

কষ্ট যখন দ্বারে এসে
করাঘাত দেয় ধীরে,
ভাবো না সে শত্রু হয়ে
এল তোমায় ঘিরে।

হয়তো তারই অন্তরালে
রয়েছে সুখের ভেলা,
হয়তো সেখানেই লুকিয়ে আছে
নতুন দিনের মেলা।

কাঁটার পরে গোলাপ ফোটে,
শীতের পরে বসন্ত;
ধৈর্যের পরে প্রস্ফুটিত হয়
আশার দিগন্ত।

সাগর পাড়ি দেয় যে নাবিক,
ঝড়কে করে সাথি;
ভয়কে জয় করে বলেই
পায় সে বিজয়গাথা।

পাখির ছানা ডানা মেলে
ভাঙে নিজের খোলস,
সংকট ছাড়া শক্তি গড়ার
নেই তো অন্য রস।

যে অশ্রু ঝরে সিজদাতে,
সে অশ্রু বৃথা নয়;
রবের দরবারে প্রতিটি ফোঁটা
করুণারই পরিচয়।

যে হাত দু'টি দোয়ায় ওঠে,
ফেরে না শূন্য কভু;
সময়মতো রহমতের দ্বার
খুলে দেন মহান প্রভু।

একটি কষ্ট—একটি মাত্র,
তবু সুখের ধারা
অগণিত রূপে নেমে আসে
রবের দয়ার সারা।

কখনো শান্তি হৃদয়জুড়ে,
কখনো শক্তি মনে,
কখনো জ্ঞানের দীপ জ্বলে
অভিজ্ঞতার ক্ষণে।

কখনো মানুষ আপন হয়,
কখনো খুলে দ্বার;
কখনো ব্যর্থতাই গড়ে
সফলতার সংসার।

তাই বিপদে নিরাশ হয়ো না,
হতাশ হয়ো না প্রাণ;
প্রতিটি পরীক্ষার অন্তরালে
লুকায় কল্যাণ।

বিশ্বাস রাখো, ধৈর্য ধরো,
সত্যপথে চলো;
অন্যায়, লোভ, ভয়কে ত্যাগ করে
আলোর পথে চলো।

যে রব আকাশ তুলেছেন,
ছড়িয়েছেন নক্ষত্র,
তিনি কি তবে ভুলে যাবেন
তাঁরই প্রিয় ভৃত্য?

না, তিনি দয়াময় চিরকাল,
অসীম তাঁর দান;
কষ্টের বুকেই লিখে রাখেন
স্বস্তির মহাগান।

এই তো চিরন্তন শিক্ষা,
এই তো জীবনের সুখ—
একটি কষ্ট কখনো পারে না
হারাতে অসংখ্য সুখ।

তাই চলি আমরা আশা বুকে,
বিশ্বাস হোক সাথি;
কষ্টের সাথেই সুখ যে থাকে—
এ রবের চিরবাণী।

ধৈর্যের শেষে প্রস্ফুটিত হয়
রহমতের অরুণালোক;
যে বিশ্বাস রাখে মহান রবের উপর,
তার জীবনেই জাগে
কষ্টের মাঝখানে
অসংখ্য সুখের লোক।

কষ্ট আসে ক্ষণিক অতিথি,
সুখ থাকে অনন্ত সাথি।
যে রবের প্রতিশ্রুতিতে রাখে অটল বিশ্বাস,
তার প্রতিটি অশ্রুবিন্দুই
একদিন হয়ে ওঠে
অনন্ত শান্তি, অফুরন্ত আনন্দ,
আর অবিনশ্বর আশীর্বাদের ইতিহাস।

***

কষ্টের সাথেই স্বস্তি

যখন পথের শেষে এসে
দাঁড়ায় কালো রাত,
চারদিক জুড়ে নেমে আসে
নিস্তব্ধতার ঘাত।

যখন মনে প্রশ্ন জাগে—
"
শেষ কি তবে আজ?"
স্বপ্নগুলো ভেঙে গিয়ে
হারায় জীবনের সাজ।

ঠিক তখনই আসমান ভেদে
আসে নীরব বাণী—
"
কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে,
এ আমারই বাণী।

আবার শোনো, ভুল কোরো না,
আবার বলি তাই—
একই কষ্ট চিরদিন
একলা থাকে নাই।"

একটি কষ্ট আসে বুকে,
আসে চোখে জল;
তারই পাশে অদৃশ্য হয়ে
ফোটে আশার দল।

একটি ঝড়ই যত প্রবল,
ততই পরে দেখা—
তারই বুকে শত শত
রঙিন রামধনু আঁকা।

একটি কাঁটা পথের ধারে,
ফুলের বাগান বহু;
একটি দুঃখ যতই গভীর,
রহমত ততই প্রভু।

রবের বাণী মিথ্যে নয়,
চিরসত্য তার ডাক;
অশ্রুর নিচে লুকিয়ে থাকে
হাসির সোনার ফাঁক।

মেঘের বুকেই বিদ্যুৎ জ্বলে,
মেঘেই বৃষ্টি নামে;
তপ্ত মাটির বুকেই আবার
সবুজ শস্য থামে।

বীজটি আগে হারায় নিজে
অন্ধকারের তলে,
তারপর সে অঙ্কুর হয়ে
সূর্যের দিকে চলে।

নদী আগে পাথর ভাঙে,
তবেই সাগর পায়;
ধৈর্যের ডানায় ভর করেই
মানুষ বিজয় গায়।

আগুন ছাড়া সোনা কি আর
খাঁটি হয়ে রয়?
পরীক্ষাহীন জীবন কখনো
পূর্ণতার নয়।

একটি ক্ষত শেখায় মানুষ
কতটা হতে ধীর,
একটি হারই খুলে দেয় যে
জয়ের শত পথের নীর।

কষ্ট যদি দরজায় কড়া নাড়ে,
ভয় পেও না তবু;
তারই পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন
অপরিসীম দয়ালু প্রভু।

তিনি জানেন কোন হৃদয়
কত ভার বইতে পারে;
তাই তো দেন না সীমার বাইরে
কোনো বোঝা কারও দ্বারে।

যেখানে মানুষ থেমে যায়,
সেখানেই তাঁর হাত;
যেখানে আশা নিভে আসে,
সেখানেই প্রভাত।

একটি দুঃখ, দুটি নয়,
অগণিত সুখের দিশা;
রহমতের দরজা খুলে যায়
আলোর অনন্ত নিশা।

কখনো জ্ঞানে, কখনো প্রেমে,
কখনো ধৈর্যের বল;
কখনো মানুষের মমতায়
মুছে যায় চোখের জল।

কখনো ব্যর্থতার ভেতর
লুকিয়ে থাকে জয়,
কখনো বিচ্ছেদের বুকেই
মিলনের পরিচয়।

কখনো ক্ষুধা শেখায় মানুষ
রুটির মর্যাদা,
কখনো শূন্য হাতই গড়ে
দানশীলতার সাধা।

যে সিজদাতে কাঁদতে জানে,
সে হারায় না কভু;
অশ্রুর ভাষা বুঝে নেন
অসীম করুণাময় প্রভু।

তাই নিরাশার অন্ধকারে
হার মানো না আর;
রবের প্রতিশ্রুতি সূর্যের মতো
উজ্জ্বল, অটল, অপার।

একটি কষ্ট কখনো পারে না
বিশ্বাসকে হারাতে;
কারণ তারই পাশে দাঁড়িয়ে থাকে
অসংখ্য স্বস্তি হাতে।

আজ যে চোখে অশ্রু ঝরে,
আগামীকাল হাসি;
আজ যে বুকে ব্যথা বাজে,
সেই বুকেই সুখের বাঁশি।

এই তো জীবনের শিক্ষা,
এই তো ঈমানের মুখ—
একটি কষ্টের চারপাশ জুড়ে
অগণিত স্বস্তির সুখ।

চলো তবে মাথা নত করে
রবের পথে থাকি;
কষ্ট এলে ধৈর্য ধরি,
আশার প্রদীপ রাখি।

কারণ তিনি বলেছেন নিজেই—
এ বাণী চিরঅম্লান:
কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে,
কষ্টের সাথেই স্বস্তির গান।

একটি কষ্ট ক্ষণিক অতিথি,
রহমত অনন্ত ধারা;
যে রবের উপর ভরসা রাখে,
তার জীবন আলোকভরা।

অশ্রুর প্রতিটি বিন্দু একদিন
মুক্তোর মতো ঝলকাবে;
ধৈর্যের প্রতিটি নিঃশ্বাস
অনন্ত পুরস্কারে ফল দেবে।

তাই বলি—
ভয় নয়, বিশ্বাস;
হতাশা নয়, প্রত্যাশা;
অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতা;
কারণ এক কষ্টের সঙ্গে
আল্লাহ খুলে দেন
স্বস্তির অগণিত জানালা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ