Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ

শিক্ষকতা ছেড়ে উপসচিব হতে ৩৫৫ জন শিক্ষকের আগ্রহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়;

শিক্ষকতা ছেড়ে উপসচিব হতে ৩৫৫ জন শিক্ষকের আগ্রহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়;

এটি রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষক সমাজের বর্তমান বাস্তবতার এক নীরব কিন্তু গভীর প্রতিবাদ। যে পেশাকে জাতি গঠনের ভিত্তি বলা হয়, যে পেশার কাঁধে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন নির্মিত হয় সেই পেশার মানুষই যদি সুযোগ পেলেই অন্য পেশায় যেতে চান তবে প্রশ্ন উঠবেই রাষ্ট্র কি সত্যিই শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, নিরাপত্তা ও প্রাপ্য মূল্যায়ন দিতে পেরেছে?


একজন শিক্ষক প্রশাসনের উচ্চপদে যেতে চাইতেই পারেন; এটি তাঁর সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বাভাবিক ক্যারিয়ার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু যখন শত শত শিক্ষক একযোগে সেই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন তখন বিষয়টি আর কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকেত হয়ে ওঠে।


দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক সুযোগ-সুবিধা,সীমিত পদোন্নতি,তুলনামূলক কম আর্থিক প্রণোদনা, নীতিনির্ধারণে অপ্রতুল অংশগ্রহণ এবং সামাজিক মর্যাদার ঘাটতি; এসব কারণ শিক্ষকতাকে অনেকের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলছে। যে রাষ্ট্র তার শিক্ষককে সম্মান, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়; সে রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিজের মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিকেই দুর্বল করে। তাই এখন সময় এসেছে শিক্ষকদের কেবল 'জাতি গড়ার কারিগর' বলে প্রশংসা করার নয় বরং স্বীয় মর্যাদার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর। কারণ একজন সন্তুষ্ট, মর্যাদাবান ও অনুপ্রাণিত শিক্ষকই একটি আলোকিত,দক্ষ ও সমৃদ্ধ জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।


🖋️ মোহাম্মদ গোলাম সাদেক

মন্তব্য করুন