Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

শক্তি মরে ভীতির কবলে ময়দুল ইসলাম মধু

মানবজীবনের চলার পথটি মসৃণ নয়, বরং তা প্রতিনিয়ত নানা চড়াই-উতরাই ও বাধা-বিপত্তিতে পূর্ণ। এই প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মানুষের সবচেয়ে বড় যে হাতিয়ার প্রয়োজন, তা হলো তার ভেতরের সুপ্ত ‘শক্তি’ বা আত্মিক বল। কিন্তু এই অমিত শক্তির প্রকাশ ও বিকাশ থমকে যায় যখন সেখানে ‘ভীতি’ বা ভয়ের অনুপ্রবেশ ঘটে। কবি ও চিন্তাবিদদের ভাষায়, "শক্তি মরে ভীতির কবলে"— অর্থাৎ, মানুষের ভেতরের অপার সম্ভাবনা এবং ক্ষমতা কেবল আশঙ্কার কালো মেঘে ঢাকা পড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। ভয় মানুষকে পঙ্গু করে দেয় এবং তার সমস্ত সৃজনশীলতা ও সাহসকে গ্রাস করে নেয়।

ভীতির স্বরূপ ও শক্তির বিনাশঃ

ভয় বা ভীতি হলো এক ধরনের নেতিবাচক মানসিক অবস্থা। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কাজ করার আগেই ব্যর্থতার ভয়ে বা সমালোচনার আশঙ্কায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা লোপ পায়।ভীতির কবলে পড়ে মানুষ এভাবেই তার শক্তি হারায়। 

     ভয় মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেয়, ফলে উপযুক্ত সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।
    ভয়ার্ত মন কখনো নতুন কিছু সৃষ্টি বা আবিষ্কার করতে পারে না, কারণ নতুনত্বের পথে ঝুঁকি থাকে।


     ভীতি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে বাধা দেয়, ফলে মানুষ অনায়াসে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে।


উইলিয়াম শেকসপিয়র বলেছেন "ভীরুরা মরার আগে বহুবার মরে, কিন্তু সাহসীরা মৃত্যুর স্বাদ একবারই গ্রহণ করে।" 

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শৃঙ্খলিত মানবজাতি যখনই ভয়ের দেয়াল ভাঙতে পেরেছে, তখনই সমাজ ও রাষ্ট্রে বড় ধরনের বিপ্লব বা পরিবর্তন এসেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই যদি এদেশের মানুষ পাকিস্তানি বা ঔপনিবেশিক শক্তির অত্যাচারে ভীত হয়ে ঘরে বসে থাকত, তবে আজ আমরা স্বাধীন দেশ বা ভাষার অধিকার পেতাম না। ভীতিকে জয় করেই বাঙালি জাতি তার বীরত্ব ও শক্তির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল। বিপরীতে, সমাজ বা রাষ্ট্রের যে অংশটি সবসময় ভয়ে তটস্থ থাকে, তারা যুগে যুগে শোষিত ও বঞ্চিতই রয়ে গেছে।

ভীতির কবল থেকে আত্মশক্তিকে মুক্ত করতে হলে কিছু মানসিক পরিবর্তন জরুরি:

আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করা: নিজের যোগ্যতা ও শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে।


ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া: ব্যর্থতা মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন শিক্ষার মাধ্যম। এই মানসিকতা তৈরি হলে ভীতি দূর হয়।


ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতির ইতিবাচক দিকটি ভাবার অভ্যাস করতে হবে।


ভয় মানুষের চিরন্তন এক শত্রু। এটি কোনো বাহ্যিক শক্তি নয়, বরং মানুষের মনের ভেতরের এক কাল্পনিক অন্ধকার। এই অন্ধকারকে মনের কোণে পুষে রাখলে আমাদের ভেতরের শক্তি, মেধা ও সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই জীবনকে অর্থপূর্ণ এবং সফল করতে হলে ভীতিকে জয় করতে হবে। ভয়কে তাড়িয়ে যখনই সাহসের আলো জ্বালানো যাবে, তখনই মানুষের সুপ্ত শক্তি জাগ্রত হবে এবং সমাজ ও দেশ প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।আর জীবন হবে স্বপ্ন সুর্য রঙিন। 


মন্তব্য করুন