Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ০৯:০৬ অপরাহ্ণ

নতুন কৃত্রিম কোষ খাদ্য গ্রহণ, বেড়ে ওঠা ও বংশবৃদ্ধিতে সক্ষম


বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে আসছেন যে, কীভাবে জড় রাসায়নিক পদার্থকে জীবন্ত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়। বুধবার, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি বড় অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তারা ডিএনএ ধারণকারী এমন কৃত্রিম কোষ তৈরি করেছেন যা স্বাভাবিক কোষের মতোই খাদ্য গ্রহণ করতে, বৃদ্ধি পেতে, বংশবৃদ্ধি করতে এবং পুষ্টি গ্রহনের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃত্রিম জীববিজ্ঞানী ড্রু এন্ডি বলেন, ‘এটি এমন একটি কোষ, যা জন্মায়নি, বরং তৈরি করা হয়েছে। এটি নির্মিত, কিন্তু এটি কোষ যা করে, তাই করে।’

এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের এমন সব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার দিয়েছে, যেগুলোর উত্তর প্রাকৃতিক কোষ সহজে দিতে পারে না। এর মধ্যে রয়েছে, জীবনের সবচেয়ে সরল রূপটি টিকিয়ে রাখার জন্য কতগুলো জিনের প্রয়োজনীতা। গবেষকরা আরও বিশ্বাস করেন যে, কৃত্রিম কোষগুলোকে ভবিষ্যতে এমন সব দরকারি কাজ সম্পাদনের জন্য প্রকৌশলগতভাবে তৈরি করা যেতে পারে, যা প্রাকৃতিক জীবের নাগালের বাইরে; যেমন নতুন ওষুধ তৈরি করা বা বায়ুম-ল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ করা।

গবেষক দলটি ৭টি প্লাজমিডে ৩৬টি জিন সাজিয়েছিল, যা হলো বৃত্তাকার ডিএনএ। ডিএনএ বেস পেয়ারের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯০ হাজার। মানুষের ডিএনএ-তে ৩শ’ কোটি বেস পেয়ার থাকে। প্লাজমিড ডিএনএ-কে বহুবার প্রতিলিপি করার পর, গবেষকরা এটিকে একটি বিশেষ দ্রবণে রাখেন, যেটিতে একটি কোষের প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান ছিল, যার মধ্যে ডিএনএ ও প্রোটিনের গাঠনিক একক এবং লাইপোসোমÑফ্যাটি অ্যাসিড দ্বারা আবৃত কণাÑঅন্তর্ভুক্ত ছিল। কিছু লিপিড কণা সাতটি বৃত্তাকার ডিএনএ-কেই আবৃত করে এবং কৃত্রিম কোষ তৈরি করে।Biological Sciences

যদিও এই কোষগুলোকে পুরোপুরি জীবন্ত বলে মনে করা হয় না, তবুও এগুলো জীবনের অনেকগুলো সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। প্রধান গবেষক কেট অ্যাডামালা বলেছেন, ‘জীবন কোনো সুস্পষ্ট বিষয় নয়। এ কারণেই আমি এটিকে জীবিত বলতে দ্বিধা করি। আমরা যতই তা কামনা করি না কেন, এর কোনো স্পষ্ট সীমারেখা নেই।’

তবে, স্পাডসেলস নামে পরিচিত এই সিন্থেটিক কোষগুলো এখনও বেশ কিছু বড় সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন। এরা রাইবোসোম তৈরি করতে পারে না, যা প্রোটিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আণবিক যন্ত্র, এবং বিশেষায়িত পরীক্ষাগারের পরিবেশে মাত্র কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত টিকে থাকে। ড. এন্ডি এই অর্জনকে ১৯০৩ সালের রাইট ভাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়নের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ‘রাইট উড্ডয়নকারীরা মাত্র ১২ সেকেন্ড উড়তেই যে একটি ৭৩৭ বিমান তৈরি হয়ে গেছে, তা নয়। এটা তো কেবল শুরু।’



মন্তব্য করুন