Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ

যেসব খাবার মদ্যপানের চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে লিভারের

লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা করা, বিষাক্ত উপাদান অপসারণ এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে শুধু মদপানই নয়, প্রতিদিনের কিছু খাবার ও অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাসও নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই ফ্যাটি লিভারকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ রোগটি শুরুর দিকে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।


চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)-এর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এটি লিভারে প্রদাহ, সিরোসিস এবং কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে

চিনিযুক্ত পানীয় হতে পারে বড় ঝুঁকি


বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি সতর্ক করছেন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক এবং বাজারজাত ফলের রস নিয়ে। এসব পানীয়তে সাধারণত উচ্চমাত্রার চিনি, ফ্রুক্টোজ, কৃত্রিম স্বাদ ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।


তাই বাজারজাত পানীয়ের পরিবর্তে ঘরে তৈরি লেবুর শরবত, লস্যি বা অন্যান্য কম চিনিযুক্ত স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।


প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুডেও সতর্কতা

পিজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত অস্বাস্থ্যকর চর্বি, অতিরিক্ত লবণ ও ক্যালোরি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার এবং অন্যান্য বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া বা সঠিক মাত্রা না জেনে ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।


ভেষজ মানেই সবসময় নিরাপদ নয়

অনেকেই মনে করেন ভেষজ বা হারবাল সাপ্লিমেন্টের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু বাস্তবে কিছু ভেষজ উপাদানও লিভারের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে সেগুলো যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্রহণ করা হয়।


লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী লিভার ভালো রাখতে—


অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।

স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।

হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিন এবং নিরাপদ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

চিকিৎসকদের মতে, লিভারের রোগ অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই এগিয়ে যায়। তাই সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই লিভার সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মন্তব্য করুন