Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৬:০০ অপরাহ্ণ

একজন নারী শিক্ষক—তিনি কি শুধু একজন কর্মচারী, নাকি হাজারো দায়িত্বের ভারে নীরবে হাঁটা এক যোদ্ধা?

একজন নারী শিক্ষক—তিনি কি শুধু একজন কর্মচারী, নাকি হাজারো দায়িত্বের ভারে নীরবে হাঁটা এক যোদ্ধা?

প্রতিদিন সকালে যখন সূর্য ওঠে, তখন অনেকেই নতুন দিনের শুরু দেখে। কিন্তু একজন নারী শিক্ষকের দিন শুরু হয় সূর্য ওঠারও অনেক আগে।
অ্যালার্ম বাজার আগেই তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। কারণ তাঁর জন্য সকাল মানে নিজের জন্য এক কাপ চা নয়; সকাল মানে পরিবারের সবার দিনের প্রস্তুতি।
রান্নাঘরের ধোঁয়া, সন্তানের খাবার, স্কুলের টিফিন, স্বামী কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজন, বৃদ্ধ বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ির খোঁজ—সবকিছু সামলে যখন তিনি নিজের শাড়ির আঁচলটা ঠিক করেন, তখন ঘড়ির কাঁটা তাঁকে মনে করিয়ে দেয়, এবার বিদ্যালয়ে ছুটতে হবে।
কেউ দেখে না, তিনি কতটা ক্লান্ত হয়ে বের হন।
বিদ্যালয়ে পৌঁছে তিনি নিজের ক্লান্তিকে দরজার বাইরে রেখে হাসিমুখে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন।
কারণ সেখানে অপেক্ষা করে ছোট ছোট কিছু নিষ্পাপ মুখ, যারা জানেই না তাদের প্রিয় ম্যাডাম আজ ভোর থেকে এক মুহূর্তও বিশ্রাম পাননি।
কিন্তু ক্লাস শেষ হলেই তাঁর দায়িত্ব শেষ হয় না।
খাতা দেখা, পাঠ পরিকল্পনা, অফিসের নির্দেশনা, অনলাইন তথ্য আপডেট, মিটিং, প্রশিক্ষণ, সরকারি নানা কার্যক্রম—সবকিছুর ভিড়ে তিনি যেন ধীরে ধীরে নিজের নামটাই ভুলে যেতে থাকেন।
বিদ্যালয় শেষে যখন অন্যরা ভাবে তাঁর অফিস শেষ, তখনই শুরু হয় তাঁর দ্বিতীয় কর্মদিবস।
বাড়ি ফিরে আবার রান্না।
আবার সন্তানকে পড়ানো।
আবার ঘরের কাজ।
আবার পরিবারের সবার চাহিদা পূরণ।
পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরও তাঁর দিন শেষ হয় না; তিনি পরদিনের দায়িত্বের প্রস্তুতিতে ডুবে থাকেন। কখন যে রাত গভীর হয়ে যায়, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেন না।
এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায় একজন নারী শিক্ষকের নিজের জীবন।
কতজন জানে, একজন নারী শিক্ষক কতবার নিজের সন্তানের অসুস্থতা রেখে অন্যের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে স্কুলে গেছেন?
কতজন জানে, মাতৃত্বের কোমল মুহূর্তগুলোকে বুকের ভেতর চেপে রেখে কত মা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে পাঠদান করেন?
কতজন জানে, সংসার, সমাজ আর পেশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কত নারী শিক্ষক নীরবে মানসিক চাপ, অবসাদ আর অপরাধবোধ নিয়ে বেঁচে থাকেন?
তাই তাঁকে শুধু একজন সরকারি কর্মচারী বা বেতনের বিনিময়ে কাজ করা মানুষ হিসেবে দেখবেন না।
তিনি একজন মা, যিনি নিজের সন্তানকে সময় না দিয়েও অন্যের সন্তানকে মানুষ করেন।
সংগৃহিত 

মন্তব্য করুন