সহকারী শিক্ষক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৬:০১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিম্নমুখী। তবে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ঢাকা বরেন্দ্র অঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চল। পুরো দেশের গ্রাউন্ড ওয়াটার একুইফার নিয়ে সঠিক গবেষণা ও তথ্য পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন সময়ে স্থানভিত্তিক কিছু গবেষণা এবং পত্র পত্রিকার রিপোর্ট থেকে একটি ধারণা পাওয়া যায়। দেশের পানির চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঢাকা ও গাজীপুর। মাত্রাতিরিক্ত উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে রাজধানী ঢাকায় গড় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এলাকাভেদে ৩৮ থেকে ৮৬ মিটার নিচে নেমে গেছে। ঢাকা শহরে প্রতি বছর প্রায় ২ থেকে ৩ মিটার করে পানির স্তর নিচে নামছে। এরপর অবস্থান করছে বরেন্দ্র অঞ্চল (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ)। শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যায়। ভূগর্ভে পানি কমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপও অকার্যকর হয়ে পড়ছে। উপকূলীয় ও লবণাক্ত অঞ্চলও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাগুলোর অগভীর স্তরে লবণাক্ততা থাকার কারণে সুপেয় পানির জন্য অনেক গভীরে (সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারেরও বেশি) ভূগর্ভস্থ ‘ডিপ অ্যাকুইফার’ বা গভীর স্তর থেকে পানি তুলতে হয়। তবে এখনও সুবিধাজনক এলাকা হিসেবে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার) জেলাকে ধরা হয়। তুলনামূলকভাবে এসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি থাকে। স্বাভাবিক মৌসুমে পানির স্তর মাত্র ২ থেকে ১০ মিটারের মধ্যে পাওয়া যায়। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ) জেলাগুলোতেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর তুলনামূলক অগভীর (সাধারণত ৫ থেকে ১২ মিটারের মধ্যে)। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নীচে। এখানে কোথাও কোথাও ৩০০ মিটার গভীরে অল্প পানি পাওয়া গেলেও সিংহভাগ জায়গায় পানি পাওয়া দুরুহ।
১৪
২৪ মন্তব্য