প্রভাষক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪৫ অপরাহ্ণ
শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলো
শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলি
আজ শুক্রবার, সারাদিনে কর্মচাঞ্চল্য কম। মেঘলা আকাশ। মনে হয় কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি নামবে। বারান্দায় বসে আছি সাথে আছে ছোট মেয়েটা। ঝড় শুরু হলো। গাছের পাতারা ঝরছে। সাথে সাথে গাছের ফলগুলো ধুপধাপ ঝরে পড়ছে। আধো ঝড় আধো বৃষ্টি কিশোর কিশোরীরা ফল কুড়ানোর জন্য ছোটাছুটি করছে। কেউবা পলিথিনে কেউবা কাপড়ের ঝোলায় ফল কুড়িয়ে রাখছে। অসম্ভব উচ্ছ্বাস তাদের মধ্যে। সর্দি বা জ্বরের কোন তোয়াক্কা বা ভয় তাদের চেহারায় দেখা যাচ্ছেনা। এক গাছ থেকে অন্য গাছের নিচে দৌড়াচ্ছে অনবরত। কখনও বা এক বাগান হতে অন্য বাগান। এই দৃশ্য গুলো দেখতে দেখতে আচমকায় নিজের শৈশব কৈশরের স্মৃতিগুলো ভাসতে থাকলো মনের মনিকোঠায়। কী সুন্দর না ছিলো সে দিনগুলো।
সময়টা বৈশাখ জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি ফল পাকার মৌসুম । প্রখর রৌদ্রজ্জ্বল একদিন বিকেলে হঠাৎই বাউরি বাতাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম। চারিদিকে মানুষজন সতর্ক হচ্ছে, গুছিয়ে নিচ্ছে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো। বাতাসের গতিবৃদ্ধি পেল, গাছে গাছে পাকা পাকা আম বাতাসের তালে তালে দুলতে দুলতে কিছুক্ষণ পর তাল হারিয়ে ধুপধাপ মাটিতে পড়তে শুরু করলো এলোমেলো হয়ে। আম কুড়ানোর জন্য চারিদিক থেকে ছুটে এলো ছোট বড় অনেকেই। আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। ঝড়ের এলোমেলো দোলায় নিজের মনও আম কুড়ানোর নেশায় দুলতে থাকলো। বাড়ির সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আমিও ছুটলাম উঠানের আমগাছ থেকে বাগানের প্রতিটি গাছ তলায়।
তুমুল ঝড় হচ্ছে। আম পড়ছে সাথে ভেঙ্গে পড়ছে ছোটবড় আমের ডালও। সাথে বৃষ্টি ও বিদ্যুত চমকানোর আলোর ঝলমলানি। পরনের গেঞ্জি খুলে ব্যাগ বানিয়ে আম নিয়েছি তাতে। গেন্জির ব্যাগ ভর্তি হয়ে গেছে। তারপর কিছু নিয়েছি গামছায়। আম কুড়ানোর আনন্দে গেন্জিতে আমের কষের কালো দাগ লেগে গেন্জি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেছি। সব কিছু মাথায় করে বাড়ি ফেরার সময় বাড়িতে বড়দের পিটুনী বা দৌড়ানি খাওয়ার কথা মনে হতেই মনে
ভীষন একটা ভয় তাড়া করেছিল। কিন্তু চুপি চুপি বাড়ি এসে বাড়ির দরজায় কেউ নেই দেখে সে বারের মত হাফ ছেঁড়ে বেঁচেছিলাম।
জানালার গ্রীল ধরে এসব ভাবতে ভাবতে বিদ্যুত চমকানোর শব্দে সম্বিত ফিরে পেলাম। কত মধুরই না ছিলো সেসব শৈশবের দিন গুলি।
১৪
২৪ মন্তব্য