Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৮:০৬ অপরাহ্ণ

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী

“While academics build the mind, co-curricular activities build character, resilience, and the invaluable life skills needed to navigate the world”.শ্রেণিকক্ষের বাহিরেও যে শেখার এক বিশাল জগত আছে, সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী তারই প্রমাণ। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী এমন এক সেতু যা তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলে-তাকে করে তোলে আত্নবিশ্বাসী,দায়িত্বশীল এবং সক্ষম।

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী বলতে মূলত শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যক্রমের বাহিরে যে সকল অতিরিক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো হয়,সেগুলোকে বোঝায়।একসময় এগুলোকে ‘শ্রেণীকক্ষ-বহির্ভূত কার্যক্রম’ বলা হলেও, বর্তমানে এদের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ‘সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী’ হিসেবে ধরা হয়, কারণ এগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে।

শিক্ষাবিদ  H. N. Rivlin (রিভলিন) বলেছেন-যে সমস্ত কার্যাবলী শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক বিকাশের পাশাপাশি জীবন বিকাশের অন্য দিকগুলিকে সার্থক করে গড়ে তোলে, তাদের বলা হয় সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী।

Co curricular activities are those extra activities that go beyond the regular classroom lessons. These activities help students learn and grow in different ways that aren’t covered in their textbooks.

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার মূল পাঠ্যক্রমকে ‘আহার’ এবং সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীকে “হাওয়া’ খাবার সাথে তুলনা করেছেন যা ইঙ্গিত করে যে সুস্থ জীবন ধারণের জন্য উভয়ই অপরিহার্য। সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির উদাহরণঃ শহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষাথীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায় এবং তাদের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে,যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দক্ষতা ও গুনাবলী উন্নয়নে সহায়ক। নিম্নে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর কিছু উদাহরণ  এবং শিক্ষার্থীদের জীবনে তাদের ভূমিকা উল্লেখ করা হলোঃ

·         ক্রীড়া ও শরীরচর্চাঃ ফুটবল,ক্রিকেট,বাক্সেটবল, ভলিবল,সাতার, দৌড়,যোগব্যায়াম,বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলন যা শিক্ষার্থীদেরশারীরিক স্বাস্থ্য ও ফিটনেস বৃদ্ধি,দলগত কাজ,শৃঙ্খলা বৃদ্ধি,সহনশীলতা ও প্রতিযোগীতামুলক মনোভাব শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি করে।

·         সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কার্যক্রমঃ নাটক ,নাচ,গান,আবৃত্তি,চিত্রাঙ্কন,বিতর্ক প্রতিযোগীতা,গল্প বলা,হস্ত শিল্প,দেয়ালিকা প্রকাশ, বার্ষিক ম্যাগাজিন যা শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা,নান্দনিকতা,প্রকাশভঙ্গির উন্নয়ন,আত্নবিশ্বাস বৃদ্ধি,এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারিণা দেয়।

·         সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমঃ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী, রক্তদান কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিজান,নিরক্ষরতা দূরীকরন আন্দোলন,সমাজসেবা প্রকল্প,দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, স্কাউট,গার্লস গাইড ইত্যাদি সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক দায়িত্ববোধ,মানবিকতা,সেবার মনোভাব,এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়।

·         বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক কার্যক্রমঃ বিজ্ঞান ক্লাব,বিজ্ঞান মেলা,আইসিটি ক্লাব,রোবোটিক্স,গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড,বিজ্ঞান প্রকল্প তৈরি শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটায়।

·         ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক কার্যক্রমঃ বিতর্ক প্রতযোগীতা,বক্তৃতা প্রতযোগীতা,কুইজ প্রতিযোগীতা,বই পড়া ক্লাব,লেখালেখি (গল্প,প্রবন্ধ,কবিতা),দেয়ালিকা ও ম্যাগাজিন প্রকাশ শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি,ভাষা জ্ঞান উন্নত করা,বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধি,সাহিত্যিক প্রতিভার বিকাশ ঘটায়।

·         ভ্রমণ ও পরিদর্শনঃ শিক্ষামূলক ভ্রমণ, ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন,জাদুঘর পরিদর্শন,প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন,কৌত্তূহল্বৃদ্ধি,বাস্তব জীবনের সাথে পরিচিতি হওয়া এবং বৃহত্তর

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব

শিক্ষার্থীদের জীবিনে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু পুথিগতবিদ্যাই একজন শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করতে পারে না।সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম তাদের শারীরিক, মানসিক,সামাজিক,আবেগিক, নৈতিক ও নান্দনিক বিকাশে গুরুত্ববপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান কিছু গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলোঃ

§  ব্যক্তিত্বের সামগ্রিক বিকাশঃ এই কার্যক্রমগুলো শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব,দলগত কাহ,সমস্যা সমাধান,সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং আত্নবিশ্বাস বিকাশে সাহায্য করে।

§  মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঃ খেলাধুলা ও শরীরচর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থ্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

§  সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিঃ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে মিশতে শেখে,সহমর্মিতাও সহযোগীতার মনোভাব গড়ে তোলে এবং সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।

§  নৈতিক ও মানবিক গুনাবলীর বিকাশঃ সমাজসেবা,স্বেচ্ছাসেবী কাজ ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ, সেবার মনোভাব ওপরমতসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে।

§  সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ নাটক,গান,নাচ,চিত্রাঙ্কন বা বিজ্ঞান কাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের সুযোগ পায়।

§  অবসর বিনোদন ও একঘেয়েমি দূরীকরণঃ নিয়মিত পড়াশুনার একঘেয়েমি দূর করতে এবং অবসর সময়কে ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগাতে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

§  সক্রিয়তাঃ  সহশিক্ষাক্রমিক  কার্যাবলী  শিক্ষার্থীদের কেবল জ্ঞানী হতেই নয় বরং তাদের দৈনন্দিন গীবনে ফিট ও উদ্যমী হতেও সাহায্য করে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে শহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি এই সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী ( Co Curricular Activities ) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।শিক্ষার উপাদান হিসেবে পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক বিকাশের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন দিকের বিকাশের জন্য যে বিশষের প্রয়োজন হয় সেটি হল সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী। পরিশেষে বলা যায় , সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী ( Co Curricular Activities ) পাঠক্রমের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার বৃহত্তর উদ্দেশ্য পূরণে এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করে। এই কার্যাবলী শিক্ষার্থীদের জ্ঞানমূলক বিষয়ের পাশাপাশি সুষম ও পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে।        

Every Child is Gifted.They Just Unwrap TheirPackages at Different Times.     

মন্তব্য করুন