সহকারী শিক্ষক
০৮ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পেনাল্টি স্পটে দাঁড়িয়ে মেসি।
পুরো স্টেডিয়াম নিঃশ্বাস আটকে আছে। কোটি কোটি স্ক্রিনের সামনে কোটি কোটি মানুষ। সবার বুকে একটাই প্রার্থনা।
বল গেল।
গোলকিপার ঠেকাল।
সেই মুহূর্তে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের হৃদয় যেন একসাথে একটু থেমে গেল।
শুরুটা এমন ছিল না যে মনে হবে এটা সেই আর্জেন্টিনা।
কেপ ভার্দে ম্যাচের পর স্কালোনি একাদশে পরিবর্তন এনেছিলেন। হয়তো সতেজতা চেয়েছিলেন। হয়তো নতুন কিছু চেয়েছিলেন। কিন্তু মাঠে নামার পর মনে হলো দলটা যেন তার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না।
তারপর ১৪ মিনিট।
মিশর গোল দিল।
স্কোরবোর্ড বলছে আর্জেন্টিনা ০, মিশর ১।
আর্জেন্টাইন ফ্যানদের মাথায় সেই পুরনো দুঃস্বপ্ন ফিরে আসতে লাগল। সেই সৌদি আরব ম্যাচের কথা। সেই অবিশ্বাস্য পরাজয়ের কথা। যে রাতে ঘুম আসেনি।
হাফটাইম শেষ হলো। স্কোর একই। ০-১।
ড্রেসিং রুমে কী হয়েছিল জানি না। কিন্তু বাইরে লক্ষ লক্ষ মানুষ স্ক্রিনের সামনে বসে ছিল অস্থির হয়ে। কেউ চায়ের কাপ রেখে দিয়েছে। কেউ ফোন নামিয়ে রাখতে পারছে না।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হলো।
৫৮ মিনিটে মিশর আবার গোল দিল। স্টেডিয়াম উত্তাল। কিন্তু VAR থামিয়ে দিল উৎসব। লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল। গোল বাতিল।
একটু স্বস্তি ফিরল।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টিকল না।
৬৭ মিনিট।
মিশর আবার গোল দিল। এবার VAR নেই। এবার বাতিল নেই।
আর্জেন্টিনা ০, মিশর ২।
এই মুহূর্তে পৃথিবীর যত আর্জেন্টাইন ফ্যান আছে, তাদের সবার বুকের ভেতর একটাই শব্দ ঘুরছিল।
"এবার?"
৭৮ মিনিট।
রোমেরো গোল করল।
অ্যাসিস্ট করলেন কে? মেসি।
পেনাল্টি মিস করা সেই মেসি। মাথা নত না করা সেই মেসি। দলের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তে আলো খুঁজে নেওয়া সেই মেসি।
আর্জেন্টিনা ১, মিশর ২।
আশা ফিরল। কিন্তু সময় কম। মাত্র বারো মিনিট।
৮৩ মিনিট।
মেসি বল পেল।
যা হলো পরের কয়েক সেকেন্ডে, সেটা ব্যাখ্যা করতে গেলে ভাষা কম পড়ে যায়।
গোল।
আর্জেন্টিনা ২, মিশর ২।
স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল। স্ক্রিনের সামনে বসা মানুষগুলো চিৎকার করে উঠল। কেউ কাঁদছে। কেউ হাসছে। কেউ দুটো একসাথে করছে।
পেনাল্টি মিসের ঠিক কয়েক মিনিট পরে মেসি ম্যাচ সমতায় ফিরিয়ে আনল।
এটাই মেসি। এটাই তার সাথে বাকিদের পার্থক্য।
৯০ মিনিট শেষ।
স্কোর ২-২।
আর্জেন্টাইন ফ্যানদের বুকে তখন দুটো অনুভূতি একসাথে। স্বস্তি যে ফিরে এসেছে। আর ভয় যে এক্সট্রা টাইম বা পেনাল্টি শুটআউটে কী হবে।
কিন্তু ফুটবল তখনো শেষ হয়নি।
অ্যাডেড টাইম।
এঞ্জো ফার্নান্দেজ বল পেল। হেডার।
নেটের ভেতর।
আর্জেন্টিনা ৩, মিশর ২।
খেলা শেষ।
পিছিয়ে পড়া। পেনাল্টি মিস। দুই গোলে পিছিয়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে এক রাতে এত কিছু।
তবু আর্জেন্টিনা ফিরে এল।
কারণ দলটার ভেতরে একজন আছে, যে পেনাল্টি মিস করার পরেও মাথা তোলে। দল দুই গোলে পিছিয়ে থাকলেও হাল ছাড়ে না। ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে সবার আগে দাঁড়িয়ে যায়।
তার নাম লিওনেল মেসি।
এবং এটাই তার সাথে পৃথিবীর বাকি সব ফুটবলারের পার্থক্য।
১
১ মন্তব্য