সহকারী অধ্যাপক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
সালাতে খুশু-খুজুর আলো -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সালাতে খুশু-খুজুর আলো
(সালাতের প্রাণ, মুমিনের শ্রেষ্ঠ অলংকার)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যে হৃদয়ে জাগে খুশুর আলো,
সেখানে নামে রহমতের ঢল;
সিজদার মাটিতে নত সে প্রাণ,
পায় রবের অশেষ অনুগ্রহের ফল।
আজান ধ্বনি ভেসে আসে,
ডাকে—"এসো সফলতার পথে";
দুনিয়ার যত ব্যস্ততা ফেলে
মুমিন ছুটে যায় রবের রথে।
অজুর জলে ধুয়ে যায় মলিনতা,
পবিত্র হয় অন্তর-মন;
আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে
জেগে ওঠে ঈমানের স্পন্দন।
কিয়ামে দাঁড়ায় বিনীত প্রাণ,
নীরব শ্রদ্ধায় নত নয়ন;
মনে মনে বলে—হে প্রভু!
তুমিই আমার চির আশ্রয়স্থল।
পবিত্র কুরআন ধ্বনিত হলে
শান্ত হয় অন্তরের ঢেউ;
আল্লাহর বাণী জীবন গড়ে,
মুছে দেয় যত দুঃখের ঢেউ।
"ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও,
নিশ্চয় তা বিনয়ীদের জন্য সহজ।"
এই মহান বাণী হৃদয়ে রেখে
মুমিন চলে সত্যের পথ।
খুশু মানে শুধু নত শরীর নয়,
নত হতে হবে হৃদয়েরও;
ঠোঁটে নয় শুধু তাসবীহ ধ্বনি,
প্রেম জাগুক আত্মার গভীরেও।
যে জানে—প্রভু আমায় দেখছেন,
সর্বক্ষণ রাখছেন খেয়াল,
তার প্রতিটি রুকু, প্রতিটি সিজদা
হয়ে ওঠে ভালোবাসার জ্যোতিজাল।
রুকুতে নত অহংকার সব,
সিজদায় ভাঙে গর্বের দেয়াল;
মাটির বুকে কপাল রেখে
আত্মা খুঁজে পায় মুক্তির কাল।
সিজদা মানে পরাজয় নয়,
এ বিজয়ের মহিমান্বিত নাম;
যে যত নত হয় রবের কাছে,
ততই বাড়ে তার সম্মান।
মন যদি ছুটে যায় দূর দেশে,
চিন্তা যদি ভাসে সংসারে,
ফিরিয়ে আনো ধীরে ধীরে—
রব আছেন তোমারই পাশে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ সতর্ক করে
উম্মতকে দিলেন যে বাণী,
এদিক-ওদিক দৃষ্টি ফেরানো
শয়তানের কৌশল জানি।
নামাজ হতে চুরি করে
মনোযোগের অমূল্য ধন;
যে রক্ষা করে নিজের দৃষ্টি,
সে রক্ষা করে আপন মন।
ধীরে ধীরে রুকু করো,
ধীরে করো প্রতিটি সিজদা;
তাড়াহুড়ো ইবাদতে নয়,
সুন্নাহ শেখায় প্রশান্ত পথ।
কিয়াম, কিরাআত, রুকু, সিজদা—
প্রতিটি রোকন হোক পরিপূর্ণ;
সুন্দর তিলাওয়াত, বিনীত অন্তর,
সালাত হোক আলোকপূর্ণ।
খুশু এমন এক মহামূল্য রত্ন,
কেনা যায় না কোনো দামে;
ইখলাস, তাকওয়া, অশ্রুভেজা প্রাণ
জন্ম দেয় তাকে অবিরামে।
যে নামাজ বদলায় চরিত্র,
সেটিই প্রকৃত সালাত;
মিথ্যা, জুলুম, অন্যায় ত্যাগে
ফুটে ওঠে তার প্রভাত।
খুশুর আলো যার অন্তরে,
সে নম্র হয় সবার তরে;
ক্ষমা, দয়া, সত্য ও ন্যায়
ফুটে ওঠে তারই ঘরে।
দুনিয়ার মায়া ক্ষণিক ছায়া,
আখিরাত চিরদিন;
এই বিশ্বাসে সালাত গড়ে
ঈমানের সুমহান ভূমি।
প্রতিটি তাকবির ঘোষণা করে—
আল্লাহ মহান, সবার ঊর্ধ্বে;
তাই তো মুমিন ভুলে যায়
জাগতিক যত ক্ষুদ্র স্বার্থে।
ফাতিহার প্রতিটি আয়াতে
প্রার্থনার সুধা ঝরে;
"শুধু তোমারই ইবাদত করি,
সাহায্য চাই তোমার দ্বারে।"
সিরাতে মুস্তাকীমের আবেদন
উঠে আসে প্রতিটি বুকে;
খুশুর স্রোতে ভেসে চলে প্রাণ
রবের অফুরন্ত সুখে।
যে সালাতে কাঁদতে শেখে,
সে পাপ থেকে দূরে রয়;
রবের ভয়ে যে হৃদয় কাঁপে,
সেই হৃদয় সত্যময়।
খুশু-খুজু নামাজের প্রাণ,
ইবাদতের শ্রেষ্ঠ রূপ;
যেখানে আছে আল্লাহভীতি,
সেখানে জ্বলে নূরের দীপ।
হে আল্লাহ!
আমাদের সালাত করুন কবুল,
দিন অন্তরে খুশুর আলো;
অহংকার, গাফিলতি মুছে
করুন জীবন ঈমানে ভালো।
রুকু-সিজদায় দিন প্রশান্তি,
কিয়ামে দিন নিবিড় ধ্যান;
আপনার প্রেমে ভরে উঠুক
প্রতিটি মুমিনের প্রাণ।
দুনিয়া পেরিয়ে আখিরাতে
যখন হবে মহামিলন,
খুশুভরা সালাতের উসিলায়
দিন জান্নাতের চিরজীবন।
আমীন।
****
খুশু-খুজুর আলো
সালাত শুধু কিছু অঙ্গভঙ্গি,
কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ নয়;
এ যে প্রভুর সঙ্গে কথোপকথন,
এ যে হৃদয়ের মহাপরিচয়।
তাকবির তুলে শুরু হয় যখন,
থেমে যায় জগতের সব কলরব;
হৃদয় বলে—এসেছি প্রভু!
শুনতে তোমার পবিত্র আহ্বান সব।
"আল্লাহু আকবার"—মহান ঘোষণা,
সবকিছুর চেয়ে মহান তিনি;
ক্ষমতা, ধন, যশ আর মান,
সবই তুচ্ছ তাঁরই সন্নিধানে।
কিয়ামে দাঁড়ায় দেহ-মন,
শ্রদ্ধায় নত হয় প্রাণ;
মনে জাগে—আজই বুঝি
শেষ ইবাদতের আহ্বান।
প্রতিটি আয়াত ভাবতে ভাবতে,
ধীরে ধীরে পড়ি কিরাআত;
অর্থের সুধা হৃদয়ে ঢেলে
জেগে ওঠে ঈমানের প্রভাত।
সূরা ফাতিহা শেখায় আমায়—
ইবাদত শুধু তোমারই তরে;
সাহায্য চাই শুধু তোমারই,
জীবনের প্রতিটি প্রহরে।
সরল পথে চালাও প্রভু,
সত্যের পথে রাখো স্থির;
অহংকারের আঁধার ভেঙে
করো হৃদয় নূরে ভরপুর।
রুকুতে নত হয় কপাল নয়,
নত হয় অন্তরের অহংকার;
"সুবহানা রব্বিয়াল আযীম" বলে
প্রাণে জাগে শ্রদ্ধার অপার।
যে মাথা নত হয় না প্রভুর তরে,
সে মাথা কিসের অহংকার?
মাটির মানুষ মাটিতেই ফিরবে,
চিরস্থায়ী কেবল রবের দরবার।
সিজদা—মানবজীবনের শিখর,
দাসত্বের শ্রেষ্ঠ পরিচয়;
যত নিচে নামে কপাল,
তত উপরে ওঠে তার পরিচয়।
হাদিসে এসেছে—বান্দা তখনই
রবের সবচেয়ে নিকট হয়,
যখন সে সিজদায় থাকে—
তাই বাড়াও দোয়া নির্ভয়।
অশ্রু যদি ঝরে সিজদার বুকে,
তবে সে অশ্রু অমূল্য ধন;
সেই অশ্রু ধুয়ে দেয় অন্তর,
মুছে দেয় বহু পাপের চিহ্ন।
দৃষ্টি রাখো সিজদার স্থানে,
মন রাখো রবের দ্বারে;
এদিক-ওদিক চেয়ে বেড়ানো
খুশুর আলো নেভায় যে রে।
শয়তান চায় মনকে সরাতে,
ছুটিয়ে দিতে শত ভাবনায়;
মুমিন তখন ফিরে আসে
আল্লাহর স্মরণের ছায়ায়।
আজকের হিসাব, আগামী চিন্তা,
বাজার, ব্যবসা, সংসার-ভার—
সবই থাকুক নামাজের পরে,
এখন শুধু প্রভুর দরবার।
ধৈর্যের ডানায় ভর করে
সালাত শেখায় দৃঢ়তা;
যে নামাজে খুঁজে পায় খুশু,
সে জয় করে দুর্বলতা।
ঝড়ের মাঝেও শান্ত যে থাকে,
তার অন্তরে সালাতের নূর;
দুঃখ এলেও ভাঙে না সে,
কারণ আল্লাহ আছেন ভরপুর।
লোভের আগুন নেভায় সালাত,
হিংসার বিষ করে ক্ষয়;
ক্ষমা, মমতা, ন্যায় ও দয়া
জাগায় হৃদয়ে নতুন পরিচয়।
খুশু শেখায় বিনয়ী হতে,
মানুষকে দিতে সম্মান;
নিজেকে বড় না ভাবতে,
সত্যকে করতে সবার প্রাণ।
সাহাবিগণ যখন দাঁড়াতেন,
সালাতে হত স্থির মন;
রবের স্মরণে হারিয়ে যেত
দুনিয়ার সব আকর্ষণ।
তাদের চোখে ছিল অশ্রুধারা,
ঠোঁটে ছিল কুরআনের বাণী;
অন্তরে ছিল আল্লাহভীতি,
জীবনভরা ঈমানখানি।
খুশু জন্মায় জ্ঞানের আলোয়,
তিলাওয়াতের অর্থ জেনে;
যে বোঝে রবের বাণীর মর্ম,
সে ডুবে যায় প্রেমের সাগরে।
অজু শুধু বাহির ধোয়া নয়,
অন্তর ধোয়ারও প্রস্তুতি;
সালাত শুধু কর্তব্য নয়,
এ জীবন গড়ার মহাশক্তি।
যে ঘরে সালাত প্রতিষ্ঠিত,
সে ঘরে নামে বরকত;
সন্তান শেখে সত্যের শিক্ষা,
পরিবার পায় নিরাপত্তা।
মসজিদের পথ চেনে যে প্রাণ,
তার হৃদয় থাকে জাগ্রত;
আজানের ধ্বনি শুনলেই যেন
ডাকে জান্নাতের বারতা।
হে প্রভু!
আমাদের সালাতে দিন খুশু,
কিরাআতে দিন অশ্রুর ঢেউ;
রুকু-সিজদায় দিন এমন প্রেম,
যা কখনো হবে না ক্ষয়।
দুনিয়ার মোহ ভেঙে দিয়ে
করুন হৃদয় আপনারই ঘর;
খুশু-খুজুর নূরে ভরে
সফল হোক জীবন ভর।
আমীন।
***
খুশু-খুজুর আলো
(ইহসানের দীপ্তি)
ইবাদতের সে শ্রেষ্ঠ শিখর,
ইহসানের মহিমান্বিত নাম—
"তুমি যেন দেখছ আল্লাহকে,
না দেখলেও দেখেন তিনি অবিরাম।"
এই বিশ্বাসে দাঁড়াও যখন,
কেঁপে ওঠে অন্তরখানি;
মুখে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ
পায় নতুন অর্থ, নতুন বাণী।
নামাজ তখন রীতির গণ্ডি
ছাড়িয়ে যায় প্রেমের দেশে;
দাসের হৃদয় ডুবে থাকে
রহমতের অফুরন্ত আবেশে।
খুশু তখন চোখের জলে,
খুশু তখন নীরবতায়;
খুশু তখন দীর্ঘ সিজদায়,
অন্তরের নিবিড় প্রার্থনায়।
কত কথা যে জমে থাকে,
মানুষ বলতে পারে না কভু;
সিজদার বুকে অশ্রু হয়ে
সবই পৌঁছে যায় প্রভু।
রবের সামনে দাঁড়িয়ে যখন
মনে পড়ে নিজের দোষ,
তখন হৃদয় ভেঙে ভেঙে
তাওবার আলো করে রোষ।
অহংকারের পর্বত ভেঙে
নম্রতার নদী বইতে দাও;
ক্ষমার আশা হৃদয়ে রেখে
প্রভুর দুয়ারে মাথা নতাও।
যে নামাজে নেই বিনয়,
সে নামাজে কোথায় প্রাণ?
যে হৃদয়ে নেই আল্লাহভীতি,
কোথায় তার ঈমান?
রুকু শেখায়—নত হও তুমি,
সত্যের সামনে চিরকাল;
সিজদা শেখায়—মাটির মানুষ,
মাটিতেই তোমার অবসানকাল।
কিয়াম শেখায় দৃঢ় হয়ে
সত্যের পথে দাঁড়িয়ে রই;
কুনূতের ভাষা শেখায় আমায়—
"প্রভু! তোমারই দাস আমি।"
খুশু মানে ভয়ই শুধু নয়,
ভালোবাসারও গভীর সুর;
রহমতের আশায় ভরে ওঠে
মুমিন হৃদয় ভরপুর।
আশা আর ভয়ের মাঝখানে
চলে মুমিনের জীবন;
রবের করুণা পেতে চায়,
ভয় করে তাঁরই শাস্তিবাণ।
যে সালাতে হৃদয় কাঁদে,
সে হৃদয় পাষাণ নয়;
সেই হৃদয় মানুষকে ভালোবাসে,
অন্যায় কাজে সাড়া দেয় না কভু।
খুশু শেখায় ক্ষমা করতে,
বিদ্বেষ ভুলে আপনজন;
হিংসা-ঘৃণার কালো মেঘে
ঢাকে না আর অন্তর-গগন।
অন্যের সুখে হাসতে শেখে,
দুঃখে বাড়ায় সহানুভূতি;
এমন মানুষ সমাজজুড়ে
ছড়ায় শান্তির মহাস্মৃতি।
যে সালাতে খুশু পেয়েছে,
সে প্রতারণা করতে পারে না;
আমানতের হক নষ্ট করে
কখনো সুখী হতে চায় না।
সত্য তার জীবনের অলংকার,
ন্যায় তার চলার পথ;
মানুষ দেখে তার আচরণে
কুরআনেরই জীবন্ত রথ।
পিতা-মাতার সেবায় নিবেদিত,
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবান;
প্রতিবেশীর অধিকারে সচেতন,
দরিদ্রের বন্ধু মহান।
এমন সালাত সমাজ গড়ে,
এমন সালাত দেশ;
এমন সালাত বিশ্বজুড়ে
শান্তির আনে রেশ।
মসজিদ থেকে ঘরে ফিরে
যদি না বদলায় আচরণ,
তবে বুঝতে হবে খুঁজে নিতে
হবে আরও গভীর মনন।
খুশু শুধু মসজিদে নয়,
ব্যবসাতেও তার পরিচয়;
কথা, কাজ আর লেনদেনে
সত্যবাদিতার জয়।
খুশু শুধু সিজদায় নয়,
দৈনন্দিন প্রতিটি ক্ষণে;
আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত থাকে
জীবনের প্রতিটি কোণে।
হে দয়াময়!
আমাদের অন্তর শুদ্ধ করো,
দাও বিনয়ের মহাধন;
সালাত হোক নূরের সোপান,
সফল হোক জীবন।
আমাদের চোখে দাও অশ্রু,
যা জন্মায় তোমার ভয়ে;
আমাদের মুখে দাও সে দোয়া,
যা কবুল হয় তোমার স্নেহে।
আমাদের রুকু হোক পরিপূর্ণ,
সিজদা হোক প্রশান্তিময়;
খুশু-খুজুর নূরে আলোকিত
হোক প্রতিটি হৃদয়।
যেদিন হবে শেষ সালাত,
শেষ হবে দুনিয়ার পথ,
সেদিন যেন কবুল করে নাও
তোমার রহমতের স্নেহহস্ত।
খুশু হোক জীবনের সাথি,
ইখলাস হোক প্রাণের গান;
এই দোয়াতেই শেষ করি আজ—
রব! কবুল করো আমাদের সালাত।
আমীন।
***
খুশু-খুজুর আলো
খুশুর পথে প্রথম আহ্বান—
অন্তর করো নির্মল;
অহংকারের ধূলি ঝেড়ে
হও বিনয়ের সম্বল।
অজুর জলে ধোও কেবল
হাত আর মুখের ধূলি নয়;
ধুয়ে ফেলো হিংসা-বিদ্বেষ,
অভিমান আর মনের ক্ষয়।
আজান যখন ভেসে আসে
আকাশময় সুমধুর সুর,
জেনে নাও সে ডাকে তোমায়—
এসো, খুলে দাও হৃদয়দ্বার।
জগতের যত কর্মব্যস্ততা,
ক্ষণিক রেখে দাও দূরে;
আজ যে তোমার সাক্ষাৎ হবে
করুণাময়ের নূরের সাগরে।
পদে পদে মনে রেখো—
সালাত কেবল নিয়ম নয়;
এ যে দাসের নিবেদন,
প্রেমের চিরন্তন পরিচয়।
কিয়ামে যখন দাঁড়াও তুমি,
ভাবো এ যেন শেষ প্রহর;
হয়তো এ-ই শেষ সালাত,
শেষ মিনতি মহান রবের।
ফাতিহার প্রতিটি বাণী
অন্তরে জাগাও ধীরে;
প্রতিটি শব্দ মুক্তোর মতো
গেঁথে নাও প্রাণের নীড়ে।
"শুধু তোমারই ইবাদত করি,
সাহায্য চাই তোমারই কাছে"—
এই অঙ্গীকার সত্য হলে
জীবন বদলায় এক নিমেষে।
কিরাআতের প্রতিটি আয়াত
চিনে নাও অর্থের আলোয়;
অর্থহীন উচ্চারণ নয়,
হৃদয় ভাসুক উপলব্ধির ঢেউয়।
রুকু যখন নত হয়ে করো,
নত হোক অন্তরও সেথায়;
অহংকারের শিকল ভেঙে
বিনয় ফুটুক প্রতিটি ব্যথায়।
"সুবহানা রব্বিয়াল আযীম"
উচ্চারণ করো ভাবনায়;
মহান যিনি বিশ্বজগতের,
নত হও তাঁরই মহিমায়।
সিজদা যেন দীর্ঘ হয়,
প্রাণ খুলে করো মিনতি;
সেখানে লুকায় রহমতের
অশেষ করুণার স্মৃতি।
কপাল যখন ছোঁয় মাটিতে,
ভুলো সব গর্বের ভাষা;
মাটির মানুষ মাটিরই সন্তান,
রবের দয়াই একমাত্র আশা।
দৃষ্টি রাখো সিজদাস্থানে,
মন রাখো আল্লাহর দিকে;
এদিক-ওদিক দৃষ্টি ঘোরে,
মনও ছুটে হাজার দিকে।
শয়তান আসে কুমন্ত্রণা নিয়ে,
বিক্ষিপ্ত করে মন;
তখন বলো—"হে আমার রব!
তুমিই আমার আশ্রয়স্থল।"
ভাবনা যদি দূরে ছুটে
ফিরিয়ে আনো নীরবতায়;
বারে বারে ফিরে আসাটাই
মুমিনের বিজয় মহিমায়।
ধীরে ধীরে রুকু করো,
ধীরে করো প্রতিটি সিজদা;
অস্থিরতা নয় ইবাদতের রীতি,
সুন্নাহ শেখায় প্রশান্ত পথ।
যে সালাতে খুশু থাকে,
সেই সালাতে নূরের ঢেউ;
অশ্রুসিক্ত দোয়ার ভাষায়
রহমতের দুয়ার খোলে ঢেউ।
খুশু শেখায় সত্য কথা,
খুশু শেখায় আমানত;
খুশু শেখায় ন্যায়ের পথে
অটল থাকার ইবাদত।
যে সালাতে প্রাণ জাগে,
সে জুলুম করতে পারে না;
অন্যের হক নষ্ট করে
শান্তি কখনো পায় না।
খুশু শেখায় দয়া করতে,
ক্ষমার দ্বার খুলে দিতে;
অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে,
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দিতে।
মা-বাবার সেবা করতে,
শিক্ষককে দিতে মান;
প্রতিবেশীর অধিকারে
সচেতন রাখতে প্রাণ।
শিশুর মুখে হাসি ফোটে,
সত্যের আলো ঘরে;
খুশুভরা সালাত যার,
শান্তি নামে অন্তরে।
বাজারে সে সত্যবাদী,
ব্যবসায়ও ন্যায়পরায়ণ;
কথা রাখে, প্রতিশ্রুতি রাখে,
মানুষ ডাকে বিশ্বস্তজন।
বন্ধুত্বে সে প্রতারণা নয়,
আমানতে নয় খেয়ানত;
তার চরিত্র সাক্ষ্য দেয়—
সালাতই তার আসল শক্তি।
দিনের শেষে হিসাব কষে,
নিজেকেই করে প্রশ্ন—
আজকের সালাত বদলেছে কি
আমার জীবন, আমার অস্তিত্ব?
যদি বদলায় আচরণ,
তবে সে সালাত সফল;
যদি না বদলায় অন্তর,
তবে চাই আরও আত্মসম্বল।
হে পরম দয়ালু আল্লাহ!
আমাদের দাও খুশুর নূর;
দাও ইখলাস, দাও তাকওয়া,
করো হৃদয় ভরপুর।
রুকুতে দাও বিনয়,
সিজদায় দাও অশ্রুধারা;
কিয়ামে দাও স্থির মন,
দাও কুরআনের ভালোবাসা।
আমাদের সালাত কবুল করো,
ক্ষমা করো সব অপরাধ;
খুশু-খুজুর আলোয় ভরে
করো জীবন চির উজ্জ্বল, চিরসাধ।
আমীন।
১৪
২৪ মন্তব্য